বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৮ সালে সরকার মিয়ানমার রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট বা জনপ্রশাসন বিভাগ ভেঙে দেয়। এই বিভাগকে সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ থেকে সরিয়ে সেটিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিচালিত একটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা হয়। এতে দেশ পরিচালনায় জেনারেলদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

চলতি বছর সামরিক বাহিনী নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর জান্তা সরকার আগের সব আইন পুনর্বহাল করেছে। সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিয়েই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ওয়ার্ড ও গ্রাম এলাকা প্রশাসকদের বরখাস্ত করে তাঁদের জায়গায় নিজেদের অনুগত লোকদের বসিয়েছে। এই লোকদের বেশির ভাগই সাবেক সেনাসদস্য। সেনা সরকার আবার জনপ্রশাসন দপ্তরকে সামরিক দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

জান্তা সরকার জনস্বাস্থ্যসহ অনেক জনপরিষেবা অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। এটি জান্তাবিরোধী বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জান্তা সরকার একদিকে সহিংসভাবে বিক্ষোভ দমন করছে, অন্যদিকে কমিউনিটি প্রশাসকদের দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের সামাজিক প্রতিরোধকে থামিয়ে দিতে চেষ্টা করছে। এই স্থানীয় প্রশাসকেরা এখন শুধু সামরিক বাহিনীর সঙ্গে হাতে হাত রেখে কাজ করছেন তা-ই নয়, তাঁরা জান্তাপন্থী মিলিশিয়া বাহিনী ‘পিউ স্য তি গ্রুপ’-এর সঙ্গেও ভিন্নমতাবলম্বী দমনে কাজ করছেন। তাঁরা স্থানীয় বিক্ষোভকারী ও বিক্ষোভকারীদের প্রতি সামান্যতম সহমর্মিতা থাকা লোকদের বিষয়ে সেনাবাহিনীর কাছে তথ্য দিচ্ছেন, মুক্তিপণ আদায়ের জন্য লোকজনকে তুলে নিচ্ছেন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো অপরাধে তাঁরা জড়িয়ে পড়ছেন।

সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী থেকে কয়েক হাজার সদস্য পক্ষত্যাগ করে গণপ্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। একটি বেসরকারি সংস্থা বলেছে, তারা অন্তত আট হাজার পক্ষত্যাগী সেনাসদস্যের কথা জানতে পেরেছে। নতুন করেও সেনাসদস্য নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, সাধারণ মানুষ যোগ দিতে চাইছেন না

তাঁদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক সাধারণ মানুষ হাতে অস্ত্র তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতিরোধ বাহিনীর সহায়তায় অনেক জায়গায় ওই সব অত্যাচারী প্রশাসককে হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। জান্তা সরকার পুরো দেশে নিরঙ্কুশভাবে স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছে। এর জন্য তারা তৃণমূল পর্যায়ের লোকদেরও নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাচ্ছে। কিন্তু জান্তা সরকার তাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী থেকে কয়েক হাজার সদস্য পক্ষত্যাগ করে গণপ্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। একটি বেসরকারি সংস্থা বলেছে, তারা অন্তত আট হাজার পক্ষত্যাগী সেনাসদস্যের কথা জানতে পেরেছে। নতুন করেও সেনাসদস্য নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, সাধারণ মানুষ যোগ দিতে চাইছেন না। এ কারণে সেনা সরকার অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের স্থানীয় পর্যায়ের জনবিক্ষোভ সামাল দিতে নিয়োগ করছে।

২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হওয়া আইনপ্রণেতাদের জোট সংগঠন ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট, গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনকর্মীরা এবং আদিবাসী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গ্রুপগুলো জান্তাবিরোধী আন্দোলনে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আদিবাসী সংখ্যাগরিষ্ঠ বামার রাজ্যে জান্তা সরকার কোনোকালেই অর্থবহ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। জান্তাবিরোধী পিপলস ডিফেন্স ফোর্স সে রাজ্যের কয়েকটি অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে বলে তারা দাবি করছে। সেখানে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের সমর্থক কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রশাসনব্যবস্থা চালাচ্ছেন।

ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট জান্তা সরকারের সমান্তরাল শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে এবং জনগণের জোরালো সমর্থন পাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে ‘গণপ্রতিরোধযুদ্ধ’ ঘোষণা করার পর এই সরকার সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। বলা হচ্ছে, চার লাখ সরকারি অনুগত কর্মচারী বিভিন্ন এলাকা ‘মুক্ত করতে’ তাদের সমর্থন দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ জাতীয় ঐক্যের সরকারকে সমর্থন দেওয়ায় জান্তা সরকার বেকায়দায় পড়তে শুরু করেছে।

এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

ফিলিপ আন্নাবিত মিয়ানমার সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন