বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি যদি গবেষণাপ্রবন্ধের চৌর্যবৃত্তি ঠেকানোর জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তির সাহায্য নেন, দেখা যাবে অনেক শিক্ষকই গবেষণায় জালিয়াতির দায়ে অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন। আমরা যদি বিষয়টিকে উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করতে যাই, তাহলে দেখা যাবে, গবেষণায় অসদুপায় অবলম্বনের কারণে এসব শিক্ষক স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হবেন; এমনকি গবেষণায় ব্যবহৃত পাবলিক ফান্ডের অপব্যবহারের দায়ে ফৌজদারি অপরাধে জেল-জরিমানার সম্মুখীন হবেন।
আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এসব চৌর্যবৃত্তির ঘটনা নতুন নয়, কয়েক দশক ধরে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এ ধরনের ঘটনার খবর গণমাধ্যমে চাউর হয়েছে। বেশির ভাগ সময় সংবাদের শিরোনামে এসেছে শিক্ষকেরা। যদিও কালেভদ্রে শিক্ষার্থীদের নাম থেকেছে, তবে শিক্ষকদের এই নাম আসার পেছনে শিক্ষকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দারুণ কাজ করে। বিভাগে বনিবনা কিংবা রাজনৈতিক পক্ষের বিপরীতে থাকলে ঠুস করে মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমে এসব খবর বের হয়। যাঁদের মধ্যে অনেককেই অপরাধ না করেও বলির পাঁঠা সাজতে হচ্ছে আবার অনেকে অপরাধ করেও মেরুকরণ শক্তির অপঘাতে কাহিল হয়ে যান, যেসব খবর বিভিন্ন সময় আমরা জানতে পারছি।

বিষয়টি কিন্তু তা হওয়ার নয়। কেবল শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে আমরা গণমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার কুম্ভিলকবৃত্তির বিচ্ছিরি চিত্র দেখলেও বাস্তবতার নিরিখে হিসাবটা অনেক দীর্ঘ হবে। গঠনগতভাবে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি যদি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়, তাহলে দেখা যাবে, অন্যের ধারণা নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে প্রবন্ধে ব্যবহৃত অন্যের প্রকাশিত গবেষণার তথ্যের প্রাপ্তিস্বীকার বা সাইটেশন না করা, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কপি পেস্ট, প্যারা এদিক–সেদিক করে কিংবা প্রকাশিত কোনো গবেষণার চিত্র, ভিডিও ও ডেটা ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের গবেষণানিবন্ধ প্রকাশনা কুম্ভিলকবৃত্তির পর্যায়ে পড়ে।

এমনও ঘটনা ঘটছে, শিক্ষকেরা কোনো গবেষণায় অবদান না রাখা সত্ত্বেও কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় থেকে সহলেখক হিসেবে প্রকাশনায় নাম চলে আসছে, যা মৌলিক গবেষণায় নীতিবিরোধী। এ ছাড়া অনেক সময় অর্থলগ্নি করেও গবেষণাপত্রে নাম ঢোকানোর মহোৎসব দেখা যায়। শুধু তা–ই নয়, শিক্ষকদের এসব প্রকাশনার সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন মাস্টার্স পর্যায়ের থিসিস শিক্ষার্থীরা। অনেক সময় এসব শিক্ষার্থী থিসিস শেষ করে বিভাগ ছাড়লেও পরবর্তী সময়ে ওই গবেষণার ফলাফল তাঁর সুপারভাইজার তাঁকে অথরশিপ থেকে দূরে রেখে প্রকাশ করছেন, যা একটি মারাত্মক একাডেমিক অপরাধ।

একটি দেশ যদি শিক্ষা-গবেষণায় নিজের অবস্থান তৈরি করতে না চায়, তাহলে স্বাধীনতার এই ৫০ বছরেও মৌলিক গবেষণায় বার্ষিক বাজেটে রাষ্ট্রের বিপরীত মেরুতে অবস্থান সুস্পষ্ট করে আমরা কী ধরনের বাংলাদেশ চাই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাদের হাতে নিয়ন্ত্রিত, সেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এখন পর্যন্ত গবেষণায় অসদুপায় অবলম্বনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কী হতে পারে, তা সুস্পষ্ট করছে না।

এর মূল কারণ, আমাদের উচ্চশিক্ষায় গবেষণার বাজারে উদাসীনতার খাসলতে শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থীরা এসব কুম্ভিলকবৃত্তি বছরের পর বছর চালিয়ে এলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রকদের টনক নড়েনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দেশের বাইরে পিএইচডি বা পোস্ট ডক করার পরও সেখান থেকে লব্ধ জ্ঞান নিয়ে গবেষণার নৈতিক মূলনীতি প্রণয়ন করতে পারেননি। যার ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা গবেষণার এথিকস নিয়ে জানার সুযোগ কম পাচ্ছেন। ফলে অন্যের তো বটেই, নিজের কোনো আর্টিকেলও হুবহু কপি পেস্ট করে নিত্যদিন গবেষণাপত্র আনাচকানাচে প্রকাশ করছেন। হাতে গোনা গুটিকয় শিক্ষক ব্যতীত সিংহভাগ শিক্ষকও পদোন্নতির নেশায় যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা সাময়িকীতে গবেষণানিবন্ধ প্রকাশ করে চলছেন।

আগে একটা সময় ছিল, প্রকাশিত গবেষণার কাগজের সংস্করণ, যা সেই সময় গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনও ছিল না, এ কারণে অনেক সময় দেখা যেত, এসব কাগুজে সাময়িকীর বাক্য হুবহু মেরে দেওয়া যেত কিংবা আইডিয়াও ক্লোন করা সম্ভব হতো, যা দেখার কেউ ছিল না। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গবেষণায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ফলে, মৌলিক গবেষণা প্রকাশ করার আগে প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা অনায়াসে সেটি ধরতে পারি। এমনকি গবেষণা শুরু আগে নিজের লব্ধ আইডিয়ার যাচাই–বাছাইয়ের জন্য পূর্ববর্তী গবেষণানিবন্ধের বাছাই করা সম্ভব হয়েছে। ফলে এখন আপনি অন্যের গবেষণার তথ্যকে প্রাপ্তিস্বীকার না করে নিজের নামে চালিয়ে দিলেই চৌর্যবৃত্তি ঠেকানোর সফটওয়্যার তা আপনাকে জানিয়ে দেবে। কুম্ভিলতা দেখার জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারগুলো অর্থ দিয়ে কেনা ছাড়াও কিছু বিনা মূল্যের সফটওয়্যারও পাওয়া যায়।

দেখুন, একটি দেশ যদি শিক্ষা-গবেষণায় নিজের অবস্থান তৈরি করতে না চায়, তাহলে স্বাধীনতার এই ৫০ বছরেও মৌলিক গবেষণায় বার্ষিক বাজেটে রাষ্ট্রের বিপরীত মেরুতে অবস্থান সুস্পষ্ট করে আমরা কী ধরনের বাংলাদেশ চাই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাদের হাতে নিয়ন্ত্রিত, সেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এখন পর্যন্ত গবেষণায় অসদুপায় অবলম্বনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কী হতে পারে, তা সুস্পষ্ট করছে না। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও একাডেমিক পর্যায়ে জঘন্য এ অপরাধের শাস্তি প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ, আমাদের শীর্ষ চার বিশ্ববিদ্যালয় যে আইনে পরিচালিত হয়, সেই ৭৩ অধ্যাদেশের ৫৬ (৩) ধারায় একজন শিক্ষককের চাকরিচ্যুত করার আইনে বলা হয়েছে, কেবল নৈতিকস্খলন কিংবা অদক্ষতার কারণে উপযুক্ত তদন্ত কমিটির তদন্তের প্রমাণ সাপেক্ষে এ শাস্তি প্রদান করা যেতে পারে। এ কারণে এখন পর্যন্ত গবেষণার জালিয়াতির অভিযোগে কোনো শিক্ষককে চাকরিচ্যুত হওয়ার খবর চোখে পড়েনি। যার কারণে একাডেমিক পর্যায়ে সবচেয়ে বড় অপরাধ করেও পদাবনতি মাথায় নিয়ে জালিয়াত শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে থাকতে পারছেন।
পুরোনো এই অধ্যাদেশের হালনাগাদ করা যে কতটা জরুরি হয়ে পড়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রশ্ন হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও থিসিসের স্বচ্ছতা ফেরাতে আমাদের নীতিনির্ধারকদের কী করা উচিত? এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে আমাদের সীমিত গবেষণার সুযোগ সামনের দিনে কি মুখ থুবড়ে পড়বে? গবেষণায় জালিয়াতি ঠেকাতে আমাদের করণীয় কী?

আমরা যারা দেশের বাইরে গবেষণা করছি, তাদের যেকোনো গবেষণাগারে যোগদানের পরপরই বাধ্যতামূলক গবেষণার এথিকস কোর্স করানো হয়। বলা হয়ে থাকে, এসব গবেষণার নৈতিকতার মানদণ্ডের মধ্য থেকে আপনাকে গবেষণা করতে হবে। আপনাকে ভিডিওগ্রাফি কিংবা কার্টুন টেনে দেখানো হবে, গবেষণা করতে গেলে ঠিক কোন দিকগুলোর প্রতি আপনাকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। নিরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, ফান্ড অপব্যবহার, প্রবন্ধ চৌর্যবৃত্তির প্রতিটি ধাপ আপনাকে শেখানো হবে। প্রয়োজনে এসব ট্রেনিং থেকে আপনাকে কুইজ প্রশ্নে আপনার লব্ধ জ্ঞানের সারমর্ম জানানো হবে। শুধু তা–ই নয়, হুইসেলব্লোয়ারের মাধ্যমে আপনার মানসিকতার পরীক্ষাও যে হতে পারে, তা নিয়ে বিশদ প্রশিক্ষণের জ্ঞান আপনার গবেষণার স্বচ্ছতা বাড়িয়ে দেয়।

ঠিক একই নিয়মের আদলে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় গবেষণা শুরুতেই এ ধরনের কোর্স থাকা বাধ্যতামূলক করা হোক। অন্তত বছরে দুবার করে বেতনভুক্ত প্রত্যেক শিক্ষক বা গবেষককে এ কোর্সের আওতায় এনে অন্তত গবেষণার নৈতিক দিকগুলো সুস্পষ্ট করা জরুরি। শিক্ষা কার্যক্রম, বিশেষ করে স্নাতক পর্যায়ের প্রতিটি বর্ষে রিসার্চ এথিকস ও পানিশমেন্ট বা শাস্তি নামক একটি শর্ট কোর্স রাখা হোক, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অ্যাসাইনমেন্ট লেখা থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গবেষণার থিসিস লেখায় কুম্ভিলতা সম্পর্কে সতর্ক অবস্থান নেবেন। এতে দেশের মৌলিক গবেষণায় তাঁদের সুস্পষ্ট নৈতিক অবস্থান তৈরি হবে।

গবেষণায় জালিয়াতি ঠেকাতে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছে বলে জানতে পারছি; যদিও সেটি কেবল বাংলার গবেষণার জালিয়াতি ঠেকাতে সহায়তা করবে, তবে তার দক্ষতা কিংবা গ্রহণযোগ্যতা আমরা এখনো জানি না। এটিকে ইতিবাচক মনে করেই দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক বাজেটে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্লাজিয়ারিজম চেকার সাবস্ক্রিপশন বরাদ্দ থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। যেসব সফটওয়্যার বিশ্বের অধিকাংশ মানধারী সাময়িকী তাদের প্রকাশনায় ব্যবহার করছে, গ্রহণযোগ্য সেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা অনায়াসে অন্যের লেখা চুরি ঠেকাতে সক্ষম হবেন। শুধু তা–ই নয়, মাস্টার্স ও পিএইচডির থিসিস চূড়ান্ত করার আগে এসব সফটওয়্যারে চেকিং বাধ্যতামূলক করা উচিত। এটি করতে পারলে আগের বছরের শিক্ষার্থীর করা গবেষণার তথ্য বা বাক্য পরের বছরের শিক্ষার্থীরা যেমন চালিয়ে যেতে পারবেন না, তেমনি মৌলিক গবেষণার বিশেষত্ব আমরা চর্চা করতে পারব। এসব থিসিস কিংবা যেকোনো বিজ্ঞান প্রকাশনার ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা উচিত, যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। ফলে, একজন শিক্ষার্থীর গবেষণাপত্র যেকোনো সময় অন্য শিক্ষার্থীরা দেখার সুযোগ পাবেন।

কয়েক বছর আগে জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার এ কয়েকটি প্রকাশনায় ডেটা ম্যানুপুলেট করার দায়ে অভিযুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে সেই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকরিচ্যুত করে, তাঁর জন্য গবেষণায় বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত নেয়, এমনকি তাঁকে জেলে যেতে হয়। সারা বিশ্বেই একাডেমিক এসব সূক্ষ্ম চৌর্যবৃত্তিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। আমাদের দেশে যেটিকে লঘুদণ্ড হিসেবে মনে করা হচ্ছে, সেটি যে গুরুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার যোগ্য, সে বিষয়ে আমাদের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে টনক নড়তে হবে। রাষ্ট্র প্রয়োজন পড়লে আইনপ্রণেতাদের মাধ্যমে একাডেমিক অপরাধের একটি আইন প্রণয়ন করতে পারে। ইউজিসি সেখানে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক সংস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষা ও গবেষণায় অনিয়ম ঠেকাতে ব্যর্থ হলে দেশের অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই একাডেমিক অপরাধকে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা সময়ের দাবি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক গবেষণা দেখভালের জন্য একটি কার্যকর কমিটি তৈরি করে দিতে পারে। সে কমিটির কাজ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রণয়নকৃত একাডেমিক গবেষণার মানদণ্ডের নিরিখে গবেষণা সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনা করা। কুম্ভিলতা ঠেকানো ছাড়াও এ কমিটি গবেষণার বরাদ্দ থেকে শুরু করে একাডেমিক ফান্ডের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করুক। নৈতিক ও মৌলিক গবেষণায় একাডেমিশিয়ানদের আগ্রহের জায়গা তৈরি করুক। শিক্ষকেরা যেন কেবল পদোন্নতির নেশায় গবেষণায় নিয়োজিত না থেকে দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন, সেই বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করা।

আমি জানি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণার বার্ষিক বাজেট খুবই কম। এসব বরাদ্দে গবেষণা হয় না, হওয়ার কথাও নয়। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের থিসিসে যে বাজেট থাকে, তা দিয়ে কখনোই মানসম্মত গবেষণা হতে পারে না। এরপরও কিছু মানুষ নিরলসভাবে গবেষণায় লেগে আছেন, অর্থশক্তির অপ্রতুলতা স্বীকার করে প্রাণশক্তি দিয়ে গবেষণা চালিয়ে নেওয়া এসব শিক্ষক কুম্ভিলতা বিষয়ে স্বচ্ছ জ্ঞান রাখলেও অন্যদের খামখেয়ালি আচরণে তাঁরাও বিরক্ত হন। তাই আমাদের উচিত একাডেমিকভাবে কুম্ভিলতা ও অনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে দ্রুততর সময়ে কেন্দ্রীয়ভাবে নীতিমালা তৈরি করা, যা অনুসরণ করবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়। আর তা বাস্তবায়নের মধ্যে এগিয়ে যেতে পারে আমাদের মৌলিক গবেষণা। নম্বর প্রকাশনার দিকে না তাকিয়ে কোয়ালিটি অব পাবলিকেশন থাকা জরুরি। বিশ্বাস করি, অচিরেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা মঞ্জুরি কমিশন এসব নীতিমালা প্রণয়নে এগিয়ে আসবে।

  • ড. নাদিম মাহমুদ গবেষক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। [email protected]

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন