ট্রাম্প কেন ইসলামাবাদকে ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ বার্তা পাঠাচ্ছেন 

ইরানের সংসদে যখন ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ স্লোগান উঠেছিল, তখন পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ আনন্দিত হয়েছিল। কিন্তু ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামাবাদকে ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ বার্তা পাঠাচ্ছেন। এই কূটকৌশলী ধন্যবাদ নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় পাকিস্তানের মানুষের অসন্তোষ স্পষ্ট। লিখেছেন হামিদ মীর।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (বাঁয়ে) এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (ডানে)ছবি: রয়টার্স

২০২৫ সালের জুনে ইরানের সংসদে ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ স্লোগান উঠেছিল। এর কারণ ছিল স্পষ্ট। পাকিস্তান শুধু ইরানের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দাই করেনি, আন্তর্জাতিক সব ফোরামেও ইরানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। 

২০২৬ সালের এপ্রিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরপর ইরানের বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ কথাটি নিয়ে ফারসি গান প্রচারিত হয়।

তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সমাবেশে ইরানিরা পাকিস্তানের পতাকাও ওড়ান। বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে দুই দেশ কয়েকটি সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র খুলে দেয়। কিন্তু এই সৌহার্দ্যের অবসান ঘটে ১৭ অক্টোবর।

১৮ অক্টোবরের সংবাদপত্রগুলোতে উদ্বেগজনক একটি খবর প্রকাশিত হয়। খবরে বলা হয়, পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে তাদের সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে গাবদ-রিমদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পথও রয়েছে। গাবদ পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে, আর রিমদান ইরানের বেলুচিস্তানে অবস্থিত। এই সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রটি গোয়াদর বন্দর থেকে মাত্র ৮৭ কিলোমিটার দূরে।

আরও পড়ুন

কয়েক মাস আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার কারণে বাণিজ্য ব্যাহত হলে গোয়াদর বন্দরে হঠাৎ পণ্য পরিবহনের চাপ বেড়ে যায়। গোয়াদরের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাবদ ও রিমদান সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যও শুরু হয়। ইরানি কোম্পানি ও ব্যবসায়ীরা গোয়াদর বন্দরে পণ্য পাঠানোর আদেশ দিতে শুরু করেন। সেখান থেকে মাত্র দুই ঘণ্টায় পণ্য ইরানে পৌঁছে যেত। তাফতান-জাহেদান সীমান্তের তুলনায় এই পথটি নিরাপদ হওয়ায় এখানকার ব্যস্ততা আরও বেড়েছিল।

এখন বেলুচিস্তান সরকারের একজন মুখপাত্র বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও চোরাচালানের কারণে সীমান্তটি বন্ধ করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক ভাষায় জানিয়েছে, ‘কারিগরি কারণে’ সাময়িকভাবে সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাফতান-জাহেদান সীমান্তের অবস্থাও একই রকম। দুই সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রে হাজার হাজার কনটেইনার আটকে আছে।

প্রতীকী ছবি

পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত ও আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ আগে থেকেই বন্ধ। এখন ইরানের সঙ্গে পথও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গোয়াদর বন্দর। এই বন্ধের প্রভাব পাকিস্তানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দামেও পড়তে পারে। কারণ, গাবদ-রিমদান দিয়ে প্রতিদিন চার হাজার টনের বেশি এলপিজি পাকিস্তানে প্রবেশ করছিল।

গোয়াদর থেকে হরমুজ প্রণালির দূরত্ব মাত্র ৪০০ কিলোমিটার। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। হরমুজকে ঘিরে উত্তেজনা সাময়িকভাবে গোয়াদরের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে পাকিস্তান সরকার সেই গুরুত্ব ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

গোয়াদর শুধু ইরানের জন্য নয়, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার বহু দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো এখানে ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে একটি তেল শোধনাগার নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। সৌদি কোম্পানিটি চেয়েছিল, চীনও প্রকল্পটির অংশীদার হোক। কিন্তু আলোচনা আর এগোয়নি।

আরও পড়ুন

২০১৩ সাল থেকে বেলুচিস্তানে চীনা নাগরিকদের ওপর হামলা হচ্ছে। পাকিস্তান এসব আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ভারত ও আফগানিস্তানকে দায়ী করে। আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্ত ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটারের বেশি, আর ইরানের সঙ্গে সীমান্ত প্রায় ৯০০ কিলোমিটার। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে সৌদি আরব গোয়াদর প্রকল্পে চীনের অংশীদারত্ব চেয়েছিল। কিন্তু ইরানকে অসন্তুষ্ট করতে না চাওয়াসহ নানা কারণে চীন এতে রাজি হয়নি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পর থেকে তেল শোধনাগার প্রকল্পটি কার্যত স্থবির হয়ে আছে। তার ওপর সৌদি আরবে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার পর প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গোয়াদর ইরান থেকে মাত্র ৮৭ কিলোমিটার দূরে। অন্যদিকে, পাকিস্তান সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের অংশ। ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবে বহুবার আরামকোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানেও তারা একই ধরনের হামলা চালাতে পারে।

পাকিস্তানের একটি বড় ট্র্যাজেডি হলো, দেশটির শাসকদের প্রদেশগুলোর ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান নেই। ইতিহাসের সঙ্গে ভূগোলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ভূগোলও বদলে যায়। আমাদের শাসকদের গোয়াদর ও মাকরান উপকূলের ইতিহাস পড়া উচিত।

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি প্রকল্পের আওতায় গোয়াদর বন্দরের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসবাদ বেড়েছে। এর পেছনে শুধু একটি শত্রু রাষ্ট্রের হাত নেই; উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু বন্ধুরাষ্ট্রও জড়িত। তাদের আশঙ্কা, গোয়াদরের উন্নয়ন হলে নিজেদের বন্দরগুলোর গুরুত্ব কমে যাবে।

এসব ষড়যন্ত্র বন্ধ করার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশের পাসনি বন্দর উন্নয়নের প্রস্তাব দিয়েছিল। গোয়াদর থেকে পাসনির দূরত্ব মাত্র ১০০ কিলোমিটার। কিন্তু পাসনি বন্দর উন্নয়নের চেয়ে বেলুচিস্তানের খনিজ সম্পদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের আগ্রহ বেশি বলে মনে হচ্ছে।

মাকরান উপকূলে গোয়াদর ও পাসনি ছাড়াও জিওয়ানি, ওরমারা ও সোনমিয়ানি বন্দর রয়েছে। বেলুচিস্তানের রয়েছে দীর্ঘ উপকূলরেখা ও বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। অথচ দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও সন্ত্রাসবাদের কারণে অঞ্চলটির অবস্থার কোনো উন্নতি চোখে পড়ছে না।

আমার এখনো মনে আছে, যখন ড. শিরিন মাজারি ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রধান ছিলেন, তখন প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফ সেখানে আমাদের বলেছিলেন, তিনি গোয়াদরের গভীর সমুদ্রের জলভাগ চীনের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এরপর চীন ও ভারত নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করে নেবে। 

মিসরে একটি সামিটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগা শাহী এ কথা শুনে মোটেও খুশি হননি। পাইপে জোরে জোরে টান দিতে দিতে তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘চীন নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের বন্ধু। কিন্তু কার্যকর কৌশল ছাড়া গোয়াদর বন্দর চীনের হাতে তুলে দেওয়া হলে বেলুচিস্তান আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রে পরিণত হবে।’

পাকিস্তানের একটি বড় ট্র্যাজেডি হলো, দেশটির শাসকদের প্রদেশগুলোর ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান নেই। ইতিহাসের সঙ্গে ভূগোলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ভূগোলও বদলে যায়। আমাদের শাসকদের গোয়াদর ও মাকরান উপকূলের ইতিহাস পড়া উচিত।

বেলুচিস্তানের উথাল এলাকার লাসবেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হামিদ বেলুচের লেখা সাহিল-এ-মাকরান বইটি পাকিস্তানের প্রত্যেক নীতিনির্ধারক ও ইতিহাসের শিক্ষার্থীর পড়া উচিত। দুই খণ্ডের এ বই শুধু জ্ঞানের ভান্ডার নয়, ঐতিহাসিক দলিলেরও এক অমূল্য সংগ্রহ। এসব দলিল থেকে জানা যায়, ব্রিটিশ বাহিনী মাকরান উপকূলের ছোট ছোট বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে জাপানি বাহিনীর ওপর হামলা চালাত।

বহু বছর আগে প্রথমবার গোয়াদরে যাওয়ার সময় সেখানকার প্রবীণ বাসিন্দারা আমাকে ওমানের সুলতানশাসিত সরকারের দেওয়া তাঁদের পুরোনো পাসপোর্ট দেখিয়েছিলেন। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত গোয়াদর ওমানের অংশ ছিল। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর মালিক ফিরোজ খান নুনের নেতৃত্বাধীন দুর্বল রাজনৈতিক সরকার ৩০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড দিয়ে গোয়াদরকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করে।

কালাতের খান নাসির খান প্রথম ১৭৮৩ সালে মাসকাটের এক বিদ্রোহী রাজপুত্রকে গোয়াদর দিয়েছিলেন। পরে তিনি সেটি ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। গোয়াদর বন্দরে আরোপিত শুল্ক থেকে ওমান সরকার উল্লেখযোগ্য আয় করত। এরপর কালাতের খান পাসনি ও জিওয়ানি বন্দরে শুল্ক কমিয়ে দেন। এতে গোয়াদরের গুরুত্ব কমে যায়। একপর্যায়ে ব্রিটিশ সরকার গোয়াদরকে কালাতের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ভাবতে শুরু করে। ওমানের শাসকদের ওপর অসন্তুষ্ট কয়েকটি ব্রিটিশ তেল কোম্পানিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে পেরে পাকিস্তানের মানুষ খুশি হয়েছিল। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হয়ে ওঠা তারা মেনে নেবে না। আমি আশা করি, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক ইরান সফর দুই দেশের মধ্যকার ভুল-বোঝাবুঝি দূর করবে। পাকিস্তান আবারও শুধু মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

ড. হামিদ বেলুচ আরও লিখেছেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর একদিন অল ইন্ডিয়া রেডিও মিথ্যা খবর প্রচার করে যে কালাতের খান তাঁর রাজ্যকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কালাতের খান আহমদ ইয়ার খান সঙ্গে সঙ্গে ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে টেলিগ্রাম পাঠিয়ে খবরটি প্রত্যাখ্যান করার অনুরোধ জানান। এই মিথ্যা সংবাদে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি ১৯৪৮ সালের মার্চে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কালাতের অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে সঙ্গে পাসনি ও জিওয়ানিও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে আসে।

১৯৫৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা গোয়াদরকে ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে ঘোষণা করে। ওমান সরকার গোয়াদরকে ভারতের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তখন ভারত গোয়ার প্রতি বেশি আগ্রহী ছিল। ভারত সামরিক অভিযান চালিয়ে গোয়া দখল করে, আর পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে ওমানের কাছ থেকে গোয়াদর অর্জন করে।

আরও পড়ুন

গোয়াদরকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা রাজনৈতিক সরকারকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৫৮ সালের অক্টোবরে জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক আইন জারি করেন। গোয়াদর পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হলেও আজ পর্যন্ত গোয়াদর ও বেলুচিস্তানের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।

কয়েক দিন আগে সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য ক্ষমতাসীন মহল খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নরের শাসন জারি করেছে। অথচ বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি খাইবার পাখতুনখাওয়ার চেয়েও খারাপ।

গাবদ-রিমদান সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রটি আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে শুধু গোয়াদর নয়, গোটা বেলুচিস্তানেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। গোয়াদর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বেলুচ ব্যবসায়ীদের হাহাকার আমার কাছে পৌঁছেছে। কিন্তু সম্ভবত ইসলামাবাদের শাসকদের কানে তা পৌঁছায়নি।

এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যপথ বন্ধ করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ হতে পারে, কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষতি হচ্ছে নিশ্চিতভাবেই।

আরও পড়ুন

মনে রাখতে হবে, মাকরান উপকূলে স্থিতিশীলতা না এলে বেলুচিস্তানে স্থিতিশীলতা আসবে না। আর বেলুচিস্তান স্থিতিশীল না হলে পাকিস্তানও সামনে এগোতে পারবে না। পাকিস্তানের উচিত নয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্সি হিসেবে কাজ করা কিংবা ইসরায়েলকে আনন্দিত করার উৎস হয়ে ওঠা। পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু খুশি হবেন।

ইরানের সংসদে যখন ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ স্লোগান উঠেছিল, তখন পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ আনন্দিত হয়েছিল। কিন্তু ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামাবাদকে ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ বার্তা পাঠাচ্ছেন। এই কূটকৌশলী ধন্যবাদ আমরা শুনতে পাচ্ছি না ঠিকই, কিন্তু আরেক প্রতিবেশীর সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় পাকিস্তানের মানুষের অসন্তোষ স্পষ্ট।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে পেরে পাকিস্তানের মানুষ খুশি হয়েছিল। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হয়ে ওঠা তারা মেনে নেবে না। আমি আশা করি, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক ইরান সফর দুই দেশের মধ্যকার ভুল-বোঝাবুঝি দূর করবে। পাকিস্তান আবারও শুধু মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

● হামিদ মীর পাকিস্তানের সাংবাদিক

 ইংরেজি থেকে অনূদিত 

*মতামত লেখকের নিজস্ব