বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
‘সং অব মাইসেলফ’ ও ‘বিদ্রোহী’ দুই মানের এবং দুই মাপের কবিতা। ‘সং অব মাইসেলফ’ কবিতাটি ৫২টি খ্ণ্ড কবিতার সমন্বয়ে লেখা একটি মহাকাব্যিক ধাঁচের দীর্ঘ কবিতা।

সময়ের দিক থেকে হুইটম্যানের ‘সং অব মাইসেলফ’ ১৮৫৫ সালের, নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ ১৯২১ সালের রচনা। নজরুলের লেখা ‘বর্তমান বিশ্ব-সাহিত্য’ প্রবন্ধে হুইটম্যানকে তিনি বলেছেন ‘মাটির মানুষ’। তিনি তৎকালীন বিশ্বসাহিত্যকে দুটি রূপ দেখতে পাচ্ছিলেন। এদিকে আছেন স্বপ্নচারী, স্বপ্নলোকের স্বপ্নবিহারীরা; অন্যদিকে আছেন ভূমিলগ্ন আর্তমানবতায় ক্ষোভ-ক্রোধ-ক্রন্দনে উৎক্ষিপ্ত লেখকেরা। বিশ্বসাহিত্যের অন্য রূপও যে নেই তা নয়। নজরুলের মতে, ‘এই দুই “এক্সট্রিমে”র মাঝে যে, সে এই মাটির কোলে শুয়ে স্বর্গের কাহিনি শোনে।’ এক জায়গায় বলছেন, কবিতার জগতে একদিকে কিটস, অন্যদিকে হুইটম্যান। নজরুল লেখেন—

‘স্বপ্নচারীদের Keats বলেন:

A Thing of Beauty is a joy for ever.(ENDYMION)

Beauty is truth, truth is beauty.

প্রত্যুত্তরে মাটির মানুষ Whitman বলেন:

Not physiognomy alone—

Of physiology from top to toe I sing.

The modern man I sing.’

তাঁর সময়ের বিশ্বসাহিত্যের স্বরূপ দেখতে গিয়ে নজরুল ইয়েটস, রবীন্দ্রনাথদের রেখেছেন স্বপ্নচারীদের দলে, আর গোর্কি, জোহান বেয়ার, বার্নার্ড শ, বেনাভাঁতে, আনাতোল ফ্রাঁসেরকে মাটিবর্তী অস্থির উৎক্ষিপ্তদের দলে। এ প্রবন্ধে তেমনি আছে দস্তয়ভস্কি ও তলস্তয়ের কথা আর ন্যুট হামস্যুনের উল্লেখ। নজরুল উল্লেখ করেছেন কার্ল মার্ক্সের পাশাপাশি ফ্রয়েডের কথাও। নজরুলের মতে, বিশ্বযুদ্ধের ঢেউ আরব সাগরের তীর পার হতে না পারলেও ধারণা ও মতবাদের জগতের যে মহাযুদ্ধ চলছে, সেটি বিশ্বের সবখানে শুরু হয়ে গেছে। এদিক থেকে নজরুলের এই উক্তি অমোঘ। সে সময়ে পশ্চিমা জগতের বহু চিন্তাবিদের কথায়ও এরই প্রতিধ্বনি শোনা যাবে। তবে যেটা শোনা যাবে না, তা হলো ভারতীয় পুরাণের হনুমানের সঙ্গে গ্রিক পুরাণের উল্লেখ। ‘বর্তমান বিশ্ব-সাহিত্য’ প্রবন্ধটি ১৩৩৯ সালের বার্ষিক ‘প্রাতিকা’য় প্রকাশিত হয়েছিল। ধরে নিতে পারি, এর প্রকাশকাল ১৯৩২ সাল। এরও ১০ বছর আগে প্রকাশিত হয় ‘বিদ্রোহী’। আমরা দেখলাম সেই সময়ের প্রধান লেখকদের বেশ কজন সম্পর্কেই তিনি অবহিত ছিলেন তো বটেই, একই সঙ্গে কিটস ও হুইটম্যানকে নিবিড়ভাবে পড়েছিলেন, আর আয়ত্ত করেছিলেন তাঁর নিজের কবিতা লেখার ভাবগতি ও রচনাকাঠামো। নজরুল স্বভাবে রোমান্টিক হলেও তাঁর চরিত্রের অন্য রকম এক বস্তুনিষ্ঠতা ছিল। হুইটম্যানের মতো তিনি প্রচলিত ধর্মেও আর বিশ্বাসী ছিলেন না। সেই সঙ্গে তিনি ছিলেন সাম্যবাদী, বিশেষ করে অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী। এর পেছনে মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের সঙ্গ-সাহচর্য তো ছিলই। গোলাম মুরশিদের মতে, ‘করাচি থেকে ফিরে এসেছিলেন যে নজরুল, তিনি মুসলমান। “বিদ্রোহী” কবিতা রচনা করলেন যে নজরুল তিনি মানুষ।’ বিশ্বসাহিত্যে নজরুলের যেটুকু চর্চা খেয়াল করা যায়, তাতে এই মনুষ্যত্বের পাঠে নিঃসন্দেহে হুইটম্যানের প্রভাব ছিল। আর তারই বিভাবে, মানে অলংকারশাস্ত্রের নানান কিছুর সন্নিবেশে যে রসের উদ্ভব হয়, তাতে রবীন্দ্রনাথ, মোহিতলালের কবিতার ভাবরস নিয়ে ভিন্ন এক হুইটম্যানীয় কাঠামোতে নজরুল ঢেলে দিলেন তার ভাবোন্মাদনার ভাষাপ্রবাহ। কিন্তু তাতেও এমন এক মৌলিকত্ব আছে, যা একান্ত নজরুলীয়।

default-image

তবে লক্ষণীয়, মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের ‘কাজী নজরুল ইসলাম: স্মৃতিকথা’(১৯৬৫) বা গোলাম মুরশিদের ‘বিদ্রোহী রণক্লান্ত: নজরুল-জীবনী’তে (২০১৮) ‘বিদ্রোহী’ কবিতা রচনায় হুইটম্যানের প্রভাবের কথা ঠিক যে জায়গায় এর আলোচনা এসেছিল, তাতে উল্লেখ করা হয়নি। নজরুলের আরেক জীবনীকার জিয়াদ আলী তাঁর ‘নজরুল: অজানা কথা’য় (২০০৮) বরং বলেছেন একধরনের আফসোসের কথা। তিনি নজরুলের মৌলিকত্বেই অধিকতর বিশ্বাসী। তাঁর মতে, আমরা আমাদের বাঙালি লেখকদের লেখার উত্স খুঁজতে যেন ফাঁদ পেতে পশ্চিমা লেখকদের ধরে ধরে হাজির করি। তিনি লিখেছেন, ‘ভাবখানা এ রকম যেন বাংলা কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, গান ইংরেজি মডেল ও মানের সমগোত্রীই যদি না হয়ে উঠল, তাহলে সাহিত্য বা শিল্প হবে কী করে! শিল্প-সাহিত্যের উত্স যে, যে যার নিজ নিজ মাটি, মানুষ ও আলো-বাতাসেই এই সহজবোধগম্যতা থাকলে রবীন্দ্রনাথের অমুন কবিতায় এলিয়ট বা ইয়েটসের মতো কাব্যশৈলী নেই বলে আমরা আক্ষেপ করতাম না। কিংবা নজরুল কেন পুরোপুরি হুইটম্যান ও শেলির মতো হলেন না বলেও সমালোচনার তুবড়ি ফোটাতাম না। আমার তো স্থির বিশ্বাস তারাশঙ্করের বেশ কয়েকটি গল্প পৃথিবীর যেকোনো দেশের আধুনিক গল্পের চাইতে সেরা মানের।’

জিয়াদ আলীর অনুযোগ মিথ্যা নয়, কিন্তু সৈয়দ আলী আহসান অনূদিত ও সম্পাদিত ‘ওয়াল্ট হুইটম্যানের নির্বাচিত কবিতা’, যেটি প্রথমে জুন ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল, পরে সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমি থেকে এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়, তাতে দেখি, এর ভূমিকায় তিনি লিখেছেন, ‘বাংলা ভাষার কবি নজরুল ইসলামের ওপর হুইটম্যানের প্রভাব ছিল যথেষ্ট। নজরুল ইসলামের প্রসিদ্ধ কবিতা “বিদ্রোহী”-কে ওয়াল্ট হুইটম্যানের “সং অব মাইসেলফ”-এর সঙ্গে মিলিয়ে পড়া যেতে পারে।’ এই মিলিয়ে পড়তে গিয়ে তিনি নিজে দেখেছেন, নজরুলের ‘বিদ্রোহী’তে হুইটম্যানের বক্তব্যের অনুরণন পাওয়া গেলেও অনুভূতির শিখায় প্রজ্বলিত জীবনের স্বাক্ষর ততটা নেই। হুইটম্যানের ‘আই অ্যাম স্যাটিসফায়েড, আই সি, ড্যান্স, লাফ, সিং’ নজরুলের কবিতা এসেছে এভাবে—

‘আমি নৃত্য পাগল-ছন্দ,

আমি আপনার তালে নেচে যাই

আমি মুক্ত জীবনানন্দ!’

এভাবে হুইটম্যানের অনুরণন নজরুল কেবল ‘বিদ্রোহী’ নয়, ‘জিঞ্জির’ কাব্যগ্রন্থের ‘অগ্র-পথিক’ বলতে গেলে হুইটম্যানের ‘পাইওনিয়ারস! ও পাইওনিয়ারস’ কবিতার অনুবাদ। সৈয়দ আলী আহসানের ভাষ্যমতে, ‘হুইটম্যানের প্রভাব নজরুল ইসলামের ওপর অত্যন্ত বেশি স্পষ্ট, দীপ্ত ও প্রত্যক্ষ। বিদ্রোহ, বিপ্লব ও যৌবনের আবেগ যেখানে তাঁর কাব্যের উপপাদ্য হয়েছে, সেখানেই তিনি হুইটম্যানকে অনুসরণ করেছেন নিঃসংকোচে। এ অনুসরণের মধ্যে গ্লানির কিছু নেই, কেননা এখানে ভাবগত একাত্মতা বোঝায়।’

‘সং অব মাইসেলফ’ ও ‘বিদ্রোহী’ দুই মানের এবং দুই মাপের কবিতা। ‘সং অব মাইসেলফ’ কবিতাটি ৫২টি খ্ণ্ড কবিতার সমন্বয়ে লেখা একটি মহাকাব্যিক ধাঁচের দীর্ঘ কবিতা। হুইটম্যান এখানে ব্যবহার করেছেন তাঁর অপেরা বা থিয়েটার দেখার অভিজ্ঞতা। সমালোচকেরা মনে করেন, অপেরা দেখার অভিজ্ঞতা না থাকলে হুইটম্যান ‘লিভস অব গ্রাস’ কখনোই লিখতে পারতেন না। এ ছাড়া হুইটম্যানের মনন ও সৃজনের পেছনে কারলাইল, ইমারসন, মেলভিল, ফুলার,সান্ড ও গ্যেটের ভূমিকা ছিল। এ ছাড়া তিনি মিসরীয় তত্ত্ববিদ্যা বা ইজিপটোলজির চর্চা করছিলেন ব্রডওয়ের ইজিপসিয়ান মিউজিয়ামে। সেই সঙ্গে ছাত্রের মতো শিখতে চেষ্টা করছিলেন জ্যোতির্বিদ্যা। এসব মিলে তার এক যে বৈশ্বিক ও মহাজাগতিকবোধ তৈরি হয়েছিল, তা-ই তাঁকে দিয়ে লিখিয়েছিল ‘লিভস অব গ্রাস’ কাব্যগ্রন্থটির কবিতাগুলো। বলতে গেলে এই একটি বই-ই তিনি সারা জীবন ধরে লিখেছেন। তবে এটা বলতেই হবে যে রচনার পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জীবনের এক মহাসংকট কাজ করেছে। সময়টা আব্রাহাম লিংকনের রাজনৈতিক অভিযাত্রার। দেশ দ্বিধাবিভক্ত। উত্তর-দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়েছে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের তাপ। লিংকন ঘোষণা করেছে, আমরা এক বিরাট আশঙ্কার মধ্যে বাস করছি। দুশ্চিন্তা ও ভয় আমাদের আগামী দিনকে মেঘাবৃত করে রেখেছে। প্রতিটি দিন যেন অনিবার্য ধ্বংসের দুঃসহ বার্তা নিয়ে হাজির হচ্ছে। এই সংকটের ভেতরেই দরকার যে সাহস ও আত্মবিশ্বাস, ১৮৫৫ হুইটম্যানের ‘লিভস অব গ্রাস’ মার্কিন জনগণকে শক্তি সাহস আর গণতন্ত্রের নতুন স্বর শুনিয়েছিল। সমসাময়িক ইমারসন বিপুলভাবে অভিনন্দিত করেছিলেন হুইটম্যানকে। যদিও গৃহযুদ্ধ রোধ করা যায়নি; ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সাল অবধি এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয় মার্কিনরা। তবে হুইটম্যানের এই কবিতা যত দিন গেছে, ততই উজ্জ্বল-প্রোজ্জ্বল হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতের বিচারে নজরুলের জীবন ও সময়টা ঔপনিবেশিক শাসকের করাল গ্রাসের নিচে। ভারতের স্বাধীনতার দাবি, আন্দোলন, কংগ্রেসের রাজনীতি, অন্যদিকে মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা, পাশাপাশি বিপ্লবী রাজনীতি—সবকিছু মিলে এক ঘূর্ণাবর্তে নজরুলও সেই আত্মশক্তির দিশা খুঁজেছিলেন এবং ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি লেখার ভেতর দিয়ে নিজের সেই আত্ম-আবিষ্কার ঘটেছিল। হুইটম্যানের মতোই নজরুল সাংবাদিকতা ও রাজনীতিসম্পৃক্ত ছিলেন। দুজনেরই কবি হিসেবে উত্থান ঘটেছিল দেশ-রাষ্ট্র-জনগণের চরম সংকটাপন্ন দশার ভেতর। ‘লিভস অব গ্রাস’ তথা এর সবচেয়ে প্রতিস্পর্ধী কবিতা ‘সং অব মাইসেলফ’ বা ‘আত্মসত্তার গান’ ও ‘বিদ্রোহী’ আসলে ব্যক্তিসত্তার উদাত্ত উন্মুক্ত প্রকাশের ভেতর দিয়ে সময়কেই মূলত ভাষা দিয়েছিল।

কবিতা দুটির কাঠামোর দিকে লক্ষ করা যাক। গোলাম মুরশিদের ভাষ্যমতে, ‘বিদ্রোহী’তে পাঁচটি তরঙ্গ দেখা যায়। প্রথমটি উন্নত মম শির, দ্বিতীয়টি সবকিছুর ভাঙচুর–বিনাশী প্রবণতা। তৃতীয়টিতে প্রেমময় প্রত্যয়ের দীপ্তি, চতুর্থতটিতে নানান পৌরাণিক আবহের মাধ্যমে বিশ্বরূপ দর্শন এবং পঞ্চম তরঙ্গে গণমানুষের মুক্তি। হুইটম্যানের ‘সং অব মাইসেলফ’ বা ‘আত্মসত্তার গান’কে সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। ৫২টি খণ্ডের ভেতরে ১-৫: মরমি চেতনায় প্রবেশ, ৬-১৬: আত্মার জাগরণ, ১৭-৩২: আত্মশুদ্ধিকরণ, ৩৩-৩৭: আত্মার অন্ধরাত্রিতে আলোক প্রজ্বালন, ৩৮-৪৩: ঐক্যসাধন যা আস্থা ও প্রেমের ভিত্তিতে নির্মিত, ৪৪-৪৯: অন্তর্দৃষ্টিলাভ, ৫০-৫২: মরমি চেতনার প্রতিষ্ঠা। মরমি চেতনায় প্রবেশ থেকে প্রতিষ্ঠার ভেতরে হুইটম্যান বস্তুজগতের প্রায় সবকিছু ছুঁয়েছেন, দেখতে দেখতে চলেছেন। ব্যষ্টি থেকে সমষ্টির বৈচিত্র্যময় অনুভব, পাপ-পুণ্য, জয়-পরাজয়সহ সমুদ্র-পাহাড়, সবকিছুকে উদ্‌যাপনের ভেতর দিয়ে নতুন জীবন-প্রদেশের উন্মোচন ঘটিয়েছেন তিনি, যা পরমভাবে মানবিক, চূড়ান্তরূপে গণতান্ত্রিক ও ভেদাভেদহীন। অন্যদিকে, নজরুল ব্যক্তির আত্ম-আবিষ্কারের মাধ্যমেই মহাসৃষ্টির দিকে ধাবিত, যার মূলে আছে বিদ্রোহ ও প্রেম, আদতে বিদ্রোহ প্রেমেরই আরেক দিক। ‘আমি’কে বহু বহুমাত্রায় ছড়িয়ে দিলেও নজরুলের ‘আমি’ মূলত একমাত্রিক। আর হুইটম্যান সেখানে তাঁর ‘আমি’-কে একমাত্রিক মনে হলেও তা দেখা গেছে কমপক্ষে পাঁচটি মাত্রায় স্পষ্ট হয়ে প্রকাশিত। তাঁর প্রথম ‘আমি’ কবির নিজের সত্তা, দ্বিতীয় ‘আমি’ হলো সামাজিক ও ঐহিত্যলগ্ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমগ্র জনগণ, তৃতীয় ‘আমি’ জৈবিকবোধতাড়িত মানবপ্রকৃতি, চতুর্থ ‘আমি’ সর্বজনের প্রতিনিধিত্বকারী এবং পঞ্চম ‘আমি’ হাজির হয়েছে বিশ্বের মানবপ্রজাতির প্রতীক হিসেবে। ফলে, হুইটম্যানের ‘সং অব মাইসেলফ’ বা ‘আত্মসত্তার গান’ বিস্তরে-ব্যাপ্তিতে ‘সং অব আমেরিকা’, ‘এপিক অব আমেরিকা’ বা ‘বাইবেল অব ডেমোক্রেসি’ হওয়ার পরও বিশ্বের তাবৎ মানব সত্তার অস্তিত্বকে উদ্‌যাপনের প্রেরণা হয়ে উঠেছে। এখানে বাইবেলকে তিনি ব্যবহার করেছেন, কিন্তু প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসকে মানতে চাননি। অন্যদিকে, নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ ভারতীয় পুরাণ, ইসলামি উপকরণ এবং গ্রেকো-রোমান পুরাণের সমন্বয়ে ব্যক্তির, সর্বোপরি নজরুলের, নিজের আত্ম-আবিষ্কারের প্রচল ঘোষণাকে উচ্চকিত করে তুলেছে। আর হুইটম্যানের ‘আমি’ যেন দান্তের ‘দিভাইন কমেদিয়া’ থেকে উঠে এসে নিকোস কাজানজাকিসের উপন্যাস ‘জোরবা দ্য গ্রিক’-এর জোরবা হতেও চেয়েছে।

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন