সরদার ফজলুল করিম দেখতে ছিলেন ছোটখাটো। তাই যখন পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ‘কী করেন?’ তিনি জানালেন, ‘আমি কলেজে পড়ি, এখানে বেড়াতে এসেছি।’ অনেকক্ষণ ধরে পুলিশ তাকে আগাগোড়া পরখ করল, তারপর বলল, ‘না, এ তো সেই ব্যক্তি নয়। আমরা পূর্ববঙ্গ থেকে আসা বিশাল এক সরদারকে খুঁজছি।’ আসলে পুলিশ ভাবছিল, যেহেতু নামের আগে সরদার আছে, তাহলে তো দেখতে পাঞ্জাবি শিখদের মতো বড়সড় হবে। তা ছাড়া একজন রাজনৈতিক নেতা, যিনি কিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, তিনি আকারে এত ছোট হন কী করে! সে যাত্রায় নিজের জীর্ণ দেহের কারণে এভাবেই যমের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন সরদার ফজলুল করিম।

আত্মগোপনে থাকাকালে সহজেই অন্যদের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন তিনি। মজিদ ছদ্মনামে তখন তিনি নরসিংদীর চালাকচরে থাকেন। তাঁর চেহারা দেখে কারও বোঝার উপায় নেই যে দর্শনে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া সরদার ফজলুল করিম তিনি। ছদ্মনাম আর কৃষকের বেশে মফস্​সলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। একদিন কমিউনিস্টদের এক সমাবেশে যাওয়ার সময় তাঁর এক তরুণ সহযাত্রী জিজ্ঞেস করলেন, ‘মজিদ মিয়া, আপনি কি ঢাকা শহর চেনেন?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ। কিছুটা চিনি।’ তখন সেই তরুণ বললেন, ‘সেখানে আমাদের এক বড় নেতা আছেন, আপনি জানেন? তাঁর নাম সরদার ফজলুল করিম।’ 

তখন সরদার সাহেব বললেন, ‘হ্যাঁ, নাম শুনেছি, কিন্তু দেখি নাই।’

সূত্র: সরদার ফজলুল করিমের আত্মকথা আমি সরদার বলছি

● গ্রন্থনা: বাশিরুল আমিন