বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মিতু আপার ব্যাপারে আমরা তিন বোন মায়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আমাদের ফুফাতো বোন মিতু আপার কোনো তুলনা নেই। ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে এসএসসি। হলিক্রস থেকে এইচএসসি। দুটোতেই দারুণ রেজাল্ট। আমাদের পুরো বংশে সবচেয়ে ভালো ফলাফল তাঁর। এখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি যেমন গল্প করতে পারেন মা–ফুফুদের সঙ্গে, তেমন মিশে যেতে পারেন তাঁর চেয়ে পাঁচ–সাত বছরের ছোট ভাই–বোনদের সঙ্গে!
দেখতেও আমাদের মিতু আপার জুড়ি মেলা ভার। বাঙালি বিউটির এপিটম। ছিপছিপে লম্বা গড়ন। গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা। টানা টানা চোখ। টিকালো নাক, সরু ঠোঁট আর ঘাড়ের বেশ নিচে পর্যন্ত ছড়ানো ঘন–কালো চুল। তাঁর দাঁতের বিন্যাস এতই সুন্দর যে তিনি হাসলেই আমরা বলে উঠতাম, ‘ম্যাকলিনস টুথপেস্ট স্মাইল’।

তার স্বামীও যখন হাঁপিয়ে উঠলেন, ফুফু মিতু আপাকে নিজের কাছে নিয়ে এলেন। ছেলে, ছেলের বউ, ফুফুর বৃহৎ পরিবার। না না, শুধু পরিবার কেন, সমাজও তো চলে কতগুলো আচরণকে স্বাভাবিক ধরে, এর ব্যতিক্রম ঘটলে তার জায়গা করে দেবে কে? আমাদের সে সময়কার সমাজে মিতু আপাদের জায়গা ছিল না।

গ্রীষ্মের ছুটিতে মিতু আপা দুই সপ্তাহের জন্য আমাদের ধানমন্ডির ১৪ নম্বরের বাড়িতে বেড়াতে এলেন। এমনিতেই বিকেলের দিকে আশপাশের কিছু বন্ধু খেলতে বা গল্প করতে আসে। মিতু আপা আসায় বাড়তি আনন্দ! প্রচুর হইচইয়ের মধ্য দিয়ে দ্রুত কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো। বিকেলে ছাদে যাওয়াটা ছিল অনেকটা কৃত্যের মতোই। রিমা তো তার সাইকেলটাও ছাদে নিয়ে এসে, ছাদের নিচু দেয়ালের পাশ ঘেঁষে চালিয়ে আমাদের ভয় দেখাত। মামাতো বা ফুফাতো ভাই–বোন এবং বান্ধবীদের কলকাকলিতে, মাধবীলতা আর বাগানবিলাসের দোলায়, কৃষ্ণচূড়াগাছের সবুজে ছাদটা হয়ে উঠত স্বর্গের কোনো বাগান!

আমাদের এক রাস্তা পরে ১৩ নম্বর রোডের এক বাসার ছাদে কিছু উৎসুক তরুণ ঘুড়ি ওড়াত। ঘুড়িতে তাদের যতটা মনোযোগ, তার চেয়ে বেশি উৎসাহ ঘুড়িগুলো আমাদের ছাদের ওপরের অংশে এনে ওড়ানোয়। আমরা ব্যাপারটা খেয়াল করেও যেন করতাম না। বেশ একটা চাপা ভালো লাগা যে কাজ করত না, তা বলা যাবে না। তাচ্ছিল্য প্রকাশের যে একটা আনন্দ আছে, তা বেশ টের পেতাম।

আজ যথানিয়মে ছাদে গল্প-আড্ডা সব চলছে, সঙ্গে ডিম–ময়দার ফুলুরি। আসর মাত করে গল্প বলছেন মিতু আপা। তাঁদের বিভাগের দুই শিক্ষক রাজিয়া খান আমিন ও ডক্টর সুরাইয়ার কোনো তর্ক–বিতর্কের বিষয়ে বলতে বলতে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছিলেন মিতু আপা। হঠাৎ করেই তাঁর চোখ গেল ঘুড়িটার দিকে। মাথা ঘুরিয়ে দেখলেই সেই দূরের ছাদ, যেখান থেকে ঘুড়িটা উড়ছিল। মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেলেন মিতু আপা। মুখ তাঁর একেবারে ফ্যাকাশে। আমরা বসে ছিলাম ছাদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, সামনে ধানমন্ডি লেক। এখানে বসলে মনে হয় যেন লেকের ওপরই বসে আছি। লাফ দিয়ে উঠে মিতু আপা সিঁড়িঘরে নিজেকে লুকিয়ে আমাদের ডাকতে থাকলেন, ‘তোমরা প্লিজ চলে এসো। আমাকে ফলো করছে সে।’

কিছুক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে থাকলাম আমরা। তারপর তাঁর নির্দেশমতো সবাই চলে এলাম। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে প্রশ্ন করলাম, ‘কে ফলো করছে আপনাকে?’
‘ওই যে ছেলেটা। ওই বাসার ছাদে ছিল। গতকাল সকালেও যেন মনে হলো তোমাদের বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। আমার একটা বড় ক্ষতি না করে সে ছাড়বে না।’

‘ধুর মিতু আপা, আপনার ভাবনা একদম অমূলক। ছেলেগুলোকে তো আমরা প্রায়ই দেখি। ওদের বয়সও অনেক কম। বড়জোর কলেজে পড়ে। মিতু আপা, আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে মনে হয়।’

আর একদিন নাশতা শেষে সামনের বারান্দায় বসে আমরা কেউ ‘বিচিত্রা’ পড়ছি, কেউ বা অলস সময় কাটাচ্ছি। হঠাৎ করে মিতু আপা তাঁর হাত থেকে ঘড়িটা খুলে রিমাকে বললেন, ‘রিমা, ঘড়িটা কোথাও লুকিয়ে রাখ তো। এই ঘড়িতে একটা ডিভাইস ফিট করে রেখেছে সে। এর ভেতর দিয়ে সে জেনে ফেলে, আমি কখন, কোথায়, কী করছি।’
ছোট বোন রিফি ফোঁড়ন কাটল, ‘মিতু আপা, অনেক বেশি অ্যালফ্রেড হিচককের সিনেমা দেখছেন। তাই আপনার মাথায় এমন সব কল্পনা ঘুরছে।’

ছুটি শেষ হলো। মিতু আপা ফিরে গেলেন তাঁদের বেইলি রোডের বাড়িতে।
তবে আমাদের মনে রয়ে গেল কিছু খটকা। আমরা তিন বোন বসে অতীতের কিছু ঘটনার সঙ্গে মিতু আপার হঠাৎ হঠাৎ ভয় পাওয়া মেলানোর চেষ্টা করলাম। অন্য ফুফাতো বোনদের কাছে শুনেছিলাম, বিভাগের কোনো এক অনুষ্ঠানে মিতু আপা যখন বন্ধুদের সঙ্গে মনের আনন্দে গল্প করছিলেন, হঠাৎ তাঁর বিভাগেরই কোনো অতি উৎসাহী তরুণ আপার গালে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ায়। কেন সে করেছিল এ কাজ, কে জানে! বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরেছিল কি? মিতু আপার আকর্ষণে সংযত রাখতে পারেনি নিজেকে? নাকি সে ছিল একটা অ্যাবিউজার? সে যা–ই হোক, কী করে মেনে নেবেন মিতু আপা এমন একটা অন্যায়? ঘুরে দাঁড়িয়ে হলসুদ্ধ লোকের সামনে কষে এক থাপ্পড় মেরেছিলেন ছেলেটির গালে। আমাদের বাসায় যে দুটো ঘটনা ঘটল, তাতে তো মনে হচ্ছে তিনি ব্যাপারটা এখনো মেনে নিতে পারেননি। মনে হলো, হয়তো ভালো মেয়ে, গুণী মেয়ের যে রূপ আত্মীয়স্বজনেরা তাঁর ভেতর তৈরি করে দিয়েছিল, তার সঙ্গে বিভাগের ঘটনাটা মেলাতে পারেননি তিনি।

অথচ বিষয়টি কারও সঙ্গে পরামর্শ করেননি। নিজে নিজে বুঝতে চেষ্টা করছিলেন। পরে জেনেছি, সেই ঘটনার পরপর নিজের অপমান সামলাতে ছেলেটা তাঁকে প্রেম নিবেদন করেছিল। আমাদের দেশে যেমন রেপ হওয়া মেয়েকে যে রেপ করেছে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হতো, এটা অনেকটা তেমন। তিনিও চেষ্টা করেছিলেন ওই ছেলের প্রেমে পড়তে। কিন্তু তা কি হয়? ভুল হয়ে গেল; ভয়কে জয় করতে পারলেন না মিতু আপা, বরং হ্যালুসিনেশন হচ্ছিল তাঁর। পরিবারও বুঝতে পারেনি তাঁর মনের রক্তক্ষরণ।

বেইলি রোডে ফুফু–ফুফার বাড়ি। বড় মেয়ে, স্বামী, পরিবার নিয়ে ওপরতলায় সংসার পেতেছেন। নিচতলায় ছেলে, ছেলের বউ, মিতু আপাসহ থাকেন ফুফু-ফুফা। হঠাৎ হঠাৎ ভয় পাওয়াটা চলছিল মিতু আপার। সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর সামনে বোনের হঠাৎ হঠাৎ বিভ্রান্তিকর কথায় বিব্রত বড় ভাই। প্রথমে কিছুটা সমবেদনা প্রকাশ করলেও পরিবার ধীরে ধীরে শাসনটাকেই ঠিক মনে করেছিল ওষুধ হিসেবে। সে সময় আসলে মিতু আপার প্রয়োজন ছিল মানসিক চিকিৎসা। নিজেকে সামলে নেওয়ার জন্য দরকার ছিল কাউন্সিলরের সাহায্য। কিন্তু সে সময় মানসিক ডাক্তার মানে পাগলের ডাক্তার। মিতু আপা তো পাগল নন। তাই ডাক্তারের পরিবর্তে পীর-ফকির আর ঝাড়ফুঁক গুরুত্ব পেল।

সময় গড়িয়ে চলল। পড়ালেখা শেষ করে একটা কলেজে চাকরি শুরু করলেন মিতু আপা। একসময় ভালো ঘরে, ভালো বরে বিয়ে হয়ে গেল তাঁর। একটি ফুটফুটে মেয়েও জন্মাল। বাড়িতে দাওয়াত করে খাওয়ালেন আমাদের। সুখী সুখী মিতু আপাকে দেখে মনের সব শঙ্কা দূর করে বাড়ি ফিরলাম আমরা। কিন্তু হায়! কয়েক বছর যেতে না যেতেই স্পষ্ট হলো, মনের ভয় কাটেনি মিতু আপার। দুলাভাই কোনো কারণে অফিস থেকে ফিরতে দেরি করলে ভীষণ অস্থির হয়ে পড়েন মিতু আপা। তীব্র অবিশ্বাসে স্বামীকে জেরা করতে থাকেন তিনি। ধীরে ধীরে সে জেরা, চুল টানা, খামচি পর্যন্ত গড়াল। ডাক্তার, বৈদ্য সব চলল। কাজ হলো না কিছুতেই। ক্রমেই হারিয়ে যেতে থাকলেন মা–ফুফুদের আদর্শ সন্তান। আমাদের দারুণ জোশ মিতু আপা।
তাঁর স্বামীও যখন হাঁপিয়ে উঠলেন, ফুফু মিতু আপাকে নিজের কাছে নিয়ে এলেন।

ম্যাকলিনস টুথপেস্ট হাসিওয়ালা মিতু আপার অনেকগুলো দাঁত নাকি পড়ে গেছে, আর বাকিগুলো কালো হয়ে গেছে। চুলগুলো তেমনি আছে, তবে সাদা হয়ে গেছে। মিতু আপার মেয়ে বড় হওয়ার পর আমার সঙ্গে আর দেখা হয়নি। সে থাকে বিদেশে। জানি না, মানসিক ভারসাম্য সব সময় বজায় থাকে না, এমন মায়ের মেয়ে হিসেবে কী কষ্টের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে।

ছেলে, ছেলের বউ, ফুফুর বৃহৎ পরিবার। না না, শুধু পরিবার কেন, সমাজও তো চলে কতগুলো আচরণকে স্বাভাবিক ধরে। এর ব্যতিক্রম ঘটলে তার জায়গা করে দেবে কে? আমাদের সে সময়কার সমাজে মিতু আপাদের জায়গা ছিল না।

কিছুদিন আগেই পড়ছিলাম ব্রিটিশ রাজপরিবারের নেরিসা আর ক্যাথরিনের ট্র্যাজেডি। রাজপরিবার ১৯৬৬ সালে বর্তমান রানি এলিজাবেথের আপন মামাতো বোন, যাদের বয়স তখন ১৫ ও ২২, তাদের মৃত বলে ঘোষণা করে। অথচ তাদের একজন বেঁচে ছিলেন ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত এবং অন্যজন ২০১৪ সাল। তাদের রেখে আসা হয়েছিল সাধারণ এক নার্সিং হোমে। রাজপরিবারের কোনো সদস্যের মানসিক বিকাশ তিন বছরে আটকে আছে, তা জানলে নাকি জনমনে রাজপরিবারের প্রতি আস্থা কমে যাবে!
এ–ই যদি হয় রাজতন্ত্রের অভিযোজন ক্ষমতা, তবে আমার ফুফু-ফুফা আর কতটাই বা বিপ্লবী হতে পারবেন? এই বয়সে তাঁরা বাড়িঘর, সংসার সব ফেলে, শুধু মিতু আপাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেলেন। সেখানে মিতু আপার হঠাৎ হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে তাঁদের আর বিব্রত হতে হবে না। ভাবলেন বোধ হয় লোকচক্ষুর অন্তরালে মেয়েটাও শান্তিতে থাকবে। শহরে জন্মানো আজীবন ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া মিতু আপা কি শান্তিতে ছিলেন গ্রামে? গভীর রাতে হোমারের ‘ইলিয়াড’ পড়ার ইচ্ছা হলে, বিদ্যুৎহীন গ্রামের ঘরে কি ছটফট করতেন আপা? চিৎকার করে করে তাঁর আদরের মেয়েকে দেখতে চাইতেন কি তিনি? জানি না, আমরা তাঁর সেই গোপন জীবনের কিছুই জানি না। শুধু জানি, আমাদের কারোর বিয়ের হুল্লোড়ে নেই মিতু আপা, কারোর মৃত্যুশোকে নেই মিতু আপা, পরিবারে নতুন প্রজন্মের আগমনে নেই মিতু আপা।

একদিন খবর এল, আমাদের ফুফু—মিতু আপার মা আর নেই। দৌড়ে গেলাম তাঁদের বাড়িতে। সেই বাড়ি, সেই বাগান, সেই ভাইবোন—সবাই–ই। ঘরে ঢুকে যেন অলৌকিক কিছু দেখতে পেলাম। হোয়াইট ওয়াশ করা ঘরের মেঝে সাদা চাদর দিয়ে ঢাকা। ঘরের দক্ষিণ কোণে একটা জানালা। সে জানালার গরাদ গলিয়ে দেখা যাচ্ছে বাগানের কিছু ফুল। উত্তর-দক্ষিণে লম্বা করে শোয়ানো সাদা কাফনে ঢাকা ফুফুর শরীর। মাথার কাছে জ্বলছে আগরবাতি। আর একপাশে টকটকে কমলা রঙের ছাপা শাড়ি পরে বসে আছেন, আগুনের মতো রূপ নিয়ে, দারুণ স্মার্ট সর্বগুণে গুণান্বিতা মিতু আপা।

পরিপাটি চুল, হাতে দুটো চুড়ি। মনে হলো, এ বাস্তব নয়, এটি কোনো শিল্পীর আঁকা ছবি। কাছে গিয়ে হাতটা ধরলাম। বললাম, ‘কেমন আছেন মিতু আপা?’ কোনো উত্তর দিলেন না। অনেকক্ষণ ধরে আমাকে দেখলেন। ধীরে ধীরে লোক বাড়ল। একেকজন এসে একটু দাঁড়ান, কেউবা চলে যান। মৃদু স্বরে কথা বলছেন কেউ কেউ। গ্রামেই মারা গেলেন, নাকি শহরে আনা গিয়েছিল? কে ছিল পাশে? সবাই মৃতদেহ থেকে দৃষ্টি তুলে তাকাচ্ছেন মিতু আপার দিকে। অব্যক্ত প্রশ্ন সবার চোখে, কী হবে মিতুর? কে দেখবে তাঁকে?

ফুফুর মৃত্যুর পর থেকে মিতু আপার সব দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মেজ বোন অন্তু আপা। বেশ কিছুদিন নিজ বাড়িতেই রেখেছিলেন বোনকে। তারপর ডাক্তারের পরামর্শে একসময় তাঁকে যথাযথ সেবার জন্য রাখতে হয়েছে নার্সিং হোমে। আমি শুনেছি, প্রতি মাসের নার্সিং হোমের বিশাল খরচ বছরের পর বছর দিয়ে চলেছেন সেই বোন।
যেকোনো অনুষ্ঠানে অন্তু আপার সঙ্গে দেখা হলে মিতু আপার কুশল জানতে চাই। এবার ফোনে কথা হচ্ছিল যখন, অন্তু আপা জানালেন, মিতু আপার কোভিড হয়েছিল।

তবে এখন সুস্থ আছেন। তাঁকে দেখতে গেলে খুব খুশি হন মিতু আপা। ম্যাকলিনস টুথপেস্ট হাসিওয়ালা মিতু আপার অনেকগুলো দাঁত নাকি পড়ে গেছে, আর বাকিগুলো কালো হয়ে গেছে। চুলগুলো তেমনি আছে, তবে সাদা হয়ে গেছে। মিতু আপার মেয়ে বড় হওয়ার পর আমার সঙ্গে আর দেখা হয়নি। সে থাকে বিদেশে। জানি না, মানসিক ভারসাম্য সব সময় বজায় থাকে না, এমন মায়ের মেয়ে হিসেবে কী কষ্টের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে। তবে সে নিশ্চয়ই জানে যে অ্যালবাম খুলে মিতু আপা তার ছবিই দেখেন। তার সঙ্গে দেখা করতে চান কি না? জানতে চাইলে মিতু আপা নাকি ছোট্ট শিশুর মতো আরক্ত গালে মাথা নেড়ে সম্মতি জানান। আর তাঁকে সাজিয়ে দিতে বলেন। তাঁর দাঁত ঠিক করতে বলেন। চুলে রং দিয়ে দিতে বলেন। নিশ্চয়ই একদিন তাঁর অপেক্ষা শেষ হবে।

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন