বিজয়ের তারাবাতি

কোলাজ: মনিরুল ইসলাম
বিজয়ের দিনে পড়ুন বিজয়ের কবিতা

আমি কবি—
যখন আমিও থাকব না সারস্বত এ বাংলায়
বিজয়ের তারাবাতি তখনো জ্বলবে এই আকাশপাড়ায়;
শিশুদের অফুরান হাসিতে ঝরবে পতাকার তীব্র লাল
সেন্টমার্টিন দ্বীপের মতো আশাজাগানিয়া
সতত ষোলোই ডিসেম্বর,
বুকের গভীরে খুব বাজাবে খঞ্জনা;
আমার শৈশবে ভর করে নেচে যাবে
ভবিষ্যৎ সূত্রধর অহম বালক;

আমি কবি—
যখন আমিও থাকব না—
এই আকাশপাড়ায়;
আরিচার ঘাটে ঘাটে কামার-কুমার-জেলে
আর মাঝি মিলে পাল তুলে দেবে কালিগঙ্গার জলে
শক্ত হাতে ফের বুঝে নেবে প্রত্যাশার স্বপ্নতরী,
পদ্মার পাগলপারা জলের মোহনায়
মাধুরী মদিরা ঢেলে দেবে মেঘনার স্রোত,
স্বদেশ রাঙানো চাঁদ প্রদীপের মমত্ব-মায়ায়
সেদিনও জ্বলে উঠবে বাংলার আকাশজুড়ে,
প্রাচীন বুড়িগঙ্গা, তুরাগ আর বালু নদের তীরে
মরিচা বাতির নানা উজ্জ্বলতা নিয়ে বিস্মৃত কার্নিশে
হলুদ পাখির মতো ডেকে যাবে রাজধানী ঢাকার শহর
জয় বাংলা ধ্বনিতে জেগে উঠবে বিজয় মিছিলের ঢেউ
মানচিত্রজুড়ে আনন্দ বাঁশি বাজাবে কেউ
রাজভাষা আমরি বাংলায়;
ইতিহাস খুঁড়ে জেগে উঠবে সেন, সুলতান, মোগল,
পরিশেষে ব্রিটিশ বেনিয়ার বিভাজন ভেঙে দিয়ে
আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম একাত্তর,
বিজয়ের মিছিলে জন্ম নিয়ে দেখেছি স্বাধীন বাংলাদেশ;
মহান নেতার মহান দেশ!

আমি কবি—
যখন আমিও থাকব না সারস্বত এ বাংলায়
বিজয়ের তারাবাতি তখনো জ্বলবে এই আকাশপাড়ায়;
তিরিশ লক্ষ রাত্রির বিভূতিময় রঙে-রূপে
খুলে যায় যদি দ্রুত, বীর শহীদের স্বপ্নলোক;
দু লক্ষ মা-বোনের আর্তচিৎকার কাঁধে নিয়ে
এই বিজয়ের দিনে আসে তারা আমাদের মনে,
সোহরওয়ার্দী উদ্যানের চেনা পথে হেঁটে যেতে যেতে
তিরিশ লক্ষের কণ্ঠে শুনি সেই অমৃত সংগীত
বিহ্বল মনোরথে সারা রাত জেগে তারা শোনে
লালনের গান—ধুলোমাখা যার সাধ ও সাধনা;

আমি কবি—
যখন আমিও থাকব না সারস্বত এ বাংলায়
বিজয়ের তারাবাতি তখনো জ্বলবে এই আকাশপাড়ায়;
তখনো আমার শপথের সজল পাখিরা
ডানা মেলে দেবে জানি তুমুল হাওয়ায়
আর স্বপ্নগুলো ফের সুন্দরবনের হরিণের মতো
আদিগন্ত ছুটে ছুটে বেড়াবে সুন্দর,
মায়ের স্বর্ণাঞ্চলজুড়ে শাপলা ও শালুকের মতো
ফুটে থাকবে আমারই কবিতার শব্দগন্ধ...

আমি কবি—
যখন আমিও থাকব না সারস্বত এ বাংলায়,
বিজয়ের তারাবাতি তখনো জ্বলবে এই আকাশসীমায়।

অন্যআলো ডটকমে লেখা পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]