ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল সমাজ নির্মাণ কীভাবে সম্ভব

সংবাদমাধ্যম আধুনিক, যুক্তিশীল ও বহুত্ববাদিতার অনুষঙ্গ। সুতরাং একটি অগ্রসর সমাজ যেখানে যুক্তিশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা বা বহুত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠেনি, সেখানে সংবাদমাধ্যম চাপের ভেতর থাকবে সেটা অস্বাভাবিক নয়। ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল সমাজ নির্মাণ কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে লিখেছেন খান মো. রবিউল আলম

সংঘবদ্ধ আক্রমণকারীরা রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পর অগ্নিসংযোগ করেফাইল ছবি

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর ওপর মবের হামলা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে ষড়যন্ত্র। এটি প্রগতিশীল প্রতীক, মূল্যবোধ ও আদর্শের ওপর আঘাত; অর্জনের চিহ্নগুলো দমানোর অপচেষ্টা; আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো অসাম্প্রদায়িকতা ও বহুত্ববাদের স্মারক। বাঙালি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এবং মানুষের জয়গান তাদের মূল কাজ।

বাঙালি সংস্কৃতিকে অনেকে ‘হিন্দুয়ানি’ সংস্কৃতি হিসেবে বিবেচনা করেন। ভারতের বাংলা ভাষাভাষীদের সঙ্গে মিলও খোঁজেন। বাঙালি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ যাঁরা প্রমোট করতে চান, তাঁরা হিন্দুয়ানি সংস্কৃতির প্রসারক বলে অভিযুক্ত হন।

বাঙালি সংস্কৃতি স্থবির কোনো ধারণা নয়। সংস্কৃতি বিনির্মাণের মূল শক্তি ভাষা। বাংলা ভাষাকে অন্য ভাষার ‘দুহিতা’ বা ‘বোন’ বলা হয়। এ ভাষা স্বভাবের কারণে অন্য অনেক ভাষা থেকে এত বেশি গ্রহণ করেছে, যা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। এ ভাষা সংস্কৃত, আরবি, উর্দু, ফারসি, ইংরেজিসহ  আরও অনেক ভাষা থেকেও সাংস্কৃতিক নির্যাস গ্রহণ করেছে। কিন্তু তা করেছে নিজের মতো করে অবিকৃত ও স্বতন্ত্র রূপে। সাংস্কৃতিক বিনিময় একটি মৌলিক প্রবহমান সত্তা।

আরও পড়ুন

ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের কারণে (যদি হয়ে থাকে) বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে, এমনটি বলা যাবে না। এ দেশের ভূগোলের মধ্যে বসবাসরত মানুষের সংস্কৃতি, চিন্তাধারা এবং ভাবকাঠামো স্বতন্ত্র, যা বদলে ফেলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পাটাতন অতলস্পর্শী, অপ্রতিরোধ্য।

যাই হোক, যুক্তিতর্ক, আলাপ-আলোচনার বিপরীতে প্রতিবাদের ভাষা যখন সহিংস হয়ে ওঠে, তখন বুঝতে হবে সমাজ অন্ধকারের চোরাগলিতে ঢুকে পড়েছে। সহিংসতা প্রতিবাদের কোনো ভাষা হতে পারে না। সহিংসতার মাধ্যমে হয়তো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চাপে ফেলা যায়, মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যায়; কিন্তু তার নীতি বা আদর্শকে ধ্বংস করা যায় না।

সহিংসতা ছেড়ে ‘অহিংস প্রতিরোধের’ কথা বলেছিলেন মহাত্মা গান্ধী, যাঁকে ইংরেজিতে ‘প্যাসিভ রেজিট্যান্স’ বলা হয়। নাগরিকের পক্ষে সহিংস হওয়া সম্ভব নয়। নাগরিকবোধের সঙ্গে দায়দায়িত্ব, পরিশীলন, প্রচলিত আইন-নীতি মান্যতার সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃত নাগরিক কখনো নিজ হাতে আইন তুলে নিতে পারেন না।

কিন্তু মব তা পারে। কারণ, মবের ভেতর নাগরিকতাবোধ তৈরি হয়নি। মব যখন বিচারের দায়িত্ব নেয়, বিচার করতে বসে, তখন তা প্রচলিত বিচারব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। মবের বিচারের চেয়ে ভয়াবহ বিচার আর হতে পারে না! মবের শুদ্ধীকরণ অভিযানের চেয়ে ভয়ংকর অভিযান আর হতে পারে না!

নিহত হলেন শরিফ ওসমান হাদি। আর ঘর পুড়ছে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর। যারা এ ঘৃণ্য কাজটি করছে তাদের যুক্তি দুটি; প্রথমত. সংবাদপত্র দুটি হাদির নিহত হওয়ার খবর যথাযথভাবে প্রচার করেনি (প্রথম আলো ডেইলি স্টার–এ আগুন ও ভাঙচুরের সময় বিভিন্ন মাধ্যমে দেওয়া হামলাকারীদের সাক্ষাৎকারে বিষয়টি উঠে এসেছে)। দ্বিতীয়ত. সংবাদপত্র দুটি ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ প্রচারে মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে। ছায়ানট ও উদীচীকেও ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের ধারক ও বাহক হিসেবে তারা বিবেচনা করছে।

বাংলাদেশে গড় মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম সাক্ষরতা খুব সামান্য। এ কারণে অডিয়েন্স সোশ্যাল মিডিয়ায় যা দেখে বা শোনে তার বেশির ভাগ বাছবিচারহীনভাবে বিশ্বাস করে। একটি বিশ্লেষণাত্মক জনসমাজ ছাড়া যুক্তিগ্রাহ্য সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। এ জনসমাজের ভালো-মন্দ বিচারের ন্যূনতম সক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু সেই বাস্তবতা তৈরি হয়নি। ফ্যাক্ট চেকাররা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন। কিন্তু বানের পানির মতো অপতথ্য, মিথ্যা তথ্যের ও মন্দ তথ্যের স্রোত থামানোর কাজটি সহজ নয়।

মবের গডফাদাররা এভাবে ভাবতেই তাদের প্রলুব্ধ করছে। কারণ, এর পেছনে রয়েছে গভীর অপরাজনীতি। আর তা হলো মবের মনস্তত্ত্বের উপযোগী শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো সরিয়ে ফেলা। ন্যূনতম পক্ষে চাপের ভেতর রাখা।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী প্রখ্যাত সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস যথার্থ বলেছেন, অধিকাংশ সভ্য দেশে এ জাতীয় সংকটের সময় একাধিক ‘প্রেশার পয়েন্ট’ কাজ করে, যেমন আদালত, আইন পরিষদ, মানবাধিকার কমিশন ও সংবাদমাধ্যম। এ মুহূর্তে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম ছাড়া আর অন্য কোনো প্রেশার পয়েন্ট কার্যকর নয়। (প্রথম আলো ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫) সুতরাং সংবাদমাধ্যমকে চাপে ফেলতে পারলে মবের চলার পথ সহজ।

এ জন্য প্রথম আলো, ডেইলি স্টার–এর মতো জাতীয় ‍ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দুটো সংবাদমাধ্যমকে নানাভাবে ট্যাগ করা হচ্ছে। অথচ পাঠকমাত্র জানেন, নিপীড়ক শেখ হাসিনার শাসনামলে সংবাদপত্র দুটি কী পরিমাণ নিগৃহীত হয়েছে। অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনে সংবাদপত্র দুটির বলিষ্ঠ ভূমিকা মুদ্রিত আকারে গচ্ছিত রয়েছে নানা জায়গায়। অথচ আজ সংবাদপত্র আক্রমণ করা হচ্ছে, পেশাজীবী সাংবাদিকদের জীবনের ওপর হুমকি নেমে এসেছে। মাটির সঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলো।

আরও পড়ুন

অথচ শরিফ ওসমান হাদির বয়ান ছিল ভিন্ন। তিনি বলেছিলেন,‘ প্রথম আলো ধ্বংস না করে দশটি প্রথম আলো বানাও।’ এ দঙ্গল বাহিনী শহীদ হাদির লাশ ভূভাগের ওপরে থাকতেই তাঁর নির্দেশনা উপেক্ষা করছে। এরা স্পিরিটে বিশ্বাস করে না, বিশ্বাস করে ‘ঘন অন্ধকারে’।

প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি সংবাদমাধ্যমের চেনা শক্র। আধুনিকতা তাদের বিরক্ত করে। সংবাদমাধ্যম আধুনিক, যুক্তিশীল ও বহুত্ববাদিতার অনুষঙ্গ। সুতরাং একটি অগ্রসর সমাজ যেখানে যুক্তিশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা বা বহুত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠেনি, সেখানে সংবাদমাধ্যম চাপের ভেতর থাকবে সেটা অস্বাভাবিক নয়।

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পেশাদারি সাংবাদিকতার চর্চা অব্যাহত রেখেছে। তাদের যে কোনো ভুলভ্রান্তি বা সীমাবদ্ধতা নেই, তা বলা যাবে না। কিন্তু কীভাবে সংবাদ পরিক্ষেত্র থেকে সংবাদমাধ্যম ভারতীয় আধিপত্যবাদী সংস্কৃতি প্রচারের ‘এজেন্ট’ হয়ে উঠল, সেই দাবি পরিষ্কার নয়। এ ধরনের ট্যাগিং সমাজে নানা বিপর্যয় ডেকে আনে।

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট বা উদীচীর যারা সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বিকাশ, পরিশীলন, বহুমুখিনতা চর্চা করে, যা প্রতিক্রিয়াশীলদের সহজভাবে নেওয়ার কথা নয়। কারণ, প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির প্রধান প্রবণতা হলো একরৈখিকতা এবং নিজেদের বিশ্বাসের উপযোগী সমাজ ও রাষ্ট্র গড়া। তারা যুক্তিবাদী নয়, বিশ্বাসী। এই দুপক্ষের মধ্যে ফারাক দৃশ্যমান।

ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানের ভেতর এমন মতাদর্শিক ভিন্নতা নিয়ে একটি সমাজ কীভাবে এগোবে? ভিন্নতা নিয়ে সমাজে সহাবস্থান কি সম্ভব? উত্তর হলো—সহাবস্থান কঠিন হচ্ছে। বছর দেড়েক যাবৎ মবের উত্থান ও কর্মকাণ্ড নাগরিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে সমাজে একটি বিশেষ শ্রেণি গড়ে উঠেছে। এই শ্রেণি মবকে সব সময় তাতিয়ে রাখছে। এই শ্রেণিকে সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ফিউডাল লর্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এই লর্ডরা হলো হাতির মাহুতের মতো ‘মবের মাহুত’। হাতির মতো বড় প্রাণীকে বশ মানিয়ে মাহুতেরা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে। সোশ্যাল মিডিয়ার ফিউডাল লর্ডরা মবদের তাদের কমান্ড অর্ডারের মধ্যে এনে চরকির মতো ঘোরাচ্ছে, স্বার্থের পথে হাঁটাচ্ছে। এভাবেই মবেরা সোশ্যাল মিডিয়ার ফিউডাল লর্ডদের বশীকরণ প্রক্রিয়ার ভেতর আসছে, বশ মানছে। এসব মিডিয়াকেন্দ্রিক ফিউডাল লর্ডদের ফলোয়ার লাখ লাখ। ফলোয়াররা নিয়ত লর্ডদের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকে।

আরও পড়ুন

যোগাযোগের প্যারাসাইড কমিউনিকেশন তত্ত্ব এসব ফলোয়ারের ক্ষেত্রে খুব বেশি প্রযোজ্য। প্রতিনিয়ত মিথস্ক্রিয়ার কারণে ফলোয়ারদের কাছে মিডিয়াকেন্দ্রিক এই ফিউডাল লর্ডদের ‘আপন’ মনে হয়। কারণ, মব ফ্যাক্টের তুলনায় গুজবে বেশি বিশ্বাস করে। এই ফিউডাল লর্ডরা গুজব ছড়ায়। কারণ, ফ্যাক্ট বিশ্বাস করানো কঠিন। ফ্যাক্টকে যুক্তিতর্ক দিয়ে বুঝতে হয়, যা কষ্টসাধ্য। কিন্তু গুজব শুনতে এবং বিশ্বাস করতে ভালো লাগে। গুজবে যাচাই-বাছাইয়ের ঝামেলা নেই।

মবের মনোভক্তির উপযোগী ডেলিভারি দিতে মিডিয়াকেন্দ্রিক ফিউডাল লর্ডরা দক্ষ। এ ছাড়া তাদের রয়েছে ভিউ–বাণিজ্য। মিডিয়াকেন্দ্রিক ফিউডাল লর্ডরা মবের কাছে কাল্ট হয়ে উঠছেন। তাঁদের বক্তব্য গণমাধ্যমের প্রভাব–সংক্রান্ত প্রথম তত্ত্ব বুলেট থিওরির মতো কার্যকর। বার্তা ছুড়ে দিলেই হয় তা বুলেটের মতো তীব্র ও তীক্ষ্ণ গতিতে ফলোয়ারদের মস্তিষ্কে ঢুকে পড়ে। ফলোয়াররা অ্যাকশনে নেমে পড়েন।

নোবেলজয়ী ফিলিপিনো সাংবাদিক মারিয়া রেসার ভাষায়, ভার্চ্যুয়াল ভায়োলেন্স তখন ভার্চ্যুয়াল থাকে না, যখন রিয়েল লাইফে নেমে পড়ে। অর্থাৎ আমেরিকা থেকে যখন কোনো ইনফ্লুয়েন্সার প্রথম আলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার ডাক দিচ্ছে, তখন ফলোয়ারদের কাছে তা পালন করা কর্তব্য বলে মনে হচ্ছে। সেই ডাকে তারা সাড়া দিচ্ছে। কারণ, এ ডাক তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সাজুয্যময়।

বাংলাদেশে গড় মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম সাক্ষরতা খুব সামান্য। এ কারণে অডিয়েন্স সোশ্যাল মিডিয়ায় যা দেখে বা শোনে তার বেশির ভাগ বাছবিচারহীনভাবে বিশ্বাস করে। একটি বিশ্লেষণাত্মক জনসমাজ ছাড়া যুক্তিগ্রাহ্য সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। এ জনসমাজের ভালো-মন্দ বিচারের ন্যূনতম সক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু সেই বাস্তবতা তৈরি হয়নি। ফ্যাক্ট চেকাররা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন। কিন্তু বানের পানির মতো অপতথ্য, মিথ্যা তথ্যের ও মন্দ তথ্যের স্রোত থামানোর কাজটি সহজ নয়। এ জন্য আরও বড় পরিসরে কাজে হাত দিতে হবে। দরকার সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ।

যারা ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ করতে নেমেছেন,তাদের এ প্রতিরোধ হতে পারত বৃদ্ধিবৃত্তিক, যুক্তি-তর্কনির্ভর। কিন্তু তা না করে তারা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করছে। সমূলে ধ্বংস বা আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করতে চাচ্ছে। এ সহিংসতা কোনো পথ হতে পারে না।

এদের প্রতিরোধে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা রহস্যময়। নিউজ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর প্রথম আলোডেইলি স্টার–এ হামলা প্রসঙ্গে বলেছেন, এ হামলা সরকারের কোনো না কোনো অংশ ঘটতে দিয়েছে। (প্রথম আলো; ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫)

এটি একটি গুরুতর অভিযোগ। মানুষ দেখছে সরকারের দক্ষিণমুখী দলগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকার দক্ষিণমুখী শক্তির সঙ্গে চলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে।

একটি বিশেষ ব্যাপার হলো প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর ওপর হামলার প্রতিবাদে গোষ্ঠীকেন্দ্রিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতি–সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো বেশি এগিয়ে আসছে। খেয়াল করার বিষয় হলো, ব্যাপক সামাজিক পরিসরে সেই প্রতিবাদ গড়ে উঠছে কি না। সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে কি না? পেশা বা সংগঠনের বাইরের মানুষকে এ প্রতিবাদে শামিল করতে হবে। আর তা না হলে প্রতিবাদের তরঙ্গ নিজদের গণ্ডির ভেতর ঘুরপাক খাবে।

মবকে পেছন থেকে যারাই মদদ দিক না কেন প্রগতিশীল শক্তিকে এক হতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রগতিশীলতা মানে আওয়ামীকরণ নয়; এটি একটি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি। বিগত ১৫ বছর নিপীড়নমূলক শাসনামলে সবচেয়ে দুর্বল হয়েছে প্রগতিশীল শক্তি, যার মধ্যে রয়েছে মুক্তমনা ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক দল। প্রগতিশীল শক্তির ঐক্য ছাড়া বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর ওপর হামলা–পরবর্তী এ রকম একটি ইতিবাচক প্রচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা আশার আলো দেখাচ্ছে। এ উদ্যোগ আরও গতিশীল করতে হবে।

  • খান মো. রবিউল আলম যোগাযোগ পেশাজীবী ও শিক্ষক

*মতামত লেখকের নিজস্ব