হাঁড়িপাতিলের পুনর্ব্যবহার নিয়ে শাবিপ্রবির গবেষণা
পুরোনো বিভিন্ন পাত্র বারবার গলিয়ে তৈরি হয় আমাদের ব্যবহার্য হাঁড়ি–পাতিল। এতে দস্তা বা টিনের মতো নানা ধাতুর মিশ্রণ থাকে। রান্নার তাপে এই বিষাক্ত উপাদান কি খাবারের সঙ্গেও মিশে যেতে পারে? যদি তা–ই হয়, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে এটি হতে পারে ক্যানসার বা স্নায়বিক রোগের কারণ। এমন ভাবনা থেকেই একটি গবেষণা করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একটি দল।
গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। তাঁর তত্ত্বাবধানে কাজ করেছেন মো. সোহাগ হোসেন ভূঁইয়া, গুলজার আহমেদ, মো. মুন্তাসির শাওন, সুহেল খান, শারমিন আক্তার, জেহান ওয়াই আল–হুমাইদি, মাহা জি বাত্তেরজি ও মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান। তিন বছরের এই গবেষণা সম্প্রতি ‘ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকেরা জানান, অ্যালুমিনিয়াম বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত ধাতু। এর চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু প্রাথমিক উৎপাদন পরিবেশের জন্য বেশ ক্ষতিকর। তবে বিশ্বব্যাপী এই উপাদানের রিসাইক্লিং (পুনর্ব্যবহার) বাড়ছে। কিন্তু বারবার গলানোর ফলে পাত্রে বিষাক্ত উপাদান (কালো দাগ) জমে। বাংলাদেশে এই সমস্যা আরও বেশি। ফলে খাবারে মিশে যাওয়া ধাতু নানা অসুখ–বিসুখের কারণ হতে পারে।
গবেষকেরা এই বারবার রিসাইকেল করা পাত্র (এমআরএইউ) থেকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়াম সালফেট (অ্যালাম) তৈরি করেছেন। এটি পানি পরিশোধনে কোয়াগুল্যান্ট হিসেবে ময়লা জমিয়ে পানি পরিষ্কার করে। এগুলো কাগজশিল্পে ‘ফিলার’ হিসেবে কাগজের গুণমান বাড়ায়।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই অ্যালাম বাণিজ্যিক অ্যালামের চেয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভালো কাজ করে। এটি ঝুঁকিহীন, কারণ বিষাক্ত ধাতু পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা হয়।
গবেষক মো. সোহাগ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল এই বর্জ্যকে নিরাপদ শিল্পপণ্যে রূপান্তর করা। এটি খাদ্যনিরাপত্তা বাড়াবে এবং অ্যালাম আমদানি কমাবে।’
অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ‘এই প্রক্রিয়া পরিবেশবান্ধব। কারণ, ল্যান্ডফিল কমবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার হবে। এই গবেষণা ত্রিমুখী সুবিধা দেয়। এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমায়, বর্জ্য হ্রাস করে এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। ভবিষ্যতে কারখানায় এটি চালু হলে বাংলাদেশের পানি ও কাগজশিল্পে বিপ্লব আসতে পারে। আমরা যেন বর্জ্যকে সমস্যা হিসেবে না দেখে সুযোগ হিসেবে দেখি।’ স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর জন্য বারবার রিসাইকেল করা এসব হাঁড়ির লাভজনক বিকল্প ব্যবহারের উপায় বের করা খুব জরুরি বলে জানান তিনি।