ঢাকার কাছেই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে এই নদীর পাড়, পূজার ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন

প্রথম আলোর ‘নকশা’র একটি ফটোশুটের কাজে গত বর্ষায় যাওয়া হয়েছিল কেরানীগঞ্জের ‘জল কাচারি-ধলেশ্বরী’। যাওয়ার সময় ভেবেছিলাম, গতানুগতিক কোনো রিসোর্টই হবে। কিন্তু গিয়ে তো চক্ষু চড়কগাছ! রাজধানী থেকে খুব দূরে না গিয়েও যে নদীর এত কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ আছে, জানা ছিল না। একদম নদী ঘেঁষেই বসে থাকা যায় সারা দিন। চাইলে পাটাতনে পা দোলানো অথবা নৌকায় ঘোরাও যায়।

নদী, সবুজ আর খোলা আকাশ মিলিয়ে ছুটি কাটানোর এক চমৎকার স্থান ‘জল কাচারি-ধলেশ্বরী’
ছবি: প্রথম আলো

ঢাকার কাছেই কেরানীগঞ্জে ধলেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে উঠেছে এই কটেজ। চারপাশে ঘনবসতি বা শহরের কোলাহল নেই। নদী, সবুজ আর খোলা আকাশ মিলিয়ে জায়গাটি হয়ে উঠেছে ছুটি কাটানোর এক চমৎকার স্থান। নদীর ওপর কাঠের ডেক বা পাটাতন থেকে উপভোগ করতে পারবেন ধলেশ্বরীর শান্ত, স্নিগ্ধ সৌন্দর্য।

আরও পড়ুন
একদম নদীর পাড় ঘেঁষেই গড়ে তোলা পাটাতনে বসে থাকা যায় সারা দিন
ছবি: প্রথম আলো

কাঠের পাটাতনের মাঝখানে টিনের ছাউনি দেওয়া বসার জায়গা। যেখানে বসে কিংবা শুয়ে গল্প-আড্ডায় মেতে থাকতে পারবেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, উপভোগ করতে পারবেন নদীর বয়ে চলা আর নিরিবিলি পরিবেশ।

নদীর পাড় ঘেঁষে এই কটেজের দুই পাশে দুটি সানসেট রুম। এখান থেকে উপভোগ করতে পারবেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। চাইলে দোলনায় দুলতে দুলতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটিয়ে দিতে পারবেন কিছু প্রশান্ত মুহূর্ত।

জল কাচারি-ধলেশ্বরীতে আছে রাতে থাকার ব্যবস্থাও
ছবি: জল কাচারি-ধলেশ্বরীর সৌজন্যে

প্রকৃতির মাঝে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে সারা বছরই এখানে ঘুরতে আসে মানুষ। জল কাচারি-ধলেশ্বরীর প্রতিষ্ঠাতা ইমরুল খান বলেন, করোনা মহামারির পর প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সংযোগের বিষয়টি তাঁকে নতুন করে ভাবায়। বিডি সাইক্লিস্টদের সঙ্গে আগে এ এলাকায় সাইকেল চালাতে আসতেন। নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ক্যাম্পিংও করতেন।

২০২৩ সালের শেষ দিকে জায়গাটিকে সবার জন্য উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা করেন। ২০২৪ সালে শুরু হয় নির্মাণকাজ। আগে এখানে তারই পরিচিত একজনের ছোট্ট কুঁড়েঘর ছিল। সেটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর জায়গাটিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

আরও পড়ুন
দোলনায় দুলতে দুলতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটিয়ে দিতে পারবেন কিছু প্রশান্ত মুহূর্ত
ছবি: প্রথম আলো

শুরুতে ইমরুল খানের সাইক্লিস্ট বন্ধু ও পরিচিতজনেরা আসতেন। পরে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়ে। এখন বন্ধুদের আড্ডা, পারিবারিক পুনর্মিলনী কিংবা দলীয় আয়োজনের জন্যও অনেকে এখানে আসেন।

এখানে খাবারের পরিবেশনায় আছে নান্দনিকতা
ছবি: জল কাচারি-ধলেশ্বরীর সৌজন্যে

ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জের জল কাচারি-ধলেশ্বরী দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ অথবা গাবতলী, আমিনবাজার থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্য যানবাহনে ২৫ মিনিটেই যাওয়া যায়। কলাতিয়া বাজারের দেড় কিলোমিটার পরে ঢালিকান্দি গুদারাঘাটের পাশেই জল কাচারি।

তবে সড়কের অবস্থা ও যানজটের ওপরও যাত্রার সময় নির্ভর করবে। আর যাওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফেসবুকে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন
বন্ধুদের আড্ডা, পারিবারিক পুনর্মিলনী কিংবা দলীয় আয়োজনের জন্যও অনেকে এখানে আসেন
ছবি: প্রথম আলো

দিনের পাশাপাশি রাতযাপনের ব্যবস্থাও এখানে রয়েছে। দিনের প্যাকেজ সাধারণত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট বা ৬টা পর্যন্ত। সকালের খাবার, নাশতা, দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাশতার ব্যবস্থা থাকে। নৌকায় ঘোরার সুযোগও রয়েছে। রাতযাপনের প্যাকেজে নাশতা, রাতের খাবার ও পরদিন সকালের খাবার অন্তর্ভুক্ত।

সন্ধ্যায় জল কাচারি-ধলেশ্বরী
ছবি: জল কাচারি-ধলেশ্বরীর সৌজন্যে

পূজার এই ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার কাছেই ধলেশ্বরী নদীর পাড় থেকে। শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে, নদীর হাওয়া আর প্রকৃতির মায়ায় নিজেকে হারিয়ে দিতে জায়গাটি হতে পারে আপনার অল্প সময়ের ভ্রমণের দারুণ এক গন্তব্য।

আরও পড়ুন