শ্রীলঙ্কার ভিসা ফি মওকুফ সুবিধা: শীর্ষ বিশের মধ্যে শুধু বাংলাদেশই পেল না
বিদেশি পর্যটক টানতে শ্রীলঙ্কা পর্যটন খাতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে। ৪০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের পর্যটন ভিসা (ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ) সম্পূর্ণ ফ্রি করেছে দেশটি। তবে এই তালিকায় স্থান হয়নি বাংলাদেশের, যদিও বাংলাদেশ বর্তমানে শ্রীলঙ্কার শীর্ষ ১০ পর্যটক বাজারের একটি।
শ্রীলঙ্কার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৫৯ হাজার ৫৬৩ জন বাংলাদেশি পর্যটক শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করেছেন। ২০২৪ সালে ছিল ৩৯ হাজার ৫৫৫ জন; ২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৮৪৬ জন এবং চলতি বছরের ৪ জুন পর্যন্ত ১৯ হাজার ৬৫৩ জন।
অর্থাৎ মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ থেকে শ্রীলঙ্কায় পর্যটকপ্রবাহ কয়েক গুণ বেড়েছে।
২০২৫ সালে বিশ্বের যেসব দেশ থেকে শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে বেশি পর্যটক গেছে, তার মধ্যে শীর্ষ ২০ দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভিসা ফি মওকুফ সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর তালিকায় একমাত্র বাংলাদেশই নেই।
শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে বিদেশি পর্যটকদের নিজ নিজ দেশ থেকে আগাম ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এ জন্য সাধারণত ৫০ ডলার ফি দিতে হয়। তবে সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ফি নির্ধারিত আছে ২০ ডলার, সঙ্গে ট্যাক্স।
গত এপ্রিলেই পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় রোড শো করেছে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু তাদের সাম্প্রতিক এই উদ্যোগে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তার কোনো প্রতিফলন দেখা গেল না। নেপাল ও পাকিস্তানের মতো দেশ ভিসা ফি মওকুফ সুবিধা পেলেও অন্যতম শীর্ষ পর্যটক বাজার হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ সেই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে।
এ বছরের ২৫ মে থেকে কার্যকর হওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মালয়েশিয়া, জাপানসহ ৪০টি দেশের নাগরিক ৩০ দিনের জন্য বিনা মূল্যে পর্যটন ভিসা (ইটিএ) পাবেন।
দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, নেপাল ও পাকিস্তান বিনা মূল্যে পর্যটন ভিসার তালিকায় থাকলেও বাংলাদেশ তা থেকে বাদ পড়ায় বিষয়টি নিয়ে পর্যটক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর কূটনৈতিক, সরকারি, সার্ভিস ও সাধারণ পাসপোর্টধারীরা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। তবে ভ্রমণের আগে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে ইটিএ নিতে হবে।
একই সঙ্গে মালদ্বীপ, সেশেলস ও সিঙ্গাপুরের নাগরিকেরাও বিনা মূল্যে ইটিএ সুবিধা পাবেন। মালদ্বীপের নাগরিকেরা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ৯০ দিনের ভিসা পাবেন।
নতুন নিয়মে পর্যটকেরা ৩০ দিনের জন্য বিনা মূল্যে শ্রীলঙ্কায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন এবং এতে দ্বৈত প্রবেশ (ডাবল এন্ট্রি) সুবিধাও থাকবে।
তবে দ্বিতীয় প্রবেশে আলাদা নতুন মেয়াদ না দিয়ে প্রথম ৩০ দিনের অবশিষ্ট সময়ই কার্যকর থাকবে।
৩০ দিনের বেশি অবস্থান করতে চাইলে নির্ধারিত ফি দিয়ে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপটারের মহাসচিব ও জার্নি প্লাসের প্রধান নির্বাহী তৌফিক রহমান বলেন, গত এপ্রিলেই পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় রোড শো করেছে শ্রীলঙ্কা।
কিন্তু তাদের সাম্প্রতিক এই উদ্যোগে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তার কোনো প্রতিফলন দেখা গেল না। নেপাল ও পাকিস্তানের মতো দেশ ভিসা ফি মওকুফ সুবিধা পেলেও অন্যতম শীর্ষ পর্যটক বাজার হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ সেই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে।
তৌফিক রহমান আরও বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশের সার্বিক ভাবমূর্তির সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ নিয়ে ট্যুর অপারেটরদের আরও সোচ্চার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে সরকারিভাবেও বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ থেকে শ্রীলঙ্কাগামী পর্যটকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সে বিবেচনায় ভিসা ফি মওকুফ সুবিধার বাইরে থাকা বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অংশীজনদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।