অভিমত–বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ কী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সংযম বা সাধারণ জীবনযাপন তখনই রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠবে, যখন সরকারের অন্যদের আচরণেও একই মূল্যবোধ দেখা যাবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির বদলে প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রত্যাশা শুধু সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; মানুষের প্রত্যাশা ছিল রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও পরিবর্তন হবে। দীর্ঘদিনের সংঘাত, বিভাজন এবং প্রতিপক্ষকে শত্রু মনে করার রাজনীতির বদলে তারা চেয়েছিল সংযত, জবাবদিহিমূলক ও জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি।
এ রকম প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিছু ছবি ও ভিডিও স্বাভাবিকভাবেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কোথাও তিনি নিজেই ব্যাগ বহন করছেন, বৃষ্টিতে নিজের ছাতা নিজেই ধরছেন, ট্রাফিক আইন মেনে অপেক্ষা করছেন, কোথাও আবার শিশুদের সঙ্গে ছবি তুলছেন কিংবা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশছেন।
অনেকের কাছে এগুলো শুধু একজন নেতার ব্যক্তিগত আচরণ নয়; বরং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতীকী বার্তা। কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, জনপরিসরে শুধু একজন নেতার এমন আচরণ কি একটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলে দিতে পারে?
রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি মানুষকেও বদলে দেয়?
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল আলমন্ড ও সিডনি ভারবা তাঁদের দ্য সিভিক কালচার বইয়ে দেখিয়েছেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনকেই নয়; মানুষের চিন্তা, সহনশীলতা এবং ভিন্নমত গ্রহণের মানসিকতাকেও প্রভাবিত করে। একটি সমাজ যদি দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত, বিভাজন এবং প্রতিপক্ষকে শত্রু মনে করার রাজনীতিতে অভ্যস্ত হয়, তার প্রভাব মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়ে। তখন মানুষ যুক্তির চেয়ে দল বা পক্ষকে বেশি গুরুত্ব দেয়। মতের পার্থক্য সহজেই ব্যক্তিগত বিরোধে পরিণত হয়। ভিন্নমত শোনার ধৈর্যও কমে যায়।
বাংলাদেশও এই বাস্তবতার বাইরে নয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ–বিভক্তি শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাষা, কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক, এমনকি পরিবার ও বন্ধুত্বের মধ্যেও এর প্রভাব পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই যুক্তির চেয়ে পরিচয়, দল বা পক্ষ বড় হয়ে উঠেছে।
এখানেই একজন নেতার আচার–আচরণের গুরুত্ব। রাজনৈতিক সংস্কৃতি যদি মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে, তাহলে একজন নেতার ব্যক্তিগত উদাহরণও পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক আচরণগুলোকে সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা যেতে পারে। কিন্তু সেই পরিবর্তন তখনই অর্থপূর্ণ হবে, যখন একই মূল্যবোধ মন্ত্রিসভা, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আচরণেও প্রতিফলিত হবে।
জনসমক্ষের ছবি কি পুরো সত্য বলে?
আচরণ যখন রাজনৈতিক বার্তা বহন করে, তখন আরেকটি প্রশ্নও সামনে আসে। জনসমক্ষে আমরা একজন নেতার যে আচরণ দেখি, সেটিই কি তাঁর নেতৃত্বের পূর্ণ পরিচয়, নাকি সেটি রাজনৈতিক উপস্থাপনার একটি অংশ মাত্র?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে কানাডীয় সমাজবিজ্ঞানী আরভিং গফম্যানের কথা মনে পড়ে। তাঁর বিখ্যাত বই দ্য প্রেজেন্টেশন অব সেলফ ইন এভরিডে লাইফ-এ তিনি দেখিয়েছেন, মানুষের সামাজিক জীবন অনেকটা নাট্যমঞ্চের মতো। মঞ্চে আমরা একজন মানুষের যে রূপ দেখি, সেটি তাঁর ‘ফ্রন্ট স্টেজ’। কিন্তু মঞ্চের আড়ালেও আরেকটি জগৎ থাকে, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কৌশল ঠিক করা হয় এবং প্রকৃত আচরণের প্রকাশ ঘটে। সেটি হলো ‘ব্যাক স্টেজ’।
রাজনীতিতেও এ ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ। একজন নেতা কী পোশাক পরলেন, কী বললেন, কীভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশলেন বা নিজেকে কীভাবে তুলে ধরলেন—এসব অবশ্যই গুরুত্ব বহন করে। এসব আচরণ মানুষের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেয়।
কিন্তু এগুলো নেতৃত্বের একটি অংশ মাত্র। শেষ পর্যন্ত মানুষ একজন নেতাকে বিচার করে তাঁর সরকারের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনের আচরণ, সংকটের সময় নেওয়া পদক্ষেপ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান দিয়ে।
মানুষ কি অতীতকে সহজে ভুলে যায়?
কিন্তু মানুষ শুধু বর্তমান দেখেই কোনো নেতাকে বিচার করে না। তারা অতীতের অভিজ্ঞতাও সঙ্গে নিয়ে চলে। ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী মরিস হালবওয়াক্স তাঁর অন কালেকটিভ মেমোরি বইয়ে দেখিয়েছেন, প্রতিটি সমাজের একটি সমষ্টিগত স্মৃতি থাকে। নতুন কোনো ঘটনা ঘটলে মানুষ সেটিকে আলাদা করে দেখে না; বরং অতীতের পরিচিত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে বোঝার চেষ্টা করে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতেও আমরা এই বাস্তবতা দেখি। গত দুই দশকের নানা রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে মানুষের মত ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু কিছু প্রতীক, কিছু শব্দ এবং কিছু স্মৃতি এখনো মানুষের রাজনৈতিক চিন্তাকে প্রভাবিত করে। সেগুলো সব সত্য, না মিথ্যা—সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেই স্মৃতিগুলো এখনো মানুষের মনে জীবন্ত।
এই কারণেই ‘হাওয়া ভবন’ শব্দটি বারবার রাজনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসে। এটি শুধু একটি ভবনের নাম নয়; অনেকের কাছে এটি একটি রাজনৈতিক প্রতীক। ফলে নতুন কোনো বিতর্ক তৈরি হলে মানুষ অনেক সময় সেটিকে পুরোনো অভিজ্ঞতার আলোকেই ব্যাখ্যা করে।
সরকারের আসল চরিত্র কোথায় প্রকাশ পায়?
তত্ত্বের আলোচনা থেকে এবার বাংলাদেশের বাস্তবতায় ফিরে আসা যাক। সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আলাদা করে বিচার করে না। তাঁদের সবার কথা, আচরণ ও সিদ্ধান্ত মিলিয়েই সরকারের একটি সামগ্রিক ছবি তৈরি হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কিছু বক্তব্য নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির একটি অসতর্ক মন্তব্যও অনেক সময় পুরো সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করে।
রাজনৈতিক ইতিহাসও তা–ই বলে। বড় সংকট সব সময় বড় ঘটনা দিয়ে শুরু হয় না। অনেক সময় একটি মন্তব্য বা ছোট একটি সিদ্ধান্তই মানুষের জমে থাকা ক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়। তখন প্রতিক্রিয়া শুধু সেই ঘটনাকে ঘিরে থাকে না; এর সঙ্গে পুরোনো অভিজ্ঞতা ও অসন্তোষও যুক্ত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির একটি মন্তব্যকে ঘিরে ছাত্রসমাজের প্রতিক্রিয়াও আমাদের সেই বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেয়। একইভাবে স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার মুখে সংশোধন করা হয়েছে। সরকারের এই দ্রুত সংশোধন ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এই দুটি ঘটনাই একটি বিষয় স্পষ্ট করে—সরকারের ভাবমূর্তি শুধু প্রধানমন্ত্রীর আচরণে গড়ে ওঠে না; সরকারের অন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভাষা, আচরণ ও সিদ্ধান্তও সেই ভাবমূর্তি তৈরি করে।
ইতিহাসের একটি বড় শিক্ষা হলো, নতুন সরকারগুলো সাধারণত বিরোধী দলের কারণে নয়, বরং নিজেদের সিদ্ধান্ত, নিজেদের ভাষা এবং নিজেদের আশপাশের মানুষদের কারণেই সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ক্ষমতায় আসার পর অনেক সরকারই ধরে নেয় যে মানুষের সমর্থন দীর্ঘদিন একই রকম থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মানুষের প্রত্যাশা দ্রুত বদলায়, আর সেই প্রত্যাশা পূরণ না হলে হতাশাও দ্রুত তৈরি হয়।
একই ধরনের বাস্তবতা সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী ভারতেও দেখা গেছে। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর শিক্ষার্থী ও তরুণদের একাংশ ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটি ব্যবহার করতে শুরু করে। পরে এই প্রতিবাদ শুধু একটি মন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা, বেকারত্ব এবং জবাবদিহির দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এটি বৃহত্তর যুব অসন্তোষের ভাষায় পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই একটি শব্দ বা মন্তব্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশের উপলক্ষ তৈরি করেছে। পরে সেই ক্ষোভ বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা দেখায়, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের ভাষা কখনোই শুধু ব্যক্তিগত মন্তব্য হিসেবে থাকে না। অনেক সময় একটি শব্দই সরকারের মনোভাবের প্রতীক হয়ে ওঠে। আবার সেই শব্দই দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষ প্রকাশের উপলক্ষ তৈরি করে।
একই শিক্ষা পাওয়া যায় যুক্তরাজ্যের ‘পার্টিগেট’ বিতর্ক থেকেও। কোভিডের সময় সরকার সবাইকে লকডাউন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছিল। পরে জানা যায়, সেই সময়েই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সামাজিক সমাবেশ হয়েছিল। এতে মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কারণ, মানুষ শুধু সরকারের কথা নয়, তাদের কাজও বিচার–বিবেচনা করে।
প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
এই বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বার্তা কতটা তাঁর পুরো সরকারের সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে? প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে ছিলেন। সেখানে তিনি একটি ভিন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জননেতৃত্বের ভাষা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর সাম্প্রতিক আচরণে অনেকেই সেই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখতে পান।
কিন্তু একটি সরকার কখনোই একজন মানুষ একা পরিচালনা করেন না। তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিসভা, রাজনৈতিক দল, সংসদ সদস্য, প্রশাসন এবং অসংখ্য প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকে। তাই প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সংযম বা সাধারণ জীবনযাপন তখনই রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠবে, যখন সরকারের অন্যদের আচরণেও একই মূল্যবোধ দেখা যাবে।
এখানেই তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি কি নিজের আচরণের মধ্যেই নতুন সংস্কৃতির উদাহরণ সীমাবদ্ধ রাখবেন, নাকি সেটিকে পুরো সরকারের জন্য একটি মানদণ্ডে পরিণত করবেন? নেতৃত্ব শুধু নিজে ভালো উদাহরণ তৈরি করার নাম নয়; নেতৃত্ব মানে দলের অন্যদেরও সেই মূল্যবোধের মধ্যে নিয়ে আসা, ভুল হলে সংশোধন করা এবং সরকারের সবাইকে একটি সাধারণ নৈতিক ও রাজনৈতিক মানদণ্ডের মধ্যে রাখা।
বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জন্য নেতৃত্ব, নৈতিকতা, গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনসেবা নিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা যেন নিজের বক্তব্য ও আচরণের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকেন। বাংলাদেশেও এমন উদ্যোগ নিয়ে ভাবা যেতে পারে। নতুন মন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য রাজনৈতিক আচরণ, সংসদীয় শিষ্টাচার, জনসংযোগ, গণমাধ্যমে কথা বলা এবং সংকট মোকাবিলা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ চালু করা যেতে পারে।
সিদ্ধান্ত এখন প্রধানমন্ত্রীর
ইতিহাসের একটি বড় শিক্ষা হলো, নতুন সরকারগুলো সাধারণত বিরোধী দলের কারণে নয়, বরং নিজেদের সিদ্ধান্ত, নিজেদের ভাষা এবং নিজেদের আশপাশের মানুষদের কারণেই সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ক্ষমতায় আসার পর অনেক সরকারই ধরে নেয় যে মানুষের সমর্থন দীর্ঘদিন একই রকম থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মানুষের প্রত্যাশা দ্রুত বদলায়, আর সেই প্রত্যাশা পূরণ না হলে হতাশাও দ্রুত তৈরি হয়।
বিশেষ করে আজকের তরুণ প্রজন্ম আগের প্রজন্মের মতো নয়। তারা তথ্য পায় মুহূর্তেই, সংগঠিত হতে সময় লাগে না, আর তারা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়—আচরণ ও ফলাফলও বিচার করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, কখনো একটি ছোট সিদ্ধান্ত, কখনো একটি অসতর্ক মন্তব্য, আবার কখনো সাধারণ মানুষের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দেওয়া—এসবই বড় রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা করেছে। তাই আধুনিক রাজনীতিতে ‘ছোট ভুল’ বলে কিছু নেই।
বাংলাদেশও এই পরিবর্তিত বাস্তবতার অংশ। জুলাই মানুষের মধ্যে শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন মানদণ্ডের প্রত্যাশা তৈরি করেছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না, সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।
সম্ভবত এ কারণেই বিরোধী দলকে কীভাবে মোকাবিলা করবেন—এটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নয়; বরং নিজের সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা তাঁর দেখানো বার্তাকে কতটা ধারণ করতে পারবেন, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ। আর তাই এ প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—‘ফ্রন্ট স্টেজ’–এ যে পরিবর্তনের ছবি দেখা যাচ্ছে, ‘ব্যাক স্টেজ’–এ কি তার প্রতিফলন ঘটবে?
মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার, শিক্ষক ও গবেষক, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত লেখকের নিজস্ব
