ধর্মগ্রন্থের মতো হেঁয়ালিপূর্ণ ভাষায় লেখা ট্র্যাকট্যাটাস পড়ে ইউরোপের জাঁদরেল তাত্ত্বিকেরা কিছুটা বুঝেছেন, কিছুটা বোঝেননি। তাঁদের মনে নানা প্রশ্ন। সেগুলোর জবাব পেতে হবে। জগৎ ও ভাষার মধ্যে সম্পর্ক কী, কোথায় বাক্যের শেষ আর দুনিয়াদারির শুরু, শব্দের চকচকে পিঠের ওপর দিয়ে কীভাবে পিছলে সরে যায় অর্থ—চারপাশ থেকে এ রকম শত প্রশ্ন আসতে লাগল। কিন্তু ৩৮ বছর বয়সী দার্শনিক যা করলেন, সেটার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি চেয়ার ঘুরিয়ে সবার দিকে পিঠ দিয়ে বসলেন এবং পকেট থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বই (অবশ্যই জার্মান অনুবাদ) বের করে টানা দেড় ঘণ্টা সেখান থেকে উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করে গেলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে, পাঠ শেষে তিনি সশব্দে বই বন্ধ করে উঠে হন হন করে হলরুম থেকে বেরিয়ে যান।

ভাষা ও লজিকবিষয়ক দার্শনিক ভিটগেনস্টাইনের এই উদ্ভট আচরণ অনেক মুখরোচক গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। কেন তিনি সেদিন ও রকম করেছিলেন, এ নিয়ে চালু আছে নানা ব্যাখ্যা। ভিয়েনা সার্কেলের নেতৃস্থানীয় দার্শনিক রুডলফ কারনাপ নাকি ওই ঘটনার পরপরই বলেছিলেন, ‘এ থেকে স্পষ্ট হয়েছে, উনি আমাদের কেউ নন।’ অর্থাৎ কারনাপ বোঝাতে চেয়েছেন, তাঁদের মোহভঙ্গ হয়েছে, ভিটগেনস্টাইন লজিক্যাল পজিটিভিস্ট চক্রের কেউ নন।

কিন্তু কেন রবীন্দ্রনাথ? অনেকে বলে থাকেন, ভিটগেনস্টাইন ওই সভায় আচমকা রবীন্দ্রনাথ পাঠ করেছিলেন এটা বোঝাতে যে ট্র্যাকট্যাটাস বইয়ে তিনি যা বলেছেন, তার চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তিনি যা বলেননি। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ এখানে অজুহাত মাত্র। একটা অপ্রাসঙ্গিকতার অসিলা।

এ নিয়ে অনেকে ব্যাখ্যাই দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এত কবি থাকতে রবীন্দ্রনাথ কেন? তিনি সেখানে সর্বোচ্চ অপর ছিলেন বলে, নাকি ভিটগেনস্টাইন রবীন্দ্রনাথ পড়ছিলেন রবীন্দ্রনাথ পড়ার জন্যই?

ওই সভায় রবীন্দ্রনাথ দিয়ে ভিটগেনস্টাইন রবীন্দ্রনাথই বোঝাতে চেয়েছেন। গত শতকের বিশের দশকের শেষভাগে ইউরোপের দেশগুলোয়, বিশেষ করে অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে রবীন্দ্রনাথ ততটা অপ্রাসঙ্গিক ছিলেন না। এ ঘটনার এক বছর আগে ১৯২৬ সালে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো জার্মানি সফর করে গেছেন। সেই সফরে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে এবং দুজনের বিখ্যাত সিরিজ কথোপকথনের প্রথমটি সম্পন্ন হয়েছে। ওই সময় রবীন্দ্রনাথের বইগুলো ইংরেজি থেকে জার্মান ভাষায় বেশ ভালোই অনূদিত হচ্ছিল এবং ১৪ বছর আগে নোবেল পুরস্কারজয়ী এক ভারতীয় ‘সন্ত কবি’ হিসেবে তিনি জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার সাহিত্যিক মহলে খুব যে অপরিচিত নাম ছিলেন, তেমন নয়।

ওই সভায় খ্যাপাটে এই দার্শনিকের রবীন্দ্রপাঠের উল্লেখ বিভিন্নজনের লেখায় পাওয়া যায়। তবে কোথাও উল্লেখ নেই, ভিটগেনস্টাইন রবির কোন রচনাটি পাঠ করেছিলেন। একাধিক উল্লেখে দেখা যায়, সেদিন যা পাঠ করা হয়েছিল, সেটি ছিল এই বাঙালি কবির একটি কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু কোন কাব্যগ্রন্থ? কোন কবিতা? সেটি উপস্থিত অপ্রস্তুত দার্শনিকদের কারও মনে থাকার কথা নয়। ফলে জানার উপায় নেই।

এটুকু নিশ্চিত জানা যায়, ভিটগেনস্টাইনের কাছে রবীন্দ্রনাথ কোনো তাৎক্ষণিক খেয়াল ছিলেন না। তাঁর পকেটে সার্বক্ষণিকভাবে রবীন্দ্রনাথ থাকত। এই বাঙালি কবিকে তিনি পাঠ করতে শুরু করেছেন তারও বেশ কিছুদিন আগে থেকে এবং গভীর অভিনিবেশে।

এ ঘটনারও ছয় বছর আগে ১৯২১ সালে বন্ধুদের কাছে লেখা চিঠি থেকে বোঝা যায়, ভিটগেনস্টাইন রবিপাঠ শুরু করেছেন এবং রবীন্দ্রনাথের একটি বিশেষ রচনা নিয়ে তাঁকে বিভোর হয়ে উঠতে দেখা গেছে। সেই রচনাটি রবীন্দ্রনাথের ১৯১০ সালে লেখা নাটক রাজা

১৯২১ সালের ২৩ অক্টোবর বন্ধু-স্থপতি পল এঙ্গেলমানের কাছে লেখা এক চিঠিতে ভিটগেনস্টাইন রাজা নাটকে রবীন্দ্রনাথের মূল বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। চিঠির আলোচনা থেকে বোঝা যায়, এঙ্গেলমানেরও নাটকটি পড়া ছিল। ভিটগেনস্টাইনের অন্যতম জীবনীকার রে মংক তাঁর দ্য ডিউটি অব জিনিয়াস বইয়ে এই চিঠির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছেন, ১৯২১ সালে ‘রবীন্দ্রনাথ যখন জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় খ্যাতির শিখরে’, তখন ভিটগেনস্টাইন জার্মান ভাষায় অনূদিত রাজা নাটকটি পড়েন এবং সে সময়ই তিনি এঙ্গেলমানকে চিঠি লিখে জানান, ‘দারুণ প্রজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও’ নাটকটি তাঁর মধ্যে ‘গভীর ছাপ ফেলতে’ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি ‘মুগ্ধ’ হননি। এঙ্গেলমানকে ভিটগেনস্টাইন লিখেছেন—

‘আমার কাছে মনে হয়েছে, যেন পুরো প্রজ্ঞাটি এসেছে এক পাষাণ কারাগার থেকে। অবাক হব না যদি জানি, তাঁর (রবীন্দ্রনাথের) নিজের খাঁটি অনুভবের ভাঁড়ার থেকে নয়, এ জিনিস তিনি পেয়েছেন পরোক্ষভাবে পাঠ করে এবং শুনে (ঠিক যেমন করে আমাদের বেশির ভাগ খ্রিষ্টানের প্রজ্ঞা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ ঘটে)। আমি সম্ভবত তাঁর ভঙ্গিটা ধরতে পারিনি। কেন যেন মনে হলো, না—এমন কারও কথা শুনছি, যার মধ্যে সত্যের দর্শনলাভ ঘটেছে। (যেমনটা ধরা যাক, ইবসেনে ঘটে)। এমনও হতে পারে, অনুবাদের কারণে এখানে এক দুর্লঙ্ঘ ফাটল তৈরি হয়েছে, যা আমি ডিঙিয়ে যেতে পারিনি। আগাগোড়া আগ্রহ নিয়ে পড়লাম, কই মনে তো দাগ কাটল না। এ অবশ্য ভালো আলামত নয়। কেননা, এটা এমন এক প্রসঙ্গ, যা আমার মনে ধরার কথা। তাহলে কি আমি ভেতরে-ভেতরে এতটাই নির্জীব হয়ে গেছি যে কিছুই আর স্পর্শ করছে না? হতে পারে, নিঃসন্দেহে। আবারও বলি, এখানে একবারও মনে হলো না একটা কোনো নাটক ঘটছে। রূপকটা যেনবা কোনোক্রমে বিমূর্তভাবে আঁচ করতে হয়।’

এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নভেম্বরে বন্ধু লুডভিগ হানসেলকে লেখা আরেক চিঠিতে উল্লসিত ভিটগেনস্টাইন জানাচ্ছেন, রাজা তিনি আবার পড়েছেন এবং ‘এবার অনেক বেশি আনন্দ পেয়েছেন’। চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, ‘এতে সত্যি বিশাল কিছু আছে।’ জীবনীকার রে মংক বলছেন, এরপর রাজা নাটকটি ভিটগেনস্টাইনের প্রিয় বইগুলোর একটিতে পরিণত হয় এবং বন্ধুমহলে সেটা জনে জনে পড়তে ধার দেওয়া তাঁর বাতিক হয়ে দাঁড়ায়। রে মংক বলছেন, ভিটগেনস্টাইন নন্দনতত্ত্ব নিয়ে তাঁর বক্তৃতাগুলো তৈরির সময় তাঁর ছাত্রবন্ধু ইয়োরিক স্মাইথিয়েসের সঙ্গে রাজা নাটকটি বারবার পড়তে শুরু করেন। তবে এবার আর জার্মান অনুবাদে নয়, রবীন্দ্রনাথের নিজের করা ইংরেজি অনুবাদে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল দ্য কিং অব দ্য ডার্ক চেম্বার। ১৯১০ সালে লেখা এ নাটকের রবীন্দ্রনাথকৃত ইংরেজি অনুবাদ ১৯১৪ সালে বেরিয়েছিল তখনকার দিনের নামকরা প্রকাশনা সংস্থা নিউইয়র্কের ম্যাকমিলান কোম্পানি থেকে। নিজের সাহিত্যকর্মের অনুবাদ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের যে বিশেষ অস্বস্তি ও অসন্তোষ ছিল, তা অজানা নয়। ফলে একসময় নিজের লেখার ইংরেজি অনুবাদ নিজেই করে ফেলার পেছনে তিনি বেশ সময় ব্যয় করতে শুরু করেন, বিশেষ করে গীতাঞ্জলির অনুবাদকর্ম তাঁকে নোবেল পুরস্কার এনে দেওয়ার পর ইংরেজি ভাষায় ব্যুৎপত্তি নিয়ে রবীন্দ্রনাথের বিনয়ী কুণ্ঠা অনেকটাই কেটে গিয়েছিল।

default-image

রে মংক আরেকটি গুরুতর তথ্য দিয়েছেন। রাজা নাটক নিয়ে ভিটগেনস্টাইনের ঘোর এত দূর গিয়েছিল যে তিনি ইয়োরিকের সঙ্গে যৌথভাবে নাটকটি পুনর্বার ইংরেজিতে অনুবাদ করা শুরু করেছিলেন। মংক জানাচ্ছেন, ইয়োরিকের কাগজপত্রের মধ্যে টাইপ করা একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়, যেটি আসলে রাজা নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক। পাণ্ডুলিপির ওপরে লেখা—

‘THE KING OF THE DARK CHAMBER by Rabindranath Tagor [sic] translated from the English of Rabindranath Tagor into English used by L. Wittgenstein and Yorick Smythies, by L. Wittgenstein and Yorick Smythies.’

এ থেকে বোঝা যায়, ভিটগেনস্টাইনকে রাজা নাটক পেয়ে বসেছিল। না হলে রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি অনুবাদ থেকে আবার ইংরেজিতেই কেন ‘পুনরানুবাদ’ করতে হবে? রে মংকের মতে, এই খ্যাপামিটা ভিটগেনস্টাইন করেছিলেন ভাষান্তরের কারণে তৈরি হওয়া ‘ফাটল’ মোচনে এবং টেক্সটের ওপর জমে থাকা ‘তুষার গলিয়ে ফেলতে’।

কীভাবে সাধিত হয়েছিল এই পুনরানুবাদ? ভিটগেনস্টাইন ও ইয়োরিক রবীন্দ্রনাথের ব্যবহার করা অচল, সাবেকি, কাব্যিক শব্দগুলো সরিয়ে সমকালীন চালু শব্দ ও উপমা বসিয়েছেন। ফলে রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘চেম্বার’ শব্দটির বদলে ভিটগেনস্টাইন ‘রুম’ শব্দটি এনেছেন (কেবল বইয়ের শিরোনামে ছাড়া)। রবীন্দ্রনাথ যেখানে লিখেছেন, ‘He has no dearth of rooms’, সেটি কেটে দিয়ে ভিটগেনস্টাইনরা লিখলেন, ‘He’s not short of rooms’।

কিন্তু রাজা নিয়ে ভিটগেনস্টাইনের এই মাতামাতির হেতু কী? সে কি শুধুই সাহিত্যের নন্দনতত্ত্ব বা ধর্ম ও ঈশ্বর নিয়ে ভিটগেনস্টাইনের অবসেশন?

দর্শনের অধ্যাপক চারিথা হেরাথ মনে করেন, শেষ দিকে ভিটগেনস্টাইনের দর্শনে যে বিশাল বাঁক–বদল ঘটেছে, এর পেছনে রাজা নাটকের একটা পরোক্ষ ভূমিকা থাকলেও থাকতে পারে। ভিটগেনস্টাইনের প্রথম জীবনে লেখা ট্র্যাকট্যাটাস এবং মৃত্যুর অব্যবহিত পর বের হওয়া ফিলোসফিক্যাল ইনভেস্টিগেশনস এমনই বিপরীত মেরুর যে একটি বইকে আরেকটির ‘খণ্ডন’ (রিফিউটেশন) হিসেবে গণ্য করা যায়। ট্র্যাকট্যাটাস-এ ভিটগেনস্টাইন বাক্য বা ভাষা আর জগতের মধ্যে সম্পর্ক আবিষ্কারে নেমেছিলেন এবং এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন যে ভাষার সীমাবদ্ধতাই আমাদের জগতের সীমাবদ্ধতা। কিন্তু ফিলোসফিক্যাল ইনভেস্টিগেশনস-এ তিনি এই মৌলিক সিদ্ধান্তকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন, ‘ভাষা, বাক্য বা শব্দের ভেতরে অর্থ নিহিত থাকে না, অর্থের উৎপত্তি হয় বাক্যের বাইরে, মানুষে মানুষে লেনদেনের ভেতরে। ভাষা যেন একটা যৌগিক ঐকমত্য।’

ফিলোসফিক্যাল ইনভেস্টিগেশনস-এ এমন অনেক বিষয়ের অবতারণা ঘটেছে, যেগুলোর সঙ্গে রাজা নাটকের মূল ভাবনাগুলোর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। যে অদৃশ্য রাজাকে রাজ্যের প্রজারা কেউ কখনো চোখে দেখেনি, যার উপস্থিতি অনুমান করে নিতে হয় রাজ্যে বহাল নিয়মশৃঙ্খলা থেকে, যে রাজা প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত কল্পনায় আলাদাভাবে অঙ্কিত হন, প্রথম পাঠে তিনি ঈশ্বরের রূপক হিসেবেই হাজির হবেন বটে। কিন্তু ভিটগেনস্টাইন যে সেটিকেই ‘ব্যথা ও ব্যক্তিগত ভাষা’ নিয়ে তাঁর যুগান্তকারী তত্ত্বের রূপক হিসেবে গ্রহণ করেননি, কে বলতে পারে?

ভিটগেনস্টাইনের দ্বিতীয় এবং মরণোত্তর বই ফিলোসফিক্যাল ইনভেস্টিগেশনসকে পাশে রেখে কোনো পাঠক যদি রাজা নাটকটি আবার পড়েন, নিঃসন্দেহে এ নাটকের অনেক রূপকই তাঁর কাছে পাল্টে যেতে থাকবে। হয়তো ভিটগেনস্টাইনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো ঘটেছিল। রাজা নাটকের অন্ধকার কক্ষ এবং এক অদৃশ্য, সর্বভূতেষু রাজার রূপক এই দার্শনিককে ভাষা ও অর্থের সম্পর্কের নতুন বিন্যাসের দিকে নিয়ে গিয়ে থাকবে।

লুডভিগ ভিটগেনস্টাইন

default-image

অস্ট্রিয়ান দার্শনিক লুডভিগ ভিটগেনস্টাইনকে (১৮৮৯—১৯৫১) অনেকে বিশ শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক মনে করেন। উড়োজাহাজ বিদ্যায় পড়াশোনা করতে গিয়ে তিনি গণিতের দর্শনে আকৃষ্ট হন এবং র্বাট্রান্ড রাসেলের ছাত্র হিসেবে কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে পড়াশোনা করেন। জীবদ্দশায় একটিই বই লিখেছিলেন—ট্র্যাকট্যাটাস লজিকো-ফিলোসফিকাস। এ বইয়ের বিষয়বস্তু, ভাষার সঙ্গে জগতের সম্পর্ক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈনিক হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে বসে এ বইয়ের নোট নিয়েছিলেন। পরে যুদ্ধের ফাঁকে ছুটিতে বই লিখে শেষ করেন। দ্বিতীয় বই ফিলোসফিক্যাল ইনভেস্টিগেশনস বের হয় তাঁর মৃত্যুর দুই বছর পর ১৯৫৩ সালে। ভিটগেনস্টাইন যুক্তিবিদ্যা, গণিত ও ভাষার দর্শন নিয়ে কাজ করেছেন। অসামাজিক, আত্মহত্যাপ্রবণ এবং রগচটা হিসেবে দুর্নাম ছিল তাঁর। অনেকের চোখে তিনি ছিলেন এক পাগল-প্রতিভা।

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন