default-image

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৮৪–এর শেষে কিংবা ’৮৫–এর প্রথম দিকে। খুব সম্ভবত বাংলাদেশ টেলিভিশনের তদানীন্তন প্রযোজক নওয়াজিশ আলী খান আমাকে জানালেন, তিনি হুমায়ূন আহমেদের লেখা একটা নাটক করতে যাচ্ছেন। আমাকে অভিনয় করতে হবে। এক পর্বের নাটক। ধারাবাহিক নাটক তখনো নিয়মিত হয়ে ওঠেনি। আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি। সে সময় লেখক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ক্রমবর্ধমান। তাঁর লেখা ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, আলোচিত হচ্ছে। সুতরাং না করার প্রশ্নই ওঠে না। তবে টিভি নাটকে তখন তিনি সূচনাপর্বে।

ওই নাটকের মধ্য দিয়েই তাঁর সঙ্গে পরিচয়। পরে নওয়াজিশ ভাই আমাকে জানিয়েছিলেন, যেকোনো কারণে আমার অন্যান্য নাটক দেখে আমার অভিনয় তাঁর ভালো লেগেছিল এবং বলেছিলেন, ওই চরিত্রে আমাকে তাঁর চাই। এরপর বাকিটা ইতিহাস। একের পর এক ধারাবাহিক নাটক। প্রতিটি নাটক জনপ্রিয় হয়েছে। নাটকের চরিত্রগুলো অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ছোট–বড়—সব চরিত্রই সমানভাবে দর্শকনন্দিত। সাধারণত টিভি নাটক বা চলচ্চিত্র—যেটিই বলি, কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোই দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের জাদুকরি ছোঁয়ায় প্রতিটি চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ, সমান আকর্ষণীয়। এটি একটি বিরল ঘটনা।

হুমায়ূনের সঙ্গে রসায়ন

স্মৃতির ঝাঁপি খুললে অনেক কথা। আমার অভিনীত সেই প্রথম নাটক থেকেই হুমায়ূনের সঙ্গে বন্ধুত্বের শুরু। তিনি তখন শহীদুল্লাহ্‌ হলের হাউস টিউটর। বাড়িতে নিমন্ত্রণ জানালেন আমাদের বেশ কয়েকজনকে। বললেন, বড় রুই মাছ খাওয়াবেন। সেই প্রথম তাঁর বাড়িতে যাওয়া। খুবই সাধারণ আসবাবপত্র, যেটুকু না থাকলেই নয়। গুলতেকিন ভাবি খুবই যত্ন করে খাইয়েছিলেন। আড্ডাও হয়েছিল খুব। হুমায়ূনের ঘর আলো করে তিনজন ফুটফুটে কন্যাসন্তান নোভা, শীলা, বিপাশা—সব মিলে এক মায়াময় স্মৃতি।

তাঁর সঙ্গে আমার রসায়নটা ছিল চমৎকার। নাটক লেখার সময় আমার কথা মনে রেখেই নাটক লিখেছেন। শুধু আমি কেন? চরিত্র সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে ভেবে রাখতেন, কাকে কোন চরিত্র দেবেন। শুধু কোথাও কেউ নেই নাটকে আমাকে তিনি দুটি চরিত্রের যেকোনো একটিতে প্রস্তাব দিয়েছিলেন—মাস্তান অথবা মুনার প্রেমিক। হয়তো তাঁর মধ্যে দ্বিধা ছিল মাস্তানের চরিত্র আমার পক্ষে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব কি না। আমি বলেছিলাম, মাস্তান চরিত্রটি আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং। ওটাই করতে চাই। তিনি আপত্তি করেননি।

প্রায়শই তাঁকে ফরমায়েশি নাটক লিখতে হতো। বিভিন্ন এনজিও অথবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নানা বিষয়–আশয় নিয়ে। লিখতেনও অসাধারণ। কিন্তু অনেক সময় ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কিছু পরিবর্তনের অনুরোধ আসত। খুবই বিরক্ত হতেন হুমায়ূন। আমাকে প্রায়শই বলতেন, আপনি লেখেন বসে বসে। আমি লিখতাম। তাঁর মতো করেই লিখতাম। অনুকরণ করা তো সহজ। হুমায়ূন খুশি হয়ে বলতেন, বাহ্, আমার স্টাইলেই তো লিখেছেন।

হুমায়ূন লিখতেন সকালবেলায়। যত রাতেই ঘুমোতে যান না কেন, বেশ সকালে উঠে পড়তেন। সকাল সকাল বসে যেতেন লিখতে। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় লিখতে পারতেন। তাঁর বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত দু–একজনের মধ্যে আমি ছিলাম। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে সকালেই যেতে হতো তাঁর কাছে। দেখতাম লিখছেন। অপেক্ষা করতাম। খুব সস্তা বলপেন দিয়ে খস খস করে লিখে চলেছেন। নাক দিয়ে ফোঁস ফোঁস করে একটা শব্দ হচ্ছে—একটু উত্তেজিত। কখনো দেখেছি ঘরের এ–মাথা থেকে ও–মাথা হাঁটছেন। চেয়ার-টেবিলে বসে কখনো লিখতে দেখিনি, সব সময় মেঝেতে আধশোয়া, কখনো বুকের নিচে বালিশ।

বিজ্ঞাপন

সিরিয়াস আলোচনা নিষিদ্ধ

তিনি খেতেন কম, কিন্তু আয়োজন থাকত ব্যাপক। অল্প আয়োজন দেখলে খুবই বিরক্ত হতেন, কখনো রীতিমতো ক্ষিপ্ত। আরেকটি কথা হলো, ভোজন আয়োজনে খাবার হতে হবে গরম। ঠান্ডা খাবার নৈব নৈব চ। সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে চলত ধুন্ধুমার আড্ডা। কোনো সিরিয়াস আলোচনা এখানে মোটামুটি নিষিদ্ধ ছিল। সন্ধ্যা হতে না হতেই হুমায়ূনের ফোন—কী, এখনো আসছেন না কেন? আড্ডার সবাইকে—প্রায় সব বন্ধুকে ফোন করতে শুরু করতেন। প্রায়ই রাত গভীর হতো, বাড়িতে স্ত্রীর মুখ গম্ভীর থেকে গম্ভীরতর হতো। কিন্তু হুমায়ূন অনুমতি না দিলে কারও ওঠার উপায় নেই। অনেক সময় এতটাই খেপে যেতেন যে মনে হতো অসুস্থ হয়ে পড়বেন। যখন রেগে যেতেন, তখন মাত্রা ছাড়া রাগ, আবার কিছুক্ষণের মধ্যে রাগ ঠান্ডা। হুমায়ূন অন্য এক মানুষ।

একটা ঘটনার কথা বলি। আগুনের পরশমণি ছবির কাজ শেষ, কিছু টুকটাক কাজ বাকি—সিনেমার ভাষায় বলে প্যাচওয়ার্ক। আমার একটা ছোট দৃশ্য করতে হবে। উত্তরায় শুটিং হচ্ছে। অপেক্ষা করছি। একপর্যায়ে একটু বিরক্ত হয়ে উঠলাম, এভাবে বসে থাকতে ভালো লাগে নাকি। ছোট্ট একটা শটের জন্য সেই কখন থেকে বসে আছি। ব্যস, হুমায়ূন রেগে আগুন। বললেন, যান, আপনার শুটিং করতে হবে না। আমিও ‘থ্যাংক য়ু’ বলে চলে এলাম। রাত বারোটা, সাড়ে বারোটা হবে। শুনি, বেল বাজছে, দরজা খুললাম। হুমায়ূন ফুল হাতে দলবলসহ হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন। ফুলগুলো আমার হাতে দিয়ে বললেন, ভাবিরে বলেন, খিদা লাগছে। ওই রাত্তিরে আবার রান্না বসানো হলো। গল্পগুজব করে খেয়ে–দেয়ে বাড়ি যেতে যেতে প্রায় ভোর। আগুনের পরশমণি নিয়ে আরও ঘটনা আছে। সব লিখতে গেলে একটা আস্ত বই হয়ে যাবে। তবে আপাতত হুমায়ূনের আড্ডার কথা বলি। তিনি পড়তেন প্রচুর। এমনও দেখেছি, বন্ধুদের মধ্যে গল্পগুজবের ফাঁকে ফাঁকে মোটা মোটা বইয়ের পাতা উল্টে যাচ্ছেন; যখন গল্প করছেন, বইয়ের পাতায় আঙুল গুঁজে রেখেছেন। এই ছবিগুলো চোখে ভাসে।

তিনি এবং রুচির বদল

মাঝেমধ্যে আমি অবাক হয়ে ভাবি, হুমায়ূন এত লেখা কীভাবে লিখতেন। একদিকে দীর্ঘ আড্ডা, রাত্রি জাগরণ, অন্যদিকে নাটকের শুটিং, সিনেমা বানাচ্ছেন, তাঁর এডিটিংয়ে বসে আছেন, ডাবিংয়ে উপস্থিত থাকছেন, গান লিখছেন—এসবের মধ্য দিয়ে লেখা হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের কিছু শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। একটা কথা কিছু বিদ্বজ্জনের মধ্যে প্রায়ই আলোচিত হয়, হুমায়ূন আহমেদ জনপ্রিয়, কিন্তু তাঁর লেখায় গভীরতা নেই। এ ধরনের কথা আমার কাছে মনে হয় ঈর্ষা বা বিদ্বেষপ্রসূত।

আমার মতো বাংলাদেশে তাঁর অজস্র পাঠক বিশ্বাস করেন যে হুমায়ূন আহমেদ এ দেশের তরুণদের ভালো বই পড়ার দিকে ফিরিয়ে এনেছেন। যাঁরা শুধু কিছু স্পাই থ্রিলার পড়ে সময় কাটাতেন, তাঁদের রুচির পরিবর্তন ঘটিয়েছেন তিনি—এই অনিবার্য সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই। শেক্‌সপিয়ারের সব নাটক কি সমান জনপ্রিয় বা সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ, বা এই সেদিনের সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়? এমন অসংখ্য লেখকের নাম করা যায়। বইমেলায় এখনো হুমায়ূন আহমেদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। লেখকের মধ্যে, লেখার মধ্যে সেই শক্তিটা না থাকলে এত মানুষকে টানা তো সম্ভব নয়।

ম্যাজিক দেখাতে পছন্দ করতেন হুমায়ূন। দেখতেও পছন্দ করতেন। ম্যাজিক নিয়ে পড়াশোনা করতেন। একপর্যায়ে ছবি আঁকতে শুরু করলেন। বলতে দ্বিধা নেই, স্বশিক্ষিত শিল্পী হিসেবে তাঁর আঁকা নিসর্গের ছবিগুলো যেকোনো ড্রয়িংরুমে শোভা পেতে পারে।

আমি ছিলাম উকিল

হুমায়ূনের সঙ্গে শাওনের বিয়েতে আমি উকিল ছিলাম। বিয়ের আয়োজন হঠাৎ করে হয়েছিল। হঠাৎ করেই আমার ডাক পড়ল, জরুরি, এখুনি চলে আসুন। বিয়ে হলো। গণমাধ্যমে খবরটা প্রচারিত হওয়ার পরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেল। তখন সকালবেলা আমি রমনা পার্কে হাঁটতে যাই। একদিন একদল নারী আমাকে ঘিরে ধরলেন, ‘আপনি এমন কাজ কীভাবে করলেন? উকিল হওয়াটা খুব অন্যায় হয়েছে।’ সব সময় সরলরেখায় কি ন্যায়–অন্যায় বিচার করা যায়? মানুষের সম্পর্ক তো সব সময় সরলরেখায় চলে না।

হুমায়ূনের দুটি সন্তান জন্মের প্রায় পরে পরেই মারা যায়। রাশেদ প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন ভাবির পুত্রসন্তান। এরপর লীলাবতী, শাওনের কন্যাসন্তান। সন্তানের প্রতি হুমায়ূনের যে কী গভীর ভালোবাসা ও মমতা, তখন অনুভব করেছি। ক্লিনিকে জীবন-মৃত্যুর যুদ্ধ চলছে। আমরা হুমায়ূনের সঙ্গে আছি। অসম্ভব যন্ত্রণা, অস্থিরতা হচ্ছে তাঁর। বারবার সিগারেট ধরাচ্ছেন। এদিক থেকে ওদিকে হাঁটছেন, ছটফট করছেন। কিছুতেই তাঁকে শান্ত করতে পারছি না আমরা।

নুহাশ গুলতেকিন ভাবির সন্তান। তাঁর নামেই নুহাশপল্লী। সেখানেই হুমায়ূন সমাহিত। নুহাশপল্লীতে একটি বাগান আছে রাশেদের নামে, একটি পুকুর আছে লীলবতীর নামে।

মনে পড়ে, আড্ডায় অধিক রাত্রে আবেগের প্রাবল্যে হুমায়ূন আর আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতাম, কাল থেকে দুজন দুজনকে ‘তুমি’ বলব (একে অন্যকে আমরা ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করতাম)। কিন্তু সকালে উঠে দুজনেই ভুলে যেতাম। আপনিতেই ফিরতাম।

জমে ওঠা কান্না আর বাঁধ মানল না

১৯৯৮ সাল থেকে রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়তে শুরু করি আমি। ২০০১ এ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। হুমায়ূনের আড্ডায় যাওয়া কমতে থাকে, নাটকও করতে পারি না। হুমায়ূন ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, হতাশ হয়েছিলেন। তার মধ্যেও কিছু নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। ধীরে ধীরে হুমায়ূন আমার রাজনীতির জীবনটা মেনে নিয়েছিলেন। একদিন ঠাট্টা করে বলেছিলেন, নূর যদি কোনো দিন মন্ত্রী হয়, তাহলে প্রথম দেখায় তাকে আমি ‘শালা’ বলে সম্বোধন করব। এটা আমার অনেক দিনের শখ। সেটা আর সম্ভব হয়নি। আমি যখন মন্ত্রী হলাম, হুমায়ূন তখন এই পৃথিবীতে নেই।

২০১২ সালের ১৫ জুলাই নিউইয়র্কে পৌঁছুলাম। হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন হুমায়ূন। ১৬, ১৭, ১৮ জুলাই—তিন দিন ছিলাম নিউইয়র্কে। প্রতিদিনই একবার করে হাসপাতালে গেছি। শাওন, মাজহার (মাজহারুল ইসলাম), জাফর ইকবাল, তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন হক—সবাই তখন নিউইয়র্কে। সবাই পালা করে ২৪ ঘণ্টা থাকছেন হাসপাতালে। হাসপাতালে হুমায়ূনের বেডের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। একটি পৃথক কক্ষ। যন্ত্রপাতিতে ভরা, মনে হয় কোনো এক বিজ্ঞানের কল্পকাহিনির দৃশ্য। সাদা ধবধবে বিছানায় শুয়ে আছেন হুমায়ূন। চেতনাহীন। নাকে, মুখে, বুকে, হাতে, পায়ে—বলতে গেলে সারা শরীরে অসংখ্য প্লাস্টিকের স্বচ্ছ নল তাঁকে গাছের শিকড়ের মতো জড়িয়ে আছে। আমি একা দাঁড়িয়ে আছি। ডাকলাম, হুমায়ূন, আমি নূর, হুমায়ূন। তাকিয়ে আছি। একটু কি ঠোঁটটা নড়ে উঠল? নাকি আমার মনের ভুল? বুকের ভেতর জমে ওঠা কান্না আর বাঁধ মানল না। পেছনে এসে আস্তে করে আমার পিঠে হাত রাখলেন এক নার্স, চোখে অনুরোধের ভাষা, ঘরের বাইরে যেতে বলছেন। বেরিয়ে এলাম। এরপর দুদিন ছিলাম। প্রতিদিন কাচের দেয়ালের বাইরে দাঁড়িয়ে দেখতাম, শান্ত, নীরব হুমায়ূন শুয়ে আছেন। তাঁর মস্তিষ্ক কি এখনো কাজ করছে? তিনি কি ভাবতে পারছেন? তাঁর মস্তিষ্কে কি জন্ম নিচ্ছে যে উপন্যাসটি লেখা হবে, সেটি?

এই আকাশে, ধুলায় ধুলায়, ঘাসে ঘাসে

১৮ তারিখ রাতে নিউইয়র্ক ছাড়লাম। লন্ডনে পৌঁছুলাম সকালে। বিমানবন্দরে নেমে মোবাইলটা অন করলাম। ভেসে উঠল বন্ধু মাজহারের মেসেজ, ‘হুমায়ূন ভাই নেই’। হুমায়ূনকে ঢাকায় আনার পর শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নেমেছিল। আমি দেশে ছিলাম না। ভালোই হয়েছে। সারি বেঁধে ফুল দেওয়ার মিছিলে আমাকে দাঁড়াতে হয়নি। মাইক্রোফোনে ঘোষণা হতো আমার নাম, বলা হতো, ‘বলুন দু–একটা কথা তাঁর সম্পর্কে।’ ওই আনুষ্ঠানিকতা থেকে তো মুক্তি পেয়েছি।

হুমায়ূনকে পেয়েছি নাটকে, উপন্যাসে, গানে, আড্ডায় এবং শর্তহীন বন্ধুত্বে। আনুষ্ঠানিকতার কী প্রয়োজন। গান ভালোবাসতেন তিনি। ভালোবাসা বললে কম বলা হয়, গানের ক্ষুধা ছিল তাঁর। বাংলার লোকগান—লালন, হাসন রাজা, রাধারমণ, শাহ আবদুল করিম এবং সর্বোপরি রবীন্দ্রনাথ। হুমায়ূনের নশ্বর দেহ মাটিতে মিলিয়ে গেছে। কিন্তু তাঁর আত্মার মুক্তি আলোয় আলোয়, এই আকাশে, ধুলায় ধুলায়, ঘাসে ঘাসে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0