সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন খেরসন অঞ্চলের ওপরে আক্রমণ বাড়িয়েছে। সেই আক্রমণের মুখে খেরসনের বেসামরিক মানুষদের ‘বলপূর্বক’ খেরসন থেকে সরানো হচ্ছে। এর পেছনে রাশিয়া সরকারের যুদ্ধ-কৌশল আছে, এমন আলোচনা থাকলেও এটিকে আপাতদৃষ্টিতে রাশিয়ার দুর্বলতা বলে দেখা যেতেই পারে।

পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দিই, খেরসনই হচ্ছে ইউক্রেনের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ শহর, যেটি ইউক্রেন আগ্রাসনের একেবারে শুরুর দিকে দখল করা হয়। রাশিয়া যেহেতু কিছুদিন আগে তথাকথিত গণভোটের মাধ্যমে এলাকাটিও রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করেছে, তাই তাদের ভাষ্যমতে, খেরসনের ওপরে প্রতিটি আক্রমণ মানেই রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ। তাই পুতিনের দিক থেকে আগের হুমকি দেওয়াজনিত মুখ রক্ষার একটা ব্যাপার থাকার কথা।

কয়েক দিন আগে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় একটি খবর এসেছে, যেটি এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বের দাবি রাখে। বিবিসির রিপোর্ট থেকে প্রথম আলো যে রিপোর্ট করেছে, তার একটি অংশ এ রকম—ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে কখন ও কীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গত মাসে (অক্টোবর) আলোচনা করেছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিবিএস নিউজকে রুশ কমান্ডারদের ওই আলোচনা সম্পর্কে বলেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
সব কটি বিষয়কে যদি একত্র করে দেখা হয়, তাহলে এটা মনে হওয়ারই কথা, ইউক্রেনের ওপর একটি তুলনামূলক স্বল্প ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত করার মতো কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র (ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার ওয়েপন) ব্যবহার করার সম্ভাবনা যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

ইউক্রেনের তুলনামূলক অনেক কম জনবসতির এলাকায়, নাকি সমুদ্রে কিংবা ইউক্রেনের আকাশসীমায় অনেক উঁচুতে বোমাটি ফাটানো হবে কি না, সেই আলোচনাও আছে। আছে এর পরের পদক্ষেপ পশ্চিমাদের কী নেওয়া উচিত হবে, সেই আলোচনাও। কিন্তু ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার সাম্প্রতিক আক্রমণের ধরন দেখে যৌক্তিকভাবে মনে হতে পারে, পুতিন পারমাণবিক হামলা করার কথা আগে যতটা ভাবছিলেন, এখন ততটা ভাবছেন না সম্ভবত। শিরোনামে যেমন বলেছি, এর সঙ্গে বৈশ্বিক মন্দার সম্পর্ক আছে, কিন্তু সেই আলোচনার আগে ইউক্রেনের ওপর সাম্প্রতিক হামলাগুলো নিয়ে একটু জেনে নিই।

আমরা যারা এই যুদ্ধের খোঁজখবর রাখছি তারা জানি, রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ইউক্রেন থেকে দখলকৃত ক্রিমিয়ার সংযোগকারী কার্চ সেতু একটি বড় মাত্রার বিস্ফোরণে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ক্রিমিয়ার অভ্যন্তরের গোলাবারুদের ডিপোতে প্রচণ্ড হামলা হয়েছিল। দুই ক্ষেত্রেই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি ইউক্রেন। তবে এটা বুঝতে কারও বাকি নেই, এটা কারা করেছে। ইউরোপের দীর্ঘতম কার্চ সেতুটি পুতিনের অত্যন্ত ব্যক্তিগত আবেগের সেতু বলে পরিচিত। ক্রিমিয়া দখলের চার বছর পর সেতুটি যখন উদ্বোধন করা হয়, তখন তিনি নিজে একটি কমলা রঙের ট্রাক চালিয়ে সেতুটি পার হন।

এ ঘটনার সঙ্গে আরেকটি ঘটনা যোগ করে পুতিনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করব। কয়েক দিন আগে কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরে ড্রোনের মাধ্যমে হামলা করা হয়েছে। এটারও দায়িত্ব স্বীকার করা হয়নি, কিন্তু দায় স্পষ্ট। কার্চ সেতু এবং কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় আক্রমণ চালানো হয়েছে। এতে রাশিয়ার নিজের তৈরি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র যেমন ব্যবহার করা হয়েছে, তেমনি ব্যবহৃত হয়েছে লক্ষ্যের কাছে গিয়ে তার ওপরে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং লক্ষ্যকে ধ্বংস করা ড্রোন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিজ যুদ্ধবিমান নিয়ে শত্রু টার্গেটে আছড়ে পড়ে নিজে আত্মহত্যা করেও লক্ষ্যভেদ করা জাপানের বৈমানিকদের ডাকা পরিভাষা ‘ক্যামিকাজি’ ব্যবহার করা হয় এই ড্রোনগুলোর ক্ষেত্রে।

রাশিয়া অস্বীকার করলেও বিধ্বস্ত হওয়ার আগে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া কিছু ছবি দেখে স্পষ্টভাবে চেনা গেছে, এগুলো ইরানের তৈরি শাহেদ ১৩৬ ড্রোন। সর্বশেষ ইরান স্বীকার করেছে, তারা রাশিয়াকে ক্যামিকাজি ড্রোন দিয়েছে, তবে সেটা নাকি যুদ্ধের আগেই। এই ড্রোনগুলোর বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতা খুব কম বলে অনেক বড় স্থাপনা ধ্বংসের জন্য এগুলো উপযোগী না হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য এগুলো যথেষ্ট সক্ষম।

আসলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য পুতিনের ওপর চাপ বাড়ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়ে উজবেকিস্তানের সমরখন্দে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে পুতিনের দুই শক্তিশালী মিত্র সি চিন পিং এবং নরেন্দ্র মোদি যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, উদ্বেগ জানিয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, সম্প্রতি চীন পারমাণবিক হামলার বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, এমন আলোচনা আছে। কয়েক দিন আগেই চরম বিতর্ক মাথায় নিয়ে চীন সফর করলেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ। চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং-এর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে শলৎজ এসেছিলেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াংয়ের সঙ্গে। সেই প্রেস কনফারেন্সে লি কেছিয়াং বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনে আর কোনো পরিস্থিতির অবনতি (এসকালেশন) দেখতে চাই না।’ এটাকেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে পারমাণবিক হামলার বিরুদ্ধে চীনের অবস্থান এবং আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে।

প্রশ্ন হচ্ছে, আপাতদৃষ্টিতে চাপে পড়া, ভীষণ একরোখা পুতিন পারমাণবিক হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কারও মুখাপেক্ষী হবেন, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? ইউক্রেন আগ্রাসনের আগে শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বাহানায় পুতিন চীনে গিয়েছিলেন, যেখানে সি তাঁকে ‘সীমাহীন বন্ধুত্ব’-এর নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। আমরা বলতেই পারি, সি কে জানানো ছাড়া, ইউক্রেনে তাঁর ভাষায় বিশেষ সামরিক অভিযান (স্পেশাল মিলিটারি অপারেশন) চালানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেননি পুতিন।
পশ্চিমাদের অত্যন্ত বড় মাত্রার নিষেধাজ্ঞার মুখে দাঁড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে রাশিয়াকে টিকে থাকতে বড় ভূমিকা পালন করেছে চীন ও ভারত। এই ক্ষেত্রে ইউরোপকে আলোচনায় আনা হলেও এখানে একটা সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে। ইউরোপ তার দীর্ঘ সময়ের নির্ভরতা কাটিয়ে রাশিয়া থেকে তার জ্বালানি আমদানি খুব দ্রুত কমিয়েছে। কিন্তু এটা অকল্পনীয় পরিমাণ বাড়িয়েছে ভারত ও চীন।

চীন তার বৈশ্বিক প্রভাবকে রাশিয়ার পক্ষে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে। জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যতগুলো প্রস্তাব এসেছে, তার সব কটিতে রাশিয়ার পক্ষে সরাসরি সমর্থন দিয়েছে বেলারুশ, উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া ও ইরান হাতে গোনা কয়েকটি দেশ। কিন্তু একটা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। নিন্দা প্রস্তাবে সমর্থন না জানানো কার্যত রাশিয়ার প্রতি পরোক্ষ সমর্থন। বাংলাদেশসহ এশিয়া এবং আফ্রিকার বেশ কিছু দেশ বেশির ভাগ প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল।

চীনের সমর্থন ছাড়া, চীনকে আগাম জানানো ছাড়া রাশিয়া পারমাণবিক হামলা করার মতো কোনো পদক্ষেপ রাশিয়া যদি নেয়, তখন চীন বর্তমানে যতটা রাশিয়ার পক্ষে আছে, ততটাও ধরে রাখা আর সম্ভব হবে না। একই কথা প্রযোজ্য ভারতের ক্ষেত্রেও।

এশিয়া এবং আফ্রিকার কর্তৃত্ববাদী কিছু সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সুসম্পর্ক আছে। কিন্তু যেসব দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল, তাদের অনেকগুলোর ওপরই রাশিয়ার সুনির্দিষ্ট প্রভাবের কথা জানা যায় না। যৌক্তিকভাবেই আমরা বুঝতে পারি, চীন আফ্রিকা এবং এশিয়ায় তার প্রভাবাধীন দেশগুলোকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রেখে পরোক্ষভাবে রাশিয়ার পক্ষে পদক্ষেপ নিয়েছিল।

আমরা বলতেই পারি, চীনের সমর্থন ছাড়া, চীনকে আগাম জানানো ছাড়া রাশিয়া পারমাণবিক হামলা করার মতো কোনো পদক্ষেপ রাশিয়া যদি নেয়, তখন চীন বর্তমানে যতটা রাশিয়ার পক্ষে আছে, ততটাও ধরে রাখা আর সম্ভব হবে না। একই কথা প্রযোজ্য ভারতের ক্ষেত্রেও। সত্যি বলতে, একটা বৈশ্বিক মন্দা এখন চীনকে যুদ্ধটা আরও খারাপের দিকে যেতে বাধা দিতে বাধ্য করছে।

করোনার পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতির পর সারা বিশ্ব যখন সবকিছু আগের পর্যায়ে নিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ সবকিছুতেই একেবারে স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, তখন চীন কেবল প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের একক সিদ্ধান্তে ‘শূন্য কোভিড’ নীতিতে চলছে। অবিশ্বাস্যভাবে এখনো চীনের বিভিন্ন শহরে পূর্ণমাত্রার লকডাউন চলছে প্রয়োজনমতো। এই নীতির সঙ্গে আবাসন খাতের মন্দা এবং তার প্রভাবে আর্থিক খাতে সংকট মিলিয়ে চীনের অর্থনীতি এমনিতেই খুব সমস্যায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একটি বৈশ্বিক মন্দা চীনের অর্থনীতিকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে। চীনের অর্থনীতি তার অভ্যন্তরীণ ভোগের ওপর যতটুকু নির্ভর করে, এর চেয়ে অনেক বেশি নির্ভর করে তার বৈশ্বিক রপ্তানির ওপর।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া একটি পারমাণবিক হামলা করলে তার ওপরে পশ্চিমাদের চাপ আরও অনেক ভয়ংকরভাবে বাড়বে। পশ্চিমবঙ্গের চাপ তাদের ওপরও পড়বে, যারা এ মুহূর্তে রাশিয়ার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখছে। পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞায় চীন যদি অংশগ্রহণ না করে তাহলে চীনের ওপরও কিছু দেশের পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সব দিক বিবেচনায় নিয়েই বোধ করি পুতিন তার কৌশল পাল্টেছেন। কিছু ক্ষেত্রে ইউক্রেনের পানি সরবরাহব্যবস্থা টার্গেট করলেও পুতিন বর্তমানে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ স্থাপনা ধ্বংস করছেন। এ মুহূর্তে দেশটির ৪০ শতাংশের মতো বিদ্যুৎ স্থাপনা ধ্বংসপ্রাপ্ত। বিদ্যুৎকেন্দ্র হামলার পর ইউক্রেন যথাসাধ্য চেষ্টা করছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করার জন্য। অনেক কিছু সেটা করছে, কিন্তু অত্যন্ত সস্তা (মাত্র ১০ থেকে ২০ হাজার ডলার) ইরানি ক্যামিকাজি ড্রোন দিয়ে বারবার হামলা করে এগুলোর ক্ষতিসাধন করা খুবই সম্ভব। তাই ইউক্রেন এই সংকট থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। আসছে শীতে ইউক্রেনের জন্য বিদ্যুৎহীন থাকা চরমতম বিপর্যয় তৈরি করবে। শীতের তীব্র কষ্ট তো আছেই, সঙ্গে আছে বিদ্যুৎ-সংকটের সঙ্গে যুক্ত পানির অভাব।

আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল যদি ডেমোক্রেটিক দলের বিরুদ্ধে যায়, চরম মূল্যস্ফীতি আর মন্দাক্রান্ত ইউরোপ যদি এই শীতে অনেক বেশি কাবু হয়ে পড়ে, তাহলে সেই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে পশ্চিমাদের সমর্থন কমে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন রাশিয়ার একধরনের আলোচনায় যেতে পারে, এমন সম্ভাবনা এখন বেশ ভালোভাবেই দেখা দিচ্ছে।

যে উদ্দেশ্য সফল করার জন্য পারমাণবিক হামলা করার মতো বাজি ধরতে পারতেন পুতিন সেটা এখন তিনি অর্জন করতে পারেন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র হামলা করার মাধ্যমেই। এমনকি শীতকাল না থাকলেও, কিংবা ইউক্রেন যদি এই শীতের পরও যুদ্ধে ভালোভাবে টিকে থাকে, তাহলেও বৈশ্বিক মন্দার পরিস্থিতিতে ‘চীন ফ্যাক্টর’-এর কারণে পুতিনের দিক থেকে একটি পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা এখন আগের চেয়ে অনেক কম।

  • জাহেদ উর রহমান ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষক