জুলাইয়ের দুই বছর: পুলিশ সংস্কার কেন অগ্রাধিকার হয়ে উঠল না

আন্দোলন চলাকালে পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ চোখে গুরুতর আঘাত পান এবং অন্তত ৫৫০ জন স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান।ফাইল ছবি: প্রথম আলো

কোটা সংস্কার আন্দোলন কীভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিল—আজ দুই বছর পর নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর পেছনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রেখেছিল সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের নির্মম সহিংসতা।

২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ একজন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের সদর দপ্তর ঢাকা থেকে পাওয়া ২১৫ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সাক্ষ্য প্রদানের সময় উল্লেখ করেন, আন্দোলন দমনে এলএমজি, এসএমজি, চাইনিজ রাইফেল, শটগান, রিভলবার, পিস্তলসহ বিভিন্ন মারণাস্ত্র ব্যবহার করে শুধু ঢাকায় ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড এবং সারা দেশে ৩ লাখ ৫ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল। অভ্যুত্থানের সময় নিহত সাধারণ জনতার (যা সরকারি গেজেট অনুযায়ী ৮৪৩) বেশির ভাগই এর আঘাতেই মৃত্যুবরণ করেন।

এ ছাড়া আন্দোলন চলাকালে পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ চোখে গুরুতর আঘাত পান এবং অন্তত ৫৫০ জন স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান।

আরও পড়ুন

দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে চালানো হয় ব্লক রেইড ও গণগ্রেপ্তার। সেই সময় আটক হওয়া অনেকেই গ্রেপ্তারের পর তাঁদের ওপর পুলিশের করা অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে।

লেখক ও গবেষক সহুল আহমেদ তাই তাঁর কলামে যথার্থই তুলে ধরেছেন যে পুলিশের এই অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মাত্রাই বাংলাদেশের অভ্যুত্থানকে শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভারত থেকে পৃথক করে দিয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগেও বিগত দশকে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নি-ক্যাপিংয়ের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ, অনুসন্ধান ও প্রমাণ সামনে এসেছে।

স্বাভাবিকভাবেই ৫ আগস্টের পর পুলিশ সংস্কার ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ জনদাবি। তারই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করে।

কমিশন বলপ্রয়োগের নীতিমালা প্রণয়ন, তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম পৃথক্‌করণ, মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ জোরদারসহ একাধিক সুপারিশ দেয়; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আপত্তি সত্ত্বেও কমিশনের সদস্যরা পুলিশকে আরও কার্যকর, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে একটি পৃথক পুলিশ কমিশন গঠনের পক্ষে অবস্থান নেন।

আরও পড়ুন

তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, পরবর্তী সময় গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় পুলিশ সংস্কারবিষয়ক কোনো সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দল বা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচিত হয়নি; বরং বিষয়টি কার্যত পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়।

শেষ দিকে পর্যাপ্ত আলাপ-আলোচনা ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে জারি করা পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার, যা নির্বাচিত সরকার সংসদে উপস্থাপন না করায় ইতিমধ্যেই বাতিল হয়ে গেছে।

এভাবে সরকার ও জনপরিসর—উভয় জায়গা থেকেই পুলিশ সংস্কারের আলোচনা একপ্রকার কোণঠাসা হয়েই রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই বাংলাদেশে প্রথম পুলিশ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বিষয়টি এমন নয়।

এর আগেও পুলিশ ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—১৯৮২ সালের ফৌজদারি আইন সংস্কার কমিটি, ১৯৮৩ সালের ব্রিগেডিয়ার এনাম কমিটি, ১৯৮৮ সালের বিচারপতি আমিনুর রহমান পুলিশ কমিশন, ১৯৮৯ সালের মাহমুদুল হাসান কমিটি, ২০০৫-২০১৪ সালে ইউএনডিপির সহায়তায় পরিচালিত পুলিশ রিফর্ম প্রোগ্রাম (পিআরপি); ২০০৭ সালে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবসহ একটি নতুন পুলিশ অধ্যাদেশের খসড়াও তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ সুপারিশের ঘাটতি কখনোই ছিল না।

আরও পড়ুন

প্রশ্ন হচ্ছে, পর্যাপ্ত সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও সেগুলো কেন বাস্তবায়িত হচ্ছে না? এ ক্ষেত্রে অনেকে পুলিশের প্রশিক্ষণের অভাব ও সরকারের সম্পদের সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো সামনে আনতে পারেন।

কিন্তু তার চেয়েও গভীর সংকট সম্ভবত ঐতিহাসিক, কাঠামোগত ও সাংস্কৃতিকভাবে প্রথিত। সাম্প্রতিক তিনটি ঘটনা এই গভীরতর সংকটগুলো স্পষ্ট করে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্য আদালত থেকে বের হয়ে বলেছিলেন, তিনি শুধু সরকারি দায়িত্ব পালন করছিলেন, কোনো অপরাধ করেননি।

যদিও এটি একজন আসামির বক্তব্য, তবু এতে বোঝা যায়, তাঁর কাছে নিজের কর্মকাণ্ড অপরাধ নয়; বরং রাষ্ট্র কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালনমাত্র।

একইভাবে জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসান গ্রেপ্তার-পরবর্তী অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, নিজ পরিচয়ের কারণে তিনি প্রতিকার পেলেও একজন সাধারণ নাগরিকের জন্য থানায় কেউ আসবে না; থানায় কথা বলতে গেলে ওসি তাঁকে চোখ নামিয়ে কথা বলতে বলেন, কিন্তু ক্রিকেটার পরিচয় জানার পর বলেন, ‘ভাই বসেন’, যা দেখায়, ক্ষমতাবানদের বাইরে সাধারণ নাগরিকের প্রতি পুলিশের জবাবদিহি কতটা সীমিত।

আরও পড়ুন

আরেকটি ঘটনায়, পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এ এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে লিখিত বক্তৃতায় বলেন, সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি নিজের ‘জাতীয়তাবাদী’ রাজনৈতিক আদর্শ থেকে এক ইঞ্চিও পিছপা হননি এবং সপ্তম শ্রেণি থেকেই সেই মতাদর্শ ধারণ করে বড় হয়েছেন বলে বর্ণনা করেন।

এভাবে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরাকে তিনি পেশাদারত্বের লঙ্ঘন নয়; বরং ক্ষমতাসীনদের সামনে তা প্রকাশের তাগিদ হিসেবে দেখেছেন।

এই তিনটি ঘটনা আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন হলেও পুলিশ কাঠামোগত ও সাংস্কৃতিকভাবে যে ক্ষমতাসীনদের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনে আগ্রহী থাকে; তা প্রমাণে পেশাদারত্ব বিসর্জন দিতে বা জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলেও তারা পিছপা হয় না; সেটারই ইঙ্গিত দেয়।

বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝতে হলে এ অঞ্চলের পুলিশ কাঠামো কোন প্রেক্ষাপটে ও কাদের স্বার্থে গড়ে উঠেছিল, তা ফিরে দেখা জরুরি।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের বিদ্যমান পুলিশ কাঠামো মূলত ১৮৬১ সালের ঔপনিবেশিক পুলিশ অ্যাক্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যা সিপাহি বিদ্রোহ-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে প্রণীত হয়েছিল।

তখন শাসকদের লক্ষ্য ছিল নির্বিঘ্নে শাসন, খাজনা আদায়, বিদ্রোহ দমন ও উপনিবেশ থেকে সম্পদ আহরণ নিশ্চিত করা।

ফলে এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা হয়, যার মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল জনগণের পরিবর্তে শাসকের স্বার্থ রক্ষা করা।

সে সময়ের আইনে ন্যূনতম পেশাদারত্ব নিশ্চিতের কিছু বিধান থাকলেও দর্শনগতভাবে এটি ছিল ঔপনিবেশিক আইন, যা পুলিশকে ক্ষমতাকেন্দ্রিক আইন প্রয়োগের চর্চায় অভ্যস্ত করে তোলে ও জনসম্পৃক্ত পুলিশিংয়ের সুযোগ শুরু থেকেই সীমিত রাখে; যদিও পরবর্তী সময় সেই পেশাদারত্ব নিশ্চিত করার বিধানগুলোরও ক্ষমতাসীনদের নির্দেশনা ও প্রভাবের অধীন হয়ে পড়ে।

এভাবে ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার ও রাজনৈতিক ক্ষমতাসীনদের নিত্য প্রভাব—এই দুই মিলে বাংলাদেশের পুলিশিংয়ের মৌলিক সংকট তৈরি করেছে।

পুলিশ সংস্কার নিয়ে গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে ‘সপ্রান’ নামের একটি সংগঠন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ঢাকা; ১৫ জুন ২০২৬
ছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে

এ ছাড়া বিগত সময়ে পুলিশের নিয়োগ, বদলি, পুরস্কার ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয় এবং পেশাদারত্ব, মেধা, কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য বেশি ভূমিকা পালন করে।

ফলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নে অংশ নিলে পদোন্নতি বা পুরস্কারের সুযোগ তৈরি হয়েছে, আবার বিগত আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগেও নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠন বা মতাদর্শের অনুসারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এভাবে তৈরি হওয়া প্রণোদনা কাঠামো পুলিশকে জনবিরোধী ও নিপীড়নমূলক আচরণে উৎসাহিত করে। কারণ, তা পেশাগতভাবে লাভজনক, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন আমরা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সহিংসতায় দেখি।

পুলিশের ওপর এই রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত করে প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই মূলত একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতাসীনদের পরিবর্তে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের কাছে পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

জুলাই-পরবর্তী পুলিশ-জনগণ আস্থার সংকট নিরসনেও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন; তাঁদের মধ্যে কেউ সরাসরি সহিংসতায় জড়িত না থেকেও প্রাণ হারিয়ে থাকলে তাঁর পরিবার ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখে, কিন্তু এসব মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত বা পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেও দৃশ্যমান উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি।

তবে বাংলাদেশে এমন অনেক কমিশন রয়েছে, যেগুলো আইনগতভাবে স্বাধীন হলেও বাস্তবে কাজ করতে পারেনি; ফলে শুধু কমিশন গঠন করলেই সংকটের সমাধান হবে, এমন বলার সুযোগ নেই।

তবে এটি পুলিশের পেশাদারত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারত।

এ ছাড়া পুলিশের দৈনন্দিন পেশাগত সমস্যা—দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কর্মপরিবেশ, আর্থিক অবস্থা ও কল্যাণ নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তেমন আলোচনা হয় না।

জুলাই-পরবর্তী পুলিশ-জনগণ আস্থার সংকট নিরসনেও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন; তাঁদের মধ্যে কেউ সরাসরি সহিংসতায় জড়িত না থেকেও প্রাণ হারিয়ে থাকলে তাঁর পরিবার ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখে, কিন্তু এসব মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত বা পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেও দৃশ্যমান উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি।

পুলিশ সংস্কারের আলোচনা কেন ধীরে ধীরে জনপরিসর থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল, এর কোনো একক ব্যাখ্যা নেই। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় কয়েকটি নির্দিষ্ট সংস্কার রাজনৈতিক দর-কষাকষির বিষয়ে পরিণত হয়েছিল।

গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রায় সবার বক্তব্যে উঠে আসে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেই পুলিশ সংস্কার এগোচ্ছে না। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, সেই সদিচ্ছা তৈরি হচ্ছে না কেন?

সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, জনপরিসরে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কিছুটা সচেতনতা থাকলেও দাবিটি সংগঠিতভাবে তুলে ধরার মতো কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠেনি; নিয়মিত সংলাপ, জনসচেতনতা ও জনমত গঠনের কোনো পরিসর তৈরি হয়নি। ফলে নীতিনির্ধারকদের ওপর ধারাবাহিক জনচাপও তৈরি হয়নি।

জনপরিসরে পুলিশ সংস্কারসংক্রান্ত আলোচনা প্রতিষ্ঠা করতে হলে বহুমাত্রিক আলোচনা ও বয়ান তৈরি করতে হবে এবং পুলিশিংয়ের জটিল সংকট মোকাবিলায় অগ্রগতি অর্জন করেছে এমন দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকেও শিখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে এটি হতে হবে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ—রাজনীতিবিদ, সংস্কারে আগ্রহী ও পুলিশিংয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, আইনবিদ, শিক্ষক, গবেষক ও সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা তৈরি করতে হবে, পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জনসচেতনতা গড়ে তোলা যেতে পারে।

এতে রাতারাতি সংস্কার বাস্তবায়িত হবে না, তবে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও বিদ্যমান সংকট সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সর্বস্তরের মানুষ এ আলোচনায় সম্পৃক্ত হলে সংস্কারের পক্ষে জনমত ও সামাজিক চাপ তৈরি হবে, যা নীতিনির্ধারকদের প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে বাধ্য করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার কয়েকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠেছে, আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পর যা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং আশঙ্কাজনকও বটে।

এমতাবস্থায় সব শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের মূল্য রক্ষায় একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবিকে জনপরিসরে প্রাসঙ্গিক রাখার কোনো বিকল্প নেই।

  • মো. জারিফ রহমান অধিকারভিত্তিক থিংকট্যাংক সপ্রানের (সকল প্রাণের নিরাপত্তা) গবেষণা পরিচালক। বাংলাদেশ পুলিশ সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও ছাত্র প্রতিনিধি।

  • অপসরা ইসলাম, অধিকারভিত্তিক থিংকট্যাংক সপ্রানের (সকল প্রাণের নিরাপত্তা) গবেষক।

    *মতামত লেখকদ্বয়ের নিজস্ব।