ইলিয়াসের অপূর্ণ সাধ

নিজের ঘরে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩—৪ জানুয়ারি ১৯৯৭)। ছবি: নাসির আলী মামুন, ফটোজিয়াম
নিজের ঘরে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩—৪ জানুয়ারি ১৯৯৭)। ছবি: নাসির আলী মামুন, ফটোজিয়াম

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কিছু প্রিয়, নিজস্ব বচন ছিল। তিনি দাবি না করলেও যাঁরা তাঁর কাছ ঘেঁষতেন, তাঁরা জানেন ওগুলো তাঁর প্যাটেন্ট। অন্য কারও মুখের কথায় বা লেখায় সেসবের দেখা মেলেনি। যেমন ‘তোতলা কলম’, ‘দূর সম্পর্কের বন্ধু’, ‘স্যাকারিন ভাষা’।

তোতলা কলম না হয় বোঝা গেল, কিন্তু দূর সম্পর্কের বন্ধু? ইলিয়াসের ভাষায় বন্ধুর বন্ধু বা তার বন্ধুর বন্ধুর বন্ধুও এ সম্পর্কের (রিস্তার) মধ্যে পড়ে। আবার কারও লেখা পড়ে নীরবে-নিভৃতে দানাবাঁধা যোগাযোগটা একসময় যদি বন্ধুত্বে সরব হয়ে উঠতে চায়, তখন সেই অদেখা জীবিত বা মৃত, স্বদেশি বা বিদেশি লেখকের সঙ্গে অদৃশ্য, ধরাছোঁয়াহীন সম্পর্কও এর আওতায় চলে আসে। স্যাকারিন ভাষা হলো রসে চুপচুপে সেই ভাষা, যা পাঠকের মর্জিমাফিক চলে, অযথা চিন্তাভাবনার খোঁচাখুঁচিতে ফেলে পাঠকের শান্তি নষ্ট করে না। ইলিয়াসকে যাঁরা কাছ থেকে চিনতেন, তাঁরা তাঁর অসামান্য কৌতুকবোধের পরিচয় পাননি তা হতে পারে না। এই কৌতুকবোধের সূত্রে তিনি চাইলে স্ব-উদ্ভাবিত বচনের সংখ্যা অনেক বাড়াতে পারতেন।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্পের সঙ্গে আমার পরিচয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। বলতে দ্বিধা নেই, সেই বয়সে তাঁর লেখালেখির কিছু কিছু ব্যাপারে নিঃসংশয় হতে পারিনি। সময় লেগেছিল, তবে পরে অবাক হয়ে লক্ষ করেছি যে বিষয়গুলো নিয়ে খটকা লাগত—মূলত নন্দনতত্ত্বের তথাকথিত ছাঁচের প্ররোচনায়—সেসবই তাঁর লেখার বিষয় ও শৈলীকে বিশেষত্ব দিয়েছে। তাঁর সঙ্গে সামনাসামনি পরিচয় অনেক পরে। চিলেকোঠারসেপাই বেরোনোর পর।

মনে আছে, চিলেকোঠার কিছু কিছু বর্ণনায় জোর ঝাঁকুনি খেয়েছিলাম। একটা চিঠি লেখা জরুরি হয়ে পড়েছিল। কী সম্বোধন করেছিলাম মনে নেই। তবে লেখার বিষয় মনে আছে। আসন্ন সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে রাস্তার দুপাশে, বাড়ি-ঘরের সামনে, টিনের চালে শুকাতে দেওয়া লাল মরিচের ধিকিধিকি আভার যে ছবি তিনি এঁকেছিলেন, আর টকটকে সেই আভা উনসত্তরের দেশজোড়া ছাঁইচাপা আগুনেরই যে মোক্ষম প্রতিবিম্ব—এ নিয়ে লিখেছিলাম, খুব সম্ভবত আবেগের বেশ ঘনঘটা ছিল চিঠিতে। চিঠির জবাবে চিঠি না, পেয়েছিলাম ফোন। ভরাট কণ্ঠ, তবে খানিকটা আড়ষ্ট জিভ (একধরনের মধুর তোতলামি ছিল তাঁর)। ফোন নম্বর কী করে পেলেন জানতে চাইলে ঠা-ঠা হাসি। প্রথম আলাপে, তা-ও টেলিফোনের ওপার থেকে কেউ এভাবে গলা খুলে হাসতে পারে ভাবলে আজও অবাক লাগে। ফোন নম্বর নাকি আমি নিজেই চিঠির নিচে বসিয়েছিলাম। কিন্তু তাতেও হাসিটা এত হাসির হওয়ার কথা নয়। পরে ভেবে দেখেছি, ওভাবে হেসে ওঠা ছিল একটা উপলক্ষ, যাতে কথাবার্তা এগিয়ে নিতে সুবিধা হয়। অনেকটা তিনি যেমন বলেন, কুট্টিরা একটা কিছু বলার আগে কাঁচা খিস্তি দিয়ে মুখের জড়তা সাফ করে নেয়।

ফোনের সুবাদে কাজের কাজ যা হয়েছিল, সম্ভবত সেদিন সন্ধ্যায়ই তাঁর ১ নম্বর কে এম দাশ লেনের ভাড়া বাড়িতে মুখোমুখি বসে তিনি যেমন জিভের জড়তা কাটাতে জোরে হেসে উঠেছিলেন, আমিও তেমনি সাহসভরে প্যান্টের ফোলা পকেটে হাত ঢোকানোর পায়তারা করতেই তিনি এ্যাসট্রে খুঁজতে তৎপর হয়ে পড়েছিলেন। বয়সজনিত দূরত্বটুকু নিমেষে উধাও হয়ে গিয়েছিল।

সেই শুরু। সপ্তায় না হলেও দশ-পনেরো দিনে একবার কে এম দাশ লেনে ঢুঁ মারা চাই। আমার সুবিধা ছিল, অফিস করতাম মতিঝিলে, ফলে জরুরি কাজকর্ম না থাকলে সন্ধ্যার মুখে রিকশায় চেপে ডা. অমুক...হাড় ও জোড়া বিশেষজ্ঞ সাইনবোর্ড-শোভিত বাড়ির খোলা আঙিনা পেরিয়ে বড় ফোকরওয়ালা লোহার গ্রিলে ঝনঝন তুলতে কোনো অসুবিধা হতো না। তাঁর প্রিয় বন্ধু মাহবুবুল আলমকে পেতাম প্রায়ই, কায়েস আহমেদকে দেখেছি দু-তিনবার। মামুন হোসাইন, শাহাদুজ্জামানকেও। মঞ্জু সরকার, নাঈম হাসানের (নিরন্তর সম্পাদক) সঙ্গে কখনো ওখানে দেখা হতো, কখনো একসঙ্গে দলবেঁধে গিয়েছি। আড্ডা আর আড্ডা। তাঁর বাড়ি ছাড়াও নাঈমের শাহজাহান রোডের বাড়িতে, লেক সার্কাসে আমার ভাড়াবাড়িতে, পাগলায় মঞ্জুর বাড়িতে, আমাদের প্রিয় জানু আপার আজিমপুর সরকারি কলোনির বাসায়, আরও কত কত জায়গায় একসঙ্গে সময় কাটিয়েছি! আড্ডা মহাসমারোহে তুঙ্গে উঠত মাঝে মাঝে রাজশাহী থেকে হাসান আজিজুল হক কোনো কাজে ঢাকায় এলে। আড্ডার প্রসঙ্গ টেনে এই রচনার ছোটখাটো শরীরকে ভারাতুর করতে ইচ্ছা করছে না।

 আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটা বড় গুণ আমাকে যা বিশেষভাবে টানত, তা অন্যের কথা শোনায় তাঁর আগ্রহ। তিনি নিশ্চয় বিশ্বাস করতেন, কেউ যখন কারও কাছে যায়, নিজের কথা বলতেই যায়, শোনাটা তাই কর্তব্য। শুনতেন তিনি মনোযোগী শ্রোতা হয়ে। শুনতে শুনতে পাইপে তামাক ভরা ও আয়েশি ধোঁয়া ছাড়ার সময় তাঁকে এতই নির্ভার দেখাত, মনে হতো না হাড্ডি খিজির বা তমিজের বাপ এতটুকু জ্বালাতন করছে।

 লেখালেখিতে যত শ্লেষ-বিদ্রূপই থাকুক, ব্যক্তি ইলিয়াসের আচরণে, কথাবার্তায় এমন এক সারল্য ছিল, বিস্মিত হতে হতো। তখন খোয়াবনামা সবে শুরু করেছেন। ভীষণ খুঁতখুঁতে, এই লিখছেন, এই ফেলে দিচ্ছেন। আবার কখনো লেখার উদ্দীপনায় আগের রাতের লেখাটুকু কাউকে সামনে পেলে পড়ে শুনিয়ে মনে মনে ছেঁটে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লেখালেখিতে এসব স্বাভাবিক ঘটনা এবং তাঁর ক্ষেত্রে পূর্বপরীক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও নতুন লেখার বেলায় তিনি নানা বিপন্নতার কথা খোলামেলাভাবে ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতেন। কেবল ভাগাভাগিই নয়, মুশকিল আসানের উপদেশ-টুপদেশও চাইতেন।

খোয়াবনামা শুরুর আগের ঘটনা। বেশ রাতে তাঁর ফোন। ফোন তিনি করতেন রাতে, সেবার করেছিলেন বেশ রাতে। ফোন ধরতেই আজব অনুরোধ। এমন অনুরোধ কোনো লেখক করতে পারেন, তা আজও আমার মাথায় আসে না। অনুরোধটা এই—একটা গল্প লিখতে হবে, গল্পের বিষয় তিনি দিয়ে দিচ্ছেন, সেই সঙ্গে এ-ও জানালেন, তিনি নিজে একই বিষয় নিয়ে লিখছেন—একটা উপন্যাস। একটা লোক গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে, কোথায় যায় সে বলতে পারে না, পরদিন সকালে ঘুম ভাঙার পর দেখা যায় তার পায়ে শুকনো কাদা—বিশেষ ধরনের কাদা, একটা বিলের কাদা, বিলটা তার ঘর থেকে বেশ খানিকটা দূরে। শুধু পায়ে কাদাই না, হাতে কচুরিপানার ছেঁড়া ডাঁটি, যা ওই বিলেই পাওয়া সম্ভব।

 শুনে কী বলব! বললাম, একটা বিষয় তাঁর মাথায় এসেছে, বিষয়টা চমকপ্রদ, লিখতেও শুরু করেছেন, আমাকে কেন এ নিয়ে লিখতে বলছেন? জবাব যা পেলাম তাতে আরও চমকালাম। বললেন, প্রস্তাবটা আরও দু-তিনজনকে দিয়েছেন, একজনকে তো বেশ কয়েক বছর আগেই দিয়েছিলেন এবং তিনি লিখেওছেন। কে? বললেন, বিপ্লব দাশ। এ-ও বললেন, বিপ্লব দাশের গল্প সংকলন পঞ্চুহরিরশেষবিবাহর এটা প্রথম গল্প, নাম—‘পদ্ম সন্ধান’। গল্পটির প্রশংসা করে বললেন, পড়ে দেখো, একটা চমৎকার স্যুরিয়াল আমেজ পাবে।

পরে এ নিয়ে যখন কথা বলেছি, নিজের লেখার বিষয় অন্যকে দান করার যুক্তি দেখিয়েছেন এই বলে যে স্লিপ ওয়াকিং বা সমন্যামবুলিজম ব্যাপারটা তো স্বাভাবিক না, একটা অস্বাভাবিক ঘটনা কার কাছে কীভাবে ধরা দেয়, কে কীভাবে দেখে জানতে পারলে লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই। আমি তো আমার মতোই লিখব।

 কিস্তু পাইপমুখে হাস্যময় ইলিয়াস যেমন ছিলেন, ক্রাচ-বগলে তেমন থাকার উপায় ছিল না। ক্যানসারে গোটা একটা পা ভিনদেশে ফেলে আসার পর তাঁকে বিষণ্নতায় পেয়ে বসারই কথা। তবে দেখে মনে হতো, বিষণ্নতার চেয়েও একধরনের নিঃসঙ্গতা তাঁকে ভোগাত। হারানো পায়ের শূন্যতা তাড়িয়ে বেড়াত। নিজের আসন্ন মৃত্যু নিয়ে যত না দুর্ভাবনা, খোয়া যাওয়া পায়ের অনুপস্থিতিই তাঁকে শোকাতুর করে রাখত। বলতেন মশা কামড়ায়, সেই হারানো পায়েই।

তারপরও মানুষটা তো তিনি ইলিয়াস, হার মানেন কী করে! দিনের পর দিন ক্রাচ ঠুকে দুলে দুলে এক পায়ে হাঁটা রপ্ত করার চেষ্টাই করেননি, প্রায় আসুরিক শক্তিতে মোকাবিলা করে গেছেন তাঁর জাতশত্রু মধ্যবিত্ত মায়া, পিছুটান, টলটলে আবেগ, এমনকি শরীরী যন্ত্রণাকেও। যে মধ্যবিত্ততাকে তিনি তাঁর লেখায় অনবরত ঝাঁটাপেটা করেছেন, নিজের জীবনে সেই পরীক্ষায় তাঁকে এতটুকু নুয়ে পড়তে দেখা যায়নি। ঠাট্টা তখনো তাঁকে ছেড়ে যায়নি। বলতেন, এক পায়ে হাঁটা কিন্তু মন্দ না। আর ওই অবস্থায় এক দিন বাথরুমে পড়ে গিয়ে ডান হাত ভেঙে ফেলার পর ঠাট্টার মাত্রাটা আরও বেড়ে গিয়েছিল। বলতেন, ডান পায়ের পর এবার ডান হাত, আমাকে কেউ রাইটিস্ট বলতে পারবে না।

কেমোথেরাপিতে যে ক্যানসারের প্রকোপ থামনো যায়নি, তা তিনি নিজেই টের পেয়েছিলেন। থাকতেন সে সময় আজিমপুর কলোনিতে। আশপাশে সব সরকারি লোকজন, সকাল হতেই সরকারি গাড়ির আনাগোনায় চারদিক মুখর, ড্রাইভাররা গাড়ির দরজা মেলে কর্তাব্যক্তিদের অপেক্ষায় তৎপর। দৃশ্যটা তাঁর জন্য নতুন। বেজায় কৌতূহল নিয়ে দেখতেন। অসুখের কারণে শরীর ভেঙে গেলেও প্রাণশক্তিতে ঘাটতি পড়েনি, দেখার চোখ ছিল বরাবরের মতোই উৎসুক। ক্যানসারের চরম অবস্থা মেটাস্টাসিস যে তখন ভেতরে ভেতরে তাঁকে তছনছ করে দিচ্ছে, জানার পরও কী আশ্চর্য কৌতূহলেই না এর মরণাঘাত নিয়ে কথাবার্তা বলতেন! যেন সব জেনে-বুঝে ধাবমান মৃত্যুকে দরজা খুলে দিতে খুব একটা আপত্তি নেই।

সে সময়ের একটা ঘটনা মনে পড়ে। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে ভারত থেকে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক এসেছেন ঢাকায়। এঁদের মধ্যে মহাশ্বেতা দেবী ও মালায়াম লেখক আনন্দ রয়েছেন। খ্যাতনামা অতিথিদের আপ্যায়নে সরকারি আয়োজনে কোনো খামতি ছিল না। থাকার ব্যবস্থা সোনারগাঁও হোটেলে। মহাশ্বেতা দেবী রাতটা হোটেলে কাটিয়ে পরদিন ভোরেই আয়োজকদের জানিয়ে দিলেন ইলিয়াসের বাড়ি যাবেন, পৌঁছে দিলে ভালো, না হয় নিজেই যেতে পারবেন। ব্যস, পুরো দুটি দিন তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্দি আজিমপুরে ইলিয়াসের বসার ঘরে বেতের চেয়ারে। একদিন আনন্দকেও নিয়ে এসেছিলেন। ইলিয়াসের ডাকে আমরা দু-তিনজনও জুটেছিলাম। হুইলচেয়ারে এক পায়ে বসে থেকে থেকে আর অনর্গল কথাবার্তার মধ্যে তাঁকে ক্লান্ত দেখাচ্ছিল, কিন্তু চোখমুখে যে দ্যুতিটা খেলা করছিল, তাতে কে জানত এ-ই তাঁর জীবনের শেষ ও বড় সম্মান।

 জীবিতাবস্থায় চারটি গল্প সংকলন, দুটি উপন্যাস ও একটি প্রবন্ধ সংকলন—এই তাঁর সীমানা। কলেবর বিচারে হয়তো কম, মান বিচারে পৃথিবীর সেরা লেখকদের কৃতিতুল্য কথাটা জোর গলায় বলতে আটকায় না। ২০১৬-তে আয়ওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে ‘ওয়ার্ল্ড লিটারেচার টুডে’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে যখন কেবল তাঁকে নিয়েই কথা বলছিলাম, অনেকে কৌতূহল দেখিয়েছিলেন। পড়া দূরের, নামও তো কেউ শোনেননি। তাঁদের হতাশ করে বলতে হয়েছিল, পড়া দুরস্ত, অনুবাদ যা যৎসামান্য হয়েছে, না পড়াই ভালো। অপেক্ষায় থেকো, যদি কেউ ইলিয়াসের লেখালেখির যোগ্য অনুবাদে জীবন উৎসর্গ করতে বাজি ধরে।

 মৃত্যুতে একটা সাধ অপূর্ণ রয়ে গিয়েছিল। বড় আশা ছিল আরও অন্তত বছর দুয়েক বাঁচবেন, একটা উপন্যাস লিখবেন। মাত্র দুটি বছর!