শহরের যত ঈদমেলা—কবে, কোথায় এবং কোনটিতে যাবেন

পোশাক, গয়না, সাজের অনুষঙ্গ, ঘর সাজানোর উপকরণ, খাবার, চামড়ার পণ্য ও উপহারসামগ্রী তুলে ধরা হচ্ছে ঈদের মেলাগুলোতে।

ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে তুলে ধরতে ১০ দিন চলবে তাঁতপণ্যের প্রদর্শনী ও মেলা।ছবি: প্রথম আলো

রামাদান ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬

৮ থেকে ১০ মার্চ ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে হবে ‘রামাদান ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬’। এখানে ৮০টিরও বেশি ফ্যাশনলাইফস্টাইল ব্র্যান্ড তাদের নতুন ঈদ সংগ্রহ নিয়ে হাজির হবে। পোশাকের পাশাপাশি থাকবে অলংকার, অনুষঙ্গ, প্রসাধন সামগ্রী, ঘর সাজানোর উপকরণ ও উপহারের নানা জিনিস। এ ছাড়া থাকবে খাবারের স্টল।

রামাদান নাইট আউট ১.০

তেজগাঁওয়ের টার্ফ ন্যাশন আয়োজন করেছে ‘দ্য মিডনাইট ব্যাকইয়ার্ড-রামাদান নাইট আউট ১.০’। ১২ থেকে ১৬ মার্চ বিকেল ৪টা থেকে সাহ্রি পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। থাকছে ৫০টিরও বেশি স্টল ও নানা ধরনের সাহ্রির আয়োজন। আরও থাকবে লাইভ কাওয়ালি, স্ট্যান্ডআপ কমেডি ও ম্যাজিক শো। পাশাপাশি দর্শনার্থীরা বিশাল সাইজের লুডু, উনো, আঁকাআঁকি, ক্যারিকেচার ও মেহেদি স্টেশনের মতো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।

বনানীতে রাস্তার ওপরে আয়োজন করা হয়েছিল রমজান নাইট মার্কেট
ছবি: প্রথম আলো

তাঁত নিয়ে আয়োজন

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনে চলছে তাঁতপণ্যের প্রদর্শনী ও মেলা। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের উদ্যোগে ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রদর্শনীটির আয়োজন করা হয়েছে। ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের দ্বিতীয় তলার গ্যালারিতে প্রদর্শনী ও চতুর্থ তলার উন্মুক্ত স্থানে মেলাটি হচ্ছে। ৮ মার্চ শুরু হওয়া মেলাটি ১৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলায় ১৫টি স্টল রয়েছে। এসব স্টলে জামদানি শাড়ি, কাতান শাড়ি, মণিপুরি শাড়ি, টাঙ্গাইল শাড়ি, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি ও গামছা, কুমিল্লার খাদি, কুমারখালীর বেডশিট, রাজশাহীর সিল্ক ও পার্বত্য জেলার পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।

শহরে ঈদ উপলক্ষে আয়োজন করা হচ্ছে নানা ধরনের মেলা
ছবি: প্রথম আলো

রামাদান নাইট মার্কেট ২০২৬

বনানীতে আয়োজন করা হচ্ছে রামাদান নাইট মার্কেট ২০২৬। ১০ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত বনানীর ১০/বি ও ১১ নম্বর সড়কে দুপুর থেকে সাহ্রি পর্যন্ত চলবে এই উন্মুক্ত প্রদর্শনী। থাকবে ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও খাবারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্টল। সন্ধ্যার পর রমজানের বিশেষ লাইট শোও থাকবে। পরিবারের সবাই মিলে উৎসব উপভোগ করতে থাকবে লাউঞ্জ স্পেস, স্বাস্থ্য ক্যাম্প ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় কার্যক্রম।

চাঁদরাত ঈদবাজার ৩

১৫ থেকে ১৭ মার্চ গুলশানের আলোকিতে বসবে ‘চাঁদরাত ঈদবাজার সিজন ৩’। এখানে দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখতে পারবেন দেশীয় নানা ব্র্যান্ডের স্টল। হাতে তৈরি পণ্য ও বিশেষ ঈদ সংগ্রহের পাশাপাশি থাকবে সুস্বাদু খাবারের আয়োজন, লাইভ মিউজিক ও উন্মুক্ত পরিবেশে আড্ডার সুযোগ। এক ছাদের নিচে কেনাকাটা, খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করার সুযোগ এনে দেবে এই আয়োজন।

আরও পড়ুন

ঘুরে আসুন রামাদান ও ঈদমেলা

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে মিরপুর সড়কের পাশে বড় বিলবোর্ড হাতছানি দিয়ে ডাকছে রামাদান ও ঈদমেলা ২০২৬। মরিচা বাতির মিটিমিটি আলো সঙ্গী করে সাজানো প্রবেশপথটি যেন একটি সুড়ঙ্গ। এ পথে দাঁড়িয়ে সেলফি নিচ্ছেন ক্রেতারা, ছবি তুলছেন, এরপর বাজারে পা রাখছেন। প্রায় ৮০টি স্টলের মধ্যে দেশীয় ব্র্যান্ডের দোকান যেমন আছে; তেমনি আছে ভারত, পাকিস্তান ও চীনা পণ্যের দোকান।

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে মিরপুর সড়কের পাশে রামাদান ও ঈদমেলা ২০২৬
ছবি: প্রথম আলো

মেলার প্রথমেই পাকিস্তানি থ্রি–পিসের দোকান। দোকানজুড়ে শুধু পাকিস্তানি থ্রি–পিস। দাম ২ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। পাকিস্তানি জুতার দোকানে ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ টাকায় পাবেন জুতা। ভারতীয় জুতার দোকানে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় মিলছে জুতা। দেশি ব্র্যান্ড শাবাব লেদারের দোকানে লোফার, কেডস ও নাগরা পাবেন ১ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকায়। ৬০০ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন আকার ও নকশার চামড়ার ব্যাগ।

চীনা দোকানে মেয়েদের চুলের ফিতা থেকে শুরু করে গলার মালা, কানের দুল, হাতের আংটিসহ নানা অনুষঙ্গ বিক্রি হচ্ছে। ১০০ টাকায় এক বক্স চুলের রাবার ব্যান্ড কিনলেই বিনা মূল্যে পাচ্ছেন আরও দুটি বক্স।

আরও পড়ুন

মেয়েদের পোশাকের মধ্যে ৮৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় মিলছে দেশি ব্র্যান্ডের থ্রি–পিস। ১ হাজার ৬৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় পাবেন জামদানি কাপড়ের থ্রি–পিস। সোনারগাঁর জামদানি ২ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা।

মেলায় তুলে ধরা হচ্ছে নানা অনুষঙ্গ
ছবি: প্রথম আলো

আকার ও ডিজাইন ভেদে ব্যাগের দাম পড়বে ৬০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। ছেলেদের শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি থেকে শুরু করে মিলছে লুঙ্গিও। শার্ট আর ফতুয়ার দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। পাঞ্জাবি ১ হাজার ২০০ টাকা। শাড়ি পাড়সহ ২ হাজার ১৫০ টাকা, পাড় ছাড়া ১ হাজার ৯৫০ টাকা। লুঙ্গি পাবেন ৫৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। সিরাজগঞ্জের নির্দিষ্ট কিছু লুঙ্গিতে মিলবে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। একই দোকানে বেডশিট পাবেন ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। আর নকশিকাঁথার দাম শুরু এখানে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে।

ক্লে ইমেজের স্টলে পাবেন সিরামিকের তৈজসপত্র। এখানকার পণ্য সব হাতে গড়া এবং হাতেই রং করা। দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। অন্দর সাজানোর জন্য আছে নানা রকমের পণ্য।

২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে ১৪ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। মেলায় প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা। মেলায় শিশুদের বিনোদনের জন্য আছে মিনি শিশুপার্ক। টয় ট্রেন, নাগরদোলা, লম্ফঝম্পসহ শিশুদের জন্য রাইডগুলো উপভোগ করতে লাগবে ৫০ থেকে ১০০ টাকা টিকিট মূল্য।

আরও পড়ুন