সবুজ বিশ্ব

 মধ্য কানাডায় আড়াআড়িভাবে থাকা, বিশাল কানাডিয়ান লেকস ডিস্ট্রিকটের দেবদারু বন এত ঘন, এত অভেদ্য যে শীতের তুষার গাছগুলোর ওপরে কম্বলের মতো বিছিয়ে থাকে। আদর্শ গাছ তার প্রায় ১০ ভাগ পুষ্টি মাটি থেকে গ্রহণ করে। বাকিটুকু আসে বাতাস থেকে। দক্ষিণ মেরু থেকে ২৬৪ মাইল দূরে অ্যান্টার্কটিকায় অনাবৃত পাথরের ওপর শৈবাল পাওয়া গেছে। দক্ষিণে সেটাই ডাঙার জীবনের শেষ চিহ্ন (অভিযাত্রী আর কুকুর বাদে)। একধরনের বন্য আইরিসের (নীল রঙের ঘাস) কাণ্ড একই সঙ্গে দুটো ফুল বহন করার মতো শক্ত নয়। প্রতিদিন সকালে একটা ফুল ফোটে এবং আরেকটার জায়গা করে দিতে গিয়ে রাতে মারা যায়। ২৪ ঘণ্টায় বাঁশ তিন ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। হলুদ সান্ধ্য প্রিমরোজ শুধু সন্ধ্যায় ফোটে এবং এত দ্রুত দেখা যায় এবং শোনাও যায়। মুকুলগুলো যখন ফোটে, তখন সাবানের বুদ্বুদের মতো ফটাফট শব্দ হয়। পৃথিবীর সব সবুজের প্রায় ৮৫ শতাংশ তৈরি করেছে সাগরের উদ্ভিদপ্রাণ। এক প্রকার মাশরুম বৈজ্ঞানিক নাম: গ্যানোডেরমা অ্যাপ্লান্টুম ৫০ বছর বেঁচে থাকতে পারে এবং ব্যাস হতে পারে দুই ফুটের মতো। মাটির অন্ধকার এবং স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বাস করে মাশরুম এবং সূক্ষ্ম ছত্রাক, এদের বায়বীয় বীজগুটি আকাশের ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায়ও পাওয়া গেছে প্রচুর পরিমাণে। মাত্র এক মৌসুমে ১০টি ছোট কচুরিপানা ছয় লাখের বেশি কচুরিপানা সৃষ্টি করতে পারে। একে বড় একটা চাদর হিসেবে কল্পনা করলে এর আকার হতে পারে এক একর এবং ওজন ১৮০ টন। বিশাল সিকোইয়া ( আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার মোচাকৃতির অতিকায় চিরসবুজ গাছ) প্রথম ফুল ফোটার আগে ১৭৫ থেকে ২০০ বছর অপেক্ষা করে, সব ধরনের জীবের মধ্যে সবচেয়ে দেরি করে পূর্ণতা পায়। ফুল থেকে কোটি কোটি বীজ তৈরি হয়, আর এসব বীজ এত ছোট যে তিন হাজার বীজের ওজন হয় মাত্র এক আউন্স। নিউইয়র্ক শহরের বিখ্যাত কিন্তু অল্প পরিচিত সম্পদগুলোর একটি হলো ৪০ একরের হেমলক বন, জানামতে, ইন্ডিয়ানদের সময় থেকে এখন পর্যন্ত নিরুপদ্রব অবস্থায় আছে। এই বনটি নদী-তীরবর্তী নিউইয়র্ক বোটানিক্যাল গার্ডেনে অবস্থিত। ৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে এরিক দ্য রেড যখন চিরস্থায়ী বরফ এবং তুষারের একটি নতুন ভূমি খুঁজে পান, তখন তিনি তাঁর নরওয়েজিয়ান সঙ্গীকে নিয়ে নরওয়ের লোকেদের সেখানে যেতে উৎসাহিত করেন। এ কারণে তিনি এর নাম দেন গ্রিনল্যান্ড। নামকরণের কিছুদিন পর আগ্রহী লোকেদের নিয়ে ২৫টি জাহাজে করে গ্রিনল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেন। গত শতাব্দীর শুরুর দিকে আমেরিকার লুথার বারব্যাংক তাঁর বীজ তালিকা প্রকাশ করেন। সেই প্রকাশিত পেপারসে তিনি সংকর পদ্ধতিতে নতুন প্রজাতির উদ্ভিদ আবিষ্কারের কথা বর্ণনা করেন। কিন্তু তাঁকে ঈশ্বর-নিন্দার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় এবং প্রকৃতির কাজে বাধাগ্রস্ত করায় ও নতুন জীব সৃষ্টি করায় গির্জাগুলো অভিযুক্ত করে। বিশাল সিকোইয়া গাছের রস আঠালো নয়। গাছগুলো একবার শক্ত বাকলে আবৃত হয়ে গেলে বাস্তবিক অর্থে অগ্নিপ্রতিরোধক হয়ে যায়, যেটা এদের দীর্ঘজীবনের কারণ হতে পারে। যদি আগুনে এদের ক্ষতিও হয়, এদের রসে থাকা প্রচুর ট্যানিন (মানুষের মাংস পুড়ে গেলে যে ট্যানিন এসিড ব্যবহার করা হয়), যা আগুনের ক্ষতি থেকে বাঁচায়। ম্যালোগাছ (লোমশ কাণ্ড, পাতা এবং গোলাপি-সাদা-বেগুনি ফুলের বুনো গাছ) ও অন্য অনেক গাছেরও পাতা সূর্যের আলো অনুসরণ করে, আকাশে সূর্যের সঙ্গে এরাও ঘুরতে থাকে। আরও অস্বাভাবিক হলো, সূর্যাস্তের সময় ম্যালোগাছের প্রতিক্রিয়া। সূর্য অস্ত গেলে, ম্যালোগাছের সব পাতা পুব দিকে ঘুরে যায়, যেদিকে ভোরে সূর্য উঠবে। আফ্রিকান বাওবাব গাছের বীজ সহজে অঙ্কুরিত হয়, যদি একটি বেবুন সেগুলো খায় এবং এগুলো তার পরিপাকতন্ত্রের মাঝ দিয়ে যায়। পরে ওগুলো মাটির সংস্পর্শে আসামাত্র অঙ্কুরিত হয়। ভাষান্তর: হাসান খুরশীদ