ঢাকার এই ছাদবাগানে বছরে গড়ে ৫ মণ আম হয়, এবার ফলন কেমন?
রাজধানীর মধ্যবাড্ডার বৈশাখী সরণি। উদয়ন স্কুলের বিপরীত দিকের গলি ধরে এগোলে শেষ মাথায় যে বাড়িটির সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হয়, তার নাম ‘সবুজ ছায়া’। আক্ষরিক অর্থেই বাড়িটি সবুজ ছায়ায় ঢাকা। ৬ তলা এই ভবনের ছাদেই এক দৃষ্টিনন্দন ছাদবাগান গড়ে তুলেছেন আসমা কাদির ও মো. আবদুল কাদির দম্পতি।
২০০৭ সালে নির্মিত এই বাড়ির ছাদে বাগানের সূচনা ২০১০ সাল থেকে। বাগানে আমগাছের বসতিও তখন থেকেই। দুটি বারোমাসি আম দিয়ে শুরু করা সেই বাগানে এখন শোভা পাচ্ছে ২৬ প্রজাতির আমগাছ।
আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, হিমসাগর, গুটি আম, বারি-৪, থাই ব্যানানা ম্যাঙ্গো, চিয়াংমাই, কাঁচামিঠা, আমেরিকান রেড পালমারসহ আছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম জাপানের ‘মিয়াজাকি’ বা সূর্যডিম। ২৬ প্রজাতির মধ্যে ২৫টির গাছেই এবার আম ধরেছে।
এ বছর বাগানে কাদির দম্পতির ছাদবাগানে ৫-৬ মণ আম হয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি চিয়াংমাই জাতের আমগাছেই ধরেছে ২ মণ আম। একেকটি আম সর্বোচ্চ দুই কেজি পর্যন্ত হয়। এবার আম বড় হওয়ার পর এক অদ্ভুত বিপত্তি ঘটেছে বলে জানালেন আসমা কাদের।
কোনো ঝড়বৃষ্টি ছাড়াই স্রেফ আমের ভারে গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। সবুজ আমের গায়ে সবে রং আসতে শুরু করেছে, এমন সময় ডালসহ আমগুলোর ঝরে পড়ায় মন কিছুটা খারাপ হলেও শেষমেশ আচার বানানোর কাজে লাগিয়ে সেই দুঃখ দূর করেছেন তিনি।
ছাদভরা আমগাছ
গাছে এখন সবচেয়ে বেশি শোভা পাচ্ছে আম্রপালি। সবুজ পাতার ফাঁকে পেকে সবুজ-হলুদ হয়ে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে সেসব। গাছগুলো সময়ের সঙ্গে এতটাই বড় ও ঝাঁকড়া হয়েছে যে কাণ্ড বেয়ে গাছে উঠে কিংবা বাঁশের কোটা দিয়ে আম পাড়তে হয়।
তবে হাতের নাগালের বাইরে থাকা পাকা আমগুলোর ওপর পাখিদের প্রায় একচ্ছত্র দখল। পাখিরা আমগুলো এমন নিখুঁতভাবে খায় যে গাছে শুধু আমের আঁটিটা ঝুলতে থাকে!
আসমা কাদির বলেন, ‘পাখিরাও এই বাগানের অতিথি, ওদেরও হক আছে। আর সে কারণেই এই বাগানে নেট বা জাল দিয়ে আম আটকে রাখি না।’
ছাদের দুটি অংশ। নিচের অংশে আম্রপালি, ব্যানানা, হাঁড়িভাঙা, হিমসাগর, কাঁচামিঠার রাজ্য পেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠলাম ওপরের অংশে।
এখানে থাই কাটিমন নামের বারোমাসি আমের পাশেই সূর্যরাঙা রঙে দুলছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আমখ্যাত জাপানের মিয়াজাকি বা সূর্যডিম।
কাঁচা অবস্থায় হালকা লালচে এই আমের পাকার সময় যত এগিয়ে আসে, অস্ত যাওয়া সূর্যের রং ধারণ করে। আকারে যেমন বড়, দেখতে আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি দারুণ সুস্বাদু।
বলা চলে একাই পুরো বাগানের দেখভাল করেন আসমা কাদির। বাসায় লিফট নেই, তাই সিঁড়ি বেয়েই রোজ ছয় তলার ছাদে ওঠানামা করতে হয়। কোন গাছের কী পরিচর্যা দরকার, তা নিজেই দেখেন। জৈব সার ও পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার—সবই নিজ হাতে সামলান।
নতুন বাগানিদের জন্য পরামর্শ
নতুন যাঁরা বাগান করার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য আসমা কাদিরের পরামর্শ, ছাদে অন্যান্য দেশি জাতের আমের পাশাপাশি যেন অবশ্যই কিছু বারোমাসি জাতের গাছ রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে কাটিমন, বারি-১১ কিংবা পুনাই জাতের আম বেছে নেওয়া যেতে পারে। আসমা কাদিরের এই সবুজ উদ্যোগ দেখে প্রতিবেশীরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। কেউ কেউ সরাসরি তাঁর বাসায় এসে পরামর্শ নিয়ে যান।