নির্বাচনী অঙ্গীকারে স্বাস্থ্য অর্থায়নের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা জরুরি

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকাছবি: তানভীর আহাম্মেদ

বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণায় স্বাস্থ্য খাতের প্রতিশ্রুতি ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো কোনো দল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপির) ৫ শতাংশ, আবার কেউ কেউ ৬ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের অঙ্গীকার করছে। তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বিশ্লেষণ করা জরুরি।

বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত ব্যয় দাঁড়ায় ২ লাখ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা বর্তমান বরাদ্দের পাঁচ থেকে সাত গুণ। অথচ গত এক দশকের বাজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্বাস্থ্য খাত বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় করতেই ব্যর্থ হয়। আবার যে অংশ ব্যয় করা হয়, তারও উল্লেখযোগ্য অংশ অপচয়, অদক্ষতা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনে না।

এই বাস্তবতায় কেবল বরাদ্দ বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়; বরং কীভাবে সেই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যয় করা যাবে এবং কীভাবে অপচয় রোধ করা সম্ভব, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি। অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক ম্যাক্রোইকোনমিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে, যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, এই মুহূর্তে এত বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয় বহনের সক্ষমতা রাষ্ট্রের নেই। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে এমন বিশাল ব্যয়ের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয়তাও বাস্তবসম্মত নয়।

যথাযথ পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে বর্তমান বাজেটের দ্বিগুণ বা সামান্য বেশি বরাদ্দই কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট হতে পারে। অর্থাৎ জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত স্বাস্থ্য ব্যয় একটি বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য।

এই পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনী অঙ্গীকারে অবাস্তব সংখ্যার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে একটি বাস্তবভিত্তিক, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য এবং জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্য অর্থায়ন কাঠামোর স্পষ্ট রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন

অর্থায়ন কাঠামোর রূপরেখা প্রণয়নে প্রথমেই তিনটি মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। নাগরিকেরা কি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে বাস্তব অর্থে ক্ষমতাবান? সরকারি সেবাদানকারীরা কি যথাযথভাবে অনুপ্রাণিত ও প্রণোদিত? এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আকর্ষণ কি সত্যিই বিদ্যমান? বাস্তবতা হলো, বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে এই তিনটি প্রশ্নের কোনোটিরই সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায় না।

এই ব্যর্থতার পেছনে রয়েছে আরও গভীর তিনটি অজানা বিষয়। সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে রোগীরা যে সেবা পাচ্ছেন তার প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে সচেতন নন; সেবাদানকারীরা যে সেবা দিচ্ছেন তার আর্থিক ও সামাজিক মূল্য তাঁরা স্পষ্টভাবে জানেন না, এবং সরকারও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা অর্থের প্রকৃত রিটার্ন যথাযথভাবে পরিমাপ করতে পারে না। এই অজানা বিষয়গুলো দূর করতে হলে এমন একটি নীতিগত কাঠামো প্রয়োজন, যা নাগরিক, সেবাদানকারী ও রাষ্ট্র—এই তিন পক্ষের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। সেই লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য রূপরেখা নিচে উপস্থাপন করা হলো।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করা গেলে রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় হ্রাস—এই তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব। এই স্তরে করভিত্তিক অর্থায়নের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক, প্রোমোটিভ ও মৌলিক চিকিৎসাসেবা, বিশেষত সাধারণ বহির্বিভাগীয় সেবা সম্পূর্ণভাবে অর্থায়ন করার প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে, যাতে সবার জন্য বিনা মূল্যে ও ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা যায়।

আরও পড়ুন

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য গ্রামীণ কমিউনিটি ক্লিনিক, ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার ও ইউনিয়ন সাবসেন্টারগুলোকে বিচ্ছিন্ন কাঠামো থেকে বের করে এনে একীভূত ও কার্যকরভাবে পুনর্গঠন করার প্রয়োজন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে একটি স্বতন্ত্র প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষের আওতায় এনে পরিকল্পনা, জনবল ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে সমন্বয় জোরদার করা যেতে পারে। সেবাদানের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করবে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র; তবে পাহাড়, চর, হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে।

অর্থায়নের দিক থেকে করভিত্তিক ব্যবস্থা বজায় রেখে প্রচলিত লাইন-আইটেম বাজেটের পাশাপাশি কর্মদক্ষতা-ভিত্তিক প্রণোদনা চালু করা জরুরি। এতে স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ববোধ ও সেবার মান উভয়ই বাড়বে। একই মডেল উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের পৌরসভাগুলোয়ও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। বড় সিটি করপোরেশনগুলোয় ‘আলো ক্লিনিক’-এর মতো সেবা প্রদান মডেল অথবা কৌশলগত ক্রয়ের মাধ্যমে বেসরকারি সক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে। এসব উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা কমিয়ে সমন্বয় ও সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে জনগণকে সত্যিকার অর্থে ক্ষমতায়িত করতে ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করতে এই রূপান্তরমূলক স্বাস্থ্য অর্থায়ন কাঠামো গ্রহণের বিকল্প নেই।

এই প্রাথমিক স্তরের অর্থায়নের সুফল বহুমাত্রিক। নাগরিকেরা বিনা মূল্যে ও ন্যায্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার পেলে তাদের ব্যক্তিগত ব্যয় কমবে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত ফলাফল উন্নত হবে। নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজের প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য কর্মী বাহিনীর জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ ও পেশাগত অগ্রগতির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই স্তরে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্পদ ঘাটতি পূরণ ও প্রণোদনা প্রদানের জন্য ১০-১৫ হাজার কোটি টাকার মতো অতিরিক্ত খরচ হবে।

প্রস্তাবিত কাঠামোর দ্বিতীয় স্তর হলো মধ্যবর্তী সেবার অর্থায়ন, যা প্রাথমিক ও উন্নত সেবার মধ্যে একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে। এই স্তরে রেফার করা বহির্বিভাগীয় সেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, ভর্তি রোগী সেবা এবং মৌলিক জরুরি সেবার জন্য পরিবারপ্রতি বছরে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা সীমাসহ একটি ফ্যামিলি হেলথ কার্ড চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কার্ড নাগরিকদের জন্য সেবার নিশ্চয়তা তৈরি করবে এবং হঠাৎ বড় ব্যয়ের ঝুঁকি কমাবে।

এই ব্যবস্থায় করভিত্তিক অর্থায়নের মাধ্যমেই সীমা নির্ধারিত (সিলিং বেজড) বেনিফিট প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা যুক্তিসংগত হবে। এই ক্ষেত্রে পারিবারিক স্বাস্থ্য কার্ড প্রচলন করতে হবে, যার বার্ষিক সিলিং প্রাথমিকভাবে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

প্রচলিত লাইন-আইটেম বাজেটের পাশাপাশি ব্লক বরাদ্দ, নমনীয় ব্যয় এবং কর্মদক্ষতাভিত্তিক প্রণোদনার সমন্বয় রাখতে হবে, যাতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদ ব্যবহার করতে পারে। সেবাদানে প্রধান ভূমিকা থাকবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের; তবে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা না থাকলে তালিকাভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কৌশলগতভাবে সেবা ক্রয়ের সুযোগ রাখা হবে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে ডায়াগনসিস-রিলেটেড গ্রুপভিত্তিক (ডিআরজি) বান্ডেলড মূল্য নির্ধারণ এই স্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

মধ্যবর্তী সেবার এই অর্থায়ন ব্যবস্থা নাগরিকদের জন্য নিশ্চয়তাপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করে আর্থিক চাপ কমাবে এবং সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়াবে। নীতিনির্ধারকদের কাছে ফ্যামিলি হেলথ কার্ড একটি দৃশ্যমান ও ভোটারবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে কার্যকর শাসনব্যবস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে নমনীয় অর্থায়ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সেবা দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে। এই স্তর বাস্তবায়নের জন্য ১০-১২ হাজার কোটি টাকার মতো অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন হবে।

গুরুতর বা জটিল ব্যাধি/অসুস্থতা ও দুর্ঘটনাজনিত সেবার অর্থায়ন। এখানে ক্যানসার চিকিৎসা, কিডনি ডায়ালাইসিস, স্ট্রোক ব্যবস্থাপনার মতো গুরুতর রোগ এবং দুর্ঘটনা বা আঘাতজনিত চিকিৎসার জন্য একটি ‘জাতীয় স্বাস্থ্য তহবিল’ গঠন করতে হবে। এই তহবিলের আওতায় পরিবারপ্রতি বছরে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সেবা সীমা (সিলিং) নির্ধারিত থাকবে, যা গুরুতর অসুস্থতার সময় পরিবারকে আর্থিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করবে।

এই তহবিলের অর্থায়ন আসবে উদ্ভাবনী উৎস ও জাতীয় বাজেটের সমন্বয়ে। মুঠোফোন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিদিন এক টাকা করে আদায়, তামাক, চিনি ও অতিরিক্ত সোডিয়ামযুক্ত খাদ্যের ওপর স্বাস্থ্য কর এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের একটি অংশ—এসব উৎসের সঙ্গে জাতীয় বাজেট থেকে তিন থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা করতে হবে। বরাদ্দ পদ্ধতিতে এখানেও প্রচলিত বরাদ্দের পাশাপাশি ব্লক বরাদ্দ, নমনীয় ব্যয় ও কর্মদক্ষতাভিত্তিক প্রণোদনার সমন্বয় থাকবে।

সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠান এই সেবায় যুক্ত হতে পারবে, তবে ডিআরজিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ও তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কৌশলগত সেবা ক্রয় নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা পর্যটন নিরুৎসাহিত করতে সুবিধাগুলো দেশের ভেতরে প্রদত্ত সেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই স্তর নাগরিকদের জন্য গুরুতর রোগের ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা ও ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি উদ্ভাবনী অর্থায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে, আর স্বাস্থ্য কর্মী বাহিনীর জন্য বাড়তি সম্পদ ও প্রণোদনা মনোবল ও প্রশিক্ষণ সক্ষমতা উন্নত করবে। এই ক্ষেত্রে যে অর্থ প্রয়োজন হবে, তা মূলত উদ্ভাবনী রাজস্ব উৎসের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে।

এই তিন স্তরের কাঠামো কার্যকর করতে হলে কিছু মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার একীভূত কাঠামো প্রতিষ্ঠা, সীমা নির্ধারিত (সিলিং বেসড) বেনিফিট প্যাকেজ চালু, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ সম্প্রসারণ, ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, সর্বজনীন ফ্যামিলি হেলথ কার্ড প্রবর্তন এবং একটি জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় স্বাস্থ্য তহবিল প্রতিষ্ঠা।

পরিশেষে বলা যায়, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে জনগণকে সত্যিকার অর্থে ক্ষমতায়িত করতে ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করতে এই রূপান্তরমূলক স্বাস্থ্য অর্থায়ন কাঠামো গ্রহণের বিকল্প নেই। করভিত্তিক অর্থায়ন, উদ্ভাবনী রাজস্ব উৎস এবং কৌশলগত সংস্কারের সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল, ন্যায্য ও টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। বিদ্যমান সম্পদের কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার, স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত ও ধারাবাহিক বাজেট বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী অর্থায়ন উৎসের সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই এই সংকটের টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি মোকাবিলা সম্ভব।

এই রূপরেখার আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেন তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্য অর্থায়নের বিষয়টি সুস্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে।

  • ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ অধ্যাপক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; আহ্বায়ক, ওয়েল-বিয়িং-ফাস্ট ইনিশিয়েটিভ, বাংলাদেশ; আহ্বায়ক, অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস বাংলাদেশ (এএইচআরবি); এবং প্রধান উপদেষ্টা, ইউনিভার্সাল রিসার্চ কেয়ার লিমিটেড।