আজকাল কেউ বুকে হাত দিয়ে ব্যথায় ককিয়ে দুম করে পড়ে গেলেই তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর শুনি ​হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। হৃদয়যন্ত্রে রক্ত সাপ্লাইয়ের জন্য বসানো আণুবীক্ষণিক পাইপের ফুটো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ডাকনাম হলো ‘ব্লক’। ব্লক কাটানোর জন্য বুক কাটতে হয়। হৃদয়গামী রক্তবাহী পাইপ বা নালায় আটকে থাকা চর্বির দলা ফেলে দিয়ে সেখানে ওয়েডিং রিংয়ের মতো ধাতব অঙ্গুরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। ভালো বাংলায় তাকে বলে ‘রিং পরানো’। এই রিং পরানোর পর বুকের ব্লক কেটে যায়। বাইপাসের পর ছাইপাঁশ না গেলার জন্য ডাক্তার পইপই করে বলে দেন।

কিন্তু লেখকের বন্ধ্যত্ব বা রাইটার্স ব্লক ছোটানোর বাইপাস আজও বের করা গেল না।

ধরুন, জাত গোখরার মতো আপনিও একজন জাত কবি; কিন্তু কিছুদিন হলো, বহু চেষ্টা করে, বহু ‘শুকনো-ভেজা’ খেয়েও আপনার কবিতা আসছে না। তারপর আচমকা একদিন ঠা ঠা রৌদ্রের মধ্যে ঠাস করে একখণ্ড মেঘ এসে ঘরের পাশের বাঁশবাগানে হিসু করে দিয়ে গেল। আপনার মনে হলো এটা আসলে বৃষ্টি। আপনি ‘এইবার কবিতা তুই কই যাবি?’ বলে কোল ওরফে ল্যাপের ওপর ল্যাপটপ টেনে নিয়ে বিরাট রোমান্টিকতায় শুরু করলেন, ​‘বাঁশবাগানের মাথার ওপর বৃষ্টি এল ওই...’। তখনই খেয়াল হলো, এটা তো ‘কাজলা দিদি’ থেকে মেরে দেওয়া জিনিস হয়ে যাচ্ছে। আপনি লাইনটা দ্রুত ডিলিট করে লিখলেন, ​‘একদিন বাঁশের আশ্রয়ে যাব; কবরের ছাদ হবে আমারই আঙিনার স্বরচিত বাঁশের মাচাং।’ তখন আবার খেয়াল হলো, আপনার মূল সাবজেক্ট ছিল বৃষ্টি। কিন্তু আপনার মন বৃষ্টির কথা ভুলে বাঁশের দিকে চলে গেছে। আপনি ভাবলেন, কবিতার সঙ্গে বৃষ্টিটা ঠিক যতটা যায়, বাঁশটা ঠিক ততটা যায় না। ফলে আপনি এ লাইনও ডিলিট করলেন। বৃষ্টির দিকে মন ফোকাস করলেন। এরপর দেখলেন, বৃষ্টি-বাঁশ কোনোটাই কাজে আসছে না। কবিতার একটি লাইনও আপনার মনে আসছে না। আপনাকে এ পর্যন্ত কে কে কী কী জাতের বাঁশ দিয়েছে, খালি সেটাই মনে আসছে।

প্রিয় কবি আলতাফ শাহনেওয়াজ, আমার এখন সেই দশা চলছে। বাইরে ঝমঝম বৃষ্টি নামছে; কবিতা নামছে না।