খলিল উঠে গেল রেস্টুরেন্টের ভেতরে মনসুরের টেবিলে। মনসুর অভ্যর্থনা জানায়।

: এসো! সেই কতকাল দেখা নেই, তবু তোমারেই যেন ভালো বাসিয়াছি শতরূপে শতবার, জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার। কী খবর ডিয়ার ওল্ড বয়, অফিস যাসনি?

খলিল হাসল। দুবার চিন্তা করল মনসুরকে কথাটা বলবে কি না। মনসুরকে বললে লাভক্ষতি নেই কিছু। এসব ব্যাপারের কোনো কথাই তার আগামী মুহূর্তের আলোচনার জন্য জমা থাকে না।

: ওহে চা দাও এদিকে।

: না ভাই, বাড়ি থেকে খেয়ে বেরোচ্ছি এইমাত্র, চা এখন আর খাব না, সিগারেট দে। মনসুর সিগারেটের প্যাকেটটা এগিয়ে দিল। স্মিত মুখে সিগারেটের প্যাকেট খুলে খলিল। একবার শুধু উচ্চারণ করল, গুড গুড! সিগারেটের প্যাকেটে বিড়ি!

আজ বিড়িই ধরাল খলিল। এক শ টাকার কেরানি হয়েও সে বিড়ি ব্যবহার করেনি। আজ হোক, নতুন করেই বিড়ি চলুক। এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে মনসুর জিজ্ঞেস করে, এখনো কিন্তু বলিসনি কোথায় যাচ্ছিলি। আর এমন মুখ লুকিয়ে রয়েছিস কেন? খলিল খুলে বলে সব। মনসুর শোনে। হাসে। কোনো কিছুকেই সে সিরিয়াস করে দেখতে পারে না। কিছুক্ষণ আগেও খলিল হেসেছিল তার অফিসের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়াতে। কিন্তু এখন কেমন একটা অস্পষ্ট ভয় লাগছে। দৈনন্দিন জীবনের গতি অব্যাহত থাকবে কেমন করে—সেই ভয় সেই চিন্তা।

মনের চিন্তা হয়তো মুখেও ছায়া ফেলে।

: কিরে চিন্তা করছিস কেন? চাকরি গিয়েছে বলে এতে দুঃখ করার কী আছে। লাইফে ঘটনা–দুর্ঘটনাকে সহজ করেই তো দেখতে হয়। কর্মক্ষম লোক তুই। রোজগার কী আর কিছু হবে না।

খলিল হাসে। 

: সে কথা নয়। যাক সে সব। তোর খবর বল? নতুন কি লিখেছিস। আর এখনো মানুষ হলি না। বিয়ে কর একটা।

খলিলের কথা শুনে হাসির তুমুল তুফান তুলল মনসুর।

: চাকরি খুইয়ে মাথা খারাপ করে বসেছিস দেখছি।

: না রে সে কথা নয়, আর কতদিন থাকবি এভাবে। এবারে একটা স্থিতি নে। ভবিষ্যতে কী করবি ঠিক কর কিছু। তোর মতো লোকেদের লাইফের একটা কেন্দ্রবিন্দু থাকা দরকার। যাকে ঘিরে জীবনে বাঁচার স্টিমুলেট পাওয়া যায় কিছু। এভাবে উদ্দেশ্যহীন হয়ে বাঁচায় রোমান্স আছে, লাভ নেই কিছু। 

মনসুর নড়ে বসে তর্কের মোড় ফেরাবার চেষ্টা করে। অনেক হালকা হয়ে ওঠে। হাসে। আশ্চর্য লাগে এই ঝাঁ ঝাঁ দুপুরে মনসুরের সকালীন উজ্জ্বলতাকে। মনসুর সোজা হয়ে বসে। মাথা নাড়ে কপট উৎসাহে। গলার স্বরে কৌতুক।

: বেশ তোর কথাতেই রাজি। কিন্তু শর্ত আছে, যদি আমায় কোনো মেয়ের বাবা সানন্দে তার মেয়ে দিতে চায়, বিয়ে করব! পরক্ষণে বলে,
বন্ধু, বাংলাদেশে মেয়ে সস্তা হলেও এমন সস্তা হয়নি যে নিষ্কর্মা অক্ষম লোককে লোকে মেয়ে দেবে।

: কেন সেই অঞ্জনা বোস, রুবি চৌধুরী—কলেজের মধুমক্ষিকা যারা, তারা তো কত গুঞ্জন করেছে তোকে ঘিরে। 

: ব্যস ওই পর্যন্ত। গুঞ্জনই সার আমার মৌচাকে আশ্রয় আর নেয়নি। পাগল হয়েছ বন্ধু! প্রেম আর জীবন—বস্তু দুটোতে তফাৎ অনেক। ভালোবাসা আর ঘর করা দুটোতে পাত্রভেদ আছে। আর মেয়েরা বড় বেশি নজর রাখে এসব ব্যাপারে। রুবির খবর শুনে থাকবি হয়তো। আমাদের থেকে দুবছর সিনিয়র, যাকে আমরা প্রিন্স খেতাব দিয়েছিলাম, সেই নাজির আহমেদকে রুবি বিয়ে করছে। কার্ড পেয়েছি। উপহারের কবিতাও লিখে পোস্ট করে পাঠিয়ে দিয়েছি। অঞ্জনা এখন কলকাতায়—তার এখন কত পূজারি কে বলবে। ভালোবাসা কথাটাতে এখনো বিশ্বাস করিস তুই! আমি তো ছোটবেলাতে বিশ্বাস করতাম না। এখনো করি না।

বাইরে বেলা বারোটা! খাঁ খাঁ করছে পথঘাট। এখানে–ওখানে নেড়ি কুত্তা কয়টা বসে বসে ঝিমায়। দুপুর ঘুমের আয়োজন দেখছে।

: যাক সেসব, মনসুর সোজা হয়ে বসে, এখন কী করবি ঠিক করেছিস কিছু?

খলিল অবাক হলো। মনসুর এত ব্যক্তিগত হলো কবে থেকে! খলিল হাসে।

: দেখি, কিছু জোগাড় নিশ্চয়ই করতে হবে। কিন্তু তোর কী হলো পরীক্ষা দিলি না, একটা কিছু কর।

মনসুর হঠাৎ গম্ভীর হয়ে পড়ে। আলোচনার নৈর্ব্যক্তিক গতিছন্দ যেন বদলে যাচ্ছে। মনসুর যেন হঠাৎ নেমে এসেছে অন্য কোনো কথা বলতে। মুখোমুখি হয়েছে হয়তো কোন কঠিন সমস্যার। চোখ তুলল বাইরের নির্জন পথের দিকে।

: বন্ধু, করতে চাইলেই কি করতে পাওয়া যায়? পরীক্ষা আমি দেব না। পরীক্ষায় পাস যে করব না তা নয়। কিন্তু কেন দেবো বলতে পারো? অঞ্জন, অঞ্জন বোসের কথা মনে আছে? ব্রিলিয়ান্ট ইন্টেলিজেন্ট বলে যার সুখ্যাতি করত সবাই। কাল চিঠি পেয়েছি, সেই অঞ্জন শেষপর্যন্ত একটা মফস্বল স্কুলে মাস্টারি করতে গেল। চন্দনকে চিনতিস? যার লেখা পড়ে বাংলা প্রফেসর একবার গোটা মাঠময় ছোটাছুটি করেছিলেন প্রশংসায়, সেই চন্দন মৈত্র কলকাতার ফুটপাতে গেঞ্জি বিক্রি করে রিফিউজি লোনের টাকায়। কী হলো এত সব করে! এত যে করছি তার ফল কী হবে? খলিল, উই আর নট ফিট ফর দিস সেঞ্চুরি, নট ফিট ফর দিস সয়েল। আমরা সব রাজপুত্তুর কিন্ত ফেইরি টেলস আমরা শুনতে পেলাম না। দুঃখ রইল জীবনে।

: আচ্ছা ভাই উঠি। খলিল উঠল। 

:  দেখা করবি বিকেলে। 

: বিলক্ষণ, আরও কত কথা আছে!

পথে নেমেই খলিল ভাবে, মনসুর তবে আজকাল শুধু কবিতা লেখে না, আজকাল সে–ও ভাবে। তার নিজের কথা, আর দশজনের কথা চিন্তা করে। লাইফের গলায় কেরানিগিরি বুঝিয়ে দেওয়াতেই কি লাইফের সার্থক উদ্দেশ্য। কী যে আছে? বাঁচবার জন্য কেরানিগিরি আর কেরানিগিরির জন্য বাঁচা—কথা দুটোর মানেতে তফাৎ তো কই আর চোখে পড়ছে না?

: খলিল ভাইয়া।

হাসান খলিলি। রক্তে পারস্যের রূবাই ছন্দ তোলে! চোখে মাঝে মাঝে ঘোর স্বপ্নছায়া জড়িয়ে ধরে। দুবছর জুনিয়র ছিল কলেজে। আইএ পাস করে নিয়েছে কেরোসিনের ডিলারশিপ।

সুন্দর মণিকাঞ্চন যোগ বলতে হবে।

হাসান পাঁচটা টাকা পায়। গত মাসে দেওয়া হয়নি। এ মাসে দেবার কথা ছিল। যথেষ্ট ভদ্রতা দেখিয়েছে হাসান। দাঁড়াল সে মুখোমুখি। হাসানের চোখে চোখ রাখল। 

: হাসান, চাকরিটা আজ গেল ভাই, এখন পকেটে কিছুই নেই। কাল ঠিক দিয়ে দেব ধারটার করে যেমন করে হোক।

হাসানের আইএ পাস করা মন কুণ্ঠিত হয়ে পড়ে।

: থাক থাক খলিল ভাই, আমি চালিয়ে নেবো অন্য কোনো রকমে। তুমি বাড়ি যাও। মিন্টু কেমন আছে?

: ভালোই।

ভালো আছে মিন্টু। কিন্তু, আর থাকবে! সবে অসুখ থেকে উঠেছে। পথ্য চাই, খাওয়া। ডাক্তারের মতে ওয়েল নিউট্রিশন দরকার। কিন্তু মাকে কী বলবে আজ সে? চাকরি যাওয়ার ফলাফল এতক্ষণে কিছু কিছু টের পাচ্ছে সে। জোরে পা চালায় বাড়ির দিকে। মনের কোথায় ঝড় উঠেছে যেন। জীবনে কেন্দ্রবিন্দুর কোথায় কোন অংশে টান পড়েছে ভাবছে, এতক্ষণ পর ভাবছে খলিল। বাবার ৫০ টাকায় কী হবে; কী হতে পারে। মুন্নার পরীক্ষার ফি দিতে হবে, ১২ মাসের মাইনে বাকি আছে—দেড় শ টাকার ধাক্কা। কী হবে। নিজে পড়তে পারেনি। ভেবেছে এবার থেকে মুন্নাকে আর মিন্টুকে মানুষ করে তুলবে। মিন্টুর ফার্স্ট ইয়ার, মুন্নার ফাইনাল। মিন্টুর জন্য চিন্তা ছিল না। ভালো ছেলে সে, পড়াশোনা করে। করতে পারে। কিন্তু এখন আর করতে পারবে না। এখন শরীরের ক্ষয় পূরণ না হলে সে ক্ষমতা আর থাকবে না। মুন্না খাটছে, আপ্রাণ খাটছে। সে বলেছে, দাদা, দেখে নিও এবার ফার্স্ট ডিভিশন ঠিক নেব। ফার্স্ট ডিভিশন নেবেও হয়তো মুন্না। 

কিন্তু এখন কী হবে? এই গোটা মাসে খরচ করে আগামী মাসে কেমন করে অত টাকা দেবে সে। মায়ের গয়নাপত্তর দিয়ে যদিও কিছু উপায়ের পথ ছিল, তা–ও বন্ধ। মিন্টুর অসুখে সব বাঁধা পড়েছে জমির চৌধুরীর বাড়িতে। শুধু এই নয়, আরও বিপত্তি আছে। আরও সমস্যা আছে। বাবার কাশির ওষুধটা কিনতে হবে। নতুন এক ফাইল কডলিভার কিনতে হবে। দুধের জোগান বাড়াবার কথা হচ্ছিল। বাবারও দুধ চাই, অন্তত এক পোয়া দুধ না হলে দুদিন অন্তর গলা দিয়ে রক্ত ওঠে।

খলিল ছুটতে শুরু করল। কিছুক্ষণ আগেও এতগুলো কথা তার মনে জাগেনি। বাড়ির যত কাছাকাছি যাচ্ছে, ততোই মনে পড়ছে; অথচ যখন নাকের ওপর দরজাটা বন্ধ হলো, তখন পরম দার্শনিকের মতো কাঁধ দুলিয়ে হেসেছিল।

অবাক পৃথিবী, অবাক করলে তুমি। পৃথিবীর মানুষগুলোসুদ্ধ আজ অবাক। কী হলো?

কিচ্ছু নয়। শুধু জীবনের গতিপথে একবার করে দাঁড়িয়ে গেল সবাই দারিদ্রে৵র মুখোমুখি হয়ে। সে দাঁড়ানোই শেষ, তার আগে যে কিছু ছিল, পরে যে কিছু আছে—এ কথা আজ কারও জানা নেই। খলিল কী ছিল চার বছর আগে, ভুলে গেছে আজ। আগামী বছরে সে কী হবে, সে জানে না। শুধু স্পষ্ট করে বুঝতে পাচ্ছে, যা পেয়েছে তাইতেই তার জীবন শেষ, এর বেশি পেতে চাওয়া আজকের শতাব্দীতে নিতান্তই অন্যায়, নেহাত মামাবাড়ির আবদার। খলিল, মনসুর, হাসান—সবারই সেই এক অবস্থা। হয়তো মুন্না, মিন্টু তাদের জীবনও ওই একই অবস্থায় কাটবে।

পৃথিবীর মাটিতে আজ নাভিশ্বাস উঠেছে, তারই অন্তিম শ্বাসের স্বাক্ষর রয়ে যাচ্ছে খলিল আর মনসুরেরা। একটা এক শ টাকার রোজগারের ওপর একটা জীবন,—পৃথিবীর ওপর সচল–সবল জীবনের বাঁচামরা নির্ভর করছে, আশ্চর্য জীবনের আর মৃত্যুর; জীবনের আর মাটির সম্বন্ধ আজকাল এত সহজ হলো কী করে ভেবে পায় না খলিল। কত অসহায় আজকের প্রতিটি মানুষ ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়।

খলিলের পায়ের গতি কমে আসে। পাকা রাস্তার মোড় দিয়ে দক্ষিণে রাস্তা নেমে গিয়েছে, সেই রাস্তার শেষ সীমায় সমীরের বাড়ি। বাড়ি ফিরতে তার ইচ্ছে করছে না। অফিস থেকে বেরিয়ে ভেবেছিল, বাড়ি ফিরে একটা ঘুম দেবে। কিন্তু এখন বাড়ির দিকে একটা করে পা বাড়াতেই বুকের রক্ত হিম হয়ে আসছে।

: দাদা, ও দাদা? এত আগে যে? তোমার অফিস এত সকালে ছুটি?

খলিল থমকে দাঁড়িয়ে যায়। মাথাটার দুপাশ দিয়ে যেন গোটা পৃথিবী পাক দিল দুবার। চোখ দুটো কেমন যেন ঝাপসা লাগে তবু চোখ খুলে দেখে মুন্না। বন্ধুর বাড়ি থেকে বই হাতে ফিরছে।

খলিল আসে। গলায় শাসনের ভঙ্গি আনে।

: মুন্না কী রে, খুব পাড়াবেড়ুনি হয়েছিস তো? মাকে বলে তোকে ঠেঙাবার ব্যবস্থা করছি চল। 

মুন্না গম্ভীর হয়ে গেল।

: কী করব বলো? পরীক্ষার যে দেরি নেই, আর সিভিকস বই তো আমার নেই। 

খলিল কেমন যেন এতটুকু হয়ে গেল। মনে হলো মুন্না তার বই কিনে না দেওয়ার অক্ষমতাকে খোঁচা দিচ্ছে।

: কই বাড়ি চলো।

: হ্যাঁ, যাই চল।

কিন্তু তবু পা এগোয় না। বাড়ির পাঁচিলের ত্রিসীমার ভেতর যত দায়িত্ব আর কর্তব্য যেন জমাট বেঁধে আছে, গৃহাঙ্গনে পা দিলেই হয়তো সব কিছু তার কাঁধে চেপে বসবে। মুন্নার দাঁড়িয়ে থাকা ভালো লাগে না।

: কাকে খুঁজছ, দাদা? 

দুবার মাথাটা ঝাঁকি দিয়ে, একটা শ্বাস ফেলে মাথাটা উঁচু করে সোজা হয়ে দাঁড়াল খলিল।

: মুন্না, চাকরিটা গেল। আগামী মাস থেকে টাকা বন্ধ। পরীক্ষার ফি দেওয়া চলবে না। মিন্টুর দুধ বন্ধ, বাবাকে ওষুধ খেতে হবে না।

মুন্না স্তব্ধ হয়ে দাঁড়াল হঠাৎ। তন্বী চেহারা তার। সুন্দর কমনীয় ভঙ্গিতে হঠাৎ কেমন একটা ঋজুতা এসে গেল, তার দাঁড়াবার ভঙ্গিতে। কালো চোখ দুটোর ওপরে ভুরুজোড়া ঈষৎ বেঁকে রইল কিছুক্ষণ। তারপর মিনিটখানেক পর, হঠাৎ স্তব্ধ ধীর চোখ তুলল খলিলের মুখের ওপর।

: চলো দাদা, বাড়ি চলো। চাকরি গেছে তো আপদ গেছে। চাকরি ছাড়াও তো দুনিয়াতে লোক বেঁচে আছে। বেঁচে থাকবেও চিরদিন। একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবেই।

সংগ্রহ ও ভূমিকা: মাসুদুল হক

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শওকত আলী নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় লেখালেখি শুরু করলেও দেশভাগের পর কলকাতার বামপন্থীদের নতুন সাহিত্য পত্রিকায় প্রথম তাঁর গল্প প্রকাশিত হয় বলে অভিমত প্রচলিত রয়েছে। সময়টা হতে পারে ১৯৪৯-৫০; লক্ষণীয়, ১৯৫১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জের করনেশন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ওই বছরই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। এরপর দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হলে সেখানে বামপন্থীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, সেটা আরও বেড়ে যায় ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, নির্বাচন বাতিল ও ৯২-এর ‘ক’ ধারা—এসব আন্দোলনের জেরে বছরের পুরোটা সময় কারাগারে কাটিয়ে। সেখানে তিনি হাজী দানেশ, বরদা চক্রবর্তী প্রমুখ রাজনৈতিক নেতার সংস্পর্শে আসেন। ওই ঘনিষ্ঠতা ও সাহিত্যচর্চাকে কেন্দ্র করে কলকাতার বামপন্থীদের নতুন সাহিত্য পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন তিনি। সময়টা অবশ্যই চুয়ান্ন সালের পরে হবে। 

তবে শওকত আলীর প্রথম ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত গল্পের দিকে যদি তাকাই, তাহলে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ বার্ষিকীর দিকে নজর দিতে হয়। এতে আঠারো–উনিশ বছরের যুবক শওকত আলী ‘আজকের ইতিকথা’ নামে একটি গল্প লেখেন। তখন তিনি উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র; সাল ১৯৫২। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিলে এটিই শওকত আলীর প্রথম প্রকাশিত গল্প। গল্পটি তাঁর কোনো বইয়ে এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এখানে প্রকাশের সময় গল্পটিতে সমকালীন বানানরীতি গ্রহণ করা হয়েছে। 

এই গল্পে সেই সময়ের বাস্তবতা ও
দেশভাগ–উত্তর মানুষের জীবনচিত্রের প্রতিফলন পাওয়া যায়।