রবি ঠাকুরের এমন রসিকতার গল্প অনেক, মজলিশ জমাতে বা উপস্থিত সবাইকে খানিকটা উৎফুল্ল করতে তিনি প্রায়ই মজার মজার কথা বলতেন। এক সভায় বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় দারুণ এক বক্তৃতা দিলেন। সেখানে রবীন্দ্রনাথও ছিলেন। সভা শেষে সবাই বলাবলি করছেন, ‘দেখেছ বলাইচাঁদ কী দারুণ বলল!’ রবীন্দ্রনাথ সবাইকে থামিয়ে বললেন, এখানে এত অবাক হওয়ার কী আছে! তাঁর নাম-ই তো বলাই, (কথা) বলাই তো তাঁর কাজ। রবীন্দ্রনাথের এমন রসিকতায় বলাইচাঁদসহ সবাই হেসে উঠলেন।

শেষ বয়স পর্যন্ত রসিকজনের আসর জমিয়ে রেখেছিলেন বিশ্বকবি। যদিও জীবনের শেষ দিকে শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল ছিলেন, তবু হাস্যরসের ক্ষেত্রে এ সময়ও তিনি বেশ সবলই ছিলেন বলা যায়।

রবীন্দ্রনাথের জীবনের শেষ দিকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে শান্তিনিকেতনে এলেন এক লেখক। কবিগুরুর ঘরে প্রবেশ করার আগে কেউ একজন বলে দিল, কবি আজকাল কানে একটু কম শোনেন, তাই জোরে কথা বলবেন। তো ওই লেখক ঘরে ঢুকেই কবিকে প্রণাম করলেন। এরপর কবি তাঁর নাম জানতে চাইলে চিৎকার করে বললেন, ‘আমার নাম কানাই।’ তাঁর আওয়াজটি ছিল খুব চড়া। এ সময় রবি ঠাকুর রাগ না করে লেখককে বললেন, ‘নামটা কানাই না হয়ে সানাই হলে আরও ভালো হতো।’

সূত্র: অংশুমান চক্রবর্তীর বই বঙ্গ মনীষীদের রঙ্গ রসিকতা

● গ্রন্থনা: বাশিরুল আমিন

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন