নিজের প্রশংসা শুনতে কে না ভালোবাসে! আর তা যদি হয় নিজের সৃষ্টিকর্মের, তাহলে তো সোনায় সোহাগা। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও রম্যলেখক সৈয়দ মুজতবা আলী। নিজেকে নিয়ে ঠাট্টা–রসিকতা করতে তাঁর জুড়ি ছিল না। আদতে তিনি খুব সুশ্রী হলেও নিজেকে ‘খট্টাশ’ বলতেও দ্বিধা করতেন না। 

নিজের গায়ের রঙের বর্ণনা তিনি দিয়েছেন এভাবে, ‘কালো হলেও চলত, তা সে মিশই হোক না। কিন্তু এ যে বাবা খাজা রং! কালো কালির ওপর পিলা মসনে। তার ওপর কলাইয়ের ডালের পিছলে পড়া, না-সবুজ, না-নীল, না কিছু।’

এ তো গেল সৈয়দ মুজতবা আলীর নিজের কথা। এবার তাঁর লেখালেখির প্রসঙ্গে আসা যাক। একবার একটা পত্রিকায় মুজতবা আলীর বই দেশে বিদেশে–এর দারুণ এক পাঠপ্রতিক্রিয়া লিখলেন রাধাপ্রসাদ গুপ্ত। লেখায় মুজতবা আলী ও তাঁর গদ্যের ভূয়সী প্রশংসা করলেন তিনি। সবাই উল্লসিত লেখাটি পড়ে। কিন্তু গোল বাধল অন্যত্র।

ওই লেখা যখন সৈয়দ মুজতবা আলীর হাতে পৌঁছাল, পড়ে খানিকটা ভ্রু কোঁচকালেন তিনি। শুধু তা–ই নয়, রাধাপ্রসাদকে দেশ বিদেশে বইটা আবার পাঠালেন। 

সৈয়দ মুজতবা আলী রাধাপ্রসাদ গুপ্তকে ডাকতেন ‘শাটল মামু’ বলে। তো মুজতবার সেই ‘শাটল মামু’ রাধাপ্রসাদ, যে বইয়ের সমালোচনা তিনি লিখেছেন, সেই বইটা আবার তাঁর কাছেই পাঠানোর হেতু কী, এটাই বুঝতে পারছিলেন না তিনি। 

সৈয়দ মুজতবা আলীও জানতেন এমন ঘটনা ঘটবে। তাই রাধাপ্রসাদকে দেশে বিদেশে পাঠানোর সময় বইয়ের সঙ্গে একটা চিরকুটও দিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেই চিরকুটে রসের রাজা লিখেছিলেন, ‘শাটল মামু, তুমি আমার বইয়ের যে রকম বেশরম প্রশংসা করেছ, তা থেকে পরিষ্কার মালুম হচ্ছে, তুমি আমার লেখাটা পড়োনি। যাতে ভালো করে পড়তে পারো সে জন্য এই বইটা দিলাম।’

সূত্র: সৈয়দ মুজতবা আলী স্মারকগ্রন্থ, তারাপদ রায়, 

পৃ. ২৪-২৫

●গ্রন্থনা: বাশিরুল আমিন