সাধারণত এসব গল্পের যিনি কথক, তিনি সাধারণত বয়সে একটু প্রবীণ হন। তাঁর বলার ভঙ্গি থাকে আকর্ষণীয়, গল্পের বিষয় হয় মজার, আর কাহিনি হয় খুব জমাট। ফলে গল্প শুনে সময় নষ্ট হচ্ছে—এই ভাবনা কারও আসে না। আর এসব গল্পের সত্য-মিথ্যার খোঁজ কেউ করতেও চায় না। তাৎক্ষণিক বিস্ময় আর আনন্দ উপভোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

প্রমথ চৌধুরী অবশ্য মনে করেন, আষাঢ়ে গল্পের সঙ্গে আষাঢ় মাসের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর মতে, আষাঢ়ে শব্দটি ভুল বা বিকৃত উচ্চারণ, এই শব্দটি আসলে আজাড়।

আজাড় শব্দটি মূলে ফারসি বা আরবি। এর অর্থ—অমূলক বা অকারণ। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্​র আঞ্চলিক ভাষার অভিধান–এও ‘আজাড়ে’ বা ‘আজাইড়্যা’ শব্দ আছে। কথ্য বাংলায় ‘আজাইড়্যা’ শব্দটি বহুল ব্যবহৃত হয়। প্রমথ চৌধুরী বলেন, আজাড় বা আজাড়ে গল্প থেকে আষাঢ়ে গল্প বাগ্​বিধিটি এসেছে। এর মানে—নিরর্থক বা বেহুদা গল্প। বাস্তবেও আষাঢ়ে গল্পে সিরিয়াস কিছু থাকে না।

আষাঢ়ে বা আজাড়ে যা–ই হোক, এ রকম গল্পের জন্য আষাঢ়ের সময়টাই সবচেয়ে উপযুক্ত। এর সঙ্গে কৃষিভিত্তিক প্রাচীন সমাজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কারণ, আষাঢ় মাসে চারদিক পানিতে থই থই করত, মাঠে কাজ করার উপায় থাকত না। ফলে এ সময়ে ঘরের বারান্দায় বা দহলিজে বসে গল্প জুড়ে দিত ছেলে-বুড়োরা। রংবেরঙের আলাপের একপর্যায়ে অপেক্ষাকৃত প্রবীণ কেউ দীর্ঘ গল্প শুরু করে দিতেন। পান খেতে খেতে আর তামাক টানতে টানতে রসিয়ে রসিয়ে তিনি গল্প বলতেন। কম বয়সীরা সেই গল্প মুগ্ধ হয়ে শুনত। আর এভাবেই আষাঢ় মাসের সঙ্গে আষাঢ়ে গল্পের সম্পর্ক দাঁড়িয়ে গেছে।

অন্য আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন