২০২৬ সালে নারীদের একা ভ্রমণের জন্য নিরাপদ যে ৫ দেশ
আজকাল একা একাই ঘুরতে বেরিয়ে পড়ছেন অনেক নারী। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গুগলে ‘সলো ট্রাভেল ফর উইমেন’ শব্দবন্ধটির সার্চ প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। তবে একা বেরিয়ে পড়া নারীদের মাথায় এখনো কাজ করে যে দেশে যাচ্ছি, সেটা নিরাপদ তো? ২০২৬ সালে একা বিদেশভ্রমণে যেতে চাইলে বেছে নিতে পারেন নারীবান্ধব এই ৫ দেশ।
ভিয়েতনাম
বাংলাদেশ থেকে অনেক ভ্রমণপিপাসুই এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে যান। ভিয়েতনাম এমন একটি দেশ, যেখানে একা ভ্রমণে কখনোই একা লাগে না। কারণ, এখানকার মানুষের আন্তরিকতা। ভিয়েতনামিদের দৈনন্দিন জীবনের সরলতা ভ্রমণকে দেয় ভিন্ন এক মাত্রা। এখানে রাস্তার ধারের ছোট্ট খাবারের দোকানে বিভিন্ন পর্যটকের পাশাপাশি ক্যাফের মালিকও আপনার সঙ্গে গল্পে মেতে উঠবে। ঘুরে বেড়াতে চাইলে ভিয়েতনামের উত্তরে সা পা অঞ্চলের পাহাড়ি গ্রাম, মেকং ডেলটার নদীঘেরা জীবন কিংবা স্থানীয় কোনো পরিবারে হোমস্টে করতে পারেন। দিন কেটে যাবে বেশ। তবে মনে রাখবেন ভিয়েতনামে হাতে বেশ কয়েক দিন সময় নিয়ে ভ্রমণ করতে হবে। চেকলিস্ট ধরে দ্রুত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় না গিয়ে সময় নিয়ে জায়গা ও মানুষগুলোকে বুঝুন।
কোস্টারিকা
কোস্টারিকায় একা ভ্রমণ করা মানেই নতুন করে নিজেকে খুঁজে পাওয়া। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে একা থাকা অস্বাভাবিক নয়—বরং স্বাভাবিক। দেশের সংস্কৃতিতেই রয়েছে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করার স্বীকৃতি। দেশটির নিকোয়া পেনিনসুলার সান্তা তেরেসা বা নোসারার মতো উপকূলীয় অঞ্চলগুলো একধরনের ‘সামাজিক ভ্রমণকেন্দ্র’। এসব জায়গা যেন সার্ফার, ডিজিটাল নোম্যাড (যাঁরা ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে রিমোটলি কাজ করেন) ও ভ্রমণপিপাসুদের মিলনমেলা।
কোস্টারিকায় বেড়াতে গিয়ে যদি কোনো সার্ফিং ক্লাসে যোগ দেন, কিংবা সকালে যোগব্যায়ামের ক্লাসে যান, অথবা বিকেলে কোনো ছোট ক্যাফেতে বসেন—অচেনা মানুষদের সঙ্গে আপনার কথোপকথন হবেই। একা এখানে আপনি একদমই বিরক্ত হবেন না। এ ছাড়া নিরাপত্তার দিক দিয়েও দেশটি বেশ এগিয়ে আছে। চাইলেই ব্যস্ততার মধ্যে থাকতে পারেন, আবার চাইলে সমুদ্রের পাশে বসে নিজের মতো করে সময় কাটাতে পারবেন।
এস্তোনিয়া
যাঁরা ইউরোপের নিরিবিলি ও নিরাপদ কোনো দেশ খুঁজছেন, তাঁদের জন্য একা ভ্রমণের আদর্শ এক গন্তব্য এস্তোনিয়া। এখানকার আধুনিকতা আর ইতিহাস আপনাকে এত মুগ্ধ করবে, যে একা একাও বোরড হওয়ার ফুরসত পাবেন না। এই দেশে এলে ঘুরতে পারেন রাজধানী তালিনে। এখানে আছে ইউনেসকো-স্বীকৃত পুরোনো শহর। সরু পাথরের রাস্তা, ঐতিহ্যবাহী দোকান, ছোট ছোট ক্যাফে আর চারপাশের শান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে এখানে একা হাঁটতে হাঁটতেই আপনি স্বস্তি বোধ করবেন।
শহরটি এতটাই গোছালো যে হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই, আর এতটাই আরামদায়ক যে পথ হারানোটাও আনন্দদায়ক। এস্তোনিয়ার এসে শহরের বাইরে যেতে চাইলে তাবাসালু পার্কে ঢুঁ মারতে পারেন। সমুদ্রের ধারে চুনাপাথরের খাড়া পাহাড়, নীরবতা আর প্রকৃতির সান্নিধ্য আপনাকে দেবে এক প্রশান্ত অভিজ্ঞতা।
উরুগুয়ে
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়ে। এখানকার মানুষদের জীবনযাপন ধীর, শান্ত আর আরামদায়ক। একা ভ্রমণকারীদের জন্য এই দেশ বিশেষ উপযোগী, কারণ নিরাপত্তার পাশাপাশি এখানে রয়েছে একধরনের স্বস্তিদায়ক সামাজিক পরিবেশ। উরুগুয়ের কলোনিয়া ডেল সাক্রামেন্তোর পুরোনো শহরে হাঁটলে মনে হবে যেন অন্য এক সময়ে চলে গেছেন। পাথুরে গলি, সাদা দেয়াল আর রঙিন ফুলে সাজানো রাস্তা—সবকিছুই অন্য রকম এক আবহ তৈরি করে।
যদি সমুদ্রের কাছাকাছি সময় কাটাতে চান, তাহলে পান্টা ডেল ডিয়াবলো হতে পারে আপনার জন্য আদর্শ। এখানে ভিড় কম, পরিবেশ শান্ত এবং একা ঘুরে বেড়ানোর জন্য যথেষ্ট নিরাপদ। সবচেয়ে বড় কথা, উরুগুয়ের মানুষজন খুবই বন্ধুসুলভ। অচেনা হয়েও তারা আপনাকে আপন করে নেবে—আপনার একা ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে করে তুলবে আরও উষ্ণ ও অর্থবহ।
নরওয়ে
নরওয়েতে একা ভ্রমণ করতে দেশ বিদেশ থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য দর্শনার্থী। নারী-পুরুষের সমতা, শক্তিশালী সামাজিক কাঠামো এবং উচ্চমানের নিরাপত্তা—সবকিছুই এখানে একজন নারীকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিরাপদে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ করে দেয়। নরওয়ের আসল আকর্ষণ দেশটির চোখজুড়ানো প্রকৃতি। লোফোটেন আইল্যান্ডের পাহাড় আর সমুদ্রতট, কিংবা ভালবার্দের বরফঢাকা বিস্তৃত ভূমি—এসব জায়গায় একা দাঁড়িয়ে প্রকৃতিকে অনুভব করা সত্যিই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া ভাগ্যক্রমে যদি অরোরা বা নর্দান লাইটস দেখার সুযোগ হয়, জীবন মনে হবে সার্থক।
সূত্র: বিবিসি