বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমাজন কিন্ডলের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে আমাজন কিন্ডল। ঠিক এক বছরের মাথায় আমাজন কিন্ডল থেকে বই ডাউনলোড হয় ৯০ হাজার। এরপর প্রতিবছরই বই ডাউনলোডের হার বেড়েছে। তবে কিন্ডল থেকে বই বিক্রির অর্থের পরিমাণ কখনোই জানায়নি আমাজন। ২০১৪ সালে মর্গান স্ট্যানলি নামের একটি মার্কিন ব্যাংক জানায়, সে বছর ৫ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের কিন্ডল ডিভাইস বিক্রি করেছে আমাজন।

ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় মার্কিন লেখক মাইক ওমর বলেছেন, ‘আমার বই যেমন হার্ড কপি ছাপা হয়, তেমনি ই-বুক সংস্করণও প্রকাশিত হয়। কারণ, ই-বুকের পাঠক দিন দিন বাড়ছে। আমি আমার কোনো পাঠককেই আমার লেখা থেকে বঞ্চিত করতে চাই না।’

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও বাড়ছে রিডিং অ্যাপের জনপ্রিয়তা। এই মুহূর্তে ‘প্রতিলিপি’ নামে একটি ভারতীয় রিডিং অ্যাপ বাংলাভাষীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। গুগল প্লেস্টোর থেকে অ্যাপটি এ পর্যন্ত ডাউনলোড হয়েছে ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি বার। অ্যাপটিতে রয়েছে আটটি ভাষার (বাংলা, হিন্দি, মালয়ালম, তামিল, মারাঠি, তেলেগু, গুজরাটি ও কন্নড়) বিপুল রচনাসম্ভার। এটি শুধু বই পড়ার অ্যাপই নয়, এটি লেখক-পাঠকের এক মিলনমেলা। এখানে রয়েছে ৩০ হাজারের বেশি লেখক। লেখকেরা নিত্যনতুন লেখা প্রকাশ করতে পারেন এই অ্যাপে। আর পাঠকেরা অনুসরণ করতে পারেন পছন্দের লেখকদের। আছে লাইব্রেরি, চিরায়ত সাহিত্য পাঠসহ আরও নানা সুবিধা।

বাংলাদেশি রিডিং অ্যাপের মধ্যে রয়েছে সেইবই, বইঘর, আলোর পাঠশালা, বইটই ইত্যাদি। সম্প্রতি বইঘর অ্যাপ থেকে হালের জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইন কেবল ই–বুক হিসেবেই তাঁর নতুন প্যারানরমাল উপন্যাস সে এখানে নেই প্রকাশ করেছেন। তা ছাড়া আমাদের দেশের কবি–লেখকদের অনেকেই এখন ই–বুকের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, আহসান হাবীব, নাসরীন জাহান—এই কথাসাহিত্যিকদের বই যেমন রিডিং অ্যাপগুলোতে ই–বুক হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি কবিদের মধ্যে শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুণ, হেলাল হাফিজ—এঁদের কবিতাও পাঠক এখন পড়তে পারছেন মুঠোফোনের রিডিং অ্যাপে।

দিন দিন রিডিং অ্যাপের প্রতি ঝুঁকছে মানুষ। বিশেষত তরুণ প্রজন্ম। কারণ, এখানে স্বল্প খরচেই বই পড়া যায়। তা ছাড়া বিনা মূল্যেও অনেক কনটেন্ট পড়া যায়।

জনপ্রিয় রিডিং অ্যাপগুলো

এই মুহূর্তে বিশ্বের জনপ্রিয় রিডিং অ্যাপের মধ্যে রয়েছে আমাজন কিন্ডল অ্যাপ, ওয়াটপ্যাড, কবো বুকস, লিবি বাই ওভারড্রাইভ, এফবিরিডার, কমিক্সোলজি, স্ক্রাইবড, ব্লুফায়ার রিডার, বুকমেট, অ্যাপল বুকস, নুক, গুগল প্লে বুকস, এপিক, গুডরিডস ইত্যাদি।

নিশানথ একজন মার্কিন অধ্যাপক ও লেখক। তিনি বলেন, এসব অ্যাপের সবচেয়ে বড় সুবিধা, লাখ লাখ বই আপনি পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। যখন যেখানে মন চাইবে, সেখানে বসেই পড়তে পারবেন। স্থান কোনো বিষয় নয়, কাল কোনো বিষয় নয়। ভরসন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে গাড়িতে বসে পড়ে ফেলতে পারেন কোনো একটি বই।

বাংলাদেশেও অনেক গ্রাহক রয়েছেন এসব অ্যাপের। হাসান পারভেজ একজন করপোরেট চাকরিজীবী। ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি বই পড়ার নেশা তাঁর। নেশাটা এখনো ছাড়তে পারেননি। হাসান বলেন, ‘আমাদের শহরটা যানজটের শহর। বেশির ভাগ সময়ই যানজটে পড়ে থাকতে হয়। আগে যানযটে আটকা পড়লে নেটফ্লিক্সে মুভি দেখতাম, এখন আমাজন কিন্ডলে বই পড়ি।’

আরেক বইপড়ুয়া মার্জিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার পছন্দের অ্যাপ গুডরিডস। এই অ্যাপে শুধু বই পড়া যায় না, বই পড়ার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া যায়, বইয়ের আলোচনা লেখা যায়, বন্ধুদের বই পড়ার তালিকা দেখা যায় এবং পছন্দের বইকে পুরস্কারের জন্য ভোট দেওয়া যায়। এসব কারণে আমি নিয়মিত গুডরিডস পড়ি।’

সুমাইয়া জাহান বাংলা ভাষার বই পড়তেই পছন্দ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার মোবাইলে সেইবই অ্যাপ ইনস্টল করা আছে। সময়ে পেলেই আমি সেইবই অ্যাপ থেকে কোনো না কোনো বই পড়ি। অল্প খরচে পড়া যায় বলে এটা আমার জন্য সুবিধাজনক।’

সুতরাং বদলে যাচ্ছে সাহিত্যের দুনিয়া। বদলে যাচ্ছে পাঠকের রুচি ও অভ্যাস। ছুটির দিনের অলস দুপুরে বিছানায় শুয়ে কোনো বইয়ের পৃষ্ঠা ওলটাতে ওলটাতে ঘুমিয়ে পড়ার দিন কি ফুরিয়ে আসছে? এখনো ছুটির দিনের অলস দুপুর আসে, তবে অনেক পাঠকেরই সেই দুপুরটি কাটে এখন হয়তো মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে কোনো বইয়ের পাতায় চোখ রেখে।

সূত্র: অপরাহ ডেইলি, ওবার্লো ডটকম, আমাজন, আটলান্টিক ডটকম, গুডরিডস এবং পাঠকের সঙ্গে আলাপচারিতা।

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন