শান্তিনিকেতন থেকে নোবেল চুরির ঘটনার মধ্যে কেমন একটা সাহিত্য-সাহিত্য ভাব আছে। শুনতে খারাপ লাগে না।
কল্পনায় নোবেলচোরকে ঠিক চোর চোর মনে হয় না, কেমন যেন সূক্ষ্ম শিল্পকর্মের প্রতি গভীর অনুরাগবিশিষ্ট প্রাণীবিশেষ মনে হয়। কারণ শান্তিনিকেতনের সঙ্গে নোবেল চুরির মতো জিনিস যায়; মুরগি চুরি যায় না।
প্রায় সেই কায়দায় আমাদের হেয়ার রোডের মন্ত্রীর বাড়ির সঙ্গে সরকারি নথি বা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার চুরির ঘটনা যতটা ভদ্রস্থ ও স্বাভাবিক শোনায়, ছাগলচুরি ততটা শোনায় না।
না শোনালেও এই ঘটনা ঘটেছে বেশ আগে। তবে তার রেশ তো কাটেইনি, বরং তা আবার গাঁজিয়ে উঠেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, নোবেলচোর আর ছাগলচোর এক না। এই কারণে নোবেল চোরের মতো ছাগলচোর মনের মধ্যে ‘মর্যাদার’ আসন পায় না। ছাগলচোর শুনলে মনের মধ্যে ছ্যাঁচ্চড় টাইপের কিছু লোকের বীভৎস ছবি ভেসে ওঠে।
ঘটনা হলো, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা থাকাকালে ড. আসিফ নজরুলের হেয়ার রোডের সরকারি বাংলো থেকে তাঁর ছোট মেয়ের একটি পোষা ছাগল উধাও হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
শোনা যাচ্ছিল, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অপসারণে এনসিপির নেতারা জোরালো দাবি করেছিলেন। কিন্তু আসিফ নজরুল নাকি তাতে বাধ সেধেছিলেন।
সেই কারণে এনসিপির নেতারা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন। রাগের চোটে তাঁরা তাঁর একটি ছাগল জবাই করে খেয়ে ফেলেন এবং একটি ছাগলের গলায় ‘চুপ্পুর অপসারণ চাই’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে রেখে যান।
ওই সময় একটি টক শো’তে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের সঙ্গে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কথা হচ্ছিল। হুবহু কথাগুলো ছিল—
নাসীরুদ্দীন : আসিফ স্যারের ছাগল খাওয়া হইছে রান্নাবান্না করে। এটা আমি শুনেছি।
খালেদ মুহিউদ্দীন: সিরিয়াসলি? সিরিয়াসলি? আপনারা আসিফ নজরুলের ছাগল রান্নাবান্না করে খায়া ফেলছেন? এটা কি তাকে শিক্ষা দিতে? ইয়া করতে? মানে, কী করতে? আমি তো ভাবছিলাম এটা রেটোরিক্যাল।
নাসীরুদ্দীন : এটা অনেকে মনে করে যে, এটার মাধ্যমে আসিফ স্যার এটার মাধ্যমে শিক্ষা পাবে। আবার এটা অনেকে মনে করে যে, বাড়ির পাশে ছাগল থাকলে...হাহা হাহা...পরে আমি শুনছি নাকি তাকে (আসিফ নজরুলকে) একটা ছাগল কিনে দেওয়া হয়েছে এবং এটা নিয়ে উনি রাগ করেছেন। যেটাকে খাওয়া হয়েছে, সেটা নাকি কালো নাকি লাল ছিল...ওনাকে যেটা কিনে দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে রং মেলে নাই, সেজন্য নাকি উনি সে ছাগল নেননি। ফেরত দিয়েছেন।
খালেদ মুহিউদ্দীন: কারা খেয়েছিলেন ছাগলটা?
নাসীরুদ্দীন : আমি তো মন্ত্রীপাড়ায় থাকি না, তাদের পাড়াপ্রতিবেশিরা বলতে পারবেন। আসিফ নজরুল স্যারকেও আপনার জিজ্ঞাসা করতে পারেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভাষ্য অনুযায়ী, যাঁরা ছাগলটি খেয়েছিলেন, তাঁরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি ছাগল আসিফ নজরুলকে দিতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু আসিফ নজরুলের মেয়ের পোষা ছাগলের গায়ের রংয়ের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এনসিপির নেতাদের প্রস্তাবিত ছাগলটির গাত্রবর্ণের মিল না থাকায় তিনি তা নিতে অস্বীকার করেছিলেন।
ওই ঘটনা সেখানেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। দিন কয়েক আগে খালেদ মুহিউদ্দীনের শো’তে আসিফ নজরুল আসেন।
সেখানে সংবিধান, গঠনতন্ত্র, বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের মতো অতি উচ্চমার্গীয় দুর্বোধ্য প্রসঙ্গের মাঠে সহজবোধ্য ঘাস খেতে খেতে সেই ছাগলটি ঢুকে পড়ে। তাঁদের কথোপকথন হুবহু ছিল এ রকম:
খালেদ মুহিউদ্দীন: আপনার ওপর তারা (এনসিপি নেতারা) এতটাই ক্ষুব্ধ ছিল যে আপনার শিশুকন্যার ছাগল প্রতিশোধ হিসেবে তারা খেয়ে ফেলেছে এবং তারা প্রকাশ্যেই এটা বলেছে।
আসিফ নজরুল: ছাগল চুরি নিয়ে যা ঘটেছে, তা আমার জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা। এটা যদি কেউ আপনাকে বলে থাকে প্রতিশোধ হিসেবে করেছে, তাহলে তার মতো অমানুষ, তার মতো পিশাচ, তার মতো নির্মম, তার মতো খারাপ কোনো মানুষ হইতে পারে না।
এ ছাগলটাকে কাটা হইছে কীভাবে সেটাও শুনতে হবে আপনার। পুরা ঘটনাটা তারা মজা করে করেছে। আমার বাচ্চাটা...তখন তার বয়স ছিল সাড়ে নয় বছর। সে যখন ফুলার রোড থেকে চলে যায়, হেয়ার রোডে তার বন্ধুবান্ধব কেউ ছিল না। সে প্রচণ্ড ট্রমাটাইজড হয়ে যায়। হেয়ার রোডে একা বাসা। তখন তাদের পালার জন্য ছাগলটা আমরা কিনে দিই এবং এই ছাগলটা প্রত্যেক দিন বসে থাকত, কখন সে স্কুলে যাবে। সে স্কুল থেকে আসার পর ছাগলটা তার সঙ্গে খেলত। ওর যে ফোন ছিল, সেখানে তার মায়ের ছবি বাদ দিয়ে ছাগলের সঙ্গে গলা জড়িয়ে ধরে থাকা ছবিটাকে সেভ করে রেখেছিল।
ছাগলটাকে যখন খেয়ে ফেলা হয়, তখন আমার মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বমি করে দিচ্ছিল। দেড় দিন ধরে সে কিছু খেতে পারেনি। খুবই অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। আজ পর্যন্ত সে জানে না ছাগলটাকে খাওয়া হয়েছে। ভাগ্য ভালো সে টক শো দেখে না। আমরা বলেছি, ‘বাবা দরজাটা খোলা ছিল, ছাগলটা পালায়ে চলে গেছে।’
খালেদ, আপনাকে আমি বলতে চাইনি। কিন্তু আপনি যখন বললেন, প্রতিশোধ হিসেবে..., তখন বলছি, ওর মতো ইতর, বদমাইশ, পাষণ্ড পশু আর কেউ নাই। এই ছাগলটাকে কাটা হয়েছে কীভাবে, এটাও শুনতে হবে আপনাকে। ছাগলটা যখন প্রথম বটি দিয়ে কাটে তখন কাটছিল না। তো অর্ধেক কাটা হয়েছে, তখন নাকি কারওরানবাজার থেকে ধারালো ছুরি এনে ছাগলটাকে কাটা হয়।
২.
আসিফ নজরুলের ছাগল ছাত্ররা খেয়েছেন—বিষয়টিকে স্নেহের চোখে দেখার সুযোগ এই সমাজে আছে। কারণ এ দেশে মুরগি বা ছাগল চুরি করে মজা করে খাওয়ার রেওয়াজ আছে।
শুধু তা-ই না, সেই মুরগি বা ছাগল খাওয়ার পর এক ধরনের অধিকার আদায়ের গৌরব প্রচারের মতো করে মালিকের কাছে তা বুক ফুলিয়ে স্বীকার করার মধ্যে কোনো ধরনের সংকোচ না দেখানোর ঐতিহ্য এখানে অতি প্রাচীন। অনেক মহান নেতা ছোটবেলায় ছাগল চুরি করে খেয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা পর্যন্ত শৈশবের ছাগল চুরি করেছেন। ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ শিরোনামের আত্মজীবনীতে সেই ঘটনার বিশদ বিবরণ তিনি দিয়েছেন। আর শৈশব-কৈশরের ডাব চুরি, মাছ চুরি, ফল চুরি আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই ‘ধুর বাদ দেন তো’ বলে উপেক্ষাযোগ্য অপরাধ।
আসিফ নজরুলও বলেছেন, তাঁর ধারণা ছাগলটি এনসিপির নেতারা স্রেফ মজা করে খেয়েছেন। তাই তিনি এ নিয়ে কিছু বলতে চাননি।
কিন্তু ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে ছাগলটি খাওয়া হয়েছে বলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দেওয়া স্বীকারোক্তি তিনি হজম করতে পারেননি।
সে কারণেই তিনি বলেছেন, ‘আপনি যখন বললেন, প্রতিশোধ হিসেবে..., তখন বলছি, ওর মতো ইতর, বদমাইশ, পাষণ্ড পশু আর কেউ নাই।’
আসিফ নজরুলের জবানিতে তাঁর মেয়ের ট্রমাটাইজড্ হয়ে যাওয়ার কথা যাঁরা শুনেছেন, তাঁদের কাছে ছাগল চুরির ঘটনা আর মজা করার মতো বিষয় থাকেনি। তারা মেয়েটার আহাজারির কথা শুনে কষ্ট পেয়েছেন।
ধারণা করেছিলাম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আসিফ নজরুলের কথাগুলো শোনার পর দুঃখপ্রকাশ করবেন এবং মেয়েটার উদ্দেশে কোনো সান্ত্বনার কথা বলবেন।
রাজনীতিক হিসেবে তাঁর দিক থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসার বিষয়টাই প্রত্যাশিত ছিল।
কিন্তু নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন: ‘আমি মনে করি যে আসিফ নজরুলের ছাগল একটা খাওয়া হয়েছে, কিন্তু দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল। এবং আসিফ নজরুল খুব ভালো মানুষ না। এবং গতকাল দেখলাম...উনি...ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট ছিল কত...এক বছর, দেড় বছর...এর মধ্যে উনি গরু ছাগল মুরগি পালা শুরু করছে। যেখানে গরু ছাগল মুরগি পালত, সেখানে পুলিশের সিকিউরিটিও দাঁড় করাইছে। তো আসিফ নজরুলের এটা যারা খাইছে, আমি মনে করি যে তাদের আরেকটাও খাওয়া উচিত ছিল।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই আক্রমণাত্মক কথায় ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাসের আবদুল কাদেরের ছোটোবিবির কথা মনে পড়ে। ‘ছোটোবিবি সতিনকে উদ্দেশ করে “তোমার বুড়ার সম্পত্তিত হামি প্যাশাব করি, প্যাশাব করি” বলতে বলতে তার কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত সে এমনভাবে দোলায় যে মনে হয়, তার সংকল্পটি সে এক্ষুনি কার্যকর করতে যাচ্ছে।’
নাসীরুদ্দীন যে উত্তেজিত অভিব্যক্তিতে আসিফ নজরুলের আরও একটি ছাগল খাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন, তার সঙ্গে ‘বুড়ার সম্পত্তিত হামি প্যাশাব করি’ বলে কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত দোলানি দিয়ে ‘নিজ সংকল্প এক্ষুনি কার্যকর করতে’ উদ্যত হওয়া ছোটোবিবির বিরল মিল দেখা গেছে। মনে হয়েছে, পারলে তিনি এখনই আসিফ নজরুলের দ্বিতীয় ছাগলটিকে খেয়ে ফেলতেন।
ছাগলচুরির বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মধ্যে তেমন কোনো লজ্জাশরম বা অনুশোচনা দেখা গেল না। বরং দুটো ছাগল না খেয়ে একটা খাওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ছাগলচোরদের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে তাঁদের হৃদয় নিংড়ানো ধিক্কার জানিয়েছেন।
নাসীরুদ্দীনের ছাগল চুরিবিষয়ক ‘অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস’-এর আসল কারণ হলো, বাংলাদেশে ছাগল আর শুধু ছাগল নেই।
ছাগল এখন রাজনৈতিক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাগল এখন প্রতিবাদ। ছাগল এখন প্রতিশোধ। ছাগল এখন রাষ্ট্রচিন্তা। ছাগল এখন টকশোর বিষয়। ছাগল এখন রাজনৈতিক দর্শনেরও অংশ।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সূচনার পেছনে ১৫ লাখ টাকা দাম ওঠা এক ঐতিহাসিক উচ্চবংশীয় রামছাগলের বিরাট ভূমিকা ছিল।
আজ ছাগল নেই, বলিও নেই; কিন্তু মানুষের রাজনীতিতে স্কেপগোটের অভাব নেই। অর্থাৎ, ছাগল গেছে, ছাগলামি যায়নি। হেয়ার রোডের দুই ছাগলের একটিকে জবাই করে খাওয়া ও একটিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ইয়োম কিপুরের কথা মনে করিয়ে দেয়।
৩.
প্রাচীন জেরুজালেমের মন্দিরে ইয়োম কিপুরের বিশেষ আচার হিসেবে দুটি ছাগল নেওয়া হতো। লটারির মাধ্যমে একটি নির্ধারিত হতো ঈশ্বরের উদ্দেশে বলির জন্য।
অন্য ছাগলটির ওপর মহাযাজক ইসরায়েলিদের পাপের প্রতীকী দায় চাপিয়ে দিয়ে সেটিকে মরুভূমির দিকে পাঠিয়ে দিতেন। দ্বিতীয় এই ছাগলটি এস্কেপ করত বা চলে যেত বলে এটাই পরে ইংরেজিতে ‘scapegoat’ শব্দের উৎস হয়।
অর্থাৎ সেখানে একটি ছাগল বলি হতো। আরেকটি হয়ে যেত ‘স্কেপগোট’—অর্থাৎ সবার পাপের দায় নিজের ঘাড়ে নিয়ে বিদায়।
আজ ছাগল নেই, বলিও নেই; কিন্তু মানুষের রাজনীতিতে স্কেপগোটের অভাব নেই। অর্থাৎ, ছাগল গেছে, ছাগলামি যায়নি। হেয়ার রোডের দুই ছাগলের একটিকে জবাই করে খাওয়া ও একটিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ইয়োম কিপুরের কথা মনে করিয়ে দেয়।
আমাদের রাজনীতিতেও বলির পাঁঠার অভাব নেই। পার্থক্য শুধু এই-সেখানে একটি ছাগলকে বলি দেওয়া হতো পাপের দায় বহনের প্রতীক হিসেবে; এখানে কখনো ছাগলকে খাওয়ানো হয় রাজনৈতিক রাগের প্রতীক হিসেবে।
রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘ছাগলের যতটুকু শিং আছে, তাহাতে তাহার কাজ চলিয়া যায়, কিন্তু হরিণের শিঙের পনেরো আনা অনাবশ্যকতা দেখিয়া আমরা মুগ্ধ হইয়া থাকি।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ছাগল-সংক্রান্ত বক্তব্য সেই অর্থে এক বিরল রাজনৈতিক সম্পদ। কারণ, তাঁর বক্তব্য শুনলে মনে হয়, রবীন্দ্রনাথ ছাগলের শিং নিয়ে যা বলেননি, সেটিও নাসীরুদ্দীন বলে গেছেন—শিংয়ের প্রয়োজন সামান্য, কিন্তু যথার্থ ছাগলের শিং দেখানোর আকাঙ্ক্ষাটা অসীম।
সারফুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক।
[email protected]
