ঈদের ছুটিতে ঢাকায় থাকলে আপনার সেরা গন্তব্য হতে পারে উদয়পুর

বাড্ডার ১০০ ফিট মাদানী অ্যাভিনিউতে ‘উদয়পুর ডেস্টিনেশন’। ঈদুল ফিতরের দিন বেলা দুইটা থেকে উদয়পুর ডেস্টিনেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।

‘উদয়পুর ডেস্টিনেশন’ খোলা থাকবে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত
ছবি: সুমন ইউসুফ

ঈদের ছুটিতে ঢাকায় থাকলে পরিবার বা প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন উদয়পুর। সেখানে আপনাকে অভ্যর্থনা জানাবে লাখো পিটুনিয়া। সাদা রঙের রাজকীয় ভবন, মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কাঠের দোতলা ঘর আর বিশাল সবুজ মাঠের মায়াবী হাতছানি আপনাকে ভুলিয়ে দেবে শহরের সব ক্লান্তি। শুধু প্রকৃতিই নয়, আধুনিক করপোরেট সুবিধা থেকে শুরু করে শিশুদের খেলার জোন—সবই এখানে মিলবে। কোনো প্রবেশমূল্য ছাড়াই কেবল খাবার অর্ডার করেই আপনি উপভোগ করতে পারেন ফুলের এই স্বর্গরাজ্য।

বাড্ডার ১০০ ফিট মাদানী অ্যাভিনিউতে ‘উদয়পুর ডেস্টিনেশন’। একসময়ের জনপ্রিয় ‘ঠিকানা ডে আউটারস’ এখন নতুন নামে নতুন আঙ্গিকে সেজেছে। সেদিন আমিও গিয়ে হাজির হই উদয়পুর ডেস্টিনেশনে। ফার্মগেট থেকে মহাখালী, গুলশান হয়ে নতুন বাজার। সেখান থেকে মাদানী অ্যাভিনিউ হয়ে বেরাইদে গিয়ে পাওয়া গেল উদয়পুর ডেস্টিনেশনের দেখা।

আরও পড়ুন
ঈদুল ফিতরের দিন বেলা দুইটা থেকে উদয়পুর ডেস্টিনেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে
ছবি: সুমন ইউসুফ

সাদা রঙের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই হাতের বাঁয়ে দেখি পার্ক করা দর্শনার্থীদের গাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে রিসেপশনের দিকে পা বাড়াচ্ছেন সবাই। মেনু দেখে খাবার অর্ডার করে ভেতরে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করছেন। রিসেপশনের ফরমালিটি শেষে আমিও পা রাখলাম ফুলের এক স্বর্গরাজ্যে। একটার পর একটা টব বসিয়ে রীতিমতো ফুলের বিছানা বানিয়ে ফেলেছে। নিচে যেমন ফুল আছে, তেমনি ওপর থেকেও ঝুলছে ফুল। পিটুনিয়ার পাশাপাশি আছে গাঁদা, ডায়ান্থাস, চন্দ্রমল্লিকা, বাগানবিলাসসহ শোভাবর্ধক সব পাতাবাহার গাছ।

হাতের বাঁয়ে মুন্সিগঞ্জের বিখ্যাত কাঠের বাড়ির আদলে তৈরি দোতলা টিনের ঘর। দর্শনার্থীরা ঘরে ওঠার সিঁড়ি থেকেই ছবি তোলায় ব্যস্ত। কেউ করছেন ভিডিও। কেউবা টিকটক।

কাঠের ঘরের প্রতিটি মেঝেতেই কাঠের পাটাতনে চেয়ার–টেবিল পাতা। ওপর থেকে ঝুলছে বাঁশের ফ্রেমে আটকানো বৈদ্যুতিক বাতি। কোনো অংশে আছে হারিকেন। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে সর্বোচ্চ চূড়ায় মিলবে মধুমঞ্জুরির ঝোপ। ওপর থেকে শিশুদের প্লে জোনসহ চারপাশটা ধরা পড়ে।

ফুলের এক স্বর্গরাজ্য
ছবি: সুমন ইউসুফ

কাঠের বাড়ির পাশেই বাঁশ–বেতের বেড়ায় ঘেরা রান্নাঘর। পাশেই বাঁশঝাড়। কাঠের ঘর থেকে মাঠে নামি—সবুজ মাঠে কার্পেট ঘাসের মধ্যে উঁকি দেওয়া আগাছা পরিষ্কার করছেন ছয়জন শ্রমিক। মাঠ ঘিরে আছে আম, জাম, কাঁঠাল, সফেদা, আতা, বিলিম্বি, পেয়ারা, করমচার মতো দেশি গাছ।

এখানে আছে টিন ও কাঠ দিয়ে তৈরি দোতলা বাড়ি
ছবি: সুমন ইউসুফ

কফি শপে বসেই উদয়পুর ডেস্টিনেশনের প্রতিষ্ঠাতা আফরিন তাইয়্যেবার বাবা আলিফ খানের সঙ্গে কথা হলো। আলাপচারিতার একপর্যায়ে মুঠোফোনের ওপাশ থেকে যোগ দেন মেয়ে আফরিন তাইয়্যেবা। তাঁর কাছে থেকে জানা গেল শুরুর দিকের কথা, ‘৩৫ বিঘাজুড়ে আমাদের এ জায়গাটা সেভাবে ব্যবহৃত হতো না। আমার মনে হচ্ছিল, এমন খোলা প্রান্তরে বসে যদি কফিও খাই, তা–ও অনেক কিছু। প্রথমে টিন ও কাঠ দিয়ে তৈরি হয় একটি দোতলা টিনের বাড়ি। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে অবসর সময় কাটাবেন—এমন ভাবনা থেকেই গড়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী নকশার এ বাড়ি। বাবার নিজস্ব ঠিকানা থেকেই নামটাও ঠিক হয়—ঠিকানা। ফুলে ফুলে বাগান ভরে উঠলে বন্ধু ও স্বজনের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষও এখানে আসতে শুরু করে’।

আরও পড়ুন
উদয়পুরের কফি শপ
ছবি: সুমন ইউসুফ

কফি শপের পাশে সাদাটে পাঁচতলা ভবন। ভবনে থাকছে ৪৫০ জন ধারণক্ষমতার রেস্টুরেন্ট, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতার করপোরেট ইভেন্ট আয়োজনের জায়গা, ২০০ জন ধারণক্ষমতার কনফারেন্স রুমসহ নানান সুবিধা। সামনে তিনতলা ছুঁই ছুঁই দুই সারি উঁচু উঁচু পিলার। এখানে ফ্যাশন শোর মতো আয়োজনগুলো হবে।

ঢাকা শহরে সেভাবে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ হয় না। চারপাশ খোলা প্রান্তর বলে এখানে একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উপভোগ করার সুযোগ আছে। আর সেই থেকে নতুন নাম উদয়পুর। ঈদুল ফিতরের দিন বেলা দুইটা থেকে উদয়পুর ডেস্টিনেশন নামে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উপভোগ করতে উদয়পুর যেতে পারেন
ছবি: সুমন ইউসুফ

এখানে থাকছে ইনডোর বা আউটডোরে বসে দারুণ সব প্ল্যাটার উপভোগ করার সুযোগ। সাদা ভবনের নিচতলায় চালু হয়েছে একসঙ্গে ৪৫০ ধারণক্ষমতার একটা রেস্তোরাঁ। মেনু অনুযায়ী জনপ্রতি খাবারের দাম ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। চার সদস্যের পরিবারের জন্য ৫ হাজার টাকা। ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের খাবারের মেনু থাকবে ৭০০ টাকার মধ্যে। একটা কফি শপও আছে। চা–কফির পাশাপাশি পাবেন বিভিন্ন ফলের জুস।

ঈদের ছুটিতে ঢাকায় থাকলে পরিবার বা প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন উদয়পুর
ছবি: সুমন ইউসুফ

ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাড্ডার নতুন বাজার মোড় হয়ে ১০০ ফিট মাদানী অ্যাভিনিউ দিয়ে বেরাইদ গেলেই পেয়ে যাবেন উদয়পুর ডেস্টিনেশন। নিজস্ব গাড়ি, সিএনজি বা রিকশায় নতুন বাজার থেকে যেতে ১৫–২০ মিনিট লাগে। তবে যাওয়ার আগে ফেসবুক পেজের ইনবক্সে বা মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করে বুকিং কনফার্ম করতে হবে। খোলা থাকবে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা।

আরও পড়ুন