চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের যে জায়গায় বিপণিবিতান উঠছে, সেই জায়গাটিতে নালা রয়েছে। নালার ওপরে অবকাঠামো নির্মাণ করা মানে বর্ষার সময় অতিরিক্ত পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়া। জায়গাটির আশপাশে আগে থেকেই বড় বড় বিপণিবিতান থাকায় নতুন বিপণিবিতান হলে এলাকাটিতে চলাচলের রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

মঙ্গলবারের প্রথম আলোয় এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ থেকে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও লোকজন মনে করছেন, অনুমোদনহীন দোকানগুলো নির্মিত হলে বিদ্যমান বিপণিবিতানগুলোর অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা হুমকিতে পড়বে। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের পথও সংকীর্ণ হয়ে যাবে বলে তাঁরা মনে করছেন। তা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও থাকছে। এত সব কারণ থাকায় উচ্চ আদালতও নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা দেন। তার পরও সিটি করপোরেশন কিসের ভিত্তিতে অবৈধ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে? উল্লেখ্য, তারা এভাবে আরেকটি জায়গায় নালার ওপর বিশ্ববিদ্যালয় ভবনও নির্মাণ করেছে।

ব্যবসার উদ্দেশ্যে এভাবে আইনের লঙ্ঘন ও জনস্বার্থ উপেক্ষা করা যায় না। যেখানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেরও অনুমোদন নেই, সেখানে এই প্রকল্প কোনোভাবেই চলতে পারে না। এ রকম উপেক্ষা ও অনিয়মের ফলে দেশে অনেকগুলো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এসব দেখার দায়িত্ব ছিল স্বয়ং মেয়রের। কিন্তু তিনি যখন আইন মানছেন না, তখন সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকেই এগিয়ে আসতে হবে।

রানা প্লাজা ধসে পড়ার কারণ ছিল অননুমোদিত নির্মাণ এবং ভুল নকশা। এরপর আশা করা গিয়েছিল যে, নির্মাণকাজে আইনি ও কারিগরি ত্রুটির সুযোগ অন্তত সরকারি প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই রাখবে না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে অতীতে নিজেদের ও অন্যদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মতামত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন