আমাদের জন্য এটি আকর্ষণীয় তথ্য যে কাজী গিয়াসউদ্দিন ঢাকা আর্ট কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব ফাইন আর্টস ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৭০ সালে। অর্থাৎ আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রস্তুতিপর্বের বছরগুলোয় তিনি ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্র ছিলেন।

আমরা জানি, তখন পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে এই শিল্পশিক্ষার স্থান হয়ে উঠেছিল সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ-সংগ্রামের প্রধান এক কেন্দ্র। কাজী গিয়াসউদ্দিন সে সময় সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন সক্রিয়ভাবে।

একাত্তর সালে আমাদের মুক্তিসংগ্রামের সময়েও সক্রিয় ছিলেন কাজী গিয়াসউদ্দিন। কলকাতায় কামরুল হাসানের নেতৃত্বে শিল্পীরা যে সাংস্কৃতিক জাগরণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করে চলছিলেন, সেখানে তিনি কাজ করেছেন। ছবি এঁকেছেন মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে এবং সহায়তা তহবিল গড়তে। অংশ নিয়েছেন বিড়লা একাডেমির প্রদর্শনীতে। সেখানে বাংলাদেশের ১৭ জন শিল্পীর ৬৬টি ছবি প্রদর্শিত হয়েছিল। কামরুল হাসান, দেবদাস চক্রবর্তী, নিতুন কুন্ডু, প্রাণেশ মণ্ডল প্রমুখের ছবিসহ কাজী গিয়াসউদ্দিনের ১০-১১টি ছবি ছিল। মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের নিয়ে জল ও তেলরঙের ছবি ছিল সেসব। সেই সময় কলকাতায় কিছুদিন ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী মনু পারেখ ও মাধবী পারেখের স্টুডিওতে আশ্রয় পেয়েছিলেন কাজী গিয়াসউদ্দিন।

ঢাকা আর্ট কলেজ থেকে পাস করে রশিদ চৌধুরীর আমন্ত্রণে চট্টগ্রামে এমএফএ (মাস্টার্স অব ফাইন আর্টস) ক্লাসে ভর্তি হন কাজী গিয়াসউদ্দিন। ঢাকায় তখন এই কোর্স চালু হয়নি। স্বাধীনতার পরপর ঢাকা আর্ট কলেজে শিক্ষকতার চাকরি পেয়ে যান।

এর পাশাপাশি চট্টগ্রামের এমএফএ শিক্ষা অব্যাহত থাকে এবং ১৯৭২ সালে ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

ষাটের দশকের শেষ কয়েক বছর ঢাকায়, একাত্তরে কলকাতা এবং পরবর্তী এক বছর ঢাকা-চট্টগ্রাম মিলিয়ে কাজী গিয়াসউদ্দিনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এই সময়গুলো। দেশের মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভেতরে নানামুখী দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও আনন্দ-বেদনাকে প্রত্যক্ষ করেছেন। আশা-হতাশার এক গভীর জীবনবোধ তৈরি হয়েছে তাঁর মধ্যে। সেসবই পরবর্তীকালে আমরা দেখি তাঁর নানা মাধ্যমের চিত্রকলার মধ্যে।

১৯৭৫ সালে শিল্পকলায় উচ্চতর শিক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকারের নির্বাচনে টোকিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে দেড় বছর রিসার্চ স্টুডেন্ট হিসেবে কাজ করেন কাজী গিয়াসউদ্দিন। পরে ১৯৭৯ সালে টোকিও ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস থেকে দ্বিতীয় এমএফএ ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁর ছবি আঁকা ও ছবি প্রদর্শনীর কাজ চলতে থাকে। এ সময় বাংলাদেশে তাঁর ছবির কোনো প্রদর্শনী না হলেও জাপানের টোকিওসহ নানা শহরে এ শিল্পীর একক ও দলীয় প্রদর্শনী হয়েছে।

আরও পরে ১৯৮৫ সালে টোকিওর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ফাইন আর্টস থেকে কাজী গিয়াসউদ্দিন পিএইচডি ডিগ্রি পান। জাপানে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম এই কোর্স চালু করা হয়েছিল। দুজন জাপানি শিল্পী ও কাজী গিয়াসউদ্দিন প্রথম সুযোগ পেয়েছিলেন কোর্সটিতে। অন্য দুজন পিএইচডি শেষ করতে পারেননি। তবে নিজের একাগ্রতা ধরে রেখে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় কেবল বাংলাদেশিদের মধ্যেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম চারুকলায় পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন কাজী গিয়াসউদ্দিন। এর পরের যাত্রাপথ তাঁর জন্য শুরু থেকেই যে মসৃণ ছিল, তা নয়।

নিজের প্রতিভাগুণে দুর্গম পথ পেরিয়ে কাজী গিয়াসউদ্দিন জাপানে প্রতিষ্ঠিত একজন শিল্পীর স্বীকৃতি লাভ করেন।

প্রায় পাঁচ দশক হতে চললেও শিল্পী হিসেবে তাঁর ছবিতে বাংলার প্রাণের দেখা মেলে অনেক বেশি। ফলে জাপান যে পুরোপুরি তাঁকে আপন সত্তা থেকে বের করে নিয়ে গেছে, তা নয়। এখানেই বোধ হয় সে রকম এক প্রশ্নের উত্তর আমরা পেতে পারি যে কেন তাঁর বিমূর্ত ছবি বাংলাদেশেও এতটা জনপ্রিয়।

জাপানে কাজী গিয়াসউদ্দিনের শিল্পভাবনা সেখানকার সমকালীন তিন শিল্পী গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন বলে সম্প্রতি তিনি আমাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন।

তাঁরা হলেন আসো সাবোরো, ইনোকুমা গেইনইচিরো ও নোমিইয়ামা গেওজি। শেষের জন কাজী গিয়াসউদ্দিনের সরাসরি শিক্ষক। তিনি এখনো সক্রিয়, যদিও বয়স ১০২ বছর। কাজী গিয়াসউদ্দিন জানালেন, নোমিইয়ামা গেওজি ছবি আঁকেন এবং প্রদর্শনীও করেন।

বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে কাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন বেশি—এ প্রশ্নের উত্তরে কাজী গিয়াসউদ্দিন জানান, তাঁর প্রিয় শিল্পী কামরুল হাসান। তবে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ কিবরিয়ার কাজে। মোহাম্মদ কিবরিয়া যখন ঢাকা আর্ট কলেজ হোস্টেলের দায়িত্বে ছিলেন, তখন পাশের ঘরে থাকতেন কাজী গিয়াসউদ্দিন। সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে গিয়াসউদ্দিন বলেন, তাঁরা গল্প করতেন; শিল্পকলার নানা দিক ও নানান বিষয় নিয়ে আলাপ হতো তখন। সে সময় জাপান ও জাপানের শিল্পী ও শিল্পকলা নিয়ে অনেক কথা শুনেছিলেন কিবরিয়া স্যারের কাছ থেকে। এভাবেই জাপানে শিল্পশিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সরকারি বৃত্তি নিয়ে জাপানেই গিয়েছিলেন।

তবে এরও আগে শিল্পী হয়ে ওঠার পরিক্রমায় বাল্যকাল থেকে কাজী গিয়াসউদ্দিনকে অনুপ্রাণিত করেছেন আমাদের গ্রামবাংলার মৃৎশিল্পীরা। ছোটবেলায় কুমারপাড়ায় গিয়ে অবাক হয়ে দেখতেন তাঁদের কাজ এবং মনে মনে সে রকম শিল্পী হয়ে ওঠার বাসনা পোষণ করতেন। মৃৎশিল্পের প্রতি তাঁর আগ্রহ এখনো অটুট। জাপানে মৃৎশিল্পীদের মধ্যে অনেকেই আছেন, দেশের বাইরেও যাঁরা সুপরিচিত। কাজী গিয়াসউদ্দিন মনে করেন, তাঁর ছবিতে রঙের যে পরিমিতিবোধ, তা তিনি শিখেছেন জাপানি মৃৎশিল্পীদের কাছ থেকেই। ফলে এখনো সুযোগ হলে তাঁদের প্রদর্শনী তিনি দেখতে যান এবং অনুপ্রাণিত হন।

কাজী গিয়াসউদ্দিন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন যে তিনি আজীবন শুধু বাস্তবধর্মী ছবিই আঁকবেন। বিমূর্ত চিত্রকলার দিকে পা বাড়াবেন না কোনো দিনই। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সেই তিনিই এগিয়ে গেলেন বিমূর্ত শিল্পকলার দিকে।

কেন এই প্রতিজ্ঞাভঙ্গ? চট্টগ্রামে তখন শিল্পী রশিদ চৌধুরীর ছাত্র হিসেবে কাজ করেন কাজী গিয়াসউদ্দিন। একদিন তাঁর আঁকা ছবি দেখে রশিদ চৌধুরী বললেন, ‘দেখো, পুরো বাস্তবধর্মী কাজ করার দরকার নেই। ভেঙে কাজ করো। শক্ত লাগছে দেখতে, মুখটা রং দিয়ে ঢেকে দাও। নরম করো...। ’ এই কথা মেনে কাজ শুরু করলেন তিনি। অন্যদিকে, মোহাম্মদ কিবরিয়ার কাজ দেখেছেন। তাঁর কাছ থেকে শিখেছেন এবং গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন তাঁর বিমূর্ত চিত্রকলা দেখে।

প্রায় একই সময়ে পল ক্লির একটি ছোট বইয়ে কাজী গিয়াসউদ্দিন পড়েছিলেন, ‘ভালো ছবি আঁকতে পারা আর সৃজনশীল হওয়া এক নয়।’ রশিদ চৌধুরী আর মোহাম্মদ কিবরিয়ার কথা শুনে ও কাজ দেখে এবং পল ক্লির সেই তত্ত্ব জেনে নিজের চিত্রকলার নতুন জগৎ তৈরি করতে উঠেপড়ে লেগে যান তিনি। অনেক পরিশ্রম করেন। এভাবেই নিজস্ব চিত্রকলার জগৎ তিনি গড়ে তুলেছেন, অর্জন করেছেন স্বকীয়তা, যেটা এখন দেশে-বিদেশে বিশেষভাবে সমাদৃত।

বেঙ্গল শিল্পালয়ে চলছে শিল্পী কাজী গিয়াসউদ্দিনের একক চিত্র প্রদর্শনী ‘নেচার অব ক্রিয়েশন’। ২৮ অক্টোবর শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি চলবে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত।

কাজী গিয়াসউদ্দিন স্বীকার করেন, তাঁর চিত্রকলায়, বিশেষ করে জলরঙের কাজের ওপর জাপানের ঐতিহ্যবাহী নিহঙ্গা চিত্রকলার প্রভাব রয়েছে। আবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়ে জাপানি শিল্পীরা (তেনশিন ওকাকুরা, কাম্পো আরাই এবং আরও কিছুটা পরে তাইকান ইয়োকোইয়ামা প্রমুখ) শান্তিনিকেতনে এসে যা শিখে গিয়েছিলেন, তার ভিত্তিতে ফিরে গিয়ে নিহঙ্গা চিত্রকলা শুরু করেছিলেন তাঁরা। নিহঙ্গা ছবি আঁকার রীতিকে অনেকটা হাইকু কবিতার মতো বলা যায়। সেখানে যে সবকিছু একেবারে পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে, তা নয়; আবার একেবারে বিমূর্তও নয় সেটা। ছবির পারিপার্শ্বিকতা আমাদের বলে দেয়, দৃশ্যপট হচ্ছে জাপানের। তবে এরও আগে জাপানে ছাপচিত্রের যে বলিষ্ঠ উপস্থিতি দেশের সীমানা পার হয়ে এমনকি সুদূর ইউরোপে ভ্যান গঘসহ আরও অনেক নেতৃস্থানীয় শিল্পীকে প্রভাবিত করেছিল, সেই ছাপচিত্রের ধারা থেকে বের হয়ে এসে নিহঙ্গার অবস্থান যেন মাঝামাঝি পর্যায়ে। দর্শক ছবি দেখে নিজের মতো করে তাঁর কল্পনার ডালি সাজিয়ে নিতে পারেন।

কাজী গিয়াসউদ্দিনের বিমূর্ত ধারার ছবিতেও অভিজ্ঞ দর্শকের জন্য সেই সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেখানে জাপান নয়, বরং আমাদের গ্রামবাংলা উপস্থিত। প্রচণ্ড বর্ষণ শেষ হওয়ার পর চারদিকের যে বিশুদ্ধতা, গিয়াসউদ্দিনের ছবিতে দেখা যায় তার বলিষ্ঠ উপস্থিতি। জাপানে বসবাসের ব্যাপ্তি প্রায় পাঁচ দশক হতে চললেও শিল্পী হিসেবে তাঁর ছবিতে বাংলার প্রাণের দেখা মেলে অনেক বেশি। ফলে জাপান যে পুরোপুরি তাঁকে আপন সত্তা থেকে বের করে নিয়ে গেছে, তা নয়। এখানেই বোধ হয় সে রকম এক প্রশ্নের উত্তর আমরা পেতে পারি যে কেন তাঁর বিমূর্ত ছবি বাংলাদেশেও এতটা জনপ্রিয়।

কাজী গিয়াসউদ্দিনের সপ্তম একক চিত্রকলা প্রদর্শনী হচ্ছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে। বিশ্বজুড়ে কোভিড মহামারি পরিস্থিতি যখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে, এমন এক আশা ও হতাশার দোলাচলের সময়ে হচ্ছে প্রদর্শনীটি। কাজী গিয়াসউদ্দিনের জলরং, বর্ণাঢ্য কোলাজ আর তেলরঙের চিত্রকলাগুলো দেখে সময়ের সঙ্গে কোথায় যেন একটা সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়। বোর্ডের ওপর সবুজ ও লাল তেলরঙে আঁকা ছবিগুলো দারুণভাবে আকর্ষণ করে। এটাই শুধু নয়, পুরো প্রদর্শনীতে এটা একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাশাপাশি ঘন আর হালকা নীলের প্রাধান্য নিয়ে মিশ্র মাধ্যম বা কোলাজগুলো বিশেষত্বের দাবিদার। আগের প্রদর্শনীগুলোতে কাজী গিয়াসউদ্দিনের কোনো কোলাজ দেখিনি। এবার বেশি সংখ্যায় আছে জলরঙের ছবি।

ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির চিত্রকলা, হালকা আর গাঢ় প্রকৃতির নানা রঙের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে এগুলো। এসব ছবিতে আমরা কাজী গিয়াসউদ্দিনের জীবনের বিভিন্ন সময়ের নানা অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির কিছু না কিছু উপাদানও খুঁজে পাই। জল বা তেলরঙের ছবিতে অনেক বিন্দু ও আঁচড় বা আঁকিবুঁকিতে শৈশব, প্রকৃতির কোনো না কোনো চিত্র যেন ভেসে ওঠে।

কাজী গিয়াসউদ্দিনের ‘শান্তির সন্ধানে’ প্রদর্শনীর আলোচনায় শিল্পী ও শিল্প-আলোচক আবুল মনসুর বলেছিলেন, ‘কাজী গিয়াসের চিত্রকলা সর্ব-অর্থে আধুনিক নন্দন-ধারণার উত্তম উদাহরণ, সুসংঘবদ্ধ, সুচারু, পরিশীলিত ও দৃষ্টিনন্দন। তাঁর বর্ণ শান্ত ও নমিত, চিত্রতলে রেখা গড়ন-বুনটের বিন্যাস সুসমন্বিত ও সাযুজ্যমণ্ডিত, দর্শনের মানসলোকে এ চিত্রের আবেদন সংবেদনশীল ও ব্যঞ্জনাময়।’ আবুল মনসুরের সঙ্গে ঐকমত্য প্রকাশ করে আরও বলা যায়, কাজী গিয়াসউদ্দিনের চিত্রমালা আমাদের জন্য এক সংবেদনশীল নতুন স্বপ্নময় জগৎ তৈরি করে, যা বর্তমান উত্থান-পতনের দিনগুলোতে আমাদের জীবনকে আনন্দময় করে তোলে।

কাজী গিয়াসউদ্দিনের সব কাজের মধ্যে আমরা অনেক পরিশ্রমের প্রয়াস দেখতে পাই। অনেক সময় নিয়ে তিনি ছবিগুলো আঁকেন। সেই সঙ্গে বারবার ছবির ওপর রং চাপান এবং কাজ করেন। অশান্ত কাজী গিয়াসউদ্দিন সারাক্ষণই কাজে ব্যস্ত থাকেন, ডুবে থাকেন। যখন তিনি ছবি আঁকেন না, তখনো মনে মনে এঁকে চলেন কোনো না কোনো ছবির দৃশ্য। তাঁর সাভারের বাসভবন ও স্টুডিওতে গেলেও বোঝা যায়, কাজ নিয়েই ডুবে থাকতে পছন্দ করেন তিনি।

টোকিও থেকে সরাসরি সাভারের বাসা বা স্টুডিওতে ফেরেন কাজী গিয়াসউদ্দিন। বছরের একটা বড় সময় সেখানে থাকেন, কাজ করেন। কখনো-সখনো আসেন ঢাকায়। তাঁর বাকিটা সময় কাটে সাভারে ছবিজগতে একনিষ্ঠ একাগ্রতায়। তিন দশক ধরে এভাবেই তাঁর জীবন কাটে সাভার (ঢাকা) ও টোকিওতে ভাগাভাগি করে। সম্প্রতি তিনি স্ত্রীকে হারিয়েছেন। স্ত্রীবিয়োগের বেদনা নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে। পরিচিত একান্ত আপন পরিবেশে ছবি আঁকছেন। ছবির প্রদর্শনীর জন্য কাজ করেছেন নিরলসভাবে। তাঁর স্বপ্ন, সাভারে নিজের বাসভবন ও স্টুডিওতে একটি স্থায়ী চিত্রশালা গড়ে তুলবেন। আর সেখানে থাকবে তাঁর সারা জীবনের পরিশ্রমের এক সংগ্রহশালা।