বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: শান্তি ও মর্যাদার অন্বেষণ

বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময় পার করছে এবং প্রতিটি দেশ নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। এই পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুযোগ কাজে লাগানো এবং আস্থাহীনতার কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ সুফিউর রহমান

বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে একটি জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সাম্য, ন্যায্যতা ও মর্যাদাপূর্ণ সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা এখন সবচেয়ে কঠিন এবং জরুরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংশোধন নিয়ে সংসদে বিতর্ক চলছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো তাদের স্বার্থ উদ্ধার ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে; বরং এ ক্ষেত্রে তাদের তৎপরতা আরও বেড়েছে।

নতুন পররাষ্ট্রনীতির কাঠামো অনুসন্ধান এবং দিকনির্দেশনা নির্ধারণের মধ্যেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর আক্রমণ নতুন অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এতে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বন্দোবস্তের বিভাজনগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। নতুন সমীকরণ ও মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ফলে বিদ্যমান ও উদীয়মান পরাশক্তিগুলোর দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। একই সময়ে জেন-জি আন্দোলন এবং গণ-অভ্যুত্থানের ফলে নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। ভারত ও আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সংঘাত এ অঞ্চলে জন্ম দিয়েছে নতুন অস্থিরতার।

আরও পড়ুন

২.

এমন উত্তাল ও জটিল সময়ে ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকারের জন্য আগের মতো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের বিবর্তনের মধ্যে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্রনীতির চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও শর্তের মধ্যে থেকেও দেশের স্বার্থ সুরক্ষা করা।

এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে গত এক দশকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশ হতাশ ও অসন্তুষ্ট। আওয়ামী লীগ সরকারের শুরুর দিকে স্থলসীমান্ত চুক্তি, ছিটমহল বিনিময়, প্রতিকূলভাবে দখলকৃত ভূমির সমাধান এবং বহরমপুর-ভেড়ামারা বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে একধরনের ন্যায্যতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক সালিসের মাধ্যমে সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তিও ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এ সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যাচ্ছিল এবং একটি আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে উঠছিল, যদিও তিস্তার পানিবণ্টনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সমঝোতা সম্ভব হয়নি।

তবে ২০১৪ সালের নির্বাচন অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক ছিল না। ওই নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভারতের প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়াটা বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে দিল্লির প্রতি আস্থায় যথেষ্ট ঘাটতি দেখা দেয়।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো সুরাহা না করেই একপক্ষীয় স্বার্থে ট্রানজিট চুক্তি, বন্দর ব্যবহার এবং আদানি বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত চুক্তির মতো বিষয়গুলোতে ভারসাম্যহীনতা জনগণের মধ্যে ভারতের প্রতি অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তোলে। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের নিরঙ্কুশ সমর্থনও বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক মূলধনকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

সরকারি পর্যায়ের অসম আচরণের বাইরে, আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে যুক্ত করা এবং বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রবল অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। আসামে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিদেশি নির্ধারণের প্রচেষ্টা অধিকাংশ বাংলাদেশির কাছে অযৌক্তিকভাবে রাজনৈতিকীকরণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

পাশাপাশি, ভারতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে হিন্দু-সংশ্লিষ্ট যেকোনো ঘটনাকে ধর্মীয় নিপীড়ন হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতাও হতাশা তৈরি করেছে। আসন্ন আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্কে আস্থা ও ন্যায্যতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের ভিত্তি গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। সেক্টরভিত্তিক দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং উপ-আঞ্চলিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা, সেটা সার্ক বা বিমসটেকযে উদ্যোগের আওতায়ই হোক না কেন—বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো বিকল্প নেই।

৩.

এই পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের বাস্তবতা এবং বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রত্যাশা অনুধাবনে ভারতের সরকার ও গণমাধ্যমের অনাগ্রহ দূর করা জরুরি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে অকারণে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভারতবিরোধী মন্তব্যও সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। ফলে দুই পক্ষ থেকেই কিছু নেতিবাচক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়।

বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটারের আইপিএলে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে, তা আস্থার সংকট এবং সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতারই প্রতিফলন। এ ধরনের বিষয়গুলো থেকে দুই পক্ষেরই সরে আসা উচিত। সুখকর বিষয় হলো, আবেগের বশবর্তী হয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোকে ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বা পুনর্বিবেচনার দাবি শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত বিভাজনের প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় হোটেলে বাংলাদেশি পর্যটকদের বর্জন, সেখানকার হাসপাতালে বাংলাদেশের রোগীদের চিকিৎসা দিতে অনীহা এবং দোকানে নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সেবা না দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

পুনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের স্টল ভাঙচুর এবং জাতীয় পতাকার অবমাননার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততা ছিল লক্ষণীয়। একই সঙ্গে স্থলপথে শুল্ককেন্দ্রের সুবিধা বাংলাদেশি পণ্যের জন্য এখনো বন্ধ রয়েছে। তবে এরপরও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দুই দেশের অর্থনীতির পারস্পরিক সংযুক্ততা ও গভীরতা নির্দেশ করে।

আরও পড়ুন

৪.

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের অনেক নেতার ভারতে অবস্থান। বিএনপি সরকারের প্রতি আওয়ামী লীগের বিষয়ে কিছুটা সহনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের যে অনুচ্চারিত প্রত্যাশা রয়েছে, তা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে একটি ‘সংবেদনশীল’ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০০৭ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং পিলখানা বিদ্রোহে, যেখানে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, সেখানে আওয়ামী লীগ ও প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা জনমনে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।

এসব অভিযোগ সত্য হোক বা না হোক, তা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করছে। অতীতে একইভাবে অনুপ চেটিয়া ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার ক্ষেত্রে ভারত তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। এ বিষয়গুলোর যথাযথ সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। উভয় দেশকেই এসব বিষয় নিষ্পত্তি করতে হবে।

আস্থা ফিরিয়ে এনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি নিবন্ধ করার এখনই সময়। ভারতের তরফে জুলাই ২০২৪-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফেরার চেষ্টা থাকতে পারে। ভারতকে বুঝতে হবে, অতীতের ভুল সংশোধন না করে কিংবা অন্যায্য বন্দোবস্তের ভিত্তিতে ‘টেকসই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ তৈরির ভাবনা বাস্তবসম্মত নয়।

৫.

নিরাপত্তা ও সীমান্তের অখণ্ডতা উভয় দেশের জন্যই অগ্রাধিকারের বিষয়। এ কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং জননিরাপত্তা ইস্যুতে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। মাদক পাচার, মানব পাচার, অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান এবং অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে বিদ্যমান সব দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া সক্রিয় করা অপরিহার্য। সীমান্তে অপরাধীরা খুব কমই ধরা পড়ে বা আহত হয়; বরং নিহত হয় সাধারণ জনগণ, সীমান্তের অধিবাসী। এগুলোর দ্রুত সুরাহা ভারতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।

অর্থনৈতিকভাবে দুই দেশ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এবং একে অন্যের পরিপূরক। পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। মূল্য-শৃঙ্খল (ভ্যালু চেইন) গঠন এবং সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। খাদ্য ও জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণের চাহিদা পূরণ এবং তাদের আত্মমর্যাদাবোধ অক্ষুণ্ন রাখা। জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বিষয়গুলোকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কেন্দ্রে স্থান দেওয়া কূটনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচায়ক। মনে রাখতে হবে, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল মূলত কৃষিনির্ভর। কৃষি এ এলাকার অগ্রাধিকার ও জনগণের আগ্রহের বিষয়।

এ ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য ও খাদ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষি উপকরণ, বীজ ও সার সরবরাহ যেমন খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করে; তেমনি কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।

তেমনই গুরুত্বপূর্ণ পানির ন্যায্য ব্যবহার। গঙ্গা চুক্তির নবায়ন এবং তিস্তার মতো নদীর পানিবণ্টনে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা গেলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমে আসবে। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা এবং ভিসাপ্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

আরেকটি সংবেদনশীল বিষয় হলো রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ভারতের অবস্থান। মিয়ানমারের ‘ইসলামি সন্ত্রাস’ মতবাদ বা ন্যারেটিভ ভারতের গ্রহণ করাটা বাংলাদেশের কাছে দুর্বোধ্য। কারণ, ব্রিটিশ উপনিবেশ শাসনের মুখ্য সময় তৎকালীন বার্মা ভারতের অংশ হিসেবে শাসিত হয়েছিল। রোহিঙ্গাদের রাখাইনে একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে অভ্যুদয়ের তথ্য-উপাত্ত ভারতে সংরক্ষিত থাকার পরও এর রোহিঙ্গাবিরোধী অবস্থান ব্যাখ্যা করা দুরূহ। বাংলাদেশ এই অবস্থানের পরিবর্তন আশা করে।

৬.

বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময় পার করছে এবং প্রতিটি দেশ নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। এই পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুযোগ কাজে লাগানো এবং আস্থাহীনতার কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দুর্বল থাকবে এবং মর্যাদাভিত্তিক সম্পর্কের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়বে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সুপ্রতিবেশীসুলভ, সম্মান আর মর্যাদার ভিত্তিতে পারস্পরিক লাভ ও সৌহার্দ্যমণ্ডিত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সুবর্ণ সুযোগ। আশা করা যায়, উভয় দেশ সাগ্রহে তার সদ্ব্যবহার করবে।

দুই দেশের আলোচনায় রাষ্ট্রের, অর্থনীতির আর জনগণের স্বার্থের একটি ভারসাম্যসংবলিত এজেন্ডা গৃহীত হবে। পারস্পরিক মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে দুই দেশের আগ্রহ দৃঢ়করণে ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের বোঝাপড়ার ক্ষেত্র তৈরি হবে। দুই দেশের জনগণ বন্ধুত্ব, শান্তি ও উন্নয়ন চায়। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের সব প্রয়াস নিবন্ধ হবে, এটাই সময়ের দাবি।

  • মোহাম্মদ সুফিউর রহমান সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

    মতামত লেখকের নিজস্ব