অভিমত–বিশ্লেষণ
ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে মুক্ত সফটওয়্যার নীতি কেন জরুরি
ডিজিটাল স্বাধীনতা শুধু প্রযুক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়; এর সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন গভীরভাবে জড়িত। যে দেশ নিজের ডেটাবেজ, অপারেটিং সিস্টেম ও ক্লাউডের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে রেখে দেয়, সে কার্যত নিজের স্নায়ুতন্ত্র ভাড়া নিয়ে চলে। ভাড়ার শর্ত বদলালে রাষ্ট্র অসহায়। ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে মুক্ত সফটওয়্যার নীতি কেন জরুরি, তা নিয়ে লিখেছেন আমিনুল বারী
একটি সরল প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি। গত দেড় দশকে ডিজিটালাইজেশনের নামে রাষ্ট্র যে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে, তার কতটুকু আজ রাষ্ট্রের নিজের সম্পদ হিসেবে অবশিষ্ট আছে? সার্ভার পুরোনো হয়েছে, লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি নবায়নের চিঠি এসেছে। কিন্তু জ্ঞান, সোর্স কোড কিংবা নিজস্ব প্রযুক্তি-সক্ষমতা কি রাষ্ট্রের হাতে জমেছে?
উত্তরটা অস্বস্তিকর। ডিজিটালাইজেশন দৃশ্যমান হয়েছে সত্য, কিন্তু তা ছিল রাষ্ট্রীয় দর্শনহীন; এর মূল সুবিধাভোগী হয়েছে বিদেশি প্রোপ্রাইটরি সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর বাজার।
হিসাবটা বুঝতে জটিল অর্থনীতি লাগে না। সরকারের যেকোনো বড় ডিজিটালাইজেশন প্রকল্পের ব্যয়কাঠামো ভাঙলে দেখা যাবে, সিংহভাগ অর্থ চলে যায় ডেটাবেজ, অপারেটিং সিস্টেম আর নানা সিস্টেম সফটওয়্যারের লাইসেন্সে, বাকিটার বড় অংশ হার্ডওয়্যারে; যার পুরোটাই যায় বিদেশে। প্রকল্পের মূল সফটওয়্যারটি দেশীয় কোম্পানি তৈরি করলেও মোট ব্যয়ের ১০ শতাংশের কম জোটে সেই দেশীয় ডেভেলপমেন্টের ভাগ্যে।
প্রতিবছর কেবল লাইসেন্স ও রক্ষণাবেক্ষণেই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে, অথচ সোর্স কোড ও সিস্টেম কনফিগারেশনের চাবি থেকে যায় বিদেশি কোম্পানির হাতে।
বৈশ্বিক সংঘাতে টেক–জায়ান্টদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নিয়ে চলা বিতর্ক প্রতিটি রাষ্ট্রকে ভাবতে বাধ্য করছে, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর চাবি কার হাতে?
ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিলসহ বহু দেশ মুক্ত সফটওয়্যারকে কৌশলগত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে পরিণত করেছে।
কাঠামোটাই এমন যে এখানে দেশীয় মেধার নিয়তি দুটি: হয় সস্তা সফটওয়্যার মজুর, নয়তো বিদেশি পণ্যের বিক্রয় প্রতিনিধি। মালিক সে কোনো দিন নয়। মূল্য যিনি সৃষ্টি করেন তিনি পান উচ্ছিষ্ট, আর কেনা পণ্যের মালিকানা, জ্ঞান ও নিয়ন্ত্রণ থেকে যায় অন্য দেশের হাতে।
বছরের পর বছর এই কাঠামোয় চলতে চলতে আমরা এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছি, যাকে ‘সফটওয়্যার কলোনিয়ালিজম’ বলা ছাড়া উপায় নেই। জনগণের অর্থ ব্যয় হয়, কিন্তু লাইসেন্সের বকেয়া ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
২.
কেউ বলবেন, এ তো ব্যবসার স্বাভাবিক হিসাব। কিন্তু ডিজিটাল স্বাধীনতা শুধু প্রযুক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়; এর সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন গভীরভাবে জড়িত। যে সফটওয়্যারের সোর্স কোড আপনি দেখতে পারেন না, সেই ব্ল্যাক বক্স কোন তথ্য কোথায় পাঠাচ্ছে, কোন দরজা খোলা রাখছে, তা নিশ্চিত হবেন কীভাবে?
রাষ্ট্রের নাগরিক নিবন্ধন, কর, ভূমি, স্বাস্থ্য কিংবা নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর ব্যবস্থা যখন এমন ব্ল্যাকবক্সের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তখন সেটি আর নিছক ক্রয়-সিদ্ধান্ত থাকে না; হয়ে ওঠে সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।
সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি এই আশঙ্কাকে আরও প্রকট করেছে। নিষেধাজ্ঞার অস্ত্র হিসেবে প্রযুক্তি-সেবা বন্ধ করে দেওয়ার নজির এখন আর তত্ত্ব নয়, বাস্তবতা। বৈশ্বিক সংঘাতে টেক-জায়ান্টদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নিয়ে চলা বিতর্ক প্রতিটি রাষ্ট্রকে ভাবতে বাধ্য করছে, আমার রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর চাবি কার হাতে?
যে দেশ নিজের ডেটাবেজ, অপারেটিং সিস্টেম ও ক্লাউডের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে রেখে দেয়, সে কার্যত নিজের স্নায়ুতন্ত্র ভাড়া নিয়ে চলে। ভাড়ার শর্ত বদলালে রাষ্ট্র অসহায়।
৩.
এই উপলব্ধি থেকেই ২০১২ সালে ফ্রান্সের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জঁ-মার্ক আয়রো একটি যুগান্তকারী সার্কুলার জারি করেন, যা ইতিহাসে আয়রো মেমোরেন্ডাম নামে পরিচিত। মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি প্রশাসনে মুক্ত সফটওয়্যার বা ফ্রি অ্যান্ড ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের ব্যবহারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, কিন্তু কার্যত এটি ছিল ফ্রান্সের ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের ঘোষণাপত্র।
ফ্রান্স জানিয়ে দিল, রাষ্ট্রীয় তথ্যের নিয়ন্ত্রণ থাকবে রাষ্ট্রের হাতে, কোনো বিদেশি কোম্পানির হাতে নয়; বছরে কোটি কোটি ইউরো লাইসেন্স ফি বাইরে না পাঠিয়ে সেই অর্থ ব্যয় হবে নিজেদের সক্ষমতা গড়ায়; উন্মুক্ত মান ও ফরম্যাটের ভিত্তিতে সরকারি সংস্থাগুলো নির্বিঘ্নে তথ্য বিনিময় করবে; আর রাষ্ট্রীয় কাজে সম্পৃক্ত হবে দেশীয় সফটওয়্যার শিল্প ও ডেভেলপাররা।
ঘোষণাটি কাগুজে থাকেনি। ফ্রান্সের জাতীয় পুলিশ বাহিনী জঁদারমেরি তাদের প্রায় সত্তর হাজার কম্পিউটার লিনাক্সে রূপান্তর করেছে। সরকারি দপ্তরে লিব্রেঅফিসের মতো মুক্ত সফটওয়্যার সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় ডেটাবেজ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ওপেন সোর্স পোস্টগ্রেএসকিউএল। ফল শুধু আর্থিক সাশ্রয় নয়; সরকারি তথ্য অবকাঠামো এখন স্বচ্ছ, নিরীক্ষাযোগ্য এবং রাষ্ট্রের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে।
ফ্রান্স একা নয়। জার্মানির শ্লেসভিগ-হলস্টেইন রাজ্য তার পুরো প্রশাসনকে প্রোপ্রাইটরি অফিস স্যুট থেকে মুক্ত সফটওয়্যারে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারত জাতীয় নীতিতে সরকারি ক্রয়ে ওপেন সোর্সকে অগ্রাধিকার দিয়েছে; তাদের ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামোর বড় অংশ, আধার কার্ড-সংশ্লিষ্ট স্ট্যাক থেকে এমওএসআইপির মতো প্ল্যাটফর্ম, উন্মুক্ত প্রযুক্তির ওপর দাঁড়ানো এবং আজ তা বিশ্বের বহু দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিলসহ বহু দেশ মুক্ত সফটওয়্যারকে কৌশলগত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে পরিণত করেছে।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ আজ সংস্কারের যে বিরল মুহূর্ত পার করছে, ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের এই দার্শনিক প্রশ্নটি সেই সংস্কার-আলোচনার টেবিলে ওঠা উচিত ছিল সবার আগে। কারণ, যে রাষ্ট্র নিজের তথ্য অবকাঠামোর মালিক নয়, একুশ শতকে তার সার্বভৌমত্বের দাবি অর্থহীন। লাইসেন্সের বকেয়া নয়, আমাদের উত্তরপ্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া উচিত সক্ষমতা।
৪.
প্রযুক্তি যে ভূরাজনীতির নতুন ভাষা, তার আরেকটি উদাহরণ চীনে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান জোহোর প্রবেশ। যে বাজারে গুগল, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো জায়ান্টরা নানা বিধিনিষেধে আটকে, সেখানে ভারতীয় কোম্পানি জোহো প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে স্থানীয়করণ নীতি ও ডেটা সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকার দেখিয়ে।
চীনের বাজারে ঢোকার টিকিটই হলো তাদের শর্তে তথ্যের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া। এই প্রযুক্তি-কূটনীতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, একুশ শতকের রাষ্ট্রগুলো ডেটা ও প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণকে জাতীয় স্বার্থের দর-কষাকষির টেবিলে তুলে এনেছে।
প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ সেই টেবিলে কী নিয়ে বসবে? নিজস্ব শর্ত, নাকি অন্যের লাইসেন্স চুক্তির ছাপানো ফরম?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আগে নিজেদের বাজারের চেহারাটা স্বীকার করতে হবে। বাংলাদেশের সফটওয়্যার বাজারের বড় অংশ বহু বছর ধরে চ্যানেল ও রিসেলারকেন্দ্রিক কমিশন-সংস্কৃতিতে আটকে আছে।
এই কাঠামোতে বিদেশি লাইসেন্স ঠেলে বিক্রি হয়; কমিশনচালিত বিক্রয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফিচার গছানো হয়; আর মালিকানার প্রকৃত মোট ব্যয়, অর্থাৎ লাইসেন্স, নবায়ন, ভেন্ডার লক-ইন ও মাইগ্রেশনের খরচ থেকে যায় চোখের আড়ালে।
ফলাফল সুদূরপ্রসারী। দেশীয় মেধা ও মূলধন নিজস্ব মেধাস্বত্ব তৈরির বদলে বিতরণের রেন্ট তুলতে তুলতে ক্ষয়ে যায়। স্থানীয় গবেষণা-উন্নয়ন, প্রোডাক্টাইজেশন ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মসংস্থানের পরিসর ক্রমে ছোট হয়ে আসে। রাষ্ট্র প্রতিবছর কেবল লাইসেন্স ও রক্ষণাবেক্ষণেই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে, অথচ সোর্স কোড ও সিস্টেম কনফিগারেশনের চাবি থেকে যায় বিদেশি কোম্পানির হাতে।
৫.
এখানে একটি সতর্কতা জরুরি। মুক্ত সফটওয়্যার মানে বিনা পয়সার সফটওয়্যার নয়। লাইসেন্স ফি না থাকলেও সক্ষমতা তৈরি, কাস্টমাইজেশন, নিরাপত্তা হার্ডেনিং, সাপোর্ট, এসবে বিনিয়োগ লাগে। পার্থক্য হলো, সেই বিনিয়োগের প্রতিটি টাকা দেশের ভেতরে থাকে; তা দেশীয় প্রকৌশলীর দক্ষতা, দেশীয় কোম্পানির সেবা-অর্থনীতি আর রাষ্ট্রের নিজস্ব জ্ঞানভান্ডারে রূপান্তরিত হয়।
প্রোপ্রাইটরি মডেলে টাকা বিদেশে যায় এবং নির্ভরতা রেখে যায়; মুক্ত মডেলে টাকা দেশে থাকে এবং সক্ষমতা রেখে যায়। রাষ্ট্রীয় নীতির প্রশ্নটা তাই সাশ্রয়ের চেয়েও বড়। এটা আসলে সম্পদ কোথায় জমবে, সেই প্রশ্ন।
আশার কথা, বাংলাদেশ শূন্য থেকে শুরু করছে না। দেশীয় সফটওয়্যার শিল্পে জাতীয় পর্যায়ের প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের প্রমাণিত সক্ষমতা তৈরি হয়েছে; সরকারি অবকাঠামোর একটি অংশ ইতিমধ্যে লিনাক্স ও ওপেন সোর্স উপাদানের ওপর চলে; তথ্য সুরক্ষার আইনি কাঠামো নিয়েও অগ্রগতি হয়েছে, যদিও বাস্তবায়ন ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের জায়গাগুলো এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। যা নেই, তা হলো আয়রো মেমোরেন্ডামের মতো একটি সুস্পষ্ট রাষ্ট্রীয় দর্শন ও নীতিগত ঘোষণা।
৬.
সেই ঘোষণার সম্ভাব্য উপাদানগুলো ভেবে দেখা যাক। সরকারি ক্রয়ে ওপেন সোর্স ফার্স্ট নীতি নেওয়া যেতে পারে, যেখানে প্রোপ্রাইটরি সমাধান কেনার আগে দালিলিকভাবে প্রমাণ করতে হবে যে সমতুল্য মুক্ত বিকল্প নেই বা অনুপযুক্ত; ভারত ২০১৫ সাল থেকেই এই পথে চলছে। মূল্যায়নে লাইসেন্স মূল্যের বদলে মালিকানার মোট ব্যয় ও প্রস্থানের খরচ বিবেচনা বাধ্যতামূলক হোক, যেন ভেন্ডর লক-ইনের দামটাও দরপত্রের হিসাবে ঢোকে।
তা ছাড়া রাষ্ট্রীয় ডেটাবেজ ও অপারেটিং সিস্টেমে ওপেন সোর্সকে ডিফল্ট মান ঘোষণা করা যেতে পারে, আর উন্মুক্ত ডেটা ফরম্যাট ও ওপেন এপিআইকে আন্তসংস্থা ইন্টারঅপারেবিলিটির ভিত্তি করা যেতে পারে। জনগণের অর্থে তৈরি সফটওয়্যারের সোর্স কোডের মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে থাকুক এবং যেখানে সম্ভব পাবলিক মানি, পাবলিক কোড নীতিতে তা উন্মুক্ত হোক।
আর একটি জাতীয় ওপেন সোর্স কম্পিটেন্স সেন্টার সরকারি সংস্থাগুলোকে মাইগ্রেশন, নিরাপত্তা ও সাপোর্টে সহায়তা দিতে পারে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম ও দেশীয় ডেভেলপার কমিউনিটির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় চাহিদার সেতুবন্ধ গড়তে পারে।
৭.
এই তালিকা সম্পূর্ণ নয়, শুরু মাত্র। কিন্তু মূল কথাটি সরল: প্রশ্নটা প্রযুক্তি বাছাইয়ের নয়, রাষ্ট্রীয় দর্শনের। ফ্রান্স যেদিন আয়রো মেমোরেন্ডাম জারি করেছিল, সেদিন তারা শুধু সফটওয়্যার বদলায়নি; তারা ঘোষণা করেছিল, রাষ্ট্রের স্নায়ুতন্ত্রের চাবি রাষ্ট্রের হাতেই থাকবে।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ আজ সংস্কারের যে বিরল মুহূর্ত পার করছে, ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের এই দার্শনিক প্রশ্নটি সেই সংস্কার-আলোচনার টেবিলে ওঠা উচিত ছিল সবার আগে। কারণ, যে রাষ্ট্র নিজের তথ্য অবকাঠামোর মালিক নয়, একুশ শতকে তার সার্বভৌমত্বের দাবি অর্থহীন। লাইসেন্সের বকেয়া নয়, আমাদের উত্তরপ্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া উচিত সক্ষমতা।
● আমিনুল বারী ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ও ই-গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ
*মতামত লেখকের নিজস্ব