অভিনয়ে আগ্রহ হলো কীভাবে? মুঠোফোনের ওপাশ থেকে তটিনী বললেন, ‘স্বপ্ন বলেন আর লক্ষ্য বলেন, ছোটবেলা থেকে শুধু ডাক্তারই হতে চেয়েছি। বরিশালে আমার ছেলেবেলা কেটেছে। স্কুল, কলেজও ওখানেই। উচ্চমাধ্যমিকের পর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন যখন পূরণ হলো না, তখন অনেক খারাপ লেগেছিল। ভাবছিলাম কী নিয়ে পড়া যায়। চাপ কিছুটা কম ভেবে ভর্তি হলাম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএতে। ভুল অবশ্য ভেঙেছে পরে। বুঝেছি, এই বিভাগেও অনেক পড়ালেখা করতে হয়।’

default-image

২০১৯ সালে এক পরিচিত আপুর মাধ্যমে শখের বশেই বিজ্ঞাপনের জন্য অডিশন দিতে গিয়েছিলেন তটিনী। প্রত্যাশা ছিল না, তবে নিজের সেরাটা দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই শুরু। একে একে কাজ করে ফেলেছেন ৩০টির বেশি বিজ্ঞাপনে।

একবার কক্সবাজারে ঘুরছিলাম। হঠাৎ এক দম্পতি “রাফা” নামে ডাকতে শুরু করল। আমি ঠিক বুঝতে পারিনি আমাকেই ডাকছে কি না। পরে কাছে এসে তারা বললেন, “আপনি তো নাটক করেন, তাই না?” তারপর কথা হলো, সেলফি তুললেন।

বিজ্ঞাপনের বাইরে তটিনীর প্রথম কাজ ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকির সঙ্গে। চরকির চলচ্চিত্র ‘এই মুহূর্তে’তে আলাদা তিনটি গল্প ছিল। এর মধ্যে পিপলু আর খানের পরিচালনায় ‘কল্পনা’য় অভিনয় করেছেন তটিনী। প্রথিতযশা অভিনয়শিল্পী সারা যাকের ও জাহিদ হাসান ছিলেন তাঁর সহশিল্পী। কেমন ছিল অভিজ্ঞতা? ‘তাঁরা কত বড় মাপের শিল্পী, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি শুধু শিখেছি। সবচেয়ে ভালো লাগে যে তাঁরা নতুন শিল্পীদের সব সময় আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন। ভুল করলে শিখিয়ে দেন। পরিচালক পিপলু স্যারও অনেক সহযোগিতা করেছেন। যেহেতু অভিনয় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখা হয়নি, তাই যেকোনো কাজের আগে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিই। আমার ওপর যে আস্থা রাখা হচ্ছে, সেটা বজায় রাখতে চেষ্টার কোনো কমতি রাখি না,’ জানালেন নবীন অভিনেত্রী।

default-image

রং, তুলির সঙ্গে কাটে তটিনীর অবসর। এক হাতে অ্যাক্রিলিক রং, আরেক হাতে তুলি দিয়ে নিজের মনের ভাবনাগুলো ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলেন। এই সৃজনশীল চিন্তা হয়তো অভিনয়েও তাঁকে সাহায্য করে। ২০১৯ সালে অভিনয় শুরুর পর অল্প সময়েই বেশ কিছু ভালো কাজ করছেন এই অভিনেত্রী। সাবলীল অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর নজরকাড়া হাসি জয় করেছে দর্শকের মন।

রাস্তায় বেরোলে কি লোকে সেলফি তুলতে ভিড় করে? বন্ধুরা ‘সেলিব্রেটি’ বলে খ্যাপায়? প্রশ্ন শুনে হা হা করে হাসলেন তটিনী। বললেন, ‘বন্ধুরা তো মজা করেই ৷ তবে ওরাই আবার আমার কাজ দেখার জন্য মুখিয়ে থাকে। কখন, কোথায় প্রচার হবে, এসব নিয়ে ওদেরই আগ্রহ বেশি। একটা মজার ঘটনা বলি। এনএসইউ ক্যাম্পাসে আমার কয়েকজন বন্ধু এক দিন হাতে ডায়েরি নিয়ে পাশে এসে দাঁড়াল। বলল, অটোগ্রাফ দিতে। সবাই হাসাহাসি করছিল। এর মধ্যে তাকিয়ে দেখি, একজনের ডায়েরিতে অনেক বড় বড় তারকাদের অটোগ্রাফের কালেকশন। আমি তো হেসেই শেষ। বললাম, এত বড় কেউ তো হইনি।’

আরও একটা মজার ঘটনা বললেন তিনি, ‘একবার কক্সবাজারে ঘুরছিলাম। হঠাৎ এক দম্পতি “রাফা” নামে ডাকতে শুরু করল। আমি ঠিক বুঝতে পারিনি আমাকেই ডাকছে কি না। পরে কাছে এসে তারা বললেন, “আপনি তো নাটক করেন, তাই না?” তারপর কথা হলো, সেলফি তুললেন। আসলে তাঁরা এনটিভিতে আমার নাটক হাউস নং ৯৬–এর কথা বলছিলেন। ওই নাটকে আমার চরিত্রের নাম ছিল রাফা। এই সিরিয়াল করেই কিছু মানুষ আমাকে চিনতে শুরু করে।’

default-image

বিবিএতে পড়লেও অভিনয়টাকেই পুরোদমে পেশা হিসেবে নিতে চান তটিনী। মাত্র তো শুরু, তবু কাজ বাছাইয়ের ব্যাপারে তিনি খুব সতর্ক। বলছিলেন, ‘অত তাড়া নেই আমার। ধীরে ধীরেই এগোতে চাই। বিজ্ঞাপনে কাজ করার পর থেকে টুকটাক অনেক কাজেরই অফার পেয়েছি। তবে সব কাজে মন সায় দেয় না। ভালো গল্প আর ভালো পরিচালকই একটা কাজকে দর্শকপ্রিয় করে তুলতে পারে। সেটা মাথায় রেখে একটু দেখেশুনেই চলতে চাই।’

বাড়ির ছোট মেয়ে তটিনী পরিবার থেকেও যথেষ্ট সাহায্য পান। ‘মিডিয়া নিয়ে অনেকেরই নেতিবাচক মনোভাব থাকে। এরপরও তাঁরা কখনোই আমাকে বাঁধা দেননি। আমি যেটায় আনন্দ পাই, সেটাতেই আমাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। এটাই আমার বড় শক্তি,’ বলছিলেন তিনি।

এবার কোরবানির ঈদে ২টি নাটকে অভিনয় করেছেন তটিনী। পরিচালক ভিকি জাহেদের বাঁচিবার হলো তার সাধ ও মিজানুর রহমান আরিয়ানের সুহাসিনী। নাটক দুটিতে তটিনীর বিপরীতে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও ফারহান আহমেদ জোভান।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন