সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে সংকটের কারণ কী

সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির নিঃসন্দেহে নৈতিক দায় আছে। বিরোধী দলের বক্তব্য-বিবৃতিতেও এ প্রসঙ্গ প্রায়ই উঠে আসে। তবে সরকার আর বিরোধী জোটের মধ্যে খোদ সংস্কারের বিষয়ে ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে সংকটের কারণ কী, সেই বিষয়ে লিখেছেন ইমরান আজাদ

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে বিষয়ে সংস্কার নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল, তা ছিল সাংবিধানিক সংস্কার। সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন, ব্যাপক আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে (বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কতিপয় ভিন্নমতসহ) রচিত জুলাই জাতীয় সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ প্রণয়ন ইত্যাদি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত ও এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি দুটি শপথ নেন—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে একটি শপথ, আরেকটি গণভোট অধ্যাদেশে বর্ণিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সরকারি দল বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখেন।

২.

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা না–করা তথা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে দুটি পৃথক মুলতবি প্রস্তাবের ওপর অন্তত দুই দফা সংসদে আলোচনার পরও এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি সরকারি দল ও বিরোধী দল। বিএনপির অবস্থান হচ্ছে নোট অব ডিসেন্টসহ (ভিন্নমত) যেভাবে জুলাই জাতীয় সনদ সই হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের প্রচলিত রীতিনীতির মাধ্যমে সেটা বাস্তবায়ন করা। অন্যদিকে বিরোধী জোট হিসেবে জামায়াত-এনসিপির দাবি হচ্ছে নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া জুলাই সনদের সব মূল প্রস্তাব পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার প্রয়োজন আছে বলে তারা মনে করে।

সরকারি দল ও বিরোধী দলের এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থানের অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষত বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টগুলোর প্রতিফলন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া। উদাহরণস্বরূপ সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টা উল্লেখ করা যেতে পারে। জুলাই সনদে বলা হয়েছিল যে নিম্নকক্ষের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের ১০০ সদস্য নির্বাচিত হবেন। এ বিষয়ে বিএনপির ভিন্নমত ছিল। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নিম্নকক্ষের আসনের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। অথচ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বিএনপির এই ভিন্নমতকে উপেক্ষা করে গণভোটের প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়। 

আরও পড়ুন

এ রকম আরও কয়েকটি বিষয়ের উদাহরণ দেওয়া যাবে, যেখানে আমরা দেখতে পাই যে শুধু বিএনপি নায়, অন্য আরও কিছু রাজনৈতিক দলের ভিন্নমতকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে যথাযথভাবে মনোযোগ দেওয়া হয়নি।

সাংবিধানিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই আদেশের আসলে কোনো ভিত্তি নেই। বিষয়টি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ৫ এপ্রিল সংসদে বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ একটি “কালারেবল লেজিসলেশন” (ছদ্মবেশী আইন)। ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলে প্রথম সংসদ যাত্রা শুরু করার পর আর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির এখতিয়ার নেই। জোরপূর্বক জাতীয় প্রতারণার দলিল হিসেবে এটা তাদের ওপর আরোপ করে দেওয়া হয়েছিল। গোঁজামিল দিয়ে গণভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে।’ (প্রথম আলো, ৫ এপ্রিল ২০২৬)

অনেকের মনে থাকার কথা, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় কী হবে, তা নিয়ে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তখন গণভোট–সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি করার মাধ্যমে জনমানসে একটা বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে বিএনপি ও জামায়াত দুই দলই সন্তুষ্ট। কারণ, বিএনপির দাবি অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এক দিনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে আদেশে বলা হয়েছিল। অন্যদিকে উচ্চকক্ষ গঠনে জামায়াতের পিআর পদ্ধতির দাবিকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আদেশে।

ভিন্নমতসহ ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ও স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে গিয়ে এভাবে আইন প্রণয়ন করা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের একটা নমুনা। ভুলে গেলে চলবে না যে ভিন্নমতসহ ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ও স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ও রাজনৈতিক মর্যাদা কোনো রকমের সাংবিধানিক ভিত্তি ছাড়াই জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশের চেয়ে বহুলাংশে বেশি। সাংবিধানিক ভিত্তিহীন এই আদেশের মাধ্যমে তাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিটাও আইনের দৃষ্টিতে দুর্বল।  

জামায়াত-এনসিপি সাংবিধানিক সংস্কার চায়, গণভোটের ফলাফলের বাস্তবায়ন চায়। বিএনপি এগুলো চায় না—এমন কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি; বিএনপি সাংবিধানিক পদ্ধতির কথা বলেছে। পূর্বে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনেক কিছু করা হয়েছে বলে এখন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাংবিধানিক সংস্কার বা অন্য কিছুর বৈধতা দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক হবে না।

প্রায়ই বলা হয় আইনি কাঠামো ব্যবহার করে দেশে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল—এটা ঠিক, তবে পুরোপুরি না, আংশিক। আইনি কাঠামোর বাইরে আরও নানা কারণে, যেমন সামাজিক–সাংস্কৃতিক–রাজনৈতিক কারণে একটা ব্যবস্থা স্বৈরাচার হয়ে উঠতে পারে। আইনি কাঠামো দিয়ে স্বৈরশাসনকে বৈধতা দেওয়া হয় বা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। আইনের মৌলিক ধ্যান-ধারণার বাইরে গিয়ে এখন সংস্কার করলে সেটা টেকসই না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আরও পড়ুন

সংসদে ৫ এপ্রিল এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদে এমন কিছু প্রস্তাব আছে, যাতে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে। সংশোধনের মাধ্যমে এগুলো যুক্ত করা হলে তা টেকসই হবে না। ঐকমত্য কমিশনে এ জন্য তাঁরা গণপরিষদের কথা বলেছিলেন। বিএনপি সংসদের মাধ্যমে সংশোধনের কথা বলেছিল। (প্রথম আলো, ৫ এপ্রিল ২০২৬)

সাংবিধানিক আইনের বিবর্তনের খোঁজখবর যাঁরা রাখেন, তাঁরা জানেন যে উচ্চ আদালত চাইলে এর ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা ব্যবহার করে গণপরিষদ প্রণীত সংবিধানের আদি বিধানও (অরিজিনাল প্রভিশন) অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে পারেন। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায় এখানে স্মরণীয়। সংসদ কর্তৃক উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণের ক্ষমতাযেটা বাহাত্তরের সংবিধানে গণপরিষদের মাধ্যমে প্রথমে ও পরে ২০১৪ সালে ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত করা হয়, সুপ্রিম কোর্ট তা ২০১৬ ও ২০১৭ সালে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

৩.

এখন পর্যন্ত সংসদে বিএনপির তরফ থেকে সব রকমের আইনি যুক্তি দেওয়া হচ্ছে এটাই প্রমাণ করার জন্য যে সরকারের আইনত বা সাংবিধানিক কোনো দায়িত্ব নেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে গুরুতর আইনি প্রশ্ন বিএনপির সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে তোলা হলেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দৃশ্যত আইনি ভাষায় কোনো জুতসই জবাব বা যুক্তি দিতে পারছেন না।

১৯৭৭ সালে রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অধীনে হওয়া গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে সম্প্রতি জামায়াতপন্থী আইনজীবী শিশির মনির এক আলোচনা সভায় প্রশ্ন করেন, ‘তখন কি সংবিধানে গণভোট ছিল?’ (যুগান্তর, ২ এপ্রিল ২০২৬)। তিনি বলেন, ‘সংবিধানে গণভোট এসেছে ১৯৭৮ সালে। তা–ও মার্শাল ল প্রক্লেমেশনের মাধ্যমে। মার্শাল ল জারি করে সংবিধান কেটে, ছিঁড়ে, পোস্টমর্টেম করে, সিজার চালিয়ে পছন্দমতো ডানে-বামে নিয়ে এখন আমাদের এসে সবক শোনাচ্ছেন। কোনটা সাংবিধানিক আর কোনটা অসাংবিধানিক? এদের মুখে এগুলো মানায় না। এরা কেন এগুলো বলবে?’ (যুগান্তর, ২ এপ্রিল ২০২৬)

এই আইনজীবীর ভালো করেই জানার কথা যে মার্শাল ল প্রক্লেমেশন জারি করা হয়েছিল সংবিধান স্থগিত থাকা অবস্থায় আর পরবর্তী সময়ে সামরিক ফরমানের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত (১৯৭৭ সালের গণভোটসহ) সব কাজকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে। যদিও পরবর্তী সময়ে পঞ্চম সংশোধনী উচ্চ আদালতে সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নের সম্মুখীন হয়।

আরও পড়ুন

লক্ষণীয় যে ২০২৫ সালে গণভোট–সংক্রান্ত আদেশ জারি করার সময় সংবিধান স্থগিত অবস্থায় ছিল না; বরং সংবিধান কার্যকর থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে এই আদেশটি জারি করা হয় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত আজকের সাংবিধানিক সংস্কার সম্পর্কিত সংকট তৈরির ক্ষেত্রে অনেকাংশে দায়ী।

গণভোট–সংক্রান্ত আদেশের ন্যায্যতার পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে সংবিধান সংস্কার কমিশনের অন্যতম সদস্য আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোয় একটি কলাম লেখেন। ‘গণভোটের আইনি ভিত্তি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়’ শীর্ষক সেই লেখায় তিনি বলেন, ‘গণভোটের সাংবিধানিক ভিত্তি বোঝার জন্য, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তিও বুঝতে হবে। কারণ, উভয়েরই সাংবিধানিক ভিত্তি একই রকম। এটা বলা যাবে না যে [ইউনূস] সরকার লিখিত সংবিধানের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল। তা সত্ত্বেও [এই] সরকার সাংবিধানিক ও বৈধ। প্রধানমন্ত্রী দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর লিখিত সংবিধান প্রয়োগ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কারণ, সংবিধান এ ধরনের পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে প্রণয়নই হয়নি। অতএব বর্তমান সরকারের সাংবিধানিকতা ও বৈধতার ভিত্তি লিখিত সংবিধানের বাইরের নীতিগুলোর মধ্যে [ যেমন “প্রয়োজনীয়তার নীতি” (ডকট্রিন অব নেসেসিটি)] খুঁজতে হবে।’

শরীফ ভূঁইয়ার যুক্তি প্রসঙ্গে বলতে হয়, পুরোপুরি সংবিধান মেনে সরকার হয়নি—এটা ঠিক; তবে সংবিধান স্থগিত না করে সংবিধান না মেনে চলা বা সুবিধামতো আংশিক মেনে চলা কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ হতে পারে না। লক্ষণীয়, পুরো লেখায় শরীফ ভূঁইয়া কোথাও  সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৬-এর কথা উল্লেখ করেননি। ৫ আগস্ট–পরবর্ত‍ী সময়ে ১০৬-এর অধীনে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের দোহাই দিয়ে সরকার গঠন করা একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল? তাহলে এ বিষয়টাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা কেন? এতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে অনুচ্ছেদ ১০৬-এর রেফারেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া খুব স্বাভাবিক।

৪.

সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির নিঃসন্দেহে নৈতিক দায় আছে। বিরোধী দলের বক্তব্য-বিবৃতিতেও এ প্রসঙ্গ প্রায়ই উঠে আসে। তবে সরকার আর বিরোধী জোটের মধ্যে খোদ সংস্কারের বিষয়ে ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যেখানে বিএনপির কাছে সাংবিধানিক সংস্কার মানে হচ্ছে প্রচলিত সংবিধানের অধীনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধানের কতিপয় বিধান সংশোধন করা, সেখানে জামায়াত-এনসিপির কাছে সংস্কার মানে হচ্ছে বাহাত্তরের সংবিধানকে ফেলে দিয়ে নতুন সংবিধান লেখা। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা দরকার।

প্রথমত, বাহাত্তরের সংবিধান বলে এখন আর কিছু নেই। বাহাত্তরের সংবিধান নিজেই একাধিক সংশোধনীর মধ্য দিয়ে গেছে এবং বর্তমানে সম্পূর্ণ একটা পরিবর্তিত রূপে সংবিধান বলবৎ আছে। দ্বিতীয়ত, সংস্কারের ধারণাগত বিষয়ে সংবিধান সংস্কার কমিশন এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিজেই কোনো সুরাহা না করে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর সংবিধান সংস্কার কমিশনের সভায় সংস্কারের পরিধি ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়। গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, সংস্কারে অন্তর্ভুক্ত হবে ‘বর্তমান সংবিধান পর্যালোচনাসহ জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের লক্ষ্যে সংবিধানের সামগ্রিক সংশোধন, বিয়োজন, পরিমার্জন, পুনর্বিন্যাস এবং পুনর্লিখন।’

সংস্কারের পরিধি ব্যাপক রাখার মাধ্যমে কমিশন হয়তো চিন্তা করেছিল যে সব ধরনের রাজনৈতিক আদর্শকে এক ছাতার নিচে এনে সমঝোতার ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা সম্ভব হয়নি; বরং কিছু ক্ষেত্রে ঐকমত্য কমিশন নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চেয়েছে। তারই প্রতিক্রিয়ায় এখন সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে।

  • ইমরান আজাদ আইন–আদালত–সংবিধানবিষয়ক গবেষক

    মতামত লেখকের নিজস্ব