রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এপিক চ্যাপটার ফাইভ’

Mahmud Jami

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি উদ্যোগ ‘এপিক চ্যাপটার ফাইভ’। নাট্যকলা বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ৩০ জানুয়ারি এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। ফলে আগের চ্যাপটারগুলোর তুলনায় এবারের আয়োজন ছিল আরও বড়। মঞ্চস্থ হয়েছে তিনটি নাটক। সঙ্গে ছিল ছয়টি নন-ড্রামা পারফরম্যান্স।

থিয়েটারের প্রতি ভালোবাসা আর শিল্পীদের জন্য একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে ‘এপিক’। উদ্যোক্তা ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিন ইয়াসার। শুরুতে শুধু থিয়েটার নিয়ে কাজ করলেও বর্তমানে এপিকে জায়গা করে নিয়েছে নাচ, গান, আবৃত্তিসহ নানা সৃজনশীল শিল্পের ফিউশন। এভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এপিক হয়ে উঠেছে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম।

আরও পড়ুন

এপিকের বড় সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলো ধারাবাহিকভাবে ‘চ্যাপটার’ আকারে অনুষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালে ‘এপিক চ্যাপটার ফোর’ আয়োজনের পর এ বছর হলো ‘এপিক চ্যাপটার ফাইভ’। আগের চ্যাপটারগুলোতে সাধারণত দুটি করে নাটক মঞ্চস্থ হলেও এবার মঞ্চে ওঠে তিনটি নাটক। বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের লেখা নাটকও মঞ্চস্থ হয়।

এবারের আয়োজনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন ছিল মৌলিক নাটক দ্য ভার্ডিক্ট। এপিক চ্যাপটারের ইতিহাসে এই প্রথম সম্পূর্ণ মৌলিক কোনো নাটক মঞ্চস্থ হলো। নাটকটির রচয়িতা ও নির্দেশক ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রা’আদ বিন তারেক। নাটকটিতে মনুষ্যত্বকে প্রতীকীভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।

তৌফিক আল হাসিব ও নাবিলা রহমানের নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয় ‘মিউজিক্যাল অডিসি’। গ্রিক পুরাণের গল্পই নাটকে গানের মাধ্যমে প্রাণ পেয়েছে। এ ছাড়া আ স ম শাফিন ও নাজিবা জামানের নির্দেশনায় পরিবেশিত হয় ফরাসি নাটক রাইনোসোরাস। প্রহসন, হাস্যরস ও কৌতুকের আড়ালে সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্তর্নিহিত বাস্তবতা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও অভিনয়ের ফিউশনে ‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম’ শিরোনামে একটি পারফরম্যান্স পরিচালনা করেন ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান।

প্রায় তিন মাস আগে শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি। ক্লাস, পরীক্ষা আর দৈনন্দিন ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে অনুশীলন চালিয়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা, করেছেন মঞ্চসজ্জা আর প্রচারণার কাজ। দর্শকদের রুচি ও প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি পারফরম্যান্স উপস্থাপন করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এপিকের প্রতিষ্ঠাতা সামিন ইয়াসার বলেন, ‘শিল্পীদের জন্য একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার তাগিদ থেকেই এপিক শুরু করেছিলাম, যেখানে শিল্পীরা শিল্পের মধ্য দিয়ে নিজেদের স্বাধীনতা খুঁজে পাবে। এই ভাবনা থেকেই “আর্ট ইজ লিবার্টি” অর্থাৎ “শিল্পই স্বাধীনতা” ধারণাটি গড়ে ওঠে। এই মূলনীতিকে সামনে রেখেই এপিক কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে এপিক কাজ করে যাবে, এটাই আমাদের আশা।’

আরও পড়ুন