কার্ল মার্ক্স

কার্ল মার্ক্স (৫ মে ১৮১৮—১৪ মার্চ ১৮৮৩)
কার্ল মার্ক্স (৫ মে ১৮১৮—১৪ মার্চ ১৮৮৩)
সাদত হাসান মান্টো
উর্দু থেকে অনুবাদ: জাভেদ হুসেন
৫ মে ছিল কার্ল মার্ক্সের জন্মদিন

পুরো দুনিয়ার নজর এখন রাশিয়ার ওপর। সে নজর আগেও ছিল। তবে তাতে ছিল একঝলক মশকরা। ছিল একরকমের বিদ্রূপ। ইউরোপের রাজনীতির তেরছা টুপি পরা ব্যাংকগুলো রাশিয়ার শ্রমিকদের লড়াই দেখে মুচকি হাসত। রাশিয়ার মানুষ ছিল হাজার বছর ধরে দাস। এই দাসেরা যখন নিজেদের পায়ের শিকলের লোহা গলিয়ে গলিয়ে নিজের নতুন সাম্রাজ্যকে পান করানো শুরু করল, তখন স্বাধীন দেশগুলো তাদের নিয়ে বারবার বিদ্রূপ করল।

আপন ঘর সামলানোর জন্য তারা উদ্দীপনা দেখাল। তখন আগের থেকেই গোছানো ঘরে থাকা মানুষ খিলখিল করে হেসে উঠল। সেই প্রয়াস, যা কখনো পাগলামি বলে মনে করা হতো, যে প্রচেষ্টা কখনো অসম্ভব আর ফলহীন বলে বিশ্বাস করা হতো, যে জগৎ কখনো শ্রমিকের আকাশকুসুম কল্পনা বলে মনে করা হতো, তা বাস্তব হলো। রাজনীতির তেরছা টুপি পরে ছিল যারা, যারা ধর্মের লম্বা আলখাল্লা পরে থাকত, স্বাধীন আর পরাধীন দেশ যারা, যারা থাকে ভাঙা ঝুপড়িতে, থাকে মর্মর প্রাসাদে—সবাই দেখল, দেখল এক অলৌকিক কাণ্ড, যার নাম সোভিয়েত ইউনিয়ন। 

 সোভিয়েত রাশিয়া আজ আর স্বপ্ন নয়। কোনো কল্পনা নয়, নয় কোনো পাগলামি। সে এক নিরেট সত্য। সেই নিরেট সত্য, যা হিটলারের লৌহকঠিন প্রত্যয়ের সঙ্গে সংঘাতে নেমেছে হাজার মাইল দীর্ঘ রণক্ষেত্রে। যে সত্য লৌহ বর্মে আচ্ছাদিত ফ্যাসিস্টদের টুকরো টুকরো করে দিয়েছে। যে সাম্যবাদকে একসময় আধপাগলা ছোকরাদের খেলা মনে করা হতো, যে সাম্যবাদকে একসময় মনভোলানোর এক উপায়মাত্র ভাবা হতো, যাকে একসময় মানবতার নগ্নরূপ মনে করা হতো, আজ সে রাশিয়ার বিস্তীর্ণ ভূমিতে রুগ্​ণ মানবতার সামনে এক আশার আলো হয়ে ঝলমল করছে। 

 এ সেই সাম্যবাদ, যার নকশা আজ থেকে প্রায় দেড় শ বছর আগে এঁকে গিয়েছেন একজন । তাঁর নাম কার্ল মার্ক্স। শ্রদ্ধার যোগ্য এই সেই মানুষ, যিনি নিজের সম্প্রদায়ের জন্য নয়, নিজের দেশের জন্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য, সমস্ত মানবতার জন্য সমতা ও ভ্রাতৃত্বের উৎস খুঁজে বের করেছেন। 

 যেমন করে কাদায় পদ্ম ফোটে, তেমন করে পুঁজির পুজারি এক ইহুদি বংশে পুঁজি ধ্বংসকারী কার্ল মার্ক্স জন্মেছিলেন। ১৮১৮ সালের ৫ মে। যখন তিনি নিতান্ত শিশু, তখনই তাঁর বাবা বলেছিলেন, এই ছেলে বড় হয়ে শয়তান হবে! কার্ল মার্ক্স বড় হয়ে শয়তান নাকি ফেরেশতা হয়েছিলেন, এর কিছুটা আন্দাজ তো আমাদের প্রজন্ম করে ফেলেছে। এখন সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নেওয়ার দায়িত্ব অনাগত প্রজন্মের হাতে। 

● পৃথিবী পাল্টে দেওয়া সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মার্কসকে নিয়ে প্রখ্যাত উর্দু সাহিত্যিক সাদত হাসান মান্টো একটি নাটক লিখেছিলেন। লেখাটি কার্ল মার্ক্স নামে সেই নাটকের ভূমিকা। নাটকটি প্রকাশিত হয়েছিল মান্টোর তলখ ও তর্শ ও শিরিন গ্রন্থে ১৯৫৪ সালে, তাঁর মৃত্যুর আগের বছর। কার্ল মার্ক্সকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মূল উর্দু থেকে এ লেখাটি অনুবাদ করা হলো