অভিমত–বিশ্লেষণ
গণমাধ্যম: ‘নিয়ন্ত্রণযন্ত্র’ নয়, প্রয়োজন স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন
বাংলাদেশের গণমাধ্যম যে সংকটে পড়েছে, সেটা সমাধান করতে গিয়ে যেন আরও বড় নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার তৈরি না হয়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। সঠিক কমিশন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনআস্থা পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে, অন্যদিকে ভুল কমিশন সংস্কারের নামে নিয়ন্ত্রণকেই প্রতিষ্ঠা করবে। লিখেছেন রিজওয়ান-উল-আলম
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সংকট নিয়ন্ত্রণের অভাব নয়, বরং সংকট হলো আস্থা, স্বচ্ছতা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং জবাবদিহিমূলক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব। তাই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন–বিষয়ক আলোচনা কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয় নয়। এর সম্পর্ক নাগরিকের জানার অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির সঙ্গে।
গণমাধ্যম কমিশনের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকারের সুযোগ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই কমিশনের কেমন হওয়া দরকার? এটা কি গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করবে, নাকি সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের আরেকটি দরজা খুলে দেবে? বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় এই প্রশ্নটি গুরুতর।
ইউনেসকোর গণমাধ্যম উন্নয়ন সূচকের আলোকে গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম কমিশন মানে কোনো শক্তিশালী সেন্সর বোর্ড নয়। এটি বড় কোনো লাইসেন্স অফিসও নয়। আবার প্রত্যেক সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে নিবন্ধনের আওতায় এনে নিয়ন্ত্রণ করার প্রতিষ্ঠানও নয়। একটি গণতান্ত্রিক গণমাধ্যম কমিশনের মূল কাজ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, গণমাধ্যমের বহুত্ব নিশ্চিত করা, পেশাগত মান উন্নয়ন, ন্যায্য অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং গণমাধ্যম খাতের বিকাশে সহায়তা করা। অর্থাৎ সরকারের সুবিধা নয়, বরং জনস্বার্থই হবে কমিশনের কেন্দ্রবিন্দু।
২.
২০২৫ সালের ২২ মার্চ প্রকাশিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে একটি স্বাধীন আইনগত কমিশনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে নারী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের কথা বলার পাশাপাশি গণমাধ্যমের নৈতিকতা, অভিযোগ নিষ্পত্তি, সাংবাদিক প্রশিক্ষণ, গণমাধ্যম উন্নয়ন এবং জনসেবামূলক মূল্যবোধকে এক কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
এগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক। বাংলাদেশের গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, ইচ্ছেমতো লাইসেন্স প্রদান, দুর্বল স্বনিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল সাংবাদিকতার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তাই সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজন অনেক দিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল।
একই সঙ্গে এই প্রস্তাবের ভেতরে কিছু দুর্বলতাও লক্ষ করা যায়। এতে স্বনিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্স, নিবন্ধন, অভিযোগ, নৈতিকতা, বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ এবং শাস্তিমূলক ক্ষমতা—সবকিছু এক জায়গায় নিয়ে আসার প্রবণতা দেখা যায়। সব সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের নিবন্ধনের প্রস্তাব যেমন আছে, তেমনি ধর্মীয় অনুভূতি, নৈতিকতা ও তথ্য যাচাইয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ব্যাপক বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবও আছে।
পাশাপাশি গণমাধ্যম খাতের ওপর এক শতাংশ টার্নওভার লেভির প্রস্তাবও রয়েছে। আবার কমিশনের সদস্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ের ওপর নির্ভরতা এবং সংসদের বদলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধানও কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
এখানেই মূলত উদ্বেগ। স্বাধীনতার নামে তৈরি করা প্রতিষ্ঠান যদি বাস্তবে আরেকটি কেন্দ্রীয় ‘নিয়ন্ত্রণযন্ত্রে’ পরিণত হয়, তাহলে গণমাধ্যমের সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বাংলাদেশে সম্প্রচার লাইসেন্স দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিবেচনা ও পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে যুক্ত। প্রায়ই এই লাইসেন্সকে জনস্বার্থের উপকরণ হিসেবে না দেখে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়েছে।
একটি সত্যিকারের স্বাধীন কমিশন এই ব্যবস্থাকে বদলে দিতে পারে। তাই এ ধরনের কমিশন গঠনের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী মহলের প্রতিরোধও স্বাভাবিক। গণমাধ্যম সংস্কার তাই কেবল আইনি প্রশ্ন নয়; এটি রাজনৈতিক–অর্থনীতির প্রশ্নও।
৩.
এই বাস্তবতায় কমিশনকে সবকিছুর ক্ষমতা দেওয়া বিপজ্জনক হবে। ক্ষমতা যত বেশি এক জায়গায় জমা হবে, তার অপব্যবহারের ঝুঁকিও তত বাড়বে। বাংলাদেশের দরকার একটি সমন্বিত কিন্তু দায়িত্বভিত্তিকভাবে পৃথক গণমাধ্যম কমিশন।
এমন একটি কমিশন হতে পারে, যার ভেতরে আলাদা শাখা থাকবে—নৈতিকতা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি শাখা, লাইসেন্স ও মালিকানা-স্বচ্ছতা শাখা, জনসেবা গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম উন্নয়ন শাখা, এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও তথ্যের সততাবিষয়ক ইউনিট। তবে স্পেকট্রাম বরাদ্দ, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এবং কারিগরি মানদণ্ডের মতো বিষয় বিটিআরসির কাছেই থাকা উচিত। সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও গণমাধ্যম উন্নয়নকে টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলের সঙ্গে এক করে দেখলে সমস্যা তৈরি হবে।
বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে দেখা যায়, আইনগত নিয়ন্ত্রক সংস্থা লাইসেন্স, অভিযোগ শুনানি ও আপিলের ব্যবস্থা রাখতে পারে। আবার নির্বাহী নীতিনির্দেশ ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি স্বাধীনতাকে দুর্বল করে দেওয়ার অভিজ্ঞতাও সেখানে আছে।
ভারতের প্রেস কাউন্সিল পেশাগত নীতি ও লেভিভিত্তিক অর্থায়নে গুরুত্ব আরোপ করেছে। কিন্তু সেটি মূলত মুদ্রিত সংবাদমাধ্যমকেন্দ্রিক এবং নৈতিক তিরস্কারের মধ্যেই সীমিত। রুয়ান্ডার ক্ষেত্রে দেখা যায়, কারিগরি নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্স ও পেশাগত নীতির কাজ আলাদা রাখা সম্ভব।
ফিলিপাইনে দেখা যায়, যখন গণমাধ্যমের টিকে থাকা রাজনৈতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ও প্রশাসনিক অনুমতির ওপর নির্ভর করে, তখন স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে পড়ে। এখান থেকে বাংলাদেশের জন্য বার্তাও স্পষ্ট: খণ্ডিত নিয়ন্ত্রণ যেমন নয়, তেমনি সর্বগ্রাসী কেন্দ্রীকরণও নয়।
৪.
কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রথম শর্ত হলো নিয়োগপ্রক্রিয়া। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে দক্ষতা ও অন্তর্ভুক্তির ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা ধরে রাখা উচিত।
যে প্রতিষ্ঠান পুরো গণমাধ্যম খাতে প্রভাব ফেলবে, তার নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। সেখানে বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধি, সরকারদলীয় সংসদীয় প্রতিনিধি, বিরোধীপক্ষের সংসদীয় প্রতিনিধি, একজন শিক্ষাবিদ এবং নাগরিক সমাজ বা মানবাধিকারভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি থাকা উচিত। শূন্য পদ প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে। সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের জনসমক্ষে শুনানির মুখোমুখি হতে হবে। আনুষ্ঠানিক নিয়োগ রাষ্ট্রপতি দিতে পারেন, কিন্তু প্রক্রিয়াটি হতে হবে সংসদীয় জবাবদিহির আওতায়।
স্বার্থের সংঘাত ঠেকাতেও কঠোর নিয়ম দরকার। কোনো কমিশনারের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, টেলিকম কোম্পানি, বিজ্ঞাপন সংস্থা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা বড় কোনো বাণিজ্যিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বার্থ থাকা চলবে না।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পদধারী, নির্বাচনী প্রার্থী বা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কমিশনার হওয়ার যোগ্য হবেন না। সম্পদ বিবরণী, স্বার্থসংঘাতের ক্ষেত্রে নিজেকে প্রত্যাহার এবং জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম যে সংকটে পড়েছে, সেটা সমাধান করতে গিয়ে যেন আরও বড় নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার তৈরি না হয়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। সঠিক কমিশন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনআস্থা পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে, অন্যদিকে ভুল কমিশন সংস্কারের নামে নিয়ন্ত্রণকেই প্রতিষ্ঠা করবে।
কমিশনারদের মেয়াদ ধাপে ধাপে বিন্যস্ত ও নবায়ন অযোগ্য হওয়া উচিত। এতে দায়িত্ব পালনের সময় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বা করপোরেট সুবিধার প্রত্যাশা কমবে।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও কমিশনের জন্য অপরিহার্য। প্রতিবছর মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল কোনো কমিশন প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হতে পারে না। তবে গণমাধ্যম খাতের ওপর এক শতাংশ টার্নওভার লেভি বাস্তবসম্মত নয়। দেশের গণমাধ্যমশিল্প এমনিতেই আর্থিক চাপে আছে। এর বদলে সীমিত ও যুক্তিসংগত আইনগত লেভি, স্বচ্ছ নিবন্ধন ফি এবং সূত্রভিত্তিক সংসদীয় বরাদ্দের সমন্বয়ে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
কমিশনের তহবিল আলাদা সুরক্ষিত তহবিল হিসেবে থাকবে। এর হিসাব মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে নিরীক্ষিত হবে এবং প্রতিবছর প্রকাশ করা হবে। কমিশনের বাজেট ও কর্মসম্পাদন প্রতিবেদন সংসদ ও জনগণের সামনে প্রকাশ
করতে হবে।
কমিশনের প্রয়োগক্ষমতা হতে হবে সীমিত, আইনসম্মত ও অনুপাতসম্মত। কমিশন সংশোধনী প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারে, জবাব দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে, সতর্কতা, প্রকাশ্য তিরস্কার এবং যথাযথ শুনানির পর প্রশাসনিক জরিমানা দিতে পারে। কিন্তু অস্পষ্ট নৈতিকতা, ধর্মীয় অনুভূতি বা রাজনৈতিক ব্যাখ্যার ভিত্তিতে সরাসরি কনটেন্ট বন্ধ, লাইসেন্স বাতিল বা গণমাধ্যম বন্ধ করার ক্ষমতা থাকা উচিত নয়।
কনটেন্ট অপসারণের ক্ষেত্রে আদালতের তদারকি থাকতে হবে। যেকোনো শাস্তির আগে নোটিশ, শুনানি, লিখিত কারণ এবং আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে নৈতিকতা, রাষ্ট্রবিরোধী বয়ান, ধর্মীয় অনুভূতি বা জনশৃঙ্খলার মতো অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন করার নজির আছে। গণতান্ত্রিক কমিশন সেই পুরোনো ঝুঁকিকে নতুন নামে ফিরিয়ে আনতে পারে না।
কমিশনকে শুধু শাস্তিদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এর একটি বড় কাজ হওয়া উচিত গণমাধ্যম খাতকে শক্তিশালী করা। সাংবাদিক নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ, গণমাধ্যম সাক্ষরতা, তথ্য যাচাই সক্ষমতা, স্থানীয় সাংবাদিকতায় সহায়তা, নারী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অভিগম্যতা বিষয়ে কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা দরকার।
অভিযোগ ও জরিমানা দিয়ে গণমাধ্যমের মান উন্নত করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, নৈতিকতা, নিরাপত্তা এবং পেশাগত সংস্কৃতিতে বিনিয়োগ।
আরও একটি জরুরি ক্ষেত্র হলো রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সংস্কার। বিটিভি, বাংলাদেশ বেতার ও বাসসকে প্রকৃত জনসেবা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কোনো সরকারের মুখপত্র হতে পারে না। এগুলোর কাজ হওয়া উচিত নাগরিককে নিরপেক্ষ তথ্য দেওয়া, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান তৈরি করা, দুর্যোগের সময় কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা এবং জনজবাবদিহি শক্তিশালী করা। এ জন্য দরকার স্বাধীন বোর্ড, সম্পাদকীয় সনদ, স্বচ্ছ নিয়োগ এবং বহু বছরভিত্তিক বাজেট। সঠিকভাবে গড়ে উঠলে গণমাধ্যম কমিশন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
৫.
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনে প্রস্তাবিত গণমাধ্যম কমিশনের ধারণা বাতিল না করে প্রয়োজন ইতিবাচক দিকগুলো পুনর্বিবেচনা করা। বর্তমান প্রস্তাবে সম্ভাবনা আছে, কিন্তু ঝুঁকিও আছে।
সাংবাদিকতার বৈধতার শর্ত হিসেবে সর্বজনীন নিবন্ধনের দরকার নেই। নৈতিকতা ও অনুভূতির নামে অস্পষ্ট ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি প্রতিষ্ঠানের দরকার নেই। কাগজে স্বাধীন, কিন্তু বাস্তবে মন্ত্রণালয়নির্ভর কমিশনেরও দরকার নেই। দরকার এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা বহুত্ববাদ রক্ষা করবে, মালিকানার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে, অভিযোগ ন্যায্যভাবে নিষ্পত্তি করবে, পেশাগত মান উন্নত করবে, জনসেবা গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক দখল থেকে রক্ষা করবে এবং সংসদের কাছে জবাবদিহি করবে।
একটি গণতান্ত্রিক গণমাধ্যম কমিশনের ভিত্তি হওয়া উচিত আস্থা, সন্দেহ নয়। সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে দেখতে হবে জনস্বার্থের অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে। কমিশনের কাজ রাষ্ট্রকে ভিন্নমত দমনের অস্ত্র হাতে তুলে দেওয়া হয়, বরং নাগরিককে ভুল তথ্য ও অনৈতিক চর্চা থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম যে সংকটে পড়েছে, সেটা সমাধান করতে গিয়ে যেন আরও বড় নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার তৈরি না হয়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। সঠিক কমিশন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনআস্থা পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে, অন্যদিকে ভুল কমিশন সংস্কারের নামে নিয়ন্ত্রণকেই প্রতিষ্ঠা করবে।
রিজওয়ান-উল-আলম নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
মতামত লেখকের নিজস্ব