স্ক্যান করলেই বেরিয়ে আসবে প্রিন্ট, চুয়েট শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ
নিয়মটা সহজ। কিউআর কোড স্ক্যান করুন, ছবি বা পিডিএফ সিলেক্ট করুন, ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করুন, ব্যাস! মুহূর্তেই বেরিয়ে আসবে কাঙ্ক্ষিত প্রিন্ট। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শহীদ তারেক হুদা হলের সামনে বসানো হয়েছে এমনই একটি স্বয়ংক্রিয় প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন।
যন্ত্রটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বর্ণ’। দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই যেন স্বল্প খরচে ‘প্রিন্ট সেবা’ পাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে এটি তৈরি করেছেন চুয়েটের পাঁচ শিক্ষার্থী—মো. রায়হানুল নাঈম, ফয়সাল তাঈসীর, শোভনলাল সরকার, মো. রেজওয়ানুল আবেদীন ও এ এন এম সামিউল আলম। মূল ভূমিকায় ছিলেন রায়হানুল নাঈম ও ফয়সাল তাঈসীর। দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।
রায়হানুল ও ফয়সালের আগে থেকেই ‘সাইফার’ নামে একটি স্টার্টআপ ছিল। রোবোটিকসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রি করেন তাঁরা। সেই ব্যবসার আয় থেকেই দাঁড়িয়ে গেছে ‘বর্ণ’। ফয়সাল বলেন, ‘আমাদের পড়াশোনার কাজে প্রায়ই ল্যাবশিট, অ্যাসাইনমেন্টসহ নানা কাগজ প্রিন্ট করতে হয়। কিন্তু সব সময় দোকান খোলা থাকে না, আবার খরচও বেশি পড়ে। তাই কম খরচে, যেকোনো সময় প্রিন্ট করার উপায় খুঁজছিলাম। সেখান থেকেই এই মেশিনের ভাবনা।’
প্রযুক্তিগতভাবে যন্ত্রটি পুরোপুরি শিক্ষার্থীদের নিজেদের নকশায় তৈরি। এর ভেতরে আছে একটি কাস্টম সার্কিট, মাদারবোর্ড, কাস্টমাইজড প্রিন্টার ও ডিসপ্লে। পুরো যন্ত্রটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। ব্যবহার সহজ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অল্প সময়েই এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন।
এ ব্যাপারে চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা খালিদ বিন শামস বলেন, ‘রাতে বা ছুটির দিনে হঠাৎ প্রিন্ট করার দরকার হলে আগে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হতো। অনেক সময় দোকান খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। “বর্ণ” বসানোর পর সেই সমস্যাটা আর নেই। মোবাইল থেকেই ফাইল পাঠিয়ে অল্প খরচে দ্রুত প্রিন্ট পাওয়া যাচ্ছে।’
শহীদ তারেক হুদা হলের পাশাপাশি চুয়েটের শহীদ আবু সাঈদ হল ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেও বসানো হয়েছে ‘বর্ণ’। রায়হানুল নাঈম জানালেন, আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কথা চলছে।
উদ্ভাবনী কাজের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের রোবোটিকসে আগ্রহী করতেও কাজ করছেন এই তরুণেরা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজন করছেন কর্মশালা। রোবোটিকসের যন্ত্রপাতি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টাও করছেন তাঁরা।