ড. জেফরি রেডিগার ও তাঁর বই ‘উপশম’–এর প্রচ্ছদ অবলম্বনে
ড. জেফরি রেডিগার ও তাঁর বই ‘উপশম’–এর প্রচ্ছদ অবলম্বনে কোলাজ: মনিরুল ইসলাম

স্বতঃস্ফূর্ত উপশম নিয়ে অনুসন্ধানটি কীভাবে শুরু হলো?

রেডিগার: ২০০২ সালে বোস্টনের মাস জেনারেল হাসপাতালের ক্যানসার বিভাগের এক নার্স আমাদের কাছে এলেন। তিনি প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারে আক্রান্ত। এই কথা তাঁর সন্তানকে জানিয়ে তাঁর মায়ের হাতে আর মাত্র কয়েক মাস আছে—এ কথা বলার জন্য সহায়তা চাইলেন তিনি। আমরা সেই সাহায্য করলাম। তারপর তিনি উপশম কেন্দ্রে গেলেন এবং আমার সঙ্গে তাঁর আলাপ শুরু হলো। জানালেন, তাঁর কিছু অসাধারণ উপশম হচ্ছে; আমাকে দেখাতে চাইলেন বিষয়টি।
সে সময় আমি মাত্রই রেসিডেন্সি সম্পন্ন করেছি। ম্যাকলিনের নতুন স্বাস্থ্য পরিচালক ও হার্ভার্ডে শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছি। আমার সন্দেহ হলো। তাঁকে না করে দিলাম। কিন্তু তাঁর ধৈর্য ছিল। তিনি দেশের নানা প্রান্ত থেকে নানা লোক দিয়ে আমাকে কল করাতে লাগলেন। তাঁদের একটাই কথা—তাঁদের হওয়া উপশমের পক্ষে প্রমাণ রয়েছে এবং তাঁরা তাঁদের গল্প আমাকে শোনাতে চান। আমি সবাইকেই না বলতে থাকি। কিন্তু কিছু পরে আমার কাছে আসা কিছু চিঠি পড়ে আমি অনুধাবন করি যে এমন কিছু গল্প আছে, যা আমি ব্যাখ্যা করতে পারছি না।
গবেষণার এক জটিল স্তর। এই গল্পগুলোর অনেকগুলোর সঙ্গেই কেমো, রেডিওথেরাপিসহ নানা জটিল চিকিৎসা পদ্ধতি জড়িয়ে আছে। কিন্তু এর বাইরে এমন কিছু গল্প আছে, যা সত্যিই আমি ব্যাখ্যা করতে পারিনি। কোনো অদ্ভুত কিছু যেন ঘটে চলেছে। ফলে আমি বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করি। খুব ধীরে এগোতে হচ্ছিল। ১৭ বছর হয়ে গেল! রোগ ও আরোগ্য দুইয়ের দিকেই তাকাতে হবে—বিষয়টি বুঝতে অনেকটা সময় চলে গেল।
ওষুধের সামাজিকীকরণের ধারণাটি কতটা শক্তিশালী, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। আপনি যখন চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে যাবেন, তারা আপনাকে আগে ভেঙে ফেলবে, তারপর গড়বে। সেখান থেকে আপনি রোগ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে খুবই সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী বোঝাপড়া নিয়ে বের হবেন। যেসব মানুষ মেডিকেলে বা স্বাস্থ্যসম্পর্কিত যেকোনো ক্ষেত্রে পড়াশোনা করে, তাদের আলাদা একধরনের সামাজিকীকরণ ঘটে।
আমি ছিলাম প্রিন্সটন সেমিনারিতে। সব সময়ই প্রশ্ন করতাম। সারা জীবন প্রশ্নই আমাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। মেডিকেলে থাকতে ক্লাস শেষে আমি অধ্যাপকদের পেছন পেছন ছুটতাম প্রশ্ন করার জন্য। মনে আছে একজন বেশ সোজাসাপ্টা বলে দিয়েছিলেন—‘প্রশ্ন কোরো না। সমস্যাগুলো শুধু মনে রাখো।’ এটাই আসলে ছিল মূল প্রবণতা—প্রচুর তথ্য শুষে নিতে হবে, মনে রাখতে হবে বহু কিছু।
এটা নিশ্চিতভাবে সত্য যে চিকিৎসক হওয়ার অর্থ হচ্ছে প্রচুর তথ্য গিলে নেওয়া এবং তা থেকে শেখা। কিন্তু সঙ্গে এ–ও সত্য যে প্রশ্ন না করা শেখাটা একজন মেধাবীর এমন সামাজিকীকরণ ঘটায়, যাতে তার পক্ষে আর বিদ্যমান চিকিৎসা পদ্ধতিকে প্রশ্ন করা হয়ে ওঠে না। বিষয়টি বুঝতে আমার অনেক সময় লেগেছে।

আপনার বইয়ে আপনি আধুনিক ওষুধের পাশাপাশি রোগমুক্তির অন্য পন্থাগুলো নিয়েও আলোচনা করেছেন। আধুনিক ওষুধের সীমাবদ্ধতা ও সাফল্যকে স্বীকার করাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন?

রেডিগার: বহু দিক থেকেই আধুনিক ওষুধ অসাধারণ। বিশেষত জটিল পরিস্থিতিতে, এই এখন যেমন করোনাভাইরাসের সময়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে জীবিত রাখার ক্ষেত্রে এটি অসাধারণ কাজ করছে। প্রতিদিনই আমি চিকিৎসক, নার্স ও রেসপিরেটরি থেরাপিস্টদের অসাধারণ কাজগুলোর খোঁজ নিই। তাঁরা একজন লোককে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে নিজে শ্বাস নেওয়ার মতো অবস্থায় নিয়ে আসছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

উদাহরণস্বরূপ, আমাদের গুড সামারিটান হসপিটালে এই মুহূর্তে আরেকটি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) খোলা হয়েছে। আমরা বহির্বিভাগে আসা রোগীদের ভর্তি করিয়ে নিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ভেন্টিলেটরের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের একটি ইউনিট ছাড়া বাকি সব কটিতেই কোভিড রোগী। আমরা বেঁচে থাকতে সক্ষম কিন্তু এখন শ্বাস নিতে পারছেন না, এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকেই বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। তাই আধুনিক ওষুধ অবশ্যই অসাধারণ কাজ করছে।
তুলনার ক্ষেত্রে আমি মাঝেমধ্যেই বলি যে আধুনিক ওষুধ হলো সুউচ্চ পাহাড়ের নিচে দাঁড়ানো লম্বা অ্যাম্বুলেন্সের সারির মতো একটি বিষয়। ওই পাহাড় থেকে পড়া প্রত্যেক লোককে তুলে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য এগুলো দাঁড়িয়ে আছে। এই চূড়া থেকে কেউ ডায়াবেটিসের কারণে, কেউ স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের কারণে পতিত হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স ছুটে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সে দারুণ কাজ করছে।
কিন্তু আধুনিক ওষুধ ওই পাহাড় থেকে আমাদের পতনকেই ঠেকাতে পারছে না। আমাদের চিকিৎসাসংক্রান্ত সবচেয়ে বেশি খরচ হয় দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধের পেছনে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা–সম্পর্কিত রোগ ও ফুসফুসের রোগ—এই পাঁচ ধরনের রোগের পেছনেই ৭০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়। তাহলে আমরা যদি ওই পাহাড়েও ওপরই একজন পাহারাদার বসিয়ে রাখতে পারি, যে আমাদের পতন ঠেকাবে, তবে আমরা সম্পূর্ণ নতুন এক ধারার ওষুধ পাব। বিষয়টি নিয়েই আমার বইটি, যেখানে আমি সেসব মানুষের দিকে তাকাতে চেয়েছি, যারা পাহাড় থেকে পড়েছিল, কিন্তু কোনো একভাবে সে আবার পাহাড়ে চড়ে বসেছে। তারা এমন কোনো মই পেয়েছে, যা কার্যকর। এই লোকগুলো যে বিষয়গুলোর প্রয়োগ ঘটিয়েছিল, সেটাই হয়তো পারে পাহাড় থেকে আমাদের পতনটাই ঠেকিয়ে দিতে।

আধুনিক ওষুধ ওই পাহাড় থেকে আমাদের পতনকেই ঠেকাতে পারছে না। আমাদের চিকিৎসাসংক্রান্ত সবচেয়ে বেশি খরচ হয় দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধের পেছনে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা–সম্পর্কিত রোগ ও ফুসফুসের রোগ—এই পাঁচ ধরনের রোগের পেছনেই ৭০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়। তাহলে আমরা যদি ওই পাহাড়েও ওপরই একজন পাহারাদার বসিয়ে রাখতে পারি, যে আমাদের পতন ঠেকাবে, তবে আমরা সম্পূর্ণ নতুন এক ধারার ওষুধ পাব। এই বিষয়টি নিয়েই আমার বইটি, যেখানে আমি সেসব মানুষের দিকে তাকাতে চেয়েছি, যারা পাহাড় থেকে পড়েছিল, কিন্তু কোনো একভাবে সে আবার পাহাড়ে চড়ে বসেছে। তারা এমন কোনো মই পেয়েছে, যা কার্যকর। এই লোকগুলো যে বিষয়গুলোর প্রয়োগ ঘটিয়েছিল, সেটাই হয়তো পারে পাহাড় থেকে আমাদের পতনটাই ঠেকিয়ে দিতে।

তার মানে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধের প্রতি আপনার শ্রদ্ধা থাকলেও আপনি মূলত উপশমের অন্য উপায়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় হতাশ?

রেডিগার: খুবই সত্য। চিকিৎসা আমি ভালোবাসি। আমার দিন কাটে দুটি হাসপাতালে; একটি মানসিক, অন্যটি সাধারণ, যেখানে তীব্র ও জটিল সব রোগ নিয়ে লোকেরা আসে। আমি এই রোগের তীব্রতা ও তা থেকে মানুষের দ্রুত সেরে ওঠা দেখতে ভালোবাসি। আধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর যে লড়াই, তা আমি ভালোবাসি। তারপরও মনে হয়, কিছু একটা নেই যেন। আমাদের শেখানো হয়, কোনো একটি রোগ শনাক্তের ক্ষেত্রে সাধারণ লক্ষণ ও গভীরে থাকা চিহ্নগুলোর দিকে নজর দিতে। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ঘটনাগুলোকে পাশ কাটানোর শিক্ষা পাই আমরা। চিকিৎসক হিসেবে আমি রোগ নির্ণয় ও এর চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। কিন্তু যখন আপনি লোকেদের কথা শুনবেন এবং তাদের গল্পগুলো শুনবেন, তখন বুঝবেন, তাদের জীবন আদতে কিসের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। এটা বুঝলেই আপনি দেখবেন, তাদের আরোগ্যে আদতে কী কী বিষয় প্রভাবক ভূমিকা রেখেছিল।

আপনি লোকেদের গল্প শুনতে লাগলেন?

রেডিগার: ক্রমেই আমি বুঝতে শুরু করি যে রোগীর সঙ্গে আমাকে দেখা করতে হবে। লোকটির সঙ্গে তার সমগ্রের সঙ্গে পরিচিত হওয়াটা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা এমন নয় যে, ‘আমরা বিভিন্ন শয্যার পাশে গেলাম, দু-এক মিনিট দাঁড়ালাম, তার সম্পর্কে কিছুই না জেনে, তার শরীরে প্রকাশিত লক্ষণগুলো শুধু জেনে চলে এলাম।’ একজন লোককে জানার জন্য, তার পরিচয়টিকে বোঝার জন্য আসলে খুব বেশি সময় লাগে না। গল্পটি শুরু করতে হয় শুধু। আর এই গল্পের ভেতরেই থাকে, আদতে তার শরীরে কী ঘটে চলেছে, তার তথ্যটি।

আমাদের করা প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে মানসিক চাপের কারণে। কিন্তু আমরা সে বিষয়ে কোনো প্রশ্নই করি না। যদি কোনো ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাক হয়, তবে তার পেছনে একটি কারণ অবশ্যই আছে। একই কথা প্রযোজ্য স্ট্রোক অথবা উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রেও। লক্ষণ কখনো এমনি এমনি সামনে আসে না। আমরা যখন প্রশ্ন করি, ‘দেখে মনে হচ্ছে আপনি সম্প্রতি বেশ চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কী হয়েছে?’ এই প্রশ্নটিই রোগীকে অনেকটা নিষ্কৃতি দেয়। নার্স ও চিকিৎসকেরাও তখন অনেকটা উপায় খুঁজে পান। কিন্তু এই প্রশ্নই করা হয় না।

কিন্তু এটা সব সময় সম্ভব হয় না। নিউইয়র্কের এক নার্সের সঙ্গে সম্প্রতি আমার কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সেখানে কোভিডের কারণে চাপ এতই বেশি যে আগে যে পরিমাণ তথ্য রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হতো, এখন তা চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। আগে চার পৃষ্ঠার একটি ফরম পূরণ করতে হতো, এখন তা এক পৃষ্ঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

রেডিগার: এটাই হওয়ার কথা। কিন্তু ভাবুন, আপনি শুধু বলছেন—‘নিশ্চয় আপনি সম্প্রতি অনেক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন?’ কিংবা ‘সম্প্রতি আপনার কাছে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপের কারণ বলে মনে হয়েছে?’ এতে কতটা সময় লাগবে? অথচ এই এক প্রশ্নের উত্তর এমনকি চিকিৎসা পদ্ধতিই বদলে দিতে পারে। এর মাধ্যমে রোগীর সঙ্গে একটা সম্পর্কও আপনার তৈরি হচ্ছে, যা পরবর্তী চিকিৎসায় কাজে লাগবে।

আপনার বইয়ে কিছু বিস্ময়কর গবেষণার উল্লেখ আছে। এক জায়গায় বলা আছে, ক্ষমা শরীরের জন্য ইতিবাচক।

রেডিগার: আমাদের অধিকাংশই লড়াইয়ের মধ্যে থাকি; লড়াই অথবা শৈথিল্য। কেউ যখন এমন একটি দশার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পাড়ি দেয়, তখন তার যথাযথ উপশম কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, এই মানসিক দশার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ কোষ থেকে শুরু করে সব কোষই কর্টিসল, অ্যাড্রিনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের আধিক্য দ্বারা আক্রান্ত হয়। এতে কী হয়? আপনার শরীরের কোষ অসাড় ও অলস হয়ে পড়বে। যে কোষগুলো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়ে, করোনাভাইরাস বা এমন অণুজীবের বিরুদ্ধে লড়ে, ক্যানসার সৃষ্টির ধাপগুলোকে বাধা দেয়, সেগুলো অসাড় হয়ে পড়ে। কিন্তু উপশমের জন্য শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সবল ও সক্রিয় হওয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু স্ট্রেস হরমোন অতিরিক্ত নিঃসৃত হলে এটা হওয়া সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

তাই লড়াই ও শৈথিল্য দুই থেকেই দূরে থাকাটা জরুরি। আর ক্ষমার গুণ রপ্ত করার মধ্য দিয়ে এ কাজ হতে পারে। কারণ, এর চর্চার মধ্য দিয়ে আপনি লড়াই ও হাল ছাড়া দুই দশা থেকেই মুক্তি পাবেন, প্রবেশ করবেন এক ফুরফুরে দশায়, যা আপনার ভ্যাগাস স্নায়ুকে উদ্দীপ্ত করবে। এই আমাদের হাসি বা লোকেদের দিকে সরাসরি চাওয়ার পেছনের কাজটি কিন্তু এই স্নায়ুই করে। এটি আমাদের হতাশা ও যুদ্ধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে সংযোগ, ভালোবাসা ও সহানুভূতির পর্যায়ে উন্নীত হতে সহায়তা করে। এর অর্থ হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ কোষগুলো এক দারুণ স্নায়বিক রসায়নের রাজ্যে বাস করছে, সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে। এই দশাই শরীরের পছন্দ। কারণ, এই দশায় সে নিরাপদ থাকে।

কোভিড নিশ্চিতভাবেই এক বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে। কিন্তু এটি আবার পারস্পরিক সহানুভূতি, অচেনা প্রতিবেশীদের কাছে আসার উপায় হয়ে উঠেছে। এমন অনেক আশার গল্প এখন আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা কি আমাদের ভ্যাগাস নার্ভের জন্য ইতিবাচক?

রেডিগার: আমার মনে হয়। এটি ব্যক্তিক ও সামষ্টিকভাবে আমাদের জীবনকে উন্নত করার অনেক উপায় সামনে নিয়ে এসেছে। এটি নিয়ে গবেষণা হলে কী তথ্য আসবে, তা দেখার বিষয়। দেখুন আমরা সহকর্মীরাও এখন রাত-দিন, সপ্তাহ একসঙ্গে কাটাচ্ছি। আমরা কর্মঘণ্টার বাইরে নিজের তাগিদেই সংযুক্ত আছি। এর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করি। এটি আমাদের এই দুর্যোগের মূল কারণের দিকে তাকাতে উৎসাহিত করছে। এটা খুবই ইতিবাচক।

অন্যআলো ডটকমে লেখা পাঠানোর ঠিকানা: info@onnoalo.com

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন