এভারেস্ট অভিযানে যাচ্ছেন পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নি

এভারেস্ট অভিযানে যাচ্ছেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নি। তাঁর এভারেস্ট–যাত্রা, প্রস্তুতি ও স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছেন সজীব মিয়া

পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নিছবি: অভিযাত্রীর ফেসবুক থেকে

এভারেস্ট–যাত্রা কবে শুরু হচ্ছে?

আমি ঢাকা থেকে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেব ১১ এপ্রিল। কাঠমান্ডু থেকে লুকলা হয়ে পরে যাব এভারেস্ট বেজক্যাম্প। নেপালের এইটকে এক্সডিশনের সঙ্গে আমার এই অভিযান প্রায় ৫০ দিনের। সাধারণত মে মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে সামিট (শৃঙ্গে আরোহণের অভিযান) হয়ে থাকে।

দীর্ঘদিন বাংলাদেশি নারীদের এভারেস্ট অভিযান হয়নি

হ্যাঁ, অনেক বছর দেশ থেকে আর কোনো নারী এভারেস্ট অভিযানে যাননি। তবে এমন নয় যে নারী পর্বতারোহী তৈরি হয়নি, মূলত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেই অভিযানগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।

আর একটি বিষয় অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ঘরে-বাইরে, সামাজিক ও প্রাকৃতিক নানা বাস্তবতায় মেয়েদের এগিয়ে যেতে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। শারীরিক দিক থেকেও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। সব মিলিয়ে পথটা সহজ নয়। সে জায়গা থেকে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। কারণ, আমি প্রয়োজনীয় সমর্থন পেয়েছি।

পর্বতে নুরুন্নাহার নিম্নি
ছবি: বিএমটিসি

এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন কবে থেকে দেখছেন

খুব বেশি দিন নয়। পাহাড়ের প্রতি আমার মায়া বেড়েছে ধীরে ধীরে।

২০০৬ সালের কথা। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়ি। ফিল্ডওয়ার্কে সীতাকুণ্ডে গিয়েছিলাম। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ওপরে উঠে মনে হয়েছিল, আমি যেন এভারেস্টে উঠেছি! সেখান থেকেই পাহাড়ের প্রতি আলাদা একটি টান তৈরি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বেশির ভাগ সময়ই বান্দরবানের পাহাড়ে ঘুরেছি। আমার বাড়ি রংপুরে; কিন্তু ছুটিতে যতবার না বাড়ি গেছি, তার চেয়ে বেশি গেছি পাহাড়ে।

পরে চাকরিজীবনে জড়িয়ে পড়লেও সেই টান কমেনি; বরং বেড়েছে। ভুটানের পাহাড়, ভারতের সিকিমের পাহাড়, শেষে গেলাম নেপালে। ২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্পে ঘুরে এসে মনে হলো, আরও উঁচুতে যাওয়া দরকার।

পরের বছর এভারেস্ট বেজক্যাম্প ট্রেক করি। সেই অভিজ্ঞতাই আমাকে নতুন করে ভাবায়। তখনই বুঝলাম, শুধু ট্রেকিং নয়, পর্বতারোহণে সিরিয়াসভাবে এগোতে হবে। এর পরই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।

হিমলুং হিমাল অভিযানে নুরুন্নাহার নিম্নি
ছবি: অভিযাত্রীর ফেসবুক থেকে

কোথায় প্রশিক্ষণ নিলেন

২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে অবস্থিত হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে। পর্বতারোহণের মৌলিক প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এরপর প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ভারতে পর্বতারোহণও করি। সেই সময় থেকেই আমার আনুষ্ঠানিক পর্বতারোহণ শুরু। একই বছর বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব-বিএমটিসির সঙ্গেও যুক্ত হই।

এরপর?

এরপর প্রতিবছরই পর্বতারোহণের মৌসুমে পর্বতে গিয়েছি। গত বছর ৭ হাজার ১২৬ মিটার হিমলুং হিমাল পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেছি।

এবার যাচ্ছেন বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছুঁতে…

জি, এবার এভারেস্ট অভিযানে।

আমার এই স্বপ্ন পূরণে পূবালী ব্যাংক পিএলসির কথা বলতেই হয়। পড়াশোনা শেষে এই ব্যাংকে আমার চাকরির জীবন শুরু হয়েছিল। বর্তমানে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে জেনারেল ব্যাংকিংয়ে দায়িত্ব পালন করছি। আমার প্রতিষ্ঠান আমাকে স্পনসর করেছে। এই সহযোগিতা আমার জন্য সত্যিই সৌভাগ্যের।

লক্ষ্য করুন: সাক্ষাৎকারটি প্রথমে ‘১৪ বছর পর এভারেস্ট অভিযানে যাচ্ছেন বাংলাদেশি নারী অভিযাত্রী’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে জানা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশি অভিযাত্রী মৃদুলা আমাতুন নুর এভারেস্ট অভিযান করেছেন। বিষয়টি সংশোধন করা হলো।

আরও পড়ুন