‘ব্যবসায় একবার নামার পর বোঝা যায়, কত ধরনের “সুপ্ত খরচ” যে আছে!’
মোহাম্মদপুরের বিখ্যাত নুরজাহান রোডে ছোট্ট একটি রেস্তোরাঁ। নাম ফ্রিজ্জা। কয়েকজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নের ফসল এই খাবারের দোকান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলের মতো দুরূহ বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেও রেস্তোরাঁর প্রকল্প হাতে নেন ইমরান হোসেন। তাঁর সঙ্গে বিনিয়োগ করেছিলেন আরও তিন বন্ধু—সামসুল আলম, সনি কুমার দে ও মাকসুদ উর রহমান।
‘উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর থেকেই ব্যবসা নিয়ে ভাবতাম। যেখানেই থাকি না কেন, জীবনে কোনো না কোনো সময় ব্যবসায় ঢুকব—এমন একটা পরিকল্পনা ছিল। করোনার সময় যখন ক্লাস-ল্যাব সব বন্ধ, তখন মনে হলো এই অবাধ ছুটিটা নষ্ট না করি। সেই সময়েই ব্যবসায় ঢোকা,’ বললেন ইমরান।
পড়ালেখার পাশাপাশি আরও নানা রকম ব্যবসাই তো হতে পারত। রেস্তোরাঁ কেন? ইমরানের ব্যাখ্যাটা এ রকম, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, রেস্তোরাঁ চালুর সময় একবার বেশি সময় দিয়ে পরে একটু কম সময় দিলেও হয়। তা ছাড়া বাঙালি এমনিই ভোজনরসিক। সে জন্য মনে হয়েছে, এই ব্যবসাটা লাভজনক হবে।’
প্রকৌশলের ছাত্র হলেও ব্যবসার খুঁটিনাটি তিনি ভালোই বোঝেন। কত টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন, কেমন জায়গায় ব্যবসাটা ভালো জমবে, বাজেটের সঙ্গে আয়োজনটা মানানসই হবে কি না—সব ভেবেচিন্তেই পা বাড়িয়েছিলেন তিনি। বললেন, ‘মনমতো জায়গা খুঁজে পাওয়াটা বেশ কষ্টসাধ্য। মেনু ঠিক করা, রাঁধুনি পাওয়া—এগুলো একদম শেষের ধাপ।’
শুরুতে নানা বাধাবিপত্তি তো ছিলই। পরিবারের সমর্থন পেয়েছেন বলে ব্যবসাটা দাঁড় করানো সহজ হয়েছে ঠিক কিন্তু চ্যালেঞ্জও ছিল অনেক। ইমরান বলেন, ‘ব্যবসায় একবার নামার পর বোঝা যায়, কত ধরনের “সুপ্ত খরচ” যে আছে! একটা রেস্তোরাঁর জায়গা যখন ভাড়া নেওয়া হয়, তখন সেখানে থাকে শুধু দেয়াল আর ছাদ। শূন্য থেকে পুরোটা পরিকল্পনা করতে হয়। এই নির্মাণকাজ তদারকি করা ভীষণ কঠিন। কম বাজেটে কাজ করার কারণে নিজেদেরই সবকিছু দেখাশোনা করতে হয়। আরেকটা বড় সমস্যা হলো মানসম্মত কাঁচামাল পাওয়া। বেশির ভাগ জিনিসই যেহেতু বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, এগুলোর দাম বেশি, আর পাওয়াও কঠিন। বাজেটের মধ্যে মানসম্মত খাবার তৈরি করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।’
তবে এত ঝক্কি সামলেও ইমরানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ধৈর্য। লোকসান হলেও সেটা মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকা দরকার বলে মনে করেন তিনি। বললেন, ‘সর্বোচ্চ কত লোকসান হতে পারে, আমি হিসাব করে নিয়েছিলাম। লস হবে ধরে নিয়েই লাভের জন্য কাজ করে গেছি।’ প্রকৌশলের এই ছাত্র অবশ্য তাঁর ব্যবসায় প্রযুক্তির সহায়তাও নিচ্ছেন যথাসম্ভব। ভোক্তাদের একটি ডেটাবেজ তৈরি করেছেন তিনি। জানালেন, এতে পুরোনো কাস্টমার ধরে রাখা সহজ হচ্ছে।