প্রবাসী বাংলাদেশি: উদার সমাজে থেকেও কেন সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে

আগামীর বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন বুঝতে হলে শুধু দেশের ভেতরের বাস্তবতা জানলেই হবে না; প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পর্কেও জানতে হবে। লিখেছেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার

গত ২৩ জুলাই সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের একটি ছোট ঘটনা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সারা দেশে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পাল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি রিল প্রকাশ করেন। পরে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী এক বাংলাদেশি সেই রিল নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ একই গানের সঙ্গে রিল প্রকাশ করে তাঁর প্রতি সংহতি জানান। (প্রথম আলো, ২৬ জুলাই ২০২৬)।

এই ঘটনা নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন, বিশ্লেষণ করেছেন। কিন্তু ঘটনাটি আমাকে অন্যভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। হাজার হাজার মাইল দূরে বসে একজন প্রবাসী বাংলাদেশি কেন একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এত আগ্রহ দেখালেন?

শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই। এই লেখা সব প্রবাসী বাংলাদেশিকে নিয়ে নয়। লাখ লাখ প্রবাসী কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। আমার প্রশ্ন তাঁদের নিয়ে নয়। আমার প্রশ্ন হলো, ইউরোপ বা আমেরিকার মতো আধুনিক ও উদার সমাজে দীর্ঘদিন বসবাস করার পরও কেন কিছু বাংলাদেশি দেশের মানুষের ব্যক্তিগত জীবন বা সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন অনুভব করেন?

আরও পড়ুন

এই প্রশ্ন উঠল কেন

এই প্রশ্ন হঠাৎ করে আসেনি। ২০০৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে আমার ধারণা ছিল, মানুষ বিদেশে যায় উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের জন্য। আমার মাস্টার্স গবেষণার একটি অংশ ছিল যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবার নিয়ে। দ্বিতীয় প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখলাম, কেউ বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় সব সম্পর্ক হারিয়ে ফেলেছে। আবার কেউ বহু বছর বিদেশে থাকার পরও বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ ও ধর্মের বিষয় গভীর আবেগ নিয়ে কথা বলছে। পরে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করার সময়ও একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে।

দেশে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটে (রামরু) কাজ করার সুযোগ হয়। তখন যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি যৌথ গবেষণায় কাজ করছিলাম। সেই সময় ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কেটি গার্ডনার একটি সেমিনারে বলেছিলেন, একজন মানুষ বিদেশে গেলে শুধু তিনি একা যান না; তাঁর সঙ্গে যায় পরিবার, স্মৃতি, গ্রামের টান, ধর্মীয় চর্চা এবং নিজের পরিচয়ও। তাই বিদেশে থাকলেও অনেকের মন থেকে নিজের দেশের টান কখনো পুরোপুরি মুছে যায় না। কথাটি তখন শুনেছিলাম, কিন্তু আজ মনে হয়, এর ভেতরে আরও গভীর অর্থ লুকিয়ে আছে।

গবেষণা কী বলে

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গবেষকেরাও বহু বছর ধরে একই বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী পেগি লেভিট তাঁর বই দ্য ট্রান্সন্যাশনাল ভিলেজার্স-এ বলেছেন, প্রবাসীরা শুধু টাকা দেশে পাঠান না; তাঁরা নতুন চিন্তা, মূল্যবোধ ও অভিজ্ঞতাও নিয়ে আসেন, যাকে তিনি ‘সোশ্যাল রেমিট্যান্স’ নামে অভিহিত করেছেন। আগে এসব ভাবনা ছড়িয়ে পড়ত চিঠি, টেলিফোন বা ছুটিতে দেশে ফেরার মাধ্যমে। এখন একটি ফেসবুক পোস্ট, ইউটিউব ভিডিও বা লাইভে কয়েক মিনিটের মধ্যেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

নরওয়ের মনোবিজ্ঞানী ডেভিড এল স্যাম এবং কানাডার মনোবিজ্ঞানী জন ডব্লিউ বেরি তাঁদের সম্পাদিত বই দ্য কেমব্রিজ হ্যান্ডবুক অব অ্যাকালচারেশন সাইকোলজিতে দেখিয়েছেন, নতুন দেশে গিয়ে সবাই একইভাবে মানিয়ে নেন না। কেউ নতুন সমাজের সঙ্গে সহজেই মিশে যান; কেউ নিজের ভাষা, ধর্ম আর সংস্কৃতিকে আরও শক্ত করে ধরে রাখেন। আবার অনেকের মধ্যে দুটিরই মিশ্রণ দেখা যায়।

এই গবেষণাগুলো থেকে আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশে আমরা এখনো অভিবাসনকে মূলত রেমিট্যান্সের হিসাবেই দেখি। কত মানুষ বিদেশে গেলেন বা কত টাকা পাঠালেন, এই আলোচনা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা মানুষের অভিজ্ঞতা চিন্তা, পরিচয় এবং নিজের দেশকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকে কীভাবে বদলে দেয়, সেটা নিয়ে আমাদের গবেষণা খুবই কম। বিশ্বায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই পরিবর্তনকে আরও দ্রুত করেছে। ফলে প্রবাসীদের চিন্তা, মতামত ও আবেগ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত বাংলাদেশে পৌঁছে যায়।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি ভাষা বদলে দিয়েছে

গত এক যুগে বাংলাদেশের অনলাইন পরিবেশ অনেক বদলে গেছে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনের পর ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনৈতিক আলোচনা ও মতপ্রকাশের বড় জায়গা হয়ে ওঠে। এতে কিছু ভালো দিক ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ, গালাগালি আর কুরুচিপূর্ণ ভাষাও এই পরিবেশের অংশ হয়ে যায়।

বিভিন্ন সময়ে ‘সিপি গ্যাং’-এর মতো সংগঠিত অনলাইন গ্রুপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করা, বিদ্রূপ করা এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করেছিল। পরে এই সংস্কৃতি আর একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যেও একই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে।

২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর অনেকের আশা ছিল, রাজনৈতিক ভাষায় পরিবর্তন আসবে। কারণ, নতুন প্রজন্মের অনেক নেতা ও কর্মী পশ্চিমা দেশে পড়াশোনা করেছেন বা দীর্ঘদিন সেখানে বসবাস করেছেন। তাই মানুষের প্রত্যাশা ছিল, ভিন্নমতের প্রতি আরও সম্মান, যুক্তির চর্চা এবং সংযত ভাষা দেখা যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসহিষ্ণু ভাষা চোখে পড়ছে। সবাই অবশ্য এমন নন; কিন্তু যাঁরা বেশি উত্তেজনাপূর্ণ ভাষায় কথা বলেন, তাঁদের কথাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনেক সময় মনে হয়, এটাই যেন পুরো সমাজের চিত্র।

এখানেই কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন উন্নত দেশে থাকার অভিজ্ঞতা যদি মানুষের চিন্তাকে বদলে দেয়, তাহলে পশ্চিমা সমাজে বসবাসকারী কিছু বাংলাদেশির বক্তব্যে কেন অনেক সময় উল্টো চিত্র দেখা যায়? কেন তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশের কথা বলেন, যা তাঁদের নিজের বসবাসের দেশের সমাজব্যবস্থা থেকে অনেকটাই আলাদা?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের প্রবাসীদের পরিচয়ের সংকট, বহুসংস্কৃতির সমাজে বসবাসের অভিজ্ঞতা এবং নিজের দেশের প্রতি টান—এই তিন বিষয় একসঙ্গে বুঝতে হবে।

কেমন বাংলাদেশ চাই

ইউরোপ বা আমেরিকায় বসবাসকারী লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রতিদিন এমন একটি সমাজে জীবন কাটান, যেখানে ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন ভাষা ও ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে বাস করেন। তাঁদের সন্তানেরা সরকারি স্কুলে পড়ে, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়। আবার অনেকেই স্বল্প সুদে শিক্ষাঋণ, গৃহঋণ, পেনশন ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধাও ভোগ করেন; অর্থাৎ জীবনের বাস্তব প্রয়োজনের ক্ষেত্রে তাঁরা সেই দেশগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

আবার লন্ডন, টরন্টো কিংবা নিউইয়র্কে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয় বা তুর্কি অধ্যুষিত অনেক এলাকায় দেখা যায়, মানুষ অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি সেই দেশের অংশ হলেও নিজেদের মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন, কমিউনিটি সেন্টার, মাতৃভাষার স্কুল এবং নিজস্ব সামাজিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলেছেন; অর্থাৎ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাঁরা পশ্চিমা সমাজের অংশ। কিন্তু সাংস্কৃতিকভাবে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয়ও ধরে রাখতে চান।

এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নতুন সমাজের অংশ হয়ে যাওয়ার পরও সবাই কি সেই সমাজের মূল্যবোধ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে একইভাবে গ্রহণ করেন? গবেষণা বলছে, উত্তর হলো ‘না’।

সমাজবিজ্ঞানী ওলিভিয়ে রোয়া তাঁর গ্লোবালাইজড ইসলাম: দ্য সার্চ ফর আ নিউ উম্মাহ বইয়ে দেখিয়েছেন, ইউরোপে বসবাসকারী অনেক মুসলিম অভিবাসীর মধ্যে সংখ্যালঘু অবস্থায় ধর্মীয় পরিচয় আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফ্রান্সের সমাজ–রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জোসেলিন সেজারির হোয়েন ‘ইসলাম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি মিট: মুসলিমস ইন ইউরোপ অ্যান্ড ইন দ্য ইউনাইটেড স্টে’ লেখায় দেখিয়েছেন, সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাস এবং বৈষম্যের অভিজ্ঞতা মানুষকে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি আরও অনুরাগী করে তুলতে পারে।

বাংলাদেশে অভিবাসন নিয়ে অনেক গবেষণা হলেও সেগুলোর বেশির ভাগই শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সকেন্দ্রিক; কিন্তু দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার অভিজ্ঞতা মানুষের পরিচয়, চিন্তা ও নিজের দেশকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বদলে দেয়, সেই বিষয়ে গবেষণা এখনো খুব কম। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচয়সংকট, নতুন প্রজন্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বৈশ্বিক ঘটনাবলির প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা দরকার।

সমাজবিজ্ঞানী রজার্স ব্রুবেকার তাঁর দ্য ‘ডায়াসপোরা’ প্রবন্ধে দেখিয়েছেন, বহু অভিবাসী বিদেশে থাকলেও নিজের দেশের জাতীয় পরিচয় ও রাজনীতির সঙ্গে গভীর আবেগগত সম্পর্ক বজায় রাখেন। আবার ব্রিটিশ সমাজ নৃবিজ্ঞানী প্নিনা ওয়ার্বনার ইমাজিনড ডায়াসপোরাস অ্যামং ম্যানচেস্টার মুসলিমস: দ্য পাবলিক পারফরম্যান্স অব পাকিস্তানি ট্রান্সন্যাশনাল আইডেন্টিটি পলিটিকস বইয়ে দেখিয়েছেন, অনেক অভিবাসী অর্থনৈতিকভাবে পশ্চিমা সমাজে সফল হলেও সাংস্কৃতিকভাবে নিজেদের আলাদা পরিচয় ও সামাজিক সীমারেখা বজায় রাখতে চান।

এই বাস্তবতার মধ্যেই কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়। ধরা যাক, বাংলাদেশ একদিন এমন একটি রাষ্ট্রে রূপ নিল, যেখানে ইসলামের ভূমিকা আরও বড়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিসর আরও সীমিত হয়ে গেল; তখন এই প্রবাসীরা কি তাঁদের সন্তানদের নিয়ে স্থায়ীভাবে সেই বাংলাদেশে ফিরে আসবেন, নাকি তাঁদের সন্তানের ভবিষ্যৎ আগের মতোই পশ্চিমা দেশেই গড়ে তুলতে চাইবেন?

উত্তর যদি দ্বিতীয়টি হয়, তাহলে প্রশ্নটি সেখানেই। নিজের পরিবারের জন্য একধরনের সমাজকে সবচেয়ে উপযোগী মনে করা, কিন্তু নিজের দেশের মানুষের জন্য ভিন্ন ধরনের সমাজ কল্পনা করা—এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হয়? এর কোনো সহজ উত্তর নেই। তবে বিভিন্ন গবেষণা অন্তত এটুকু দেখায়, অভিবাসীজীবন, পরিচয়বাদী রাজনীতি এবং মাতৃভূমির সঙ্গে দূরবর্তী সম্পর্ক—সব মিলিয়ে একজন মানুষ নিজের দেশের জন্য কেমন রাষ্ট্র কল্পনা করেন, সেটি এসব বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।

আমাদের কী করা দরকার

২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তার প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বায়ন, যুদ্ধ ও বিভিন্ন মানবিক সংকটও তাঁদের চিন্তাকে প্রভাবিত করছে। লক্ষণীয় হলো, বাংলাদেশে অভিবাসন নিয়ে অনেক গবেষণা হলেও সেগুলোর বেশির ভাগই শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সকেন্দ্রিক; কিন্তু দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার অভিজ্ঞতা মানুষের পরিচয়, চিন্তা ও নিজের দেশকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বদলে দেয়, সেই বিষয়ে গবেষণা এখনো খুব কম।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচয়সংকট, নতুন প্রজন্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বৈশ্বিক ঘটনাবলির প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা দরকার। কারণ, আগামীর বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন বুঝতে হলে শুধু দেশের ভেতরের বাস্তবতা জানলেই হবে না; প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও বুঝতে হবে। বিশেষ করে যখন তাঁরা শুধু দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন না, বাংলাদেশের ভোটার হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন। তাই তাঁরা কী ভাবছেন এবং সেই ভাবনা কীভাবে গড়ে উঠছে, তা বোঝাও এখন সময়ের দাবি।

  • মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার শিক্ষক ও গবেষক, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

    মতামত লেখকের নিজস্ব