তুমি কি আমাকে দেখতে পাচ্ছ, জীবন?

প্রিয় জীবন,

এই চিঠি তুমি কখনো হাতে পাবে না, জানি। তবু লিখছি। তুমি তো জানো, তোমাকে চিঠি লেখা সেই কবেকার অভ্যেস আর আনন্দ আমার। তুমিও লিখেছ আমাকে ফুল্লকুসুমের মতো কোমল ব্যঞ্জনাভারাতুর বিজন তরঙ্গ মালায় গ্রন্থিত অবিনশ্বর কিছু পঙ্‌ক্তি। তোমার পত্রগুলো আজও মধ্যরাতে গোলাপের সৌরভ নিয়ে আমার শিয়রে বসে থাকে অবুঝ প্রেমিকের মতো।
আজ এই বেলা মনে হলো, বিষাদের চোখে কোনো জল নেই । তার কোনো ঘরবাড়িও নেই। আছে শুধু এক খণ্ড নিভৃতআঙ্গিনা। যতিহীন সময়ের বুক চিরে চিরে চলাচলের শপথ।

অশরীরী শব্দের স্তব্ধতা ভেঙে আজ অকস্মাৎ ছুটে আসে উদাসী হাওয়ার রাত। আমার হৃৎপিণ্ডজুড়ে দ্বিখণ্ডিত এক কৃষ্ণকালো কাপড়ের নৃত্য। বিষাদের মহিমায় ঝরে যায় আদি ও অকৃত্রিম সব রক্তাভ ব্লিডিং হার্ট ফুল। মিহি সুতোর কারুকাজে ফিরে আসে বেদনার জমিন। সব, সবকিছু কেমন এলোমেলো খণ্ডিত আর একলায় একাকার।
কী যে হয় তোমার? সব সময় ভুলে যাও। কিছুই মনে রাখো না কবিতা ছাড়া। শব্দের পাহাড়, সেই পাহাড়ের চেনা-অচেনা অরণ্য—অভিধানের বন্য প্রাণিকুল—কিছুই না। কী যে ঘোরে থাকো না!

যে ছিল তোমার জন্য উন্মুখ সূর্যমুখী, যে তোমার সকালবেলা, সন্ধ্যার আনত তুলসী, স্বাস্থ্য আর উজ্জ্বল উদ্ধার, তার জন্মদিনটি কি ভুলে যেতে হয় এভাবে? তুমি ভুলে গেলে আমার ভেতরে কষ্টের শিকড়-বাকড়েরা মেলতে থাকে তার পাখা, অনিমেষ একাগ্রতায়।
প্রতিবছর তাই আমার জন্মদিনের মাসটি এলেই তোমাকে আগেভাগেই মনে করিয়ে দিতাম। বলতাম, ডিসেম্বর এসেছে। এ মাসে কিন্তু একটা কিছু আছে। এসব বলে বলে ঢাকঢোল বাজাতাম। তুমিও বুঝে যেতে দুহাজার টাকা যেভাবেই হোক জোগাড় করতে হবে তোমাকে।
যখন তুমি কর্মহীন বেকার প্রেমিক স্বামী, তখনো কোনো কোনো জন্মদিনে আমার ছোট বোন রানুর কাছ থেকে ধারে নিতে টাকাটা। আর বলতে, ‘তোর বুবু যেন না জানে, আমি যে তোর কাছ থেকে ধার নিয়েছি, জানলে কিন্তু এই উপঢৌকন সে নেবে না আমার থেকে।’

জন্মদিনের দুদিন আগে আমার হাত দুখানা টেনে নিয়ে করতলে চুমুর প্রলেপ এঁকে দুই হাজার টাকা গুঁজে দিতে দিতে বলতে, ‘নাও, গরিব কবি এর চেয়ে আর বেশি কিছু দিতে পারল না তোমায়। তোমার তো রাজরানি হবার কথা ছিল, তা না হয়ে হলে গরিব কবির স্ত্রী। এই টাকায় তোমার পছন্দমতো একটা শাড়ি কিনে এনো মুমুসোনা! জন্মদিনে নতুন শাড়িটি পরবে তুমি। আমার খুব ভালো লাগবে। আর ভালো কিছু রান্না করতে বলে যেয়ো। বাবুরাও (রফিক আজাদ–দিলারা হাফিজের সন্তানেরা) তো একটু ভালোমন্দ খেতে ভালোবাসে।’ এভাবেই ২০০৩ সাল অবধি জন্মদিন আমার পালিত হয়েছে আপন সংসারে, কবি ও কবিতার বৈভবে।

কোনো কোনো বছর ইডেন কলেজ থেকে ছাত্রীরা আসত ফুল, মিষ্টি নিয়ে কুয়াশা ঝরা সকালবেলায়। তাদের প্রিয় আপার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে। শিক্ষক হিসেবে এই প্রাপ্তি সবার ভাগ্যে আসে না। শিক্ষার্থীদের এই শ্রদ্ধামিশ্রিত ভালোবাসা আমাকে অনন্য সাধারণ এক মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। আজ ভাবি, হয়তো এই নিষ্ঠার কারণেই পেশাগত জীবনের সর্বোচ্চ পদে সমাসীন হতে পেরেছিলাম। একজন প্রিয় শিক্ষক হিসেবে একলব্যের মতো অগণিত শিক্ষার্থী যেমন পেয়েছি, তেমনি মাতৃস্নেহের ছায়ায় তাদের বিকশিত হতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছি গভীর মমতায়। তাদের ভালোবাসায় আকণ্ঠ নিমজ্জিত আছি আজ এই অবসর জীবনেও। অসম্ভব ভালো লাগার হাওয়ায় নিমগ্ন থেকে উপভোগ করেছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মমুহূর্ত। বলতে গেলে সুপ্রসন্ন ভাগ্যের দ্বার খুলে গিয়েছিল কর্মজীবনের এই একপশলা বৃষ্টিতে।

বিজ্ঞাপন
default-image

আমার ছোট বোন রানুর গর্ভজাত, আমার আত্মজাত কন্যা সোহাগ একগুচ্ছ রজনীগন্ধার সুবাস ছড়িয়ে ভোরের বেলা এসে আমাকে চমকে দিত জন্মদিনে। ভারি আনন্দ হতো তখন। বিকেলে ছোট ভাই শীতল আসত সপরিবারে। ছোট্ট বোনটি শেলি থাকে সবচেয়ে দূরের শহর চট্টগ্রামে। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সবার আগে ভোরের দোয়েলের মতো সে জাগিয়ে দিত আমায়। আর পিঠেপিঠি ছোট ভাই সেলিম—যার সঙ্গে খুনসুটি করে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল আমার বর্ণাঢ্য শৈশব–কৈশোর—ওকে খুব কমই পেয়েছি আমার জন্মদিনের এই দিনটিতে।

আব্বা বেঁচে থাকতে ৪০তম জন্মদিনে আমাকে আশীর্বাদ করে কিছু টাকা দিয়েছিলেন। হলুদ একখানা খামের ভেতরে আজও তা আমার ড্রয়ারে অবিকল আব্বার স্পর্শের গন্ধটুকু নিয়ে বর্তমান। অধিকাংশ জন্মদিনে মাকে কাছে পেয়েছি তাঁর অতুল গৌরবে।
তো, আজ তোমার জন্মদিনে আমার জন্মদিনের কথা থাক। বরং বলি তোমার কথা, আমাদের কথা, আমরা কীভাবে জীবন কাটিয়েছি, সেসব কথা। তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে, ২০০৪ সালে অভিন্ন টরন্টোর স্যুলিখ বিজনেস স্কুল থেকে আইবিবিএতে গ্র্যাজুয়েশন করতে চলে গেল দেশ ছেড়ে। তখন সন্তান বিরহে আমরা দুজনেই ভীষণ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলাম। ‘ফল সেশনে’ নতুন ক্লাস শুরু বলে মাস তিনেক আগেই সে গেছে মাত্র। এই তো সেদিন এয়ারপোর্টে ওকে বিদায় দিয়ে ফিরে আসার সময় মনে হলো, নিজের হৃৎপিণ্ডখানি যেন রেখে এলাম ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেই বিরহবেলায় হঠাৎই অভিন্ন ফোন করে জানাল, মা, আজ রাত বারোটায় এক ভদ্রলোক যাবে আমাদের বাসায়। গেটটা খোলা রাখতে বলো কল্যাণকে। কেন, কী জন্য কিছুই আমাকে জানাল না। সেই বছর আমি অনুপস্থিত সন্তানের আকুতির মোম জ্বালিয়ে প্রথম কেক কেটেছিলাম বিহ্বল হাতে। কার্ডে অভিন্ন লিখেছিল রবীন্দ্রসংগীতের একটি কলি, ‘ভালোবাসি, ভালোবাসি এই সুরে কাছে দূরে জলে স্থলে বাজায় বাঁশি, ভালোবাসি, ভালোবাসি...।’

অভিন্নের এই অপ্রত্যাশিত ভালোবাসার সারপ্রাইজ পেয়ে সন্তান বিরহে বিরহকাতর মায়ের মন সীমাহীন আনন্দ-অশ্রুজলে আপ্লুত ও উদ্বেলিত হয়ে ওঠে।
এরপর অব্যয় পড়তে চলে গেল ২০০৯ সালে বড় ভাই অভিন্নর প্রযত্নে টরন্টোর ইয়োর্ক ইউনিভার্সিটিতে। যদিও তাকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়েছিলাম, বাংলাদেশেই আমাদের কাছে থেকে পড়াশোনা শেষ করবে বলে। তুমি ও আমি দুজনেই ভেবেছিলাম অব্যয় হয়তো বাইরে পড়াশোনার কথা ভাববে না। আমাদের কথা ভেবে দেশেই থাকবে। এক ভাই বিদেশে, অন্য ভাই স্বদেশে থাকবে বাবা–মায়ের পাশে।
কিন্তু নাহ্! হিসেবে কেমন যেন গোল বেধে গেল। মায়ের চিন্তা ভুল প্রমাণিত করে অব্ব, আমাদের অব্বসোনা যেদিন জানাল, মা, আমার অ্যাডমিশন হয়েছে টরন্টোর দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ে, দেশের বাইরে আমি পড়তে যেতে চাই, সে সময় কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থাকলাম। নানাবিধ চিন্তা মাথায় ধাক্কা খেতে লাগল। মাত্রই মাস তিনেক আগে ব্যাংকঋণ নিয়ে একটা গাড়ি কিনেছি অভিন্নের কথায়। ঋণের মাসিক কিস্তিটা অভিন্ন পরিশোধ করবে মাসে মাসে—এ রকম সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা করে সবে সবকিছু ফাইনাল করেছি। কী করি এখন?
তখন অব্যয়কে বললাম, বাবা, তুমি যদি যেতেই চাও, তবে গাড়িটা বিক্রি করে দিয়ে তোমাকে পাঠাতে হবে। অব্যয় তখন বলল, না মা, থাক তাহলে। গাড়ি বিক্রি করতে হলে আমি যেতে চাই না।

যখন তুমি কর্মহীন বেকার প্রেমিক স্বামী, তখনো কোনো কোনো জন্মদিনে আমার ছোট বোন রানুর কাছ থেকে ধারে নিতে টাকাটা। আর বলতে, ‘তোর বুবু যেন না জানে, আমি যে তোর কাছ থেকে ধার নিয়েছি, জানলে কিন্তু এই উপঢৌকন সে নেবে না আমার থেকে।’জন্মদিনের দুদিন আগে আমার হাত দুখানা টেনে নিয়ে করতলে চুমুর প্রলেপ এঁকে দুই হাজার টাকা গুঁজে দিতে দিতে বলতে, ‘নাও, গরিব কবি এর চেয়ে আর বেশি কিছু দিতে পারল না তোমায়।’

কী বলি সন্তানকে! কী বলা উচিত মা হিসেবে? বিব্রত, দ্বিধান্বিত, সংশয় সাগরের উপলখণ্ডের মতো নির্বাক কতক্ষণ বসেছিলাম, আজ আর মনে করতে পারছি না। তোমার তো মনে আছে জীবন, আমি তখন তিতুমীর কলেজে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত। যাতায়াতে ভারি অসুবিধা হচ্ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বাসে ওঠা যায় না, আবার সহজে কোনো সিএনজিও পাওয়া যায় না। কী করে যাব অতটা দূরত্বের পথ। তখন অভিন্নকে জানালাম আদ্যোপান্ত।

অভিন্ন যখন পড়তে যায়, তখন তোমার টাঙ্গাইলের বাড়ি বিক্রি করে সেই টাকায় পাঠানো হয়েছিল তাকে। দ্বিতীয় বর্ষে আরেক খণ্ড জমি বিক্রি করতে হয়েছিল, মনে আছে তোমার জীবন?
এদিকে সে সময় তোমার চোখে গ্লুকোমা, চোখ অপারেশনের টাকা জোগাড় করতেই আমি হিমশিম খাচ্ছি। আনোয়ারা সৈয়দ হক ভাবির সাহসে ভর করে বারডেমে তোমাকে ভর্তি করেছি ঠিকই, কিন্তু পঞ্চাশ হাজার টাকার ব্যবস্থা কীভাবে হবে—এ নিয়ে ভাবি কথা বলে চলেছেন ডা. আজাদ খানের সঙ্গে। একদিন ছড়াকার আমীরুল ইসলাম দেখতে এল তোমাকে। আমীরুল চ্যানেল আইতে চাকরিরত। তোমার সাথে তার কী কথা হলো জানি না। পরে জানলাম, চ্যানেল আইয়ের কর্ণধার ফরিদুর রেজা সাগর হাসপাতালের বিলটা পরিশোধ করে দিয়েছেন।

এ সময় আমার ত্রাহি অবস্থা বুঝতে পেরে অভিন্ন আমাকে আর টাকা পাঠানোর কথা বলে না। যা পারে নিজেই নিজের অভিভাবক সেজে করে ফেলে কাজ। তা ছাড়া ওর প্রথম কানাডা যাত্রাকালে তুমি—যার তেমন কিচ্ছুটি নেই—সেই তুমি, তোমার শেষ সম্বল ভিটেমাটিটুকু বিক্রি করে সুশিক্ষার জন্য ওকে পাঠিয়েছিলে প্রবাসে। এ জন্য অভিন্নের মধ্যে একটা অনুশোচনাবোধ ভীষণভাবে ক্রিয়াশীল ছিল। তাই ফোনে যখনই ওর সাথে কথা হতো, বলতো মা, আমি সবার আগে বাড়ি বিক্রির টাকাটা ফেরত দেব বাবাকে। কাকা তো জমিটা নিয়েছে। টাকা দিলে নিশ্চয়ই বাবাকে তা ফেরত দেবে। কী বলো মা, দেবে না?
তাকে বলতাম, সে দেখা যাবেক্ষণ। এখন এত চিন্তার দরকার নেই। ঢাকায় বাস করেই কদিন ওই বাড়িতে আমরা রাত কাটিয়েছি, বলো? এমনি পড়ে থাকার চেয়ে সম্পদটুকু যে জ্ঞান অন্বেষণের কাজে লেগেছে, আমি মনে করি সেটি সবচেয়ে বেস্ট বিনিয়োগ।
এসব প্রসঙ্গ তুলেই অভিন্নকে বললাম, ধরো, তোমার টাকা আমরা পেয়েছি। সেই টাকাটা যদি আমরা অব্যয়ের লেখাপড়ার পেছনে ব্যয় করতে চাই, তুমি কি ওখান থেকে তার জোগান দিতে পারবে? তাহলে অব্যয়কে আমি পাঠাতে চাই বাবা।

অভিন্ন প্রায় সাথে সাথেই বলল, হ্যাঁ মা, ওকে পাঠিয়ে দাও। আমি সব ব্যবস্থা করব এখানে। প্রয়োজনে শিক্ষা ঋণ নেব। তুমি কোনো চিন্তা কোরো না।

বিজ্ঞাপন

জীবন, মনে আছে তোমার, সত্যি সত্যি এরপর আমাদের কোনো চিন্তা করতে হয়নি। বড় সন্তান হিসেবে বড্ড বড় দায়িত্ব পালন করেছে অভিন্ন, বাঙালি মধ্যবিত্তের সুসন্তানেরা যেমন করে।

অভিন্ন এখন জ্যুরিখ ইন্সুরেন্স কোম্পানির সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট। আর অব্যয় টরন্টোর ডাউন টাউনে আইবিএমের সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে কাজ করছে। স্প্যাডাইনাতে দুজনেই পাশাপাশি পাঁচ মিনিটের হাঁটাপথের দূরত্বের বাসিন্দা। ভালো–মন্দ মিলিয়ে শাকান্নে এক ও অভিন্ন রক্তধারায় ওরা প্রবাহিত।

ওদের নিয়েই এখন বেঁচে আছি আমি। বেঁচে আছি তোমার জন্য, তোমার স্মৃতি বুকে নিয়ে। চুপি চুপি তোমাকে বলি শোনো:
জল-শামুখের সংসারে তবু জ্যামিতি অচল, জলের গভীর নিভৃতে ভাসে কাদাজলের প্রণয়গাথা। দক্ষিণা বাতাসে আজ ভেসে আসে নির্জন নুনের শোকাগ্নিতে দগ্ধীভূত মরমিয়া বাঁশির সুর। হারানো স্মৃতির জলাশয়ে তবু সবুজ শেওলার মতো ভালোবাসা জেগে থাকে। দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাসের টুকরোসমূহ পড়ে থাকে পথে পথে। তাবু জলসার জোনাকি আঁধারে ক্ষণবাদী এই জীবন সুরভি ছড়িয়ে বেঁচে থাকে যতক্ষণ, ততক্ষণই তো জীবন।

আজ অন্য জীবনে পৌঁছে, আকাশের তারা হয়ে আমাকে, আমাদের কি তুমি দেখতে পাচ্ছ, জীবন?
তোমার মুমুসোনা
আইসবোট টেরেস টরন্টো।

অন্যআলো ডটকমে লেখা পাঠানোর ঠিকানা: info@onnoalo.com

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন