একমুখী যাত্রার ভাড়াই ১২ লাখ টাকার বেশি, উড়োজাহাজের এই স্যুটে কী আছে

উড়োজাহাজের এই স্যুট যেন আকাশে উড়ন্ত একটি বিলাসবহুল হোটেলকক্ষ। আরাম, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সাজানো এই স্যুটে কী নেই!

উড়োজাহাজের এই স্যুট যেন আকাশে উড়ন্ত একটি বিলাসবহুল হোটেলকক্ষছবি: সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস

প্রতিটি স্যুটে আছে ইতালির বিলাসবহুল আসবাব প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পোলট্রোনা ফ্রাউয়ের ফুল-গ্রেইন চামড়ায় মোড়ানো আরামদায়ক আসন, যা ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরিয়ে ব্যবহার করা যায়। এর সঙ্গে আছে আলাদা ৭৬ ইঞ্চি লম্বা সম্পূর্ণ সমতল (ফ্ল্যাট) বিছানা, স্যুটকেস ও পোশাক রাখার ব্যক্তিগত ওয়ার্ডরোব, ৩২ ইঞ্চির ফ্ল্যাট-স্ক্রিন টেলিভিশন এবং ল্যাপটপ ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পাওয়ার সকেট ও সংরক্ষণস্থান।

একসঙ্গে ভ্রমণকারীদের জন্য আছে বিশেষ সুবিধাও। পাশাপাশি থাকা দুটি স্যুটের মাঝের বিভাজক সরিয়ে সেসবকে একটি বড় ডাবল বেডে রূপান্তর করা যায়। ফলে আকাশেই তৈরি হয় ব্যক্তিগত একটি বিলাসবহুল শয়নকক্ষ।

বিনোদনের ব্যবস্থাও পাঁচ তারা মানের। প্রতিটি স্যুটে আছে ৩২ ইঞ্চির এইচডি টাচস্ক্রিন, নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন এবং ক্রিসওয়ার্ল্ডের উন্নত ইন-ফ্লাইট বিনোদনব্যবস্থা। যাত্রীরা বিনা মূল্যের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারেন। ক্রিসফ্লায়ার অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করলে ব্যক্তিগত পছন্দের প্লেলিস্ট ও বিভিন্ন সেটিংস ভবিষ্যৎ ভ্রমণের জন্য সংরক্ষণ করাও সম্ভব।

ছবি: সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস

স্যুটের ভেতরের আলো নিয়ন্ত্রণ, কেবিন ক্রুকে ডাকা কিংবা অন্যান্য সেবা নেওয়ার জন্য আলাদা কোনো সুইচ খুঁজতে হয় না। হাতে থাকা ওয়্যারলেস ট্যাবলেট বা স্যুটের কন্ট্রোল প্যানেলে আঙুলের এক স্পর্শেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

খাবারের অভিজ্ঞতাও আলাদা। ব্যক্তিগত ডাইনিং টেবিলে উন্নত মানের চীনা বাসনে খাবার পরিবেশন করা হয়। যাত্রীরা উড়োজাহাজে ওঠার আগেই ‘বুক দ্য কুক’ সেবার মাধ্যমে পছন্দের প্রধান খাবার নির্বাচন করতে পারেন। আবার ভ্রমণের ছয় সপ্তাহ আগে থেকেই ডিজিটাল ইন-ফ্লাইট মেনু দেখে খাবার, পানীয় ও অন্যান্য সেবার তালিকাও জেনে নেওয়া যায়।

তবে এত বিলাসিতার মধ্যেও একটি সুবিধা নেই—ব্যক্তিগত বাথরুম। ছয়টি স্যুট নিয়ে গঠিত ফার্স্ট ক্লাস কেবিনের যাত্রীদের জন্য আছে দুটি প্রশস্ত ল্যাভেটরি। সেখানে বসে ব্যবহার করার ভ্যানিটি কাউন্টার এবং ফরাসি বিলাসপণ্য ব্র্যান্ডের সুগন্ধি, বডি লোশন ও ফেসিয়াল মিস্টসহ প্রিমিয়াম টয়লেট্রিজ রাখা থাকে।

ছয়টি স্যুট নিয়ে গঠিত ফার্স্ট ক্লাস কেবিনের যাত্রীদের জন্য আছে দুটি প্রশস্ত ল্যাভেটরি
ছবি: সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস

এই স্যুট সুবিধা পাওয়া যায় শুধু সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের এয়ারবাস এ৩৮০ উড়োজাহাজে। বর্তমানে এয়ারলাইনসটির বহরে আছে ১২টি এ৩৮০। ২০২৬ সালে এই উড়োজাহাজগুলো দিয়ে তারা বিশ্বের মাত্র নয়টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিশাল ধারণক্ষমতার কারণে যাত্রী চাহিদা বেশি, এমন রুটেই এ৩৮০ পরিচালনা করা হয়। এ বছর লন্ডন, সিডনি, মেলবোর্ন, অকল্যান্ড, ফ্রাঙ্কফুর্টসহ নির্বাচিত কয়েকটি গন্তব্যে এই উড়োজাহাজ চলবে।

এর মধ্যে সিঙ্গাপুর-সিডনি রুটে এই স্যুটে একমুখী ভ্রমণের ভাড়া সাধারণত ১২ লাখ টাকার বেশি (প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার)। তবে ভ্রমণের তারিখ, আসনের প্রাপ্যতা ও ভাড়ার শ্রেণিভেদে এই খরচ আরও বেশি হতে পারে।

সূত্র: সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, সিমপ্লি ফ্লাইয়িং ও কন্ডে নাস্ট

আরও পড়ুন