‘ও কি একবার আসিয়া সোনার চান মোর যাও দেখিয়া...’

ধীরে ধীরে বইমেলা পৌঁছে যাচ্ছে শেষবেলায়। এই বসন্তে কেমন হচ্ছে এবারের বইবসন্ত?

স্বাধীনতাস্তম্ভ, সরোবর, মাঠ, বৃক্ষ—সব মিলে বইমেলায় এলে যেন ভালো হয়ে যায় মন
ছবি: দীপু মালাকার

সৈয়দ শামসুল হককে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘সমকালীন বাংলা সাহিত্যে আপনার প্রিয় লেখক কে?’ এই সব্যসাচী লেখক উত্তর দিয়েছিলেন, ‘সমকালে বাংলা সাহিত্যে আমার কোনো প্রিয় লেখক নেই। প্রিয় লেখক থাকলে আমি লিখতাম না। কেউ প্রিয় নেই বলে আমি লিখি।’ সৈয়দ শামসুল হক হয়তো চমক দিতে এমন চটকদার কথা বলেছিলেন। কারণ, ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি কিশোর আনিসুল হককে রংপুরে তিনি উপদেশ দিয়েছিলেন, ‘পড়ো পড়ো এবং পড়ো।’ বলেছিলেন, লেখকের পড়া আর পাঠকের পড়া এক নয়। পাঠক পড়েন আর মুগ্ধ হন; লেখক পড়েন আর ভাবেন, কেন মুগ্ধ হলাম, ‘কেন রবীন্দ্রনাথ একটি গল্পে একটিও সংলাপ ব্যবহার করেননি, আবার আরেকটি গল্পে অনেক সংলাপ ব্যবহার করেছেন।’ সৈয়দ শামসুল হকের অনুসরণে বা অনুকরণে উইলিয়াম ফকনার (১৮৯৭-১৯৬২) বলেছিলেন, ‘রিড রিড রিড।’ ‘সবকিছু পড়ো। একজন কাঠমিস্ত্রি যেমন তাঁর ওস্তাদের কাজ দেখে আর শেখে, তেমনি করে বই পড়ে পড়ে ওস্তাদ লেখকের কাজ অনুসরণ করো। তারপর লেখো।’ কাঠমিস্ত্রির উদাহরণটিও সৈয়দ হক দিয়েছিলেন তাঁর গল্পের কলকব্জা বইয়ে—একটা চেয়ার বানানোর যেমন কারিগরি দিক আছে, এই কাজ শিখে আসতে হয়, লেখার কাজটিও তেমনি শিখতে হয়। আর এটা শেখার একমাত্র উপায় হলো—পড়া। মাস্টারদের কাজ দেখে শেখা।

কবি নির্মলেন্দু গুণকে একবার এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, ‘কী কী বই কিনলেন মেলা থেকে?’ তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমি তো বই কিনি না, আমি বই লিখি। আমি বইমেলা থেকে বই কিনব কেন?’

গুণদার রসিকতা দেশবিখ্যাত। তিনিও রসিকতা করেছেন। তাঁর লেখা এবং প্যারিস পড়ে দেখুন, তিনি কী পরিমাণ পড়াশোনা করেন এবং কী গুরুতর এক গবেষক–মন যে এই বোহেমিয়ান কবির অন্তরে বাস করে, তা বুঝতে পারবেন।

ছোটবেলায় আমি যেতাম বারুনির মেলায়, গ্রামের বাড়িতে। দাদার সঙ্গে। আমরা মেলায় বেচার জন্য গরুগাড়িতে নিয়ে যেতাম রসুন, কিনে আনতাম তরমুজ। মেলায় খেতাম মিঠাই। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের হোসেন আলী মণ্ডলের নাতি আনিসুল হক বইমেলায় ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত যেত বই কিনতে আর বিনে পয়সায় কবিদের দর্শন ও (এবং বিরল ক্ষেত্রে) সান্নিধ্য পাওয়ার লোভে। ১৯৮৯ সালে, আমার ছাত্রাবস্থায়, ২৪ বছর বয়সে, প্রথম বই খোলা চিঠি সুন্দরের কাছে আমি বিক্রি করার জন্য ঝাঁকায় করে নিয়ে গিয়েছিলাম এবং মেলার মাঠে প্রথমে মাদুর বিছিয়ে, পরে একটা ছোট টেবিল পেতে বিক্রি করেছিলাম সেই বই। এর পর থেকে বেচতেও যাই। কিনতেও যাই। ঢাকার আম বিক্রেতা ঝাঁকায় করে আম নিয়ে যাচ্ছে, ক্রেতা তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী মিয়া, তোমার আম কি ল্যাংড়া?’ বিক্রেতা উত্তর দিল, ‘ল্যাংড়া না হইলে কি ঝাঁকায় কইরা মাথায় বইয়া লইয়া যাইতে হয়!’ বইমেলায় এখনো দেখবেন, বই ঝাঁকায় করে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। আমাদের বইমেলার বই ল্যাংড়ার মতোই সুস্বাদু এবং সুগন্ধময়!

একসময় ঘুরে ঘুরে মেলা থেকে বই কিনতাম। মাহমুদুল হকের নতুন বই কি আনল সাহিত্য প্রকাশ? মানিক-বিভূতি-তারাশঙ্করের আর কোনো সমগ্র কি বের হলো প্রতীক/অবসর থেকে? ইউপিএল থেকে আকবর আলি খানের পরার্থপরতার অর্থনীতি বা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই তো কিনতেই হবে। সময় প্রকাশন কি হুমায়ূন আহমেদ কিংবা মুহম্মদ জাফর ইকবালের নতুন কোনো উপন্যাস নিয়ে এসেছে? শামসুর রাহমানের কবিতার বই বিউটি বুক হাউস থেকে বেরোল কি? হাসান আজিজুল হকের কথাসাহিত্যের কথকতা কি সন্দেশ আনতে পারল? শহীদুল জহির কোথায় পাওয়া যাবে? মাওলা ব্রাদার্সে এসেছে কি নতুন কিছু? বিদ্যাপ্রকাশে কি সৈয়দ শামসুল হকের মার্জিনে মন্তব্য বা কাব্যনাট্য সমগ্র পাওয়া যাবে?

সে আজ থেকে ২০ কি ৩০ বছর আগের কথা। আমার সঙ্গে থাকতেন আমার স্ত্রী মেরিনা ইয়াসমিন। একবার তো হুমায়ুন আজাদ বলেই ফেললেন, ‘তোমরা এখনো একসাথে আছ?’ আরেকবার তসলিমা নাসরিন বলে বসলেন, ‘হাত ধরে হাঁটার কী হলো!’

শুধু বইয়ের গন্ধই নয়, বর্ণিল মানুষের স্রোতও বইমেলাকে অপরূপ করে তুলেছে
ছবি: সাজিদ হোসেন

এখন বইমেলায় চলাচল করা একটু কঠিন। কারণ, ১০ হাজার মানুষের পকেটে ২০ হাজার মোবাইল ফোন, তাতে ৬০ হাজার ক্যামেরার লেন্স (প্রতি ফোনে তিনটা করে ক্যামেরা)। আমার ভাগনে ৫১-বর্তী নাটকের অভিনেতা কাব্যর গায়েহলুদের অনুষ্ঠান বা মেরিল-প্রথম আলোর পুরস্কার দিতে সিয়াম বা নিশোর বাসায় যাওয়ার ঘটনাগুলো ফেসবুকে লাইভ প্রচার করে আমি তো এখন ‘ছেলের-বেটি’ বা ‘সেলিব্রিটি’ হয়ে গেছি। বইমেলায় দর্শনার্থীদের কেউ কেউ আমার সঙ্গে ছবি তুলতে চান। আমি আর যা-ই করি না কেন, দুর্বিনীত, বেয়াদব বা অহংকারী হিসেবে গণ্য হতে চাই না। আমি হেসে হেসে ছবি দিই। ফলে কুণ্ঠিত কণ্ঠে বলতে হচ্ছে যে আগের মতো ঘুরে ঘুরে বই কিনতে আজকাল আর পারি না আমি।

৮ মার্চ ২০২২-এ ঠিক করলাম, ঠিক তিনটায় মেরিনাকে সঙ্গে নিয়েই বইমেলায় ঘুরব। এ-ই আমার নারী দিবস। ফাল্গুনের দুপুরবেলা কাজের দিনে কেউ কি আর মেলায় আসবে? বুদ্ধিটা আংশিক কাজে দিল। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে বাংলা একাডেমি স্টল থেকে কিনে ফেললাম হুমায়ুন কবিরের নদী ও নারী, জালাল ফিরোজের অমর একুশে বইমেলার ইতিহাস, আনিস আহামেদের ঢাকাইয়া আসলি, শিখা সমগ্র। বাসায় আমার লেখার ঘরের স্তূপীকৃত বইয়ের ভেতর কোথাও না কোথাও বিরাজ করছে, তা জানা সত্ত্বেও কিনে ফেললাম ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শকুন্তলা, আল-বেরুনির ভারততত্ত্ব, অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতাস একটি নদীর নাম এবং রবার্ট ফ্রস্টের কবিতা (শামসুর রাহমান অনুবাদিত)। এই বই ছাত্রজীবনে ভীষণ সস্তায় অনেক কপি কিনে বন্ধুদের উপহার দিয়েছিলাম, এতে একটা অবিস্মরণীয় লাইন আছে: আই হ্যাড আ লাভারস কোয়ার্রল উইথ দ্য ওয়ার্ল্ড। পৃথিবীর সঙ্গে আমার ঝগড়াটা প্রেমিকের ঝগড়া।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মুক্তধারা নিউইয়র্ক, শিশু একাডেমি, সিআরআই, সেই বই, বইটই—নানা রকমের স্টল দ্রুতপায়ে এড়িয়ে এবং পেরিয়ে চলে এলাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। মুখে মাস্ক পরে রেখে বাতিঘরে গিয়ে কিনলাম মুখোমুখি বঙ্গবন্ধু: ৫০টি সাক্ষাৎকার ও কথোপকথন (জামিল বিন সিদ্দিক সম্পাদিত), দীনেশচন্দ্র সেনের প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান, তানজিনা হোসেনের এটা একটা প্রেমের গল্প হতে পারত। তানজিনার উপহৃত (বিনিময়ে ফেসবুকে ফটো প্রচারিত) বইটা অফিসে আমার বইয়ের শেলফে কোথাও আড়াল হয়ে আছে। বই খোঁজার চেয়ে কিনে ফেলা সহজ। তাতে সময় বাঁচে। লেখক, প্রকাশক, বাইন্ডারদের উপকার করা হয়। আনিসুজ্জামান স্যারের মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য আমার কাছে তিন কপি আছে (কোনটা কোথায় আছে, জানি না। কিছুদিন আগে বিছানার পাশটেবিলে একটা কপি ছিল।) গীতবিতান, সঞ্চয়িতা, জীবনানন্দ, মানিক—একই বই আমার কাছে দুই কপি করে আছে। তাতে খুঁজে পেতে খাটতে হয় কম। বাতিঘরে দেখি পুতুলনাচের ইতিকথা বেরিয়েছে এবং তাতে আমার লেখা ভূমিকা স্বনামে মুদ্রিত। বিক্রেতাকে ঝাড়ি মেরে এক কপি ব্যাগে চালান করে দিলাম। ওরহান পামুকের ইস্তানবুল আমার কাছে ইংরেজিটা আছে, সামনে বাংলা অনুবাদ দেখে কেনার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। নাগরীতে গিয়ে মোহাম্মদ রফিকের পথিক পরান ১, ২ ও ৩ খণ্ড কিনে ফেললাম। যদিও প্রথম খণ্ডটাকে সমকাল–ব্র্যাক ব্যাংক পুরস্কার দেওয়ার পর পুরস্কারদাতারা বইয়ের একটা কপি নানাজনকে উপহার দিয়েছেন, আমিও পেয়েছি এক কপি। পড়ে দেখেছি, সাংঘাতিক বই। সাজ্জাদ শরিফ ভাইকে বলেছি, পড়ে দেখেন। তিনিও পড়তে শুরু করে আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এর খোঁজ জানানোর জন্য। ভালো বই বারবার কিনতে হয় নীতি মেনে প্রথম খণ্ডটাও না কিনে পারলাম না। সংহতি খুঁজে বের করে কিনলাম মোহাম্মদ আজমের সাংস্কৃতিক রাজনীতি ও বাংলাদেশ। এই বইটার খোঁজ দেওয়ার জন্য সাজ্জাদ শরিফকে ধন্যবাদ জানাতে হবে। তবে বইটা ‘ডিস্টার্বিং’ হওয়ার ‘চান্স’ আছে। সে ক্ষেত্রে নিউরনে বইটা কত দিন অনুরণন তুলে রাখবে, এই দুশ্চিন্তা হচ্ছে বটে।

সময় প্রকাশনে গিয়ে মুহম্মদ জাফর ইকবালের আমি পরামানব টোল হিসেবে তুলে নিয়ে এসেছি। যেমন অনন্যায় মনিরুল হক দম্পতির আপ্যায়ন উপভোগ করতে করতে আল মাহমুদ কবিতাসমগ্র ১ ও ২ ব্যাগে চালান করা খতম। প্রথমা প্রকাশনের প্যাভিলিয়নে এসে বসলাম আমি আর মেরিনা। ফাল্গুনের সূর্য পশ্চিমে হেলতে শুরু করলেও প্রথমা তাদের রোদপ্রতিরোধক শামিয়ানা সরায়নি। মেলায় তেমন ভিড় নেই। স্বাধীনতাস্তম্ভের দিকে মুখ করে সরোবরের পানিতে তরঙ্গের খেলা দেখছি। ভাবলাম, ঢেউ গোনার চেয়ে বই পড়া ভালো। শাহীন আখতারের বহু পুরস্কারজয়ী ময়ূর সিংহাসন পড়তে শুরু করে মোহিত হয়ে গেলাম। শাহীন আপার ভাষা তো সামনের লেকের পানির চেয়েও স্বচ্ছ ও ঝকঝকে। বিক্রয়কর্মীকে বললাম, ‘এক কপি ময়ূর সিংহাসন বিক্রি করো।’ মেরিনা বলল, ‘ময়ূর সিংহাসন তোমার পড়ার টেবিলের ডান পাশের দ্বিতীয় তাকে আছে, ওটা আর কিনো না।’ আমি বললাম, ‘আমার নীতি একটাই—বেশি করে বই কিনুন, ভালো বই দুই কপি, তিন কপি, চার কপি, এক শ কপি কিনুন। নিজে পড়ুন এবং উপহার দিন।’

মেরিনা মন দিয়ে তানজিনার বইটা পড়ছিল বলে বোধ হয় আর তর্ক করল না।

রোদ মরে এলে ফাল্গুনের দখিনা বাতাস বইতে শুরু করল। ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’ গাইতে গাইতে চারদিকে তাকালাম। সামনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী অগ্নিনির্বাপকযন্ত্র নিয়ে সদা প্রস্তুত। এবার মেলা চৈত্র পর্যন্ত গড়াবে, আগুনের ব্যাপারে তাই সাবধান থাকতেই হবে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী নারী লাঠির ডগায় পেরেক বেঁধা যন্ত্র দিয়ে কাগজ আর পলিথিন মেলার মাঠ থেকে তুলছেন, টেঁটা দিয়ে মাছ ধরার মতো করে। এই যন্ত্রটা একটা অনন্য আবিষ্কার। বাংলা একাডেমিতে ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শৌচাগারে লিকুইড সাবান, টয়লেট পেপার, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর উপস্থিতি স্বস্তি দেয়—দেশ আসলেই এগোচ্ছে। উদ্যানে ঢোকার মুখের তথ্যকেন্দ্র কাজ করছে কি না, যাচাই করার জন্য জিজ্ঞাসা করলাম, কাকলী প্রকাশন কই? তাঁরা ল্যাপটপে দেখে প্যাভিলিয়ন নম্বর জানালেন এবং এ-ও জানালেন যে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের দিকে। শুনে আশ্বস্ত হলাম। মেলায় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা তৎপর। আমার সঙ্গে সেলফি তুলতে এসে সাদাপোশাকের গোয়েন্দাকর্মী নিজের পরিচয় দিলে বুঝি, মেলা অরক্ষিত নয়। নতুন মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে তো বিশাল লাইন, আজও মোড়ক উন্মোচন করতে এসেছেন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন—মাইকে শুনেছি, চোখে দেখিনি।

বইমেলা চত্বর সুবিস্তৃত, স্টলমালিকেরা রুচি ও সাধ্যমতো সাজিয়েছেন স্টল আর প্যাভিলিয়ন। স্বাধীনতাস্তম্ভ, সরোবর, মাঠ, বৃক্ষ মিলে সন্ধ্যার পর এই জায়গায় এসে শুধু বসে থাকলেই মন ভালো হয়ে যাবে। চাঁদ বড় হচ্ছে, পূর্ণিমা আসছে। তবে স্থাপনা ও তোরণসজ্জা এবার একটু সস্তা ধরনের মনে হলো। ডিজিটাল প্রিন্টের ব্যানার আর কারাগার বানানোর নড়বড়ে বাঁশের কাঠামো দেখে মনে হলো, বাজেট বোধ হয় টানাটানির ছিল। একটা আশ্চর্য কথা শুনেছিলাম গতবার, স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝরের কাছে, বইমেলার জন্য সরকারের কোনো বরাদ্দ নেই কিন্তু বেসরকারি লিটফেস্টের জন্য সরকার কোটি টাকা দেয়! বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে না কথাটা। ব্যাপারটা কি আসলেই সত্য?

বইমেলা চত্বরে সুদৃশ্য কফির ক্যাফেটেরিয়া আছে, বিকাশের ফ্রি কফি আছে, আছে হাজীর বিরিয়ানির দোকান।

লেখক ও টিভি সাংবাদিক ইশরাত জাহান ঊর্মি আর মেরিনাকে নিয়ে হাজীর বিরিয়ানির স্টলে বসতে বসতে সন্ধ্যা উত্তীর্ণ। এইখানে এত ক্রেতা যে বিক্রেতারা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। বুঝলাম, বইয়ের বিক্রেতা আর খাবারের ক্রেতা হয়ে ভুল করেছি। আমার হওয়া উচিত ছিল বইয়ের ক্রেতা আর খাবারের বিক্রেতা। সামনেরবার একাডেমির কাছ থেকে একটা খাবারের স্টল বরাদ্দ নেওয়া যায় কীভাবে, কেউ বলতে পারেন?

বইমেলায় বসার জায়গা আছে, লেখক বলছি মঞ্চ আছে, সেমিনারের মঞ্চটা একাডেমি চত্বরে, যেখানে বিকেলের সেমিনারে শ্রোতা হিসেবে থাকে পুলিশ, সন্ধ্যার পর গান শুরু হলে জড়ো হন সংগীতানুরাগী জনতা। ফেরার পথে শুনি মাইকে ভেসে আসছে শিল্পীর কণ্ঠনিঃসৃত ভাওয়াইয়া, ‘ও কি একবার আসিয়া সোনার চান মোর যাও দেখিয়া...’

সোনার চান পাঠক-ক্রেতা-লেখকদের বলি, আরেকবার মেলায় আসুন, ফাল্গুনের পূর্ণিমা রাতে কিন্তু ‘পলায়া যাওয়ার’ জন্য বইমেলার চেয়ে সুন্দর জায়গা আর পাবেন না!