দীপু মালাকারের তোলা পুরান ঢাকার ছবি অবলম্বনে কোলাজ
দীপু মালাকারের তোলা পুরান ঢাকার ছবি অবলম্বনে কোলাজ

এ বছর তুষারপাতের আকাল কোভিড-ক্লান্ত এ শহরে! জরুরি দরকার ছাড়া বাড়ি থেকে নড়া বারণ! ‘স্টে হোম’ লকডাউন! ভোরবেলায় শহরটাকে অভিশপ্ত লাগে! একদিন লেক-অন্টারিওর জলে কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে, দেশের মতন! কাজে মন বসে না! ব্রিমলি রোড ধরে সোজা দক্ষিণে গাড়ি এসে থামে লেক অন্টারিওর দিগন্তজোড়া জলরাশির কোলে! কেন যে অসহায় লাগে, একাকী লাগে!

বৃষ্টি শুরু হবার নানা টালবাহানা টের পাওয়া যাচ্ছে! ‘আমাকে টান মারে রাত্রি-জাগা নদী/ আমাকে টানে গূঢ় অন্ধকার...’! একটি বছর ধরে ঢাকায় যাওয়াটাও ঝুলে আছে। যেতে পারছি না, বলা ভালো, যাওয়া হচ্ছে না! ঢাকা আমার ঢাকা, আমার জন্মস্থান, মিস ইউ! ওই তো ওখানে, জলের ওপরে ঢাকার ছায়া দেখা যায়, ওখানেই কেঁপে উঠছে আমার দুরন্ত শৈশব!

default-image

ঢাকা তুমি জেগে ওঠো বৃষ্টিতে

ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালেই যেন দেখতে পাই ঢাকার আকাশভরা মেঘ! বৃষ্টির ছায়া ছুটে আসছে দিগন্তে আর গাছপালাঘেরা বাড়িঘরের ছাদে! পুরান ঢাকায় দোতলা-তিনতলার ওপরে তেমন কোনো বাড়িঘর নেই। বেশির ভাগ বাড়িতেই টিনের চাল। এক চালে পা রাখলে সড়সড় করে অনেকগুলো বাড়ির ছাদ ঘুরে আসা যায়। বুড়িগঙ্গার শাখা ঘেঁষে গড়ে ওঠা আমার দক্ষিণ-পশ্চিম ঢাকা! বাড্ডানগরের ময়লা-হলদেটে রঙের পানির ট্যাংকটাই সবচেয়ে উঁচু। সেই ট্যাংকটার গা ঘেঁষেই ঝুমবৃষ্টি নামে শৈশব ভাসিয়ে নিয়ে যাবে বলে! আরেকটু বড় হয়েছি, বয়স সাত কি আট হবে—মনেশ্বর লেনের গলির ভেতর দিয়ে খালি গায়ে, খালি পায়ে চিৎকার করতে করতে আমরা একঝাঁক বাচ্চাকাচ্চা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বড় রাস্তায় উঠে যাচ্ছি! ২৪ ঘণ্টা পানির সাপ্লাই তখনো ওই এলাকায় নেই, দিনে তিনবেলা নিয়ম করে ওয়াসার পানি কলে আসে। বৃষ্টি বিনে চিল্লাপাল্লা করার উপায় কী! সড়সড় করে ছুটছি, একগাদা বাচ্চাকাচ্চা, উঠতি কিশোর। হাজারীবাগের সবচেয়ে বড় বস্তিটাকে লক্ষ্য করে। বস্তিটার লম্বা সমতল টিনের চাল বেয়ে বৃষ্টির ধারা আরও মোটা, সরলরেখায় রাস্তায় আছড়ে পড়ছে। সেই চাল বেয়ে আসা জলে আমরা ভিজছি, চিৎকার করে বলছি, ঝর্ণা ঝর্ণা...আহা!

বিজ্ঞাপন

কখনো কখনো ছুটতে ছুটতে খলিল সরদারের মসজিদ পার হয়ে ট্যানারির রাস্তা ঘেঁষে রায়েরবাজারের দিকে, যদিও ওটা একটু বেশিই দূরে যাওয়া। ট্যানারির বড় বড় ড্রেন বেয়ে ময়লা পানির ঢল আর উৎকট দুর্গন্ধে পেটের নাড়িভুঁড়ি উল্টে আসে। তখনো বটতলা পার হয়ে লেদার কলেজ হয়নি, আরেকটু গেলেই কুমারপট্টি। নানা রকম মাটির জিনিস তৈরি হচ্ছে সেখানে। অথবা রঙের কারখানা রক্সি পেইন্টের মাঠে দুটি নিঃসঙ্গ অচিন কবরখানা! সপ্তাহে একদিন সেখানে নকুলদানা বিলোয়, আমরাও হাত পাতি। অথবা উল্টো দিকে মানিকবাবুর ঢাল বেয়ে কোম্পানি ঘাটের দিকে। বুড়িগঙ্গার একটি শাখা একেবারে কাছেই। বৃষ্টি–থই থই অগভীর পানিতে সারি সারি বাঁশের চালান। একান্ত দূরে যেতে না পারলে বাড্ডানগর পানির ট্যাংকের ভেতরের কচুরিপানা বোঝাই ছোট্ট পুকুরটিই সই।

বৃষ্টিতে গলির মোড়ের খোলা ময়লার স্তূপগুলো থেকে চুইয়ে কালো জলের ধারা নেমে যাচ্ছে পাশের খোলা ড্রেনে। কিছুদূর গিয়ে বস্তির ড্রেন থেকে ভেসে আসা গুয়ের সঙ্গে সেই জল মিলেমিশে গিয়ে এক নতুন গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বাতাসে। ঢাকায় তখন মাটি ছিল, মাঠ ছিল। খোলা জায়গা, বাড়ির উঠোন, স্কুলের আঙিনা—এসবও ছিল। সেই মাটি থেকে ভেজা সোঁদা গন্ধ উঠে আসে বৃষ্টির সঙ্গে। তখনো রান্নার তিতাস গ্যাসের লাইন আসেনি পুরান ঢাকায়, রাস্তা বেধড়ক খোঁড়াখুঁড়ি হয়নি। কেরোসিনের স্টোভ আর মাটির চুলায় রান্না হচ্ছে ঘরে ঘরে। একধরনের মিষ্টি, ভেজা কাঠপোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। দক্ষিণ-পশ্চিম ঢাকার বাড্ডানগর এলাকার এক ছোট্ট ঘরে জন্মেছিলাম বলে আজও বারবার আমার গা থেকে সবকিছুর মিলমিশ এক গন্ধ ভেসে আসে!

মানিকবাবুর ঢালে ভূতের বাড়ি

আমাদের ছোটবেলার পাঠ্যপুস্তক ‘আমার বই’ থেকে বের হয়ে ভূতেরা যেন আশ্রয় নিয়েছিল মানিকবাবুর প্রায় খসে পড়া বিরাট জামিদার বাড়িটিতে। হাজারীবাগ পার্ক যেখানে শেষ হয়েছে, তার পরপরই মানিকবাবুর ঢাল। বাড়ির নামেই রাস্তার নাম। বিশাল বড় লোহার গেটওয়ালা জমিদার বাড়িটি তখন পোড়ো বাড়ি। গেটে সব সময়ই তালা দেওয়া থাকত। সন্ধ্যার পর আলোও জ্বলত না প্রায়। দিনের বেলায় একা একা সে বাড়ির পাশ দিয়ে যেতে গেলে কেমন যেন অসহায় লাগে। কেউ কেউ নাকি ভূত দেখেও থাকবে! আমার বড় বোন বলত, প্রেতাত্মা থাকবে না! জমিদাররা তো আর ভালো মানুষ ছিল না, অতৃপ্ত আত্মা থাকাই স্বাভাবিক। ভুলেও ওই বাড়ির ভেতর ঢুকবি না।

default-image

সেই থেকে বাড়িটি ঘিরে আমার উৎসাহের অন্ত নেই। একবার—কার সঙ্গে মনে নেই—ওই বাড়ির ভেতরে ঢুকতে পেরেছিলাম। ভেতরে প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি আর গভীর কুয়া দেখে বুক ছ্যাঁৎ করেও উঠেছিল। তবে আরও একটু বড় হবার পর দেখেছি, ভেজা শাড়ি-লুঙ্গি দড়িতে দেওয়া। তার মানে বাড়িটি দেখাশোনার জন্য কেউ হয়তো থেকে থাকবে।

খুব ভোরবেলা মানিকবাবুর ঢাল বেয়ে মাঠা বিক্রি করতে আসা ফেরিওয়ালা হাঁক ছাড়ে, এই মাঠা মাঠা! কুয়াশা ওঠা ভোরে সেই নোনতা মাঠায় কী যে স্বাদ! আর গলি গড়িয়ে নেমে গেছে খলিল সরদারের বাড়িতে, সেখানে বাখরখানির দোকান। সকাল সকাল মাটির চুলা গরম গনগনে। রাস্তা লাগোয়া ছোট্ট দোকানগুলো যেন ঝুলে আছে, যেকোনো মুহূর্তে পড়ে যায় যায় অবস্থা। ভেতরে মুখবন্ধ চুলার গায়ে সেঁটে দেওয়া হচ্ছে বাখরখানি।

আহা ঢাকাবাসী

ঢাকার আদি নিবাসী ঢাকাবাসীর রমরমা বাড়িঘর তখনো হাজারীবাগ, জিঞ্জিরাঘাট, সোয়ারীঘাট হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত। পরোটা-মাংস, পানের দোকান, মাইক, স্বর্ণের দোকান আর বাখরখানি। প্রায়ই পোলাও-বিরিয়ানির সুগন্ধ ভেসে আসে সেসব বাড়িঘর থেকে। বুড়িগঙ্গা ঘেঁষে এপাড়-ওপাড় দুই পাড়েই তাদের দাপট। বুড়িগঙ্গার জল তখনো পরিষ্কার, আজকের মতো আলকাতরা হয়ে যায়নি। ভোরবেলায় লঞ্চঘাটে হাতে গোনা কয়েকটি ছোট-মাঝারি লঞ্চ এসে ভেড়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে। ঘাটসংলগ্ন পরোটা-ভাতের দোকানগুলো থেকে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে মাইকে ভেসে আসে, ‘বাচপান কি মুহাব্বাত কো দিল সে না জুদা কারনা...।’

পুরান ঢাকাবাসীরা ওই এলাকায় তখনো এলিট শ্রেণির, তবে ক্রমশ ক্ষয়ে যাচ্ছে তাঁদের প্রতাপ আর বাহাদুরি। তাঁদের পুরোনো আভিজাত্যের দীপ নিবু নিবু হয়ে আসছে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত অভিবাসীদের চাপে। তখনো তাঁদের নাক খুব উঁচু, ‘লেখাপড়া দিয়ে কী হবে, কয় ট্যাকা আর ইনকাম, ব্যবসাই সব।’ কেউ কেউ পরিবর্তনের আগুনের আঁচ পেয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে ছেলেমেয়েদের স্কুলেও পাঠাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সালেহা প্রাইমারি স্কুলে আমার সহপাঠী হয়ে কয়েকজন ঢাকাইয়া শিশুও আসে, আর আসে পরির মতো ফুটফুটে নার্গিস! নার্গিসকে কেন্দ্র করে আমি সুচ হয়ে ঢুকে পড়ি ঢাকাইয়া অন্দরমহলে! চোখ বড় বড় করে দেখি ওদের সংস্কৃতি-আচার-ব্যবহার। আমাদের থেকে কত আলাদা! ঢাকাবাসীর ঘর সাজানোর পদ্ধতি এক মহাবিস্ময়কর জিনিস। প্রত্যেকের বসার ঘরে কাপ-পিরিচ আর জিনিসপত্রে ঠাসা একটা কাচের আলমারি আছেই। সারি সারি হাঁড়ি-পাতিল, দা-বঁটি সাজিয়ে রাখা হয় দেয়ালের তাকে। নিপাট করে গুছিয়ে রাখা আসবাপত্রে ঠাসা একের পর এক ঘর। খাওয়াদাওয়া আর সাজগোজকেন্দ্রিক উৎসবমুখর জীবনযাপন তাদের। কোনো বাড়িতে বিয়ে, মুসলমানি, আকিকা বা নাক-কান ফোঁড়ানি লাগলে ব্যাপারটা পরিষ্কার আর প্রকট হয়ে ওঠে। রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে গেট বানানো হবে, মাইকে গান আর শামিয়ানা টানিয়ে প্রকাশ্যে রান্না-বাড়া-খাওয়া। গাভর্তি চকচকে সোনার গহনায় নারীরা এবাড়ি-ওবাড়ি করছে। পুরুষেরা ধবধবে সাদা লুঙ্গি আর সাদা পাঞ্জাবি পরে রাস্তার মোড়ে মোড়ে আড্ডা দিচ্ছে, আর মেয়েরা আছে অন্দরমহলে—সে এক অন্য ঝলমলে জীবন!

কিন্তু নার্গিসকে কেন্দ্র করে আমাদের আনন্দ বেশি দিন রইল না। আমাদের বিষাদের সাগরে ভাসিয়ে নার্গিসও একদিন স্কুলে আসা বন্ধ করে দেবে বলে ঘোষণা দেয়। তখন আমাদের ক্লাস ফাইভ, ওর বিয়ের প্রস্তাব আসছে প্রচুর। স্কুল ছুটির পর, মনে আছে, নার্গিসের বাড়ির টানা বারান্দায় পা ছড়িয়ে বসে জানতে চাই, ‘এত ছোট থাকতে বিয়ে করছ কেন?’ ওর সুন্দর গর্বিত চেহারায় গোলাপি আভা ফুটে ওঠে, ‘আমি একই মাইয়া আমার বাপের, হের ট্যাকা আছে! সোনা দিয়া ঢাইকা দিবার পারব। তুমগোরে তো ছাই দিয়াও ঢাকন যাইব না!’ সুদূর অতীত থেকে লেক অন্টারিওর জলে নার্গিসের ছায়াও ভেসে ওঠে! খুব সম্প্রতি নার্গিসকে আমি খুঁজে পেয়েছি ফেসবুকে, আরেক শৈশবের বন্ধু ঝর্ণার আইডিতে। ছবিতে নার্গিসের সেই মায়াভরা সুন্দর মুখ, মাথায় ঘোমটা। জানতে পারি, নার্গিসের নাতনিও নাকি হাইস্কুলে যাচ্ছে এ বছর থেকে।

default-image

কামরাঙ্গীরচরে বাৎসরিক ঘুড়ি উৎসব

হাজারীবাগের পাশ ঘেঁষে বুড়িগঙ্গার ক্ষীণস্রোতা শাখাটি সে সময় পুরান ঢাকাবাসীর মতোই ধুঁকছে। বর্ষায় ফুলেফেঁপে ওঠে, শীতে শুকিয়ে যায়। পুরান ঢাকার যাবতীয় ড্রেনগুলো এসে এই নিচু ভূমিতে উন্মুক্ত হয়েছে, ময়লার কালো স্রোতে অপরিকল্পনায়–অবহেলায় নদীর জলে মিশে যাচ্ছে। বেড়িবাঁধ তখনো হয়নি, কামরাঙ্গীরচরও তখন জেগে ওঠেনি ভালোভাবে। সেখানে লম্বা লম্বা বাঁশের মাচার ওপরে অল্প কিছু দরিদ্র পরিবার বিচ্ছিন্নভাবে আশ্রয় নিয়েছে। শীতকালে বিস্তৃত ধু ধু সাদা বালুর চরে কিছু কিছু শিমফুল আর লাউয়ের মাচার সুগন্ধ।

বছরে একবার সেই ধু ধু মাঠ গরম আর রঙিন হয়ে ওঠে বিখ্যাত বাৎসরিক ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতায়। মূল উদ্যোক্তা পুরান ঢাকাবাসী। দিনব্যাপী এ উৎসবের আগে রীতিমতো সাড়া পড়ে যায় মহল্লায় মহল্লায়। ঘরে ঘরে প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি, নাটাই বানানো আর সুতোয় মাঞ্জা মারার তোড়জোড়। প্র্যাকটিস হিসেবে প্রতিদিন আকাশে উড়ছে শত শত বাহারি ঘুড়ি, আর হরদম চলছে কাটাকুটি খেলা। দক্ষতার সঙ্গে কে কত বড় ঘুড়ি উড়াতে পারে, আর কার কতটি ঘুড়ি কাটাতে পারে—সেই শক্তিমত্তার পরীক্ষা। কত দিন টিনের চালে উঠে অপেক্ষা করেছি—আহ্, একটি–দুটি ঘুড়ি যদি নারকেলগাছটায় এসে বিঁধে যায় আজ বিকেলে! ভোঁকাট্টা ঘুড়ির সুতো ধরে নামিয়ে আনার তাড়নায় বানরের মতো ছাদ থেকে ছাদে লাফিয়ে যাওয়ার সেই সব দুরন্তপনা মনের মধ্যে ঘাই মারে সময়–অসময়। ঘুড়ি প্রতিযোগিতার দিনে গান-বাজনা-মাইক-খাবার দিয়ে কামরাঙ্গীচরের মাঠ সরগরম! শত শত ঘুড়ি কাটাকাটি চলছে, চলছে উল্লাস আর হইচই।

পুরান ঢাকার আকাশে এখনো কি ঘুড়ি ওড়ে? আমি জানি না।

রেইনট্রি আর কৃষ্ণচূড়া ছাওয়া আজিমপুর রোড

আজিমপুরের আজকের গায়ে-গা-লাগা গিজগিজে রাস্তাটি দেখে কোনোভাবেই কি কল্পনা করা সম্ভব কত্ত বড় বড় রেইনট্রি আর কৃষ্ণচূড়া ছাওয়া আজিমপুর ছিল একদিন! বিডিআর ২ নম্বর গেট থেকে শুরু করে পলাশী পার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বরাবর রাস্তার দুপাশের প্রাচীন সব গাছেরা ছায়ামায়া দিয়ে নিয়ে গেছে এই পথ। মনে আছে, একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ভাইয়ার কাঁধে চেপে শীত-ঠকঠক রাতে শহীদ মিনারের দিকে যাত্রা। বড় রাস্তায় ভিড় নেই তেমন, আশপাশের গলি থেকে নারী-পুরুষের ছোট ছোট দল সাদা শাড়ি আর পাঞ্জাবি পরে ফুল নিয়ে উঠে আসছে বড় রাস্তায়। নারী-পুরুষ খালি পায়ে হাঁটছে আর গান গাইছে, ‘আ-আ-আ...আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো..!’ শহীদ মিনারের আগে আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ফুলার রোড, ফুলবাড়িয়া, পলাশী, চানখাঁরপুল ইত্যাদিসহ নানা এলাকা থেকে আসা মিছিলে ফুলে–ফেঁপে জনসমুদ্র হয়ে উঠছে শহীদ মিনার। উঁহু মাইক নেই, কোনো নেতার ঠেলাঠেলি নেই সেখানে।

বড় গাছগুলো কেন যে কেটে ফেলা হলো জিয়াউর রহমানের শাসনামলে, বুঝে পাই না! কেটে ফেলা বড় বড় গুঁড়ি বেশ অনেক দিন গড়াগড়ি খেল রাস্তার পাশে। হঠাৎ করেই যেন অতিরিক্ত চওড়া আর ন্যাড়া হয়ে গেল রাস্তাটি। চায়না বিল্ডিং, আজিমপুর কলোনি, ইডেন কলেজের হোস্টেল আর বেবি আইসক্রিম মোড়ের ‘ছাত্র-ছাত্রী লাইব্রেরী’ উদোম হয়ে পড়ল চোখের সামনে।

কলিজা খাওয়া খলিলুল্লাহ

শৈশবের এই রূপকথার রাজ্যে একমাত্র রাক্ষস হিসেবে যাকে ভয় পেতাম, তার নাম খলিলুল্লাহ! বুক হিম হয়ে যেত ওর গল্প শুনলে এবং রাস্তায় দেখলে। ছোট্ট মাথা আর অনেক লম্বা শরীর নিয়ে বেশ খানিকটা কুঁজো হয়ে খলিলুল্লাহ আজিমপুর গোরস্তানের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। এমনকি ‘কলিজাখেকো’ বলে পত্রপত্রিকায় তার ছবিও ছাপা হয়ে গিয়েছিল। গুজব ছড়িয়ে পড়ে, কবর থেকে লাশ তুলে তার বুক চিরে কলিজা বের করে এনে খেয়ে নেয় সে। দেখা গেল, মানুষজন তাদের প্রিয়জনকে কবর দিয়ে এসে চিন্তায় পড়ে যাচ্ছে, খলিলুল্লাহ আবার কবর থেকে লাশ উঠিয়ে ফেলবে না তো। কিন্তু এই ধারণার কোনো বাস্তব প্রমাণ ছিল না। খলিলুল্লাহর অস্বাভাবিক দেহ গঠন আর মানসিক ভারসাম্যহীনতাই বোধ করি এমন ধরনের বাজে গুজবের জন্ম দিয়েছিল। স্কুলে যাওয়ার পথে ওকে রাস্তায় দেখলে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকি। বেচারাকে দেখা গেলেই কেউ না কেউ ঢিল ছুড়ে মারত। আর রেগে গিয়ে সে–ও মাঝেমধ্যে ধাওয়া দিত রাস্তার লোকজনকে।

একদিন আর খলিলুল্লাহর কোনো খবর পাওয়া গেল না! সে উধাও হয়ে গেছে! ইশ, এত বছর পরে আজও তার কথা মনে হলে বেদনায় বুক ভেঙে আসে। অথচ খলিলুল্লাহর পাওনা ছিল ভালো মানসিক অথবা শারীরিক চিকিৎসা। পোড়ার একটা দেশ।

স্টুডিও ললিতা

নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির পাশের বিশাল বুড়ো বটগাছে পাখির কিচিরমিচির সারা দিন। ওপর থেকে সার সার ঝুরি নেমে আসে গোড়া ছাড়িয়ে রাস্তায়। তারই অন্য পাশে স্টুডিও ললিতা। খুবই জনপ্রিয়, এই এলাকার একমাত্র স্টুডিও। কী যে এক আকর্ষণের জায়গা। বাইরের সাইনবোর্ডে চোখে সানগ্লাস আর মাথায় ফিতার ফুল দেওয়া এক তরুণীর ছবি। চোখ সরে না সেখান থেকে। রাস্তার ইতিউতি হাঁটাচলা করা লোকজনও অবসরে দাঁড়িয়ে ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকে। আমারও অনেক দিন মনে হতো, লজ্জার মাথা খেয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি ওখানটায়। অবশেষে একবার প্রতিবেশী এক ভাবির সঙ্গে আমাকে পাঠানো হলো সেখানে। ভেতরে ছোট্ট দুটি রুম। একটিতে সাজগোজ করা যায় পর্দার আড়ালে, আর আরেকটিতে চলে ছবি তোলার ঝকমারি। সেখানে স্ট্যান্ড লাইট আর কিছু ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহারের জন্য আঁকা ছবি ঝোলানো রয়েছে। আছে কিছু মোড়া আর চেয়ার—সব মিলে বিরাট বিস্ময়! পরে আরও একটু লায়েক হলে বাড়ির লোকদের লুকিয়ে ক্লাস সেভেন/এইটে স্কুলের বান্ধবীদের নিয়ে ঢুকে পরলাম ললিতায়!

এরপর সেটা খবর হতে দেরি লাগেনি।

বিজ্ঞাপন

‘তালাশ’ আর ‘সাগরিকা’

default-image

নিউমার্কেটের উল্টো দিকে বলাকা সিনেমা হল। মায়ের সঙ্গে প্রথম দেখা ছবির নাম ‘তালাশ’! সম্ভবত নায়িকা শবনম। মা-খালা-মামিরা মিলে রাত ৯টা থেকে ১২টার শোতে ছবি দেখতে এসেছে! ঢাকা শহরে প্রাইভেট গাড়ি তখন কত কম, ওগুলো ধনীদের মামলা! বেবিট্যাক্সি নামের কিছু ট্যাক্সি তখন মধ্যবিত্তের বিলাস! শহর প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে, ফাঁকা হয়ে আসা রাস্তায় সাঁই সাঁই রিকশা বলাকার সামনে এসে থামে! সিনেমার কাহিনি কিছুই মনে নেই! নিউমার্কেটের উঁচু গেটের বিপরীতে শুধু বলাকা সিনেমা হল ছাড়া আর কিচ্ছুটি নেই। উঁহু, একটি দোকানপাটও না, নীলক্ষেত মোড় বলতে কোনো ব্যাপার নেই, টানা বস্তি! কোনো গাউছিয়া বা চাঁদনীচক মার্কেটের রমরমা নেই! ওভারব্রিজ শব্দটি ঢাকার মানুষের অচেনা! ওদিকে বরং ধানমন্ডি বা কলাবাগান এলাকা বেজায় অভিজাত! বড় বড় চত্বর আর ফ্যাশনওয়ালা গাছে ছাওয়া বাড়িঘর, সারাক্ষণ পাখপাখালির আড্ডা। দিনের বেলা ওসব রাস্তায় হাঁটতে গেলে গায়ে পাখির পুরিষ ছাড়া ফেরত আসার উপায় নেই!

মধ্যবিত্তের বোরকা-হিজাব না থাকলেও পুরান ঢাকাবাসীর ভেতর অভিজাত বোরকা পরার চল ছিল। এর বাইরেও হাতে গোনা কিছু মানুষ বোরকা পরত। রাস্তাঘাট নারী-শিশুর জন্য এত অনিরাপদও ছিল বলে মনে পড়ে না! পরে আজিমপুর স্কুলে আসতে-যেতে আমাদের চোখের সামনে দাঁড়িয়ে গেল বিডিআর রাইফেলস সিনেমা হল। সে কী উত্তেজনা! কিন্তু সেখানে কোনো বাংলা সিনেমা আসছে না! ইংরেজি-হিন্দি-উর্দু ছবি সব! বাসার এত কাছে সিনেমা হল! হেঁটেই আসা যায়। দুরুদুরু বুকে বাংলা ছবির আশায় পোস্টারের দিকে তাকিয়ে থাকি। তারপর একদিন এল উত্তম-সুচিত্রার ‘সাগরিকা’। হইহই পড়ে গেল চারদিকে। মানুষের ঢল নামল, টিকিট পাওয়াই দুষ্কর। ঢাকায় তখন পাড়া কালচারের খুব চল। পাড়ার মানুষজন সবাই সবাইকে চেনে, একে অপরের সুখ-দুঃখ আর ঝগড়া-ঝাঁটির সাথি। সবার বাসায় টেলিভিশন নেই, যাঁদের বাসায় আছে, তাঁরা আশপাশের মানুষজনকে নিয়েই জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলো দেখছে, বিশেষ করে বাংলা সিনেমা দেখানোর দিন সিনেমা শেষ হওয়ামাত্র পাড়ার রাস্তায় পিলপিল করে বেরিয়ে আসত মানুষ, যে যার ঘরে ফিরছে।

ছোটবেলার লালবাগের কেল্লা

default-image

কেল্লাসংলগ্ন এক আত্মীয়ার বাড়ির সুবাদে সপ্তাহান্তে না হলেও মাসে একবার অন্তত বিনোদনের জন্য লালবাগের কেল্লায় যাওয়া হতোই। মোটামুটি পরিত্যক্ত একটি স্থান সেটি তখন! উঁচু তোরণের নিচে মুড়ি-ঝাল চানাচুর বিক্রি হচ্ছে, কোনো প্রবেশ ফির বালাই নেই। ভেতরে ধু ধু খেলার মাঠ আর তিন-চারটা পরিত্যক্ত পুরোনো বিল্ডিং-মসজিদ। জায়গাটি ঘিরে একটা নেতিবাচক মিথও চালু ছিল—অভিশপ্ত আর বিচ্ছিন্ন এ জায়গায় বেশি ঘোরাঘুরি করা অমঙ্গল। দর্শনীয় স্থান হিসেবে স্থানীয় মানুষ তেমন একটা পাত্তা দিত না। ঢাকা ছিনতাইকারীদের স্বর্গ হয়ে ওঠেনি তখনো, কাজেই আমরা ছোটরা নিজেরা নিজেরাই চলে যেতাম কেল্লার ভেতরে। মাঝখানে পরীবিবির মাজারে উঁকি দিয়েই ডান দিকে মসজিদ আর ফাঁসিকাঠের উঁচু জায়গাটি রেখে ছুট মারতাম ভয়াল গুহাগুলোর দিকে। পরে জেনেছি, গুহাগুলো তৈরির আইডিয়াটি ছিল দুর্গ থেকে মাটির নিচ দিয়ে নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গায় গোপনে পালানোর রাস্তা তৈরি করা। কিন্তু কাজটি শেষ করে যেতে পারেননি উদ্যোক্তারা। পরিত্যক্ত ঘরগুলোর কয়েকটা মাটি ফুঁড়ে উন্মুক্ত হয়ে ছিল। সেগুলো দেখে ভয় লাগত। কত রকম যে ভয়ের গল্প ছড়ানো ছিল সেগুলো ঘিরে! জানা যায়, সতেরো শতকের মাঝামাঝি সময়ে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ছেলে মুহম্মদ আজম এই দুর্গ তৈরি শুরু করলেও শেষ করে যেতে পারেননি। পরে সুবেদার শায়েস্তা খাঁ এটি শেষ করার উদ্যেগ নেন। তিনিও শেষ করে যেতে পারেননি। পরে তাঁর কন্যা পরীবিবি অকালে মারা গেলে তাঁকে এখানে কবর দেওয়া হয়, দুর্গের কাজও বন্ধ করা হয়।

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ভাইয়ার কাঁধে চেপে শীত-ঠকঠক রাতে শহীদ মিনারের দিকে যাত্রা। বড় রাস্তায় ভিড় নেই তেমন, আশপাশের গলি থেকে নারী-পুরুষের ছোট ছোট দল সাদা শাড়ি আর পাঞ্জাবি পরে ফুল নিয়ে উঠে আসছে বড় রাস্তায়। নারী-পুরুষ খালি পায়ে হাঁটছে আর গান গাইছে, ‘আ-আ-আ...আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো..!’ শহীদ মিনারের আগে আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ফুলার রোড, ফুলবাড়িয়া, পলাশী, চানখাঁরপুল ইত্যাদিসহ নানা এলাকা থেকে আসা মিছিলে ফুলে–ফেঁপে জনসমুদ্র হয়ে উঠছে শহীদ মিনার। উঁহু মাইক নেই, কোনো নেতার ঠেলাঠেলি নেই সেখানে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষাবলয়

বুড়িগঙ্গার কোল থেকে যতই উত্তরে আসা, ততই নতুন ঢাকার নানা প্রতিষ্ঠানের মুখোমুখি হওয়া। অল্প নাগরিকের এই ঢাকা কংক্রিটের জঙ্গল হয়ে যায়নি। বড় বড় খোলা জায়গা, স্কুল-কলেজের বিশাল মাঠ, পার্ক আর রাস্তার দুই পাশ পরিষ্কার, উন্মুক্ত ও বৃক্ষবহুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্রে রেখে একটা বড় বৃত্ত আঁকলে স্বল্প দূরত্বে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে নামকরা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—অগ্রণী স্কুল, ওয়েস্ট অ্যান্ড স্কুল, আজিমপুর স্কুল, ইডেন ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, টিএসসি, বাংলা একাডেমি। পরিবেশটা এমনই যে খুব সমস্যা না হলে প্রচুর মানুষই হেঁটে হেঁটে এসব প্রতিষ্ঠানে যায়। রাস্তায় ভিড় নেই, ছিনতাইকারীর সদা উপদ্রব নেই, ধুলার ধাক্কাও নেই। ওদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা, ফুলার রোড, এদিকে লালবাগ কেল্লা অথবা পিলখানার মতো জায়গাগুলো কংক্রিট আর সবুজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে। আজকের মতো কোনো ফুলের দোকান বা গিফটের দোকান ছিল না বলে যার যার বাড়ির আঙিনা আর পার্কের এসব ফুলই ছিল তখনকার প্রেমিকদের ভরসা। বরাবরের মতোই টিএসসি ও তার আশপাশ এলাকা প্রেমের মার্কামারা এলাকা হিসেবে খ্যাত ছিল। আমি নিজে আজিমপুর স্কুলে পড়ার সুবাদে দেখেছি, স্কুলের পেছন পলাশীর কোয়ার্টার এক বিরাট প্রেমকানন হিসেবে গড়ে উঠেছিল। মেয়েদের একক স্কুল হিসেবে আজিমপুর স্কুলই সবচেয়ে বড়। স্কুলের জানালা দিয়ে চিরকুটের ঢিল ছোড়াছুড়ি। ছেলেদের বিখ্যাত স্কুল ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুলের ছেলেরাও ওই পথে বাড়ি ফেরে। তাহলে আর কথা কী!

আই মিস ইউ, ঢাকা! বিষাদে মন ছেয়ে যায়, যখন শুনি অবহেলায় অবহেলায় দূষিত নগরীর নাম কিনেছে ঢাকা। পৃথিবীর বৃহত্তম লেক অন্টারিওর টলটলে জলে আমার ছায়া! গা থেকে পুরান ঢাকার ভুরভুরে গন্ধ বের হয়ে অন্টারিওর বাতাসে মিশে যাচ্ছে! লেক অন্টারিও, তুমি কি তা টের পাচ্ছ? প্রথম বৃষ্টির ফোঁটাটি কানের লতি ছুঁয়ে জ্যাকেট গড়িয়ে যায়, চোখের প্রথম জলের ফোঁটাও!

নেই ঢাকা, সেই ঢাকা

প্রতিবারই দেশের মাটিতে পা রাখামাত্র পুরান ঢাকার গন্ধ নাকে লাগে! গলিগুলো আয় আয় করে ডাকে! শেষবার বেড়াতে গিয়ে বড় বোনকে বলি, আপা চলো হাজারীবাগ যাই, দেখতে ইচ্ছে করে! রিকশায় চড়ে ঘুরব কিন্তু! আপা বলে, উঁহু, হেঁটে হেঁটে দেখতে হবে! দুই বোন মহানন্দে গুটি গুটি পায়ে মানিকবাবুর ঢাল বেয়ে মনেশ্বর এলাকায় ঢুকে পড়ি। শরীর-মন ভারী হয়ে আসে স্মৃতির ঘোরলাগা বাতাসে!

রাস্তায় আস্তে আস্তে হাঁটছি আর বোঝাপড়া চলছে মাথার ভেতর! আঁতিপাঁতি করে কী যেন খুঁজি! আমাদের কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে, চোখের পাতা ভিজে ওঠে! বুকভরে গভীর নিশ্বাস টেনে গাঢ়স্বরে বলি, আপা দ্যাখ, শৈশবের গন্ধটা কিন্তু মুছে যায়নি! এখনো টের পাওয়া যাচ্ছে! আপা ডানে-বাঁয়ে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে, ভালো করে ড্রেনটা দ্যাখ গাধা, আগেও গু ভেসে যেত, এখনো যাচ্ছে... এটা চেনা গন্ধ হয়ে নাকে লাগছে!

আই মিস ইউ, ঢাকা! বিষাদে মন ছেয়ে যায়, যখন শুনি অবহেলায় অবহেলায় দূষিত নগরীর নাম কিনেছে ঢাকা। পৃথিবীর বৃহত্তম লেক অন্টারিওর টলটলে জলে আমার ছায়া! গা থেকে পুরান ঢাকার ভুরভুরে গন্ধ বের হয়ে অন্টারিওর বাতাসে মিশে যাচ্ছে! লেক অন্টারিও, তুমি কি তা টের পাচ্ছ? প্রথম বৃষ্টির ফোঁটাটি কানের লতি ছুঁয়ে জ্যাকেট গড়িয়ে যায়, চোখের প্রথম জলের ফোঁটাও

অন্যআলো ডটকমে লেখা পাঠানোর ঠিকানা: info@onnoalo.com

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন