২০২৬ সালে যেসব ব্যবসা আরও লাভজনক হতে পারে
ব্যবসার জগৎ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুত বদলাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন, প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন এবং ভোক্তাদের রুচির পরিবর্তনের কারণে উদ্যোক্তাদের সামনে তৈরি হয়েছে অনেক নতুন সুযোগ। ২০২৬ সালে এমন কিছু ব্যবসা সামনে আসছে, যেসব শুধু লাভজনকই নয়, দীর্ঘ মেয়াদে টেকসইও হবে। চলুন দেখি, ২০২৬ সালে যে পাঁচটি ব্যবসা হতে পারে আরও লাভজনক।
১. এআই-চালিত সমাধান ও অটোমেশন সার্ভিস
বাংলাদেশেও এখন ব্যাংক, ই-কমার্স, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সব জায়গায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই এআই–ভিত্তিক সেবা নিয়ে ব্যবসা শুরু করা খুবই সম্ভাবনাময়।
কেন এটি লাভজনক
অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো ম্যানুয়ালি কাজ করে, যেখানে এআই ব্যবহার করলে কম জনবলেই বেশি কাজ সম্ভব। সময়ও বাঁচে। যেমন ফেসবুক পেজে হাজার মেসেজ এলে মানুষ দিয়ে উত্তর দেওয়া কঠিন, কিন্তু এআই চ্যাটবট ২৪ ঘণ্টা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিতে পারে। বাংলাদেশে বড় ই-কমার্সের সঙ্গে ছোট ব্যবসাগুলোও অনলাইনে আসছে, তাই চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
এআই-ভিত্তিক কাস্টমার সাপোর্ট দিয়ে
এআই-ভিত্তিক কাস্টমার সাপোর্ট এখন ছোট ব্যবসার জন্য বড় সুযোগ। ধরুন, ঢাকার বাইরের একটি অনলাইন পোশাকের দোকানে প্রতিদিন ২০০-৩০০টি মেসেজ আসে—‘দাম কত?’, ‘ডেলিভারি কবে?’, ‘সাইজ আছে?’ ইত্যাদি।
এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে অনেক সময় নষ্ট হয়। আপনি একটি বাংলা ভাষার এআই চ্যাটবট তৈরি করে দিতে পারেন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর দেবে, দাম জানাবে, স্টক চেক করবে এবং অর্ডার লিংক পাঠাবে।
ফলে ব্যবসা ২৪ ঘণ্টা সাপোর্ট দিতে পারবে, অতিরিক্ত কর্মচারী ছাড়াই। ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস বা ওয়েবসাইটে এই বট যুক্ত করা যায়। প্রতিষ্ঠানভেদে মাসে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চার্জ নেওয়া সম্ভব।
ই-কমার্সের জন্য প্রেডিক্টিভ অ্যানালিটিকস
ই-কমার্সের জন্য প্রেডিক্টিভ অ্যানালিটিকস মানে হলো আগের বিক্রির ডেটা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে কোন পণ্য বেশি বিক্রি হবে, তা আগে থেকেই আন্দাজ করা।
ধরুন, একটি অনলাইন মুদিদোকান আছে। এআই আগের বছরের জুলাই মাসের বিক্রির হিসাব দেখে বলতে পারে, এই মাসে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি থাকবে।
এতে ব্যবসায়ী আগেভাগেই স্টক বাড়াতে পারবেন এবং পণ্য শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে। আবার অপ্রয়োজনীয় বেশি পণ্য মজুতের ঝুঁকিও কমে যাবে।
স্বয়ংক্রিয় ফাইন্যান্স টুল তৈরি করে
স্বয়ংক্রিয় ফাইন্যান্স টুল এমন এক সফটওয়্যার, যা ছোট ব্যবসায়ীদের হিসাব সহজ করে দেয়। বাংলাদেশে এখনো অনেক দোকানি খাতা-কলমে দৈনিক বিক্রি, খরচ ও বকেয়া লিখে রাখেন।
এতে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং লাভ-ক্ষতির সঠিক হিসাব বোঝা কঠিন হয়। আপনি একটি সহজ মোবাইল অ্যাপ বানাতে পারেন, যেখানে প্রতিদিনের বিক্রি, খরচ ও বকেয়া টাকা লিখলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিপোর্ট তৈরি হবে।
যদিও এ ধরনের অ্যাপ আছে, তারপরও এর সঙ্গে আপনি আরও আধুনিক ফিচার জুড়ে দিতে পারেন।
মেশিন লার্নিং-ভিত্তিক SaaS প্ল্যাটফর্ম
মেশিন লার্নিং-ভিত্তিক SaaS প্ল্যাটফর্ম হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য এমন সফটওয়্যার, যা ডেটা থেকে শিখে কাজ আরও স্মার্ট করে। যেমন—
স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার: উপস্থিতি, ফলাফল ও ফি হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করতে পারে।
কোচিং সেন্টার অটোমেশন সিস্টেম: শিক্ষার্থীর পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট দিতে পারে।
ক্লিনিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম: রোগীর তথ্য, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও বিলিং সহজ করে। মেশিন লার্নিং যুক্ত হলে এটি ভবিষ্যৎ চাহিদা বা ঝুঁকিও অনুমান করতে পারে।
বাংলাদেশে হাজার হাজার স্কুল, কোচিং সেন্টার ও ক্লিনিক আছে, তাই এটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় বাজার।
আয় কত হতে পারে
যদি প্রত্যেক ক্লায়েন্ট থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা আসে, তাহলে ২০ জন ক্লায়েন্ট থেকে আয় হবে ১ লাখ টাকা। ৫০ জন হলে আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, একবার সফটওয়্যার তৈরি করলেই সেটি বহুবার বিক্রি করা যায়। মাসিক সাবস্ক্রিপশন থাকায় নিয়মিত ও স্থায়ী আয় পাওয়া সম্ভব। ক্লায়েন্ট যত বাড়বে, লাভও তত বাড়বে।
২. টেকসই ও সবুজ জ্বালানি ব্যবসা
বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে লোডশেডিং, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানুষকে বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। তাই টেকসই ও সবুজ জ্বালানি ব্যবসা খুবই লাভজনক হতে পারে।
কেন লাভজনক
ডিজেল ও গ্যাসের দাম বাড়ছে। অনেক বাসা ও কারখানা বিকল্প হিসেবে সোলার বা সৌরশক্তি ব্যবহার শুরু করেছে।
অনেক গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো গ্রিড-বিভ্রাট বা রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কোথাও কোথাও লোডশেডিংয়ের সমস্যা আছে। সেখানে সোলার সিস্টেম বড় সমাধান।
সোলার প্যানেল স্থাপন ব্যবসা
সোলার প্যানেল স্থাপন ব্যবসা ২০২৬ সালে লাভজনক সম্ভাবনা। আপনি বাসাবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানে সোলার সিস্টেম বসাতে পারেন। ছোট সোলার হোম সিস্টেম বিক্রি করা যায়, আবার বড় রুফটপ সোলার প্রজেক্টও নেওয়া যায়।
ধরুন, আপনার এলাকায় ১০টি বাড়িতে ৩ কিলোওয়াট করে সোলার সিস্টেম বসালেন। প্রতি প্রজেক্টে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে। যদি এক মাসে পাঁচটি প্রজেক্ট পেয়ে যান, তাহলে ভালো অঙ্কের আয় করা সম্ভব।
বিদ্যুতের দাম বাড়া ও লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ এখন বিকল্প বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে, তাই এই ব্যবসার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) চার্জিং স্টেশন করে
ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) চার্জিং স্টেশন ভবিষ্যতের ‘বিগ বিজনেস’ হতে পারে। পরিবেশবান্ধব বলে বাংলাদেশে ধীরে ধীরে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল ও গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে।
আপনি ছোট চার্জিং পয়েন্ট খুলে আয় করতে পারেন। এটি নিজের গ্যারেজ বা ওয়ার্কশপের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। এ ছাড়া ব্যাটারি সোয়াপিং সার্ভিস চালু করলে গ্রাহক দ্রুত ব্যাটারি বদলে নিতে পারবে, সময়ও বাঁচবে।
প্রতি চার্জ বা সোয়াপিং থেকে নির্দিষ্ট ফি নেওয়া যাবে। ভবিষ্যতে এই ব্যবসা পেট্রলপাম্পের মতোই বড় ও লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। স্থান ভালো হলে মাসে লাখখানেক টাকা আয় করা সম্ভব হবে।
পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ব্যবসা
পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ব্যবসা ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ হতে পারে। দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার অনেক বেশি, সরকারও কমানোর চেষ্টা করছে।
পাটের ব্যাগ, কাগজের খাবার প্যাকেট বা বায়োডিগ্রেডেবল প্যাকেজিং তৈরি করে আপনি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ই-কমার্স কোম্পানি ও রেস্তোরাঁগুলো এখন পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং চাইছে।
ছোট পরিসরে শুরু করলে মাসিক আয় ৫০ হাজারের মতো হতে পারে, বড় পরিসরে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত।
৩. হেলথটেক ও টেলিমেডিসিন স্টার্টআপ
হেলথটেক ও টেলিমেডিসিন স্টার্টআপ এখন লাভজনক ব্যবসা। মহামারির পর মানুষ চাইছে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও অনলাইনে স্বাস্থ্যসেবা। ভিডিও কনসালটেশন, ই-প্রেসক্রিপশন ও ডিজিটাল মেডিক্যাল রেকর্ডের মাধ্যমে রোগীরা সহজে চিকিৎসা পান। ছোট স্টার্টআপও দ্রুত গ্রাহক আকর্ষণ করতে পারে।
অনলাইন চিকিৎসকের পরামর্শ প্ল্যাটফর্ম
বাংলাদেশে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই সেবা দিচ্ছে, যেমন প্রাভা হেলথ। আপনি নিজেও অনলাইন চিকিৎসকের পরামর্শের প্ল্যাটফর্ম চালু করতে পারেন। তবে সেটা নির্দিষ্ট বিষয় বেছে নিয়ে করতে পারেন, যেমন ডায়াবেটিক রোগী বা হৃদ্রোগী বা নির্দিষ্ট জেলার রোগীদের জন্য অ্যাপ তৈরি করা।
২৪/৭ ভিডিও কল সাপোর্ট চালু করা। এতে রোগীরা সহজে চিকিৎসাসেবা পাবেন। তবে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দিয়ে পরামর্শের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সেবাটি সুন্দর ও নিরবচ্ছিন্ন হতে হবে, যেন কোনো অভিযোগ না আসে।
প্রতি কনসালটেশনে ৩০০-৫০০ টাকা চার্জ করলেও ছোট পরিসরেই ভালো আয় সম্ভব। বড় পরিসরে নিয়মিত সাবস্ক্রিপশন ও বেশি গ্রাহকসংখ্যা থাকলে এটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে দাঁড়াবে।
পরিধানযোগ্য ‘হেলথ ডিভাইস’
বাংলাদেশে এখন অনেক মানুষ স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ট্র্যাকার ব্যবহার করছেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আপনি করতে পারেন—
ডায়াবেটিক রোগীর জন্য গ্লুকোজ মনিটরিং
হৃদ্রোগীদের জন্য হার্ট রেট মনিটরিং
রিপোর্ট সরাসরি চিকিৎসককে পাঠানোর সুবিধা
এতে রোগীরা তাঁদের স্বাস্থ্যের অবস্থা সহজে জানতে পারবেন এবং চিকিৎসকেরা সময়মতো পরামর্শ দিতে পারবেন। ডিভাইস বিক্রি ও সাবস্ক্রিপশন মডেলে সেবা দিলে নিয়মিত ও স্থায়ী আয় করা সম্ভব। এ ছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য ট্র্যাকিংও যোগ করা যায়; যেটা চাপ, ঘুম ও মানসিক সুস্থতা মনিটর করবে। বাংলাদেশে লাভজনক ব্যবসা হতে পারে।
কাদের জন্য উপযুক্ত
চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবী, আইটি উদ্যোক্তা, ফার্মাসিস্ট ও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে।
৪. ই-লার্নিং ও অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম
বাংলাদেশে শিক্ষা এখন দ্রুত ডিজিটাল হচ্ছে। কোচিং সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি, চাকরির প্রস্তুতি—সবকিছুই অনলাইনে চলে আসছে। রিমোট কাজের যুগে শুধু ডিগ্রি নয়, স্কিল বা দক্ষতা এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ই-লার্নিং ব্যবসা খুবই সম্ভাবনাময়।
কেন লাভজনক
বাংলাদেশে ভর্তি পরীক্ষা, বিসিএস, ব্যাংক জব—সবকিছুর জন্য প্রস্তুতির বড় বাজার আছে।
গ্রাম পর্যন্ত এখন স্মার্টফোন ও মোবাইল ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে।
অনেকে ফ্রিল্যান্সিং, আইটি বা বিদেশে চাকরির জন্য ইংরেজি ও টেক স্কিল শিখতে চান।
বাংলাদেশে ইতিমধ্যে কয়েকটি বড় অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম সফল হয়েছে, যেমন টেন মিনিটস স্কুল, শিখো।
নির্দিষ্ট বিষয়ের লার্নিং অ্যাপ
সব বিষয় একসঙ্গে নেওয়ার বদলে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর ফোকাস করুন। উদাহরণস্বরূপ: শুধু আইইএলটিএস প্রস্তুতি, শুধু ফ্রিল্যান্সিং (গ্রাফিক ডিজাইন বা ডিজিটাল মার্কেটিং) বা এসএসসি/এইচএসসি গণিত। নির্দিষ্ট বিষয়ে ভালো বোঝাপড়া থাকলে অ্যাপটি সহজ ও লক্ষ্যভিত্তিক হয়, দ্রুত ব্র্যান্ড তৈরি করা সম্ভব হয়।
এআই-চালিত টিউটরিং অ্যাপ তৈরি করে
এআই-চালিত টিউটরিং অ্যাপ তৈরি করুন, যেখানে শিক্ষার্থী প্রশ্ন করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাখ্যা পাবে। ভুল করলে এআই দেখাবে কোথায় ভুল হয়েছে এবং ব্যক্তিগত দুর্বলতা বিশ্লেষণ করবে।
বাংলা ভাষায় এআই টিউটর এখনো খুব সীমিত, তাই এখানে বড় সুযোগ আছে। সাবস্ক্রিপশন বা এককালীন ফি মডেলে এটি নিয়মিত ও লাভজনক আয়ের উৎস হতে পারে।
গেমিফায়েড লার্নিং অ্যাপ বানিয়ে
গেমিফায়েড লার্নিং হলো শিক্ষাকে গেমের মতো বানানো, যেখানে পয়েন্ট, ব্যাজ, লেভেল ও লিডারবোর্ড ব্যবহার করা হয়। শিশুরা খেলার আনন্দে শেখার প্রতি আগ্রহী হবে। এটি মনোযোগ বাড়ায়, একাগ্রতা উন্নত করে এবং নিয়মিত অনুশীলন নিশ্চিত করে। এটা শিশু ও কিশোরদের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর।
শিক্ষার্থীরা একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আরও উৎসাহিত হয়। ডিজিটাল বা মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে সাবস্ক্রিপশন বা ইন-অ্যাপ ক্রয়ের মাধ্যমে নিয়মিত আয়ও সম্ভব।
ইন-অ্যাপ ক্রয় হলো অ্যাপের ভেতরে ব্যবহারকারী চাইলে অতিরিক্ত সুবিধা বা কনটেন্ট কিনতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গেমিফায়েড লার্নিং অ্যাপের নতুন লেভেল, বিশেষ ব্যাজ বা প্রিমিয়াম ভিডিও খোলার জন্য অর্থ প্রদান। এটি অ্যাপের জন্য নিয়মিত অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করে।
ভার্চ্যুয়াল ক্লাসরুম
ভার্চ্যুয়াল ক্লাসরুম হলো এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে লাইভ ক্লাস, রেকর্ডেড ভিডিও, মক টেস্ট ও নোট থাকবে। ধরুন, আপনি ‘ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স’ চালু করলেন। প্রতি শিক্ষার্থীর ফি ২ হাজার টাকা ধরলে ২০০ শিক্ষার্থী থেকে ৪ লাখ টাকা বিক্রি হবে। স্টুডিও, মার্কেটিং ও প্ল্যাটফর্মের খরচ কম।
সাবস্ক্রিপশন মডেলে আয় আরও বেশি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ১ হাজার শিক্ষার্থী মাসে ৫০০ টাকা দেয়, তাহলে মাসিক আয় হবে ৫ লাখ টাকা। বছরে ৫টি কোর্স বিক্রি করলে মোট বিক্রি দাঁড়াবে ২৫ লাখের বেশি। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, একবার কোর্স তৈরি করলে এটি বারবার বিক্রি করা যায়।
কাদের জন্য উপযুক্ত
শিক্ষক, কোচিং সেন্টারের মালিক, ফ্রিল্যান্সার, ইউটিউবার, আইটি উদ্যোক্তা।
৫. কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এজেন্সি
বাংলাদেশে এখন ব্যবসা মানেই ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল, রিলস ভিডিও। মানুষ টিভির বিজ্ঞাপনের চেয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট বেশি দেখে। এ কারণে কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এজেন্সি এখন খুবই লাভজনক ব্যবসা।
কেন লাভজনক
সোশ্যাল মিডিয়া এখন নতুন মার্কেটপ্লেস।
বুটিক শপ, রেস্তোরাঁ, অনলাইন শাড়ি ব্যবসা—সবাই এখন ভিডিও মার্কেটিং চায়।
বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আছেন, তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্র্যান্ড এখন পণ্য প্রচার করছে।
শর্ট-ফর্ম ভিডিও প্রোডাকশন
এখন ৩০-৬০ সেকেন্ডের ভিডিও সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়। ধরুন, আপনার এলাকায় একটি কফিশপ আছে। আপনি তাদের জন্য রিল বানাতে পারেন, মেনুর ভিডিও তৈরি করতে পারেন অথবা কাস্টমার রিভিউ ভিডিও বানাতে পারেন।
প্রতি ভিডিওতে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা চার্জ করা সম্ভব। যদি মাসে ২০টি ভিডিও বানান, তাহলে এটি ভালো আয় হবে। ছোট ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় ব্র্যান্ডও এ ধরনের ভিডিও চায়। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলে তাদের প্রচারও হয়। এতে ক্রিয়েটর হিসেবে আপনার নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
ব্র্যান্ড-ইনফ্লুয়েন্সার সংযোগ এজেন্সি
অনেক প্রতিষ্ঠান জানে না কোন ইনফ্লুয়েন্সারের মাধ্যমে পণ্য প্রচার করলে ভালো ফল মিলবে। আপনি এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হতে পারেন। আপনার কাজ হবে ব্র্যান্ডের জন্য সঠিক ইনফ্লুয়েন্সার খুঁজে দেওয়া, ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা করা এবং ফলাফল ট্র্যাক করা। এতে ব্র্যান্ডগুলো তাদের পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারবে, আর আপনি কমিশন হিসেবে ২০-৩০ শতাংশ চার্জ নিতে পারবেন।
এআই-চালিত কনটেন্ট অপটিমাইজেশন
এআই ব্যবহার করে আপনি ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট আরও ভালো করতে সাহায্য করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, একটি অনলাইন বুটিক শপের জন্য—
ক্যাপশন তৈরি: পণ্যের জন্য আকর্ষণীয় লেখা বানানো।
ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ সাজেশন: বেশি লোক দেখে।
পোস্টের সেরা সময় নির্ধারণ: বেশি এনগেজমেন্ট পেতে।
ভিডিও স্ক্রিপ্ট তৈরি: ছোট ভিডিও বানানো সহজ হয়।
বাংলাদেশে এখনো ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ ধরনের সেবা সীমিত। এখানে বড় সুযোগ আছে।
এখান থেকেও মাসিক সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিতে নিয়মিত আয় সম্ভব।
সূত্র: এসএসবিএম জেনেভা