বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র কী বলছে চীন সেটা খুব কম ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দেয়। বিষয়টি আমেরিকানরা অনেক আগেই বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু আমেরিকানদের যে অনন্য আত্মাভিমান, তাতে চীনের সঙ্গে খামাখা ব্যাক্যালাপ মোটেই মানানসই নয়। এরপরও যদি যেকোনো বিষয়, যেমন জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলাপ শুরু হয়, তাহলে অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনার রাস্তা খুলতে পারে। আর তাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোও সম্ভব হতো।

না, সেটা হওয়ার নয়। চীন যুক্তরাষ্ট্রের কথায় কর্ণপাত করে না। এ কারণে কোরীয় উপদ্বীপে এখনো যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কথায় চীন ভ্রুক্ষেপ না করা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি বদলাবে না। চীন কখন যুক্তরাষ্ট্রের কথায় কর্ণপাত করে, এ ব্যাপারে চীনের সঙ্গে চার দশক ধরে গভীরভাবে কাজ করেছেন এমন একজন পর্যবেক্ষক, তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে তিনটি বিষয় তুলে এনেছেন।

এক. সম্পদ ও ক্ষমতার দিক থেকে যখন যুক্তরাষ্ট্র চীনের তুলনায় শক্তিশালী থাকে, দুই. যুক্তরাষ্ট্র যখন চীনের কাছে উপযাচক হয়ে কিছু চায়; এবং তিন. যুক্তরাষ্ট্র যখন চীনের মূল মূল্যবোধে পাত্তা দেয় না। চীন যখন যুক্তরাষ্ট্রের কথায় কর্ণপাত করে বলে মনে করা হয়, তখন প্রকৃতপক্ষেই কি তারা গুরুত্ব দেয়? যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শোনার যে মানে, চীনের কাছে কিন্তু সেটা নয়। চীন খুব ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করে, যতক্ষণ পর্যন্ত না যুক্তরাষ্ট্র এই উপলব্ধিতে না পৌঁছাবে যে ‘চীনের অবস্থানটাই সঠিক’।

গত সপ্তাহে সি চিন পিং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে যে মন্তব্যটি করেছেন, সেটা ভালো করে খেয়াল করুন। বেইজিংয়ের দিক থেকে ‘একসঙ্গে কাজ করার’ অর্থ হচ্ছে, ‘তোমরা যা চাও সে বিষয়ে তোমাদের সহযোগিতা করা হবে’। আবার কিছু ক্ষেত্রে চীন তখনই কোনো কিছু শোনে, যখন তারা যা চায় তা আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। ‘উইন-উইন, যৌথ সম্মান, যৌথ উপকার, নতুন মহাশক্তির মধ্যে সম্পর্ক—এসব নামে তাদের অনেক কিছু দেওয়া হয়। অন্য কথায় চীন তখনই আমাদের কথা শোনে, যখন তাদের স্বার্থটা বেশি হাসিল করা যায়। এ কারণে তাদের এই কর্ণপাতের ব্যাপারটা তখন শুধুই মূল্যহীন নয়, সেটা ক্ষতিকরও।

কিন্তু এত ছাড় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে আপসরফা করে, সেটার পরিণতি কী হয়? এমনকি যুক্তরাষ্ট্র যদি সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে চীনের সঙ্গে চুক্তি করে, সে ক্ষেত্রেও এমন কোনো নজির নেই চীন তার প্রতিশ্রুতি রেখেছে। কয়েকটি দৃষ্টান্ত দেওয়া যাক। এক. ২০১৫ সালে সি চিন পিং বারাক ওবামার কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট দ্বীপে তাঁরা সামরিকায়ন করবেন না। দুই. সি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রমুখী ফেন্টালিনের চালান বন্ধ করবেন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের লাখো মানুষের মৃত্যুর কারণ এই মাদক। তিন. বেইজিংয়ের স্বাক্ষরিত গণহত্যা চুক্তি। চার, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম মানার প্রতিশ্রুতি চীন দিয়েছিল। পাঁচ. সমুদ্র আইনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কনভেনশন মেনে চলার অঙ্গীকার করেছিল চীন। ছয়. জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তি। যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যকার সাম্প্রতিক জলবায়ু চুক্তিটা লক্ষ করুন। এ চুক্তিতে চীনের অস্পষ্ট অবস্থান শেষ পর্যন্ত কোনো ফলাফল আনবে না।

চীন যেসব প্রতিশ্রুতি রেখেছে, সেই তালিকা খুব ছোট। সম্ভবত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি চীনের কমিউনিস্ট পার্টি রক্ষা করেছে। তা হলো, চীন-উত্তর কোরিয়া চুক্তি। উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট শাসন ৭০ বছর ধরে তারা টিকিয়ে রেখেছে। যদিও এখনো যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে চীনকে শোনানোর চেষ্টা করেই যাচ্ছে।

এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনূদিত

গ্রান্ট নিউজহ্যাম সাবেক মার্কিন কূটনীতিক এবং টোকিওতে অবস্থিত জাপান ফোরাম ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন